খুঁজুন
                               
, ,
           

২২ বছর আগের ঘটনায় নতুন ফটোকার্ডে বিরক্ত দিলারা জামান

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
২২ বছর আগের ঘটনায় নতুন ফটোকার্ডে বিরক্ত দিলারা জামান

প্রায় ২২-২৩ বছর আগের একটি ঘটনাকে নতুন করে ফটোকার্ড আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামান। সম্প্রতি তার নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়—বাবার দেওয়া জমিতে ধারদেনা করে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। সেই দেনা শোধ করতে বাড়ি ভাড়া দিলেও ভাড়ার টাকা না পেয়ে একপর্যায়ে ভাড়াটে বাড়ি দখল করে নেয় এবং বর্তমানে তিনি ছোট্ট একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।

তবে বিষয়টি শুনে বিস্মিত হয়েছেন দিলারা জামান। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।

এ বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে দিলারা জামান বলেন, “মানুষের মাথা কি নষ্ট হয়ে গেছে! একটু ভেবেচিন্তে, কথা বলে লিখলে তো ভালো হয়। ভালো কাজে যদি মস্তিষ্ক কাজে না লাগে, তাহলে কেমন লাগে! কী আর বলব!”

বাড়ি দখলের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি ২২-২৩ বছর আগের ঘটনা। ২০০৩-২০০৪ সালের দিকে শ্যামলী এলাকায় পৈতৃক বাড়িতে থাকতাম। একপর্যায়ে বাড়িটি দখলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে। এরপর সেই দখলের পরিস্থিতি আর এগোয়নি।”

অভিনেত্রী জানান, সেই বাড়িটি বর্তমানে আর নেই। তিনি বাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছেন। ২০০৮ সালে পরিবার নিয়ে উত্তরায় চলে আসেন এবং সেখানে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনে বসবাস শুরু করেন।

দিলারা জামান বলেন, “তারপর থেকে এখানেই থাকছি। দেশের বাইরে থাকা দুই মেয়ের কাছে মাঝেমধ্যে গিয়ে কিছুদিন থাকি। এখন আর তেমন দেশের বাইরে যাওয়া হয় না। অভিনয় নিয়েই ব্যস্ততা। উত্তরায় নিজের ফ্ল্যাটেই থাকি।”

এত বছর পর পুরোনো সেই ঘটনা নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “এত বছর পর পুরোনো সেই ঘটনা নতুন করে কেন বা কারা ছড়াল। হঠাৎ করে এই ধরনের আজগুবি তথ্য সামনে কীভাবে এল, নিজেই তো অবাক হয়ে গেলাম!”

কালের আলো/এসএ

জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত, কার্যকর ১ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত, কার্যকর ১ অক্টোবর

অক্টোবর মাসে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ অক্টোবর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করে।
ফলে অক্টোবর মাসজুড়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে।
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা মূল্যহারই অক্টোবর মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে একই দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হবে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু রাখা এবং জ্বালানি তেল পাচার রোধে দেশে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

গ্রিনমেট্রিক বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে জায়গা পেল বাংলাদেশের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
গ্রিনমেট্রিক বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে জায়গা পেল বাংলাদেশের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়

সবুজ ক্যাম্পাস, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিতে প্রকাশিত ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)। ২০২৬ সালের এই র‍্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৮ হাজার ২৭২ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বিশ্বে ১৯৭তম অবস্থানে রয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এবারের র‍্যাংকিং প্রকাশ করা হয়। আজারবাইজান স্টেট অয়েল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইউনিভার্সিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ইউআই গ্রিনমেট্রিকের ১৭তম আসরের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এবারের র‍্যাংকিংয়ে বিশ্বের ১১০টি দেশের ২ হাজার ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ইউআই গ্রিনমেট্রিকের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আয়োজন।

বাংলাদেশের শীর্ষ ৯ বিশ্ববিদ্যালয়

র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ৮ হাজার ২৫০ স্কোর নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিশ্ব অবস্থান ২০৪তম।

৭ হাজার ৩২২ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ৪১২তম।

দেশের চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ৭ হাজার ৪৫ স্কোর নিয়ে বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ৪৯২তম।

এরপর ৬ হাজার ৪০৭ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে পঞ্চম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)। বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে এর অবস্থান ৭১৩তম।

৪ হাজার ৩৪২ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)। বিশ্বে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১ হাজার ৩৯৪তম।

দেশের সপ্তম স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ৩ হাজার ৮০০ স্কোর নিয়ে বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ১ হাজার ৫৩৩তম।

৩ হাজার ৬৪৫ স্কোর নিয়ে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১ হাজার ৫৭৮তম।

২ হাজার ৬৮৭ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের নবম অবস্থানে রয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১ হাজার ৭৮৭তম।

কোন কোন বিষয় বিবেচনায় র‍্যাংকিং

ইন্দোনেশিয়ার ইউনিভার্সিটাস ইন্দোনেশিয়া ২০১০ সাল থেকে ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং প্রকাশ করে আসছে। বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবুজ ক্যাম্পাস, পরিবেশগত কার্যক্রম এবং টেকসই উন্নয়নের নীতি বাস্তবায়নের চিত্র মূল্যায়ন করাই এ র‍্যাংকিংয়ের অন্যতম লক্ষ্য।

এবারের মূল্যায়নে সাতটি প্রধান ক্ষেত্র বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো—অবকাঠামো ও পরিবেশ, জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, শিক্ষা ও গবেষণা এবং শাসনব্যবস্থা ও ডিজিটালায়ন।

আইইউবিএটির বিভিন্ন সূচকে স্কোর

বাংলাদেশের শীর্ষে থাকা আইইউবিএটি মোট ৮ হাজার ২৭২ দশমিক ৫ স্কোর পেয়েছে। অবকাঠামো ও পরিবেশ সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কোর ৬৮৫। জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তনে ১ হাজার ৭২৫, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ২৭৫ এবং পানি ব্যবস্থাপনায় ৮২৫ পয়েন্ট পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া পরিবহন সূচকে ১ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৫, শিক্ষা ও গবেষণায় ১ হাজার ২০০ এবং গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডিজিটালাইজেশনে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্ট অর্জন করেছে আইইউবিএটি।

ড্যাফোডিলের স্কোর ৮২৫০

দেশের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মোট স্কোর ৮ হাজার ২৫০। অবকাঠামো ও পরিবেশ সূচকে প্রতিষ্ঠানটি ৭৫০, জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তনে ১ হাজার ৭০০, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ২০০ এবং পানি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার পয়েন্ট পেয়েছে।

পরিবহন সূচকে ১ হাজার ৪৫০, শিক্ষা ও গবেষণায় ১ হাজার ১৫০ এবং গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডিজিটালাইজেশনে ১ হাজার পয়েন্ট পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি মোট ৭ হাজার ৩২২ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বিশ্বে ৪১২তম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ও পরিবেশ সূচকে স্কোর ৬৬০, জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তনে ১ হাজার ৫০০, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ২৭৫ এবং পানি ব্যবস্থাপনায় ৭৭৫।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ পেয়েছে ৭ হাজার ৪৫ স্কোর। এর মধ্যে অবকাঠামো ও পরিবেশে ৫৩৫, জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তনে ১ হাজার ৪৫০, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৮২৫, পানি ব্যবস্থাপনায় ৯২৫ এবং পরিবহনে ১ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৫ পয়েন্ট রয়েছে।

বিইউবিটির মোট স্কোর ৬ হাজার ৪০৭ দশমিক ৫। এআইইউবি পেয়েছে ৪ হাজার ৩৪২ দশমিক ৫, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ৩ হাজার ৮০০, উত্তরা ইউনিভার্সিটি ৩ হাজার ৬৪৫ এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে ২ হাজার ৬৮৭ দশমিক ৫ স্কোর।

সব মিলিয়ে এবারের ইউআই গ্রিনমেট্রিক র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব তালিকায় স্থান পেয়েছে। র‍্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, টেকসই ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও শিক্ষায় পরিবেশগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং ডিজিটাল শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

এবার কার হাতে উঠছে শান্তির নোবেল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
এবার কার হাতে উঠছে শান্তির নোবেল?

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। আগামী ৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজির বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নাম আলোচনায় থাকলেও অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআইও) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকোন জারলো মনে করেন, শান্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন আলোচনার বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে জারলো বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার জনপ্রিয়তা বা তারকা খ্যাতির প্রতিযোগিতা নয়। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা করা আদালত, যুদ্ধাপরাধের তথ্য সংগ্রহকারী সাংবাদিক এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে সহায়তা করা মানবিক সংস্থাগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আলোচনায় ট্রাম্প-জেলেনস্কি

এবারের পুরস্কার নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্প ও জেলেনস্কির নাম থাকলেও জারলো তাঁদের নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বকে শান্তি পুরস্কার দিলে পুরস্কারটি কোনো একটি পক্ষের প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে জেলেনস্কি একটি চলমান বড় যুদ্ধের দেশের কমান্ডার-ইন-চিফ হওয়ায় তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতের প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মত দিয়েছেন তিনি।

তবে এগুলো জারলোর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নয়। নোবেল কমিটি স্বাধীনভাবে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করে এবং পুরস্কার ঘোষণার আগে কোনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয় না।

আদালত থেকে মানবিক সংগঠন—আলোচনায় যারা

জারলোর পছন্দের তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক আইন শক্তিশালী করতে এবং বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য—এই নীতি প্রতিষ্ঠায় দুটি আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া যুদ্ধের মধ্যে শিশুদের সুরক্ষায় কাজ করা সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউক্রেনে রাশিয়া ও অধিকৃত অঞ্চল থেকে শিশুদের ফিরিয়ে আনার কাজে যুক্ত মাইকোলাইলা কুলেবার নেতৃত্বাধীন সেভ ইউক্রেন এবং সুদানের যুদ্ধের মধ্যে খাবার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমসের নামও তাঁর তালিকায় রয়েছে।

যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের ভূমিকা

শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন জারলো। যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করতে সাংবাদিকেরা অনেক সময় জীবন ঝুঁকিতে কাজ করেন।

এ কারণে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-কেও সম্ভাব্য শান্তি পুরস্কারপ্রাপক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। জারলোর নিবন্ধ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন, যা সিপিজের হিসাব অনুযায়ী তাদের নথিভুক্ত ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনও তালিকায়

অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বজায় রাখার উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) কথাও বলেছেন জারলো।

তাঁর মতে, পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও আইএসএসে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের শান্তিপূর্ণ সহযোগিতা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ২৫ বছরের বেশি সময়ের এই সহযোগিতাকে শান্তির প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সংঘাতের সময়ে বাড়ছে শান্তি পুরস্কারের গুরুত্ব

জারলো তাঁর নিবন্ধে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে বিশ্বে ৬৫টি রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ১৯৪৬ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ বলে পিআরআইওর গবেষণায় উঠে এসেছে। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাতের মাত্রা বাড়ার কারণে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বও বেড়েছে।

এদিকে বাজির বাজার পলিমার্কেটের তথ্য উদ্ধৃত করে জারলোর নিবন্ধে সেভ দ্য চিলড্রেন, সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নাম সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বাজারের সম্ভাবনা কোনোভাবেই নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস নয়।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে আগামী ৯ অক্টোবর। সেদিনই জানা যাবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠছে।

কালের আলো/এসএ