খুঁজুন
                               
, ,
           

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকটের চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের কৌশল নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণকেও নিরাপদ রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে মানবিকতা ও নিরাপত্তার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারপাশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, উপযুক্ত বেড়া ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ক্যাম্পের ভেতরে চলাচল আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমানোর পাশাপাশি শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বাড়বে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় এসব পদক্ষেপ কোনো জনগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে নয়। বরং ঘনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এসব ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা নিজেদের ভূমি ও সম্পদ ভাগ করে নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ফলে স্থানীয়দের জীবিকা, পরিবেশ এবং জনসেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানবিক সহায়তা দিতে গিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ যেন উপেক্ষিত না হয়। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগণের জন্যও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধান এবং তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মূল চাবিকাঠি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

নদী বাঁচানো থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ—সমাধানের কেন্দ্রে জনসম্পৃক্ততা চান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
নদী বাঁচানো থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ—সমাধানের কেন্দ্রে জনসম্পৃক্ততা চান প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর নদ-নদী রক্ষা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ—দুটি ভিন্ন সংকট হলেও সমাধানের জায়গায় একটি বিষয়কে সামনে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেটি হলো সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে যেমন ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি, তেমনি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সরকারি উদ্যোগের বাইরে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি সভায় প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা আসে। একটি সভায় রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যটিতে উঠে আসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও তা মোকাবিলার কৌশল।

নদী রক্ষায় পরিকল্পনা আছে, এখন দরকার বাস্তবায়ন

বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা—রাজধানী ঘিরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পবর্জ্য, পয়োবর্জ্য, প্লাস্টিক ও নানা ধরনের দূষণের চাপ বহন করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাল-ড্রেনের বর্জ্য, দখল এবং নাব্যতা সংকট। ফলে নদী রক্ষা শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি নগর ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য, নৌপরিবহন ও অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

পর্যালোচনা সভায় নদী ও সংলগ্ন খাল-ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথ উন্নয়নের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, বরং বিদ্যমান পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন। একাধিক সংস্থা একই নদী বা জলাধারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দায়িত্বের বিভাজন, সমন্বয়হীনতা এবং দীর্ঘসূত্রতা প্রায়ই কাঙ্ক্ষিত ফলকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে পারলে নদী রক্ষায় একটি কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হতে পারে। তবে শুধু সরকারি অভিযান বা অবকাঠামোগত উদ্যোগ দিয়ে নদী দূষণ পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগরবাসীর আচরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার (ঢাকা নৌ অঞ্চল) রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ‘প্রতিরোধ’ই অগ্রাধিকার

অন্যদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া। বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু সিটি করপোরেশন বা স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর নির্ভর না করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে এসব সংগঠনের সদস্যদের কাজে লাগিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হলে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্কও সক্রিয় হতে পারে।

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে নাগরিক আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা সামান্য পানিও এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ছাড়া কেবল আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে কঠিন।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাতেও নজর

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মশারি সরবরাহের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ানোর পর সেই মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকায় হাসপাতালেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুই সংকটেই অভিন্ন শিক্ষা

নদী দূষণ ও ডেঙ্গু—দুটি সংকটের প্রকৃতি আলাদা হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি অভিন্ন দর্শন স্পষ্ট: প্রতিরোধ, সমন্বয় এবং জনসম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। নদী রক্ষায় যেমন শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নাগরিক সচেতনতা পর্যন্ত ধারাবাহিক পদক্ষেপ প্রয়োজন, তেমনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে এককালীন কর্মসূচির পরিবর্তে নিয়মিত সামাজিক উদ্যোগে পরিণত করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

পুরোনো কম্পিউটারেই মিলবে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা, জিওর নতুন ক্লাউড পিসি সেবা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
পুরোনো কম্পিউটারেই মিলবে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা, জিওর নতুন ক্লাউড পিসি সেবা

পুরোনো কম্পিউটার বদলানোর প্রয়োজন ছাড়াই আধুনিক অ্যাপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সেবা ব্যবহারের সুযোগ দিতে ভারতের বাজারে ক্লাউডভিত্তিক পিসি সেবা চালু করেছে রিলায়েন্স জিও। ‘জিওপিসি’ নামের এই সেবা এখন ভারতের সব ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

২০২৫ সালে চালু হওয়া জিওপিসি এত দিন শুধু জিওর নিজস্ব ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। এখন গ্রাহকের ব্রডব্যান্ড বা টেলিকম অপারেটর যাই হোক না কেন, আলাদা সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে এই সেবা ব্যবহার করা যাবে।

জিওপিসিতে কম্পিউটারের নিজস্ব হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভর না করে জিওর ক্লাউড অবকাঠামো থেকে একটি ভার্চ্যুয়াল কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ডিভাইসে স্ট্রিম করা হয়। এতে সর্বোচ্চ ৮টি ভার্চ্যুয়াল সিপিইউ, ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ সুবিধা পাওয়া যাবে।

জিওর দাবি, প্রায় আট বছর পুরোনো কম্পিউটারেও এই সেবার মাধ্যমে আধুনিক অ্যাপ্লিকেশন, এমনকি এআইভিত্তিক সেবাও চালানো সম্ভব হবে। দুই মাসের সাবস্ক্রিপশনের দাম শুরু ১ হাজার ভারতীয় রুপি থেকে। আর কনফিগারেশন অনুযায়ী বার্ষিক প্যাকেজের দাম ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার রুপি।

ভারতে এ ধরনের সেবার বড় বাজার রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আইডিসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৬ কোটি ৫০ লাখের বেশি পিসি ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষে এই সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখে পৌঁছাতে পারে।

তবে ক্লাউড পিসি ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন। ফলে দুর্বল বা অনিয়মিত ইন্টারনেট সুবিধার এলাকায় এর কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে। এ ছাড়া জিওপিসিতে আধুনিক এআই পিসিতে থাকা বিশেষায়িত অন-ডিভাইস এআই প্রসেসর সুবিধা রয়েছে কি না, তা কোম্পানি জানায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, জিওর এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নতুন কম্পিউটার কেনার পরিবর্তে পুরোনো ডিভাইসের ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ানো। অর্থাৎ হার্ডওয়্যার আপগ্রেডের বদলে ক্লাউড থেকে কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

কালের আলো/এসএ

ডার্ক ম্যাটার নিয়ে বড় ইঙ্গিত, রহস্যজনক কণার মিথস্ক্রিয়া শনাক্ত বিজ্ঞানীদের

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
ডার্ক ম্যাটার নিয়ে বড় ইঙ্গিত, রহস্যজনক কণার মিথস্ক্রিয়া শনাক্ত বিজ্ঞানীদের

ডার্ক ম্যাটার বা অন্ধকার পদার্থের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ এক ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ঘটনাকে এখনই ডার্ক ম্যাটারের আবিষ্কার বলা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটায় স্যানফোর্ড আন্ডারগ্রাউন্ড রিসার্চ ফ্যাসিলিটিতে মাটির প্রায় এক মাইল গভীরে পরিচালিত LUX-ZEPLIN (LZ) পরীক্ষায় অস্বাভাবিক এই কণার মিথস্ক্রিয়াটি শনাক্ত হয়েছে।

ডার্ক ম্যাটারের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত উইম্প (WIMP) বা দুর্বলভাবে মিথস্ক্রিয়াশীল ভারী কণার সন্ধানে LZ পরীক্ষায় প্রায় ১০ টন অতি বিশুদ্ধ তরল জেনন ব্যবহার করা হয়। গবেষকেরা এমন একটি কণার মিথস্ক্রিয়া শনাক্ত করেছেন, যা এখন পর্যন্ত পরিচিত পটভূমিগত প্রক্রিয়া দিয়ে সহজে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।

তবে পরিসংখ্যানগতভাবে এই সংকেত এখনো ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব নিশ্চিত করার মতো শক্তিশালী নয়। ‘লুক-এলস হোয়ার’ প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার পর LZ গবেষকরা বৈশ্বিক পরিসংখ্যানগত গুরুত্ব ২.৬ সিগমা বলে জানিয়েছেন। কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নিশ্চিত করতে সাধারণত এর চেয়ে অনেক বেশি মাত্রার প্রমাণ প্রয়োজন।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার। এটি সরাসরি দেখা যায় না। তবে গ্যালাক্সি ও মহাজাগতিক বিভিন্ন কাঠামোর ওপর এর মহাকর্ষীয় প্রভাব থেকে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

নতুন এই সংকেত তাই গবেষকদের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও এর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। আরও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা যাচাই করবেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকেত আরও পাওয়া যায় কি না। পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া গেলে সংকেতটি আরও শক্তিশালী হতে পারে, আবার এটি নিছক পরিসংখ্যানগত ঘটনা হিসেবেও মিলিয়ে যেতে পারে।

গবেষকেরা এখন আরও তথ্যের অপেক্ষায়। নতুন পর্যবেক্ষণই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে, রহস্যজনক এই কণার মিথস্ক্রিয়া ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি বোঝার পথে সত্যিই বড় কোনো সূত্র কি না।

কালের আলো/এসএ