খুঁজুন
                               
, ,
           

পিরোজপুরে পুরোনো রাস্তায় দেয়াল-বেড়া, অবরুদ্ধ ৪২ পরিবার

পিরোজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
পিরোজপুরে পুরোনো রাস্তায় দেয়াল-বেড়া, অবরুদ্ধ ৪২ পরিবার

পিরোজপুরের নেছারাবাদে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তার মাঝখানে ইটের দেয়াল ও টিনের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে নারী, শিশু, শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৪২টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দেয়াল টপকে, আবার কেউ টিনের বেড়া পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে স্বরূপকাঠি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আচার্য্যপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুব্রত আচার্য্য ও সোহাগ আচার্য্য ওই রাস্তার অংশে দেয়াল ও টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, রাস্তাটি বহু পুরোনো এবং সরকারি খাসজমির ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা চলাচল করে আসছেন। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪০ থেকে ৪২টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নারী, শিশু ও স্কুলশিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে দেয়াল ও বেড়া পার হতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের বহু বছরের চলাচলের রাস্তা। এই পথ দিয়ে প্রায় ২০০ মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে ইটের দেয়াল ও টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

স্থানীয় বাসিন্দা পলাশ কুমার দাস বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। ওই রাস্তা ছাড়া স্থানীয়দের চলাচলের বিকল্প কোনো পথ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ১১২ জন স্থানীয় বাসিন্দা গণস্বাক্ষর করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালত জনউপদ্রব বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুব্রত আচার্য্য ও সোহাগ আচার্য্য। তাদের দাবি, যে জায়গায় বেড়া দেওয়া হয়েছে, সেটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি। তাদের ভাষ্য, ফিরোজ মিয়া গায়ের জোরে ওই জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নিতে চাইছেন। কারও ব্যক্তিগত জমি দিয়ে চলাচলের প্রয়োজন হলে আপসের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা উচিত বলেও তারা জানান।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হান মাহমুদ বলেন, ঘটনাস্থলে প্রায় চার শতক খাস জমি রয়েছে। তবে রাস্তার জায়গাটি খাস জমির মধ্যে পড়েছে কি না, তা মেপে নিশ্চিত হতে হবে। খাসজমির অংশ যদি রাস্তার মধ্যে পড়ে থাকে, তাহলে সেখানে কেউ বেড়া দিয়ে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করতে পারবেন না।

দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ দ্রুত উন্মুক্ত করতে জমির সীমানা নির্ধারণ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে জুনিয়র এশিয়া কাপে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের মেয়েরা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, স্পোর্টস
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
মালয়েশিয়াকে হারিয়ে জুনিয়র এশিয়া কাপে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের মেয়েরা

অনূর্ধ্ব-২০ নারীদের জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে জয় দিয়ে নিজেদের স্মরণীয় মিশন শেষ করল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের পঞ্চম স্থান নির্ধারণী রোমাঞ্চকর ম্যাচে শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা।

এই জয়ের মাধ্যমে আসরের পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করল লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চীনের হুলুনবুয়ির সিটিতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলে বাংলাদেশ দল।

তবে ডিফেন্সের দৃঢ়তায় ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।
ম্যাচের তৃতীয় কোয়ার্টারে ডেড লক ভাঙে।

পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে দারুণ এক গোলে বাংলাদেশকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমণ। এরপর চতুর্থ কোয়ার্টারে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে চমৎকার এক ফিল্ড গোলে ব্যবধান ২-০ করেন কনা।
ম্যাচের শেষ দিকে মালয়েশিয়া এক গোল শোধ করলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশই।
মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের রক্ষণভাগ ভেঙে নারীদের এই জয়কে দেশের হকি ইতিহাসের অন্যতম বড় ও ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিকভাবে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত পঞ্চম স্থানে থেকে আসর শেষ করা দলের জন্য বড় অর্জন।

কালের আলো/এমআর

হুইলচেয়ারে থমকে গেছে শৈশব, স্কুলে যেতে চায় তাসফিয়া

কামারখন্দ(সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
হুইলচেয়ারে থমকে গেছে শৈশব, স্কুলে যেতে চায় তাসফিয়া

যে বয়সে বই হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সমবয়সীদের সঙ্গে মাঠে ছুটে বেড়ানোর কথা—সেই বয়সে হুইলচেয়ারই ৯ বছরের তাসফিয়ার নিত্যসঙ্গী। দারিদ্র্যের কারণে প্রয়োজনীয় ও উন্নত চিকিৎসা না পাওয়ায় হুইলচেয়ারেই যেন থমকে গেছে তার শৈশব। তবে এখনও তার চোখে স্বপ্ন—একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবে, হাঁটবে, দৌড়াবে এবং অন্য শিশুদের মতো স্কুলে যাবে।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চর টেংলাই গ্রামের অটোভ্যানচালক তৈয়ব আলী ও নাসিমা বেগমের মেয়ে তাসফিয়া। দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছে সে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে না পারায় দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে শিশুটি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের প্রায় দুই বছর পর অসুস্থ হয়ে পড়ে তাসফিয়া। প্রথমে সিরাজগঞ্জে চিকিৎসা করানো হয়। পরে চিকিৎসকরা জানান, তার মাথার ভেতরে পানি জমেছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অটোভ্যান চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালানো বাবা তৈয়ব আলীর পক্ষে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।

তাসফিয়ার মা নাসিমা বেগম বলেন, দেড় বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর মেয়েকে হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। তখন চিকিৎসকরা মাথার ভেতরে পানি জমার কথা জানান। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয়ভাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করানো হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে তাসফিয়ার মাথা বড় হচ্ছে এবং হাত-পা ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যাচ্ছে।

বাবা তৈয়ব আলী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। অটোভ্যান চালিয়ে যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। মেয়েটাকে সুস্থ করে তুলতে চাই। ও যেন অন্য বাচ্চাদের মতো হাঁটতে পারে, খেলতে পারে, স্কুলে যেতে পারে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।’

প্রতিবেশীরা জানান, তাসফিয়ার চিকিৎসার জন্য পরিবারটি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে উন্নত চিকিৎসার খরচ বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

কামারখন্দ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোতালিব জানান, তাসফিয়ার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে, যাতে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়।

মাত্র ৯ বছর বয়সী তাসফিয়ার চাওয়া খুব বেশি নয়। সে শুধু নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়, মাঠে দৌড়াতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চায়। সবচেয়ে বড় কথা, একদিন বই হাতে হেঁটে স্কুলে যেতে চায়।

অসহায় এই শিশুটির চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এবং ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে তার জীবনে ফিরতে পারে নতুন আশার আলো। হুইলচেয়ারে আটকে থাকা তাসফিয়ার শৈশব হয়তো আবারও ফিরে পেতে পারে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শনিবার টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
শনিবার টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

জরুরি উন্নয়নকাজের জন্য শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) টানা ১০ ঘণ্টা গাজীপুরের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কাশিমপুর জোনাল অফিস।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাহকসেবার মান বাড়াতে ১১ কেভি ফিডারগুলো ছোট করা এবং লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে শনিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইন আপগ্রেডেশনের কাজ করা হবে। এ কারণে ওই সময়ে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়- কাশিমপুর (আংশিক), বিএডিসি গেটের সামনের এলাকা, রফিকুল স্কুলের আশপাশ, কাশিমপুর স্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশ, রিফুজি পাড়া, হাজিপাড়া, জিতার মোড়ের আশপাশ, আলিমের আশপাশ, কবরস্থানের আশপাশ, জামাল টাওয়ারের আশপাশ, মল্লিকা বাজারের আশপাশ, নয়াপাড়া, হাকের নল, লালদিঘি, খানকা শরিফের আশপাশ ও রওশন মার্কেট এলাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সাময়িক অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে কাশিমপুর জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এমআর