খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকারি চাকরিতে ভাতার  খোলনলচে বদল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
সরকারি চাকরিতে ভাতার  খোলনলচে বদল

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয় বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধাতেও বড় পরিবর্তন আসছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন ও মোবাইল ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হচ্ছে ঝুঁকি ভাতাও। তবে এসব সুবিধার বিপরীতে বাংলা নববর্ষের ভাতা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

কর্মস্থলভেদে বাড়িভাড়ায় পরিবর্তন
নতুন কাঠামোয় কর্মস্থলের অবস্থান অনুযায়ী বাড়িভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় গ্রেডভেদে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে একই গ্রেডের কর্মীদের কর্মস্থল অনুযায়ী আবাসন সুবিধায় পার্থক্য থাকবে।

বয়স বাড়লে বাড়বে চিকিৎসা ভাতা
চিকিৎসা ভাতাকে বয়সের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সে ৪ হাজার, ৬০ থেকে ৭০ বছরে ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বয়স্ক কর্মীদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি ভাতার কাঠামোয় আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।

দৈনন্দিন ব্যয়ে বাড়তি সুবিধা
মোবাইল ভাতা এবার সব গ্রেডের কর্মচারীর আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেড-৫ ও তার ওপরের গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং নিচের গ্রেডে ১৫০ টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধী সন্তানের মাসিক ভাতা ৩ হাজার
নতুন কাঠামোর উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা। সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ সুবিধার আওতায় আসবে। অন্যদিকে বাংলা নববর্ষের ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। বিপরীতে ঝুঁকি ভাতা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুর্গম এলাকায় বাড়তি প্রণোদনা
পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পার্বত্য জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা কার্যকর হওয়ার কথা। অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় এ ভাতার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। হাওড়, দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ২০ শতাংশ হারের বিদ্যমান সুবিধা বহাল থাকবে।

পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন
সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ভাতাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিরক্ষা কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ও শিক্ষকতা ভাতাসহ বেশিরভাগ সুবিধা বিদ্যমান হারের ওপর ১০ শতাংশ বাড়ানোর কথা জানা গেছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সম্পন্ন হয়নি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং
মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন হলেও এখনো আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হয়নি। এ কারণে প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব হচ্ছে। ভেটিং শেষে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হলে প্রস্তাবিত সুবিধাগুলোর কার্যকর তারিখ ও বাস্তব প্রয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিও তখন নির্ধারিত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য ডলার রাখার নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য ডলার রাখার নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) হিসাবে রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিংমলসহ বিদেশি পর্যটকদের পণ্য ও সেবা দেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে পাঠিয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ব্যাংকগুলো অ্যাকোয়ারিং সেবার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে দেবে। এর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে রাখা যাবে। বাকি অর্থ বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে হবে।

এফসি হিসাবে রাখা বৈদেশিক মুদ্রা চলতি লেনদেনসংক্রান্ত বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা এফইপিডি-১ সার্কুলার নং ৪০-এর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক কার্ড ও অনুমোদিত অন্যান্য পেমেন্ট পদ্ধতিতে অর্থ গ্রহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখেছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি), অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দাখিলের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত গাইডলাইন্স, ২০১৮-এর ত্রয়োদশ অধ্যায়ের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে আগে কেবল ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা শুল্কমুক্ত দোকানের নামে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব খোলার সুযোগ ছিল। নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে এ সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হলো।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অক্টোবরে ২৪ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
অক্টোবরে ২৪ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবরের প্রথম ২৪ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থবছরের শুরু থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয়ে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও রিজার্ভের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শখের গাছেই বদলে গেল জীবন, মাসে লাখ লাখ টাকা আয় তানজিলার

মাদারীপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
শখের গাছেই বদলে গেল জীবন, মাসে লাখ লাখ টাকা আয় তানজিলার

শখ করে ঘরের বারান্দায় গড়ে তুলেছিলেন ইনডোর প্ল্যান্টের ছোট্ট বাগান। সেই শখই একসময় হয়ে ওঠে জীবিকার উৎস। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নিজের পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গড়ে তুলেছেন ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। বর্তমানে এ বাগান থেকে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নারী উদ্যোক্তা তানজিলা আখি। কোনো কোনো মাসে তাঁর আয় তিন থেকে চার লাখ টাকায়ও পৌঁছায়।

তানজিলা একসময় ঢাকায় চাকরি করতেন। ২০১৯ সালের দিকে একটি ডিজাইনার হাউসে কাজ করার সময় গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে ঘরের বারান্দায় ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান গড়ে তোলেন। তখন শখের বশে গাছ সংগ্রহ ও পরিচর্যা করলেও ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ যে তাঁর পেশা হয়ে উঠবে, তা ভাবেননি।

২০২০ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয় তাঁকে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন সেই সময়ে বারান্দার গাছগুলো হয়ে ওঠে তাঁর সঙ্গী। গাছের পরিচর্যা করতে গিয়ে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়। বাড়তে থাকে বিভিন্ন জাতের গাছ সংগ্রহের আগ্রহ।

একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে নিজের সংগ্রহের গাছগুলো নিয়ে স্বামীর কর্মস্থল নরসিংদীতে চলে যান তানজিলা। সেখানে নতুন করে বাগান গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে শখের বাগানকে ব্যবসায় রূপ দেন। শুরু করেন গাছের চারা বিক্রি এবং বিভিন্ন বৃক্ষমেলায় ইনডোর প্ল্যান্টের স্টল দেওয়া।

তবে ব্যবসার পথ সহজ ছিল না। ২০২৪ সালে নরসিংদীতে ভাড়া বাসায় থাকার সময় বাগান নিয়ে প্রতিবেশীদের আপত্তির মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে সব গাছ নিয়ে শিবচরে ফিরে আসেন। নতুন করে শুরু করতে হয় সবকিছু।

পরিবারের সহযোগিতায় শিবচরে নিজেদের আট শতাংশ জমিতে গড়ে তোলেন ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে গাছের সংগ্রহ, ক্রেতার আগ্রহ এবং ব্যবসার পরিধি।

বাগানে এক হাজারের বেশি প্রজাতির গাছ

বর্তমানে তানজিলার বাগানে রয়েছে ফিলোডেনড্রন, মনস্টেরা, অ্যাগলোনিমা, সিঙ্গোনিয়াম, থাই লিলি, অর্কিড, ফিটোনিয়া, পারলার পাম, বেগোনিয়া ও পথোসসহ বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট। তাঁর দাবি, বাগানে এক হাজারের বেশি প্রজাতির গাছ রয়েছে। এসব গাছের চারার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

বর্তমানে তাঁর এই উদ্যোগে কাজ করছেন দুজন কর্মচারী। বাগানকে আরও বড় করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

নিজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে তানজিলা আখি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গাছের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সেখান থেকেই গাছ সংগ্রহ শুরু করেন। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। ব্যবসা শুরু করার পর নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলেও সেগুলো অতিক্রম করে এখন মাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। আগামী মাস থেকে আরও একটি বাগান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তানজিলার উদ্যোগে গর্বিত এলাকাবাসী

তানজিলার এই উদ্যোগে গর্বিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রতিবেশী মিলন বলেন, একজন নারী নিজের পরিশ্রমে এত সুন্দর একটি বাগান গড়ে তুলেছেন, যা এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, বাগানটি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আরেক প্রতিবেশী সাজ্জাদ হোসেন খান বলেন, শিবচরের মতো এলাকায় এমন পরিবেশবান্ধব নার্সারি দেখে তিনি আনন্দিত। নতুন ও পুরোনো উদ্যোক্তাদের এ ধরনের উদ্যোগে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, কৃষি ও নার্সারিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে পাশে থাকবে কৃষি বিভাগ।

বারান্দার ছোট্ট বাগান থেকে বাণিজ্যিক নার্সারি গড়ে তোলা তানজিলা আখির এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, ব্যক্তিগত শখও পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। নিজের বাগানকে আরও বড় করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি