সরকারি চাকরিতে ভাতার খোলনলচে বদল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয় বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধাতেও বড় পরিবর্তন আসছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন ও মোবাইল ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হচ্ছে ঝুঁকি ভাতাও। তবে এসব সুবিধার বিপরীতে বাংলা নববর্ষের ভাতা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
কর্মস্থলভেদে বাড়িভাড়ায় পরিবর্তন
নতুন কাঠামোয় কর্মস্থলের অবস্থান অনুযায়ী বাড়িভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় গ্রেডভেদে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে একই গ্রেডের কর্মীদের কর্মস্থল অনুযায়ী আবাসন সুবিধায় পার্থক্য থাকবে।
বয়স বাড়লে বাড়বে চিকিৎসা ভাতা
চিকিৎসা ভাতাকে বয়সের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সে ৪ হাজার, ৬০ থেকে ৭০ বছরে ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বয়স্ক কর্মীদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি ভাতার কাঠামোয় আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।
দৈনন্দিন ব্যয়ে বাড়তি সুবিধা
মোবাইল ভাতা এবার সব গ্রেডের কর্মচারীর আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেড-৫ ও তার ওপরের গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং নিচের গ্রেডে ১৫০ টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী সন্তানের মাসিক ভাতা ৩ হাজার
নতুন কাঠামোর উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা। সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ সুবিধার আওতায় আসবে। অন্যদিকে বাংলা নববর্ষের ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। বিপরীতে ঝুঁকি ভাতা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্গম এলাকায় বাড়তি প্রণোদনা
পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পার্বত্য জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা কার্যকর হওয়ার কথা। অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় এ ভাতার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। হাওড়, দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ২০ শতাংশ হারের বিদ্যমান সুবিধা বহাল থাকবে।
পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন
সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ভাতাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিরক্ষা কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ও শিক্ষকতা ভাতাসহ বেশিরভাগ সুবিধা বিদ্যমান হারের ওপর ১০ শতাংশ বাড়ানোর কথা জানা গেছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সম্পন্ন হয়নি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং
মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন হলেও এখনো আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হয়নি। এ কারণে প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব হচ্ছে। ভেটিং শেষে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হলে প্রস্তাবিত সুবিধাগুলোর কার্যকর তারিখ ও বাস্তব প্রয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিও তখন নির্ধারিত হবে।
কালের আলো/এম/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array