খুঁজুন
                               
, ,
           

সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়

২২৪ শিক্ষার্থীর পাঠদান, শ্রেণিকক্ষের অভাবে আশ্রয় বটতলায়

চিতলমারী (বাগেরহাট)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
২২৪ শিক্ষার্থীর পাঠদান, শ্রেণিকক্ষের অভাবে আশ্রয় বটতলায়

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে খোলা আকাশের নিচে বটতলায় পাঠদান চলছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এভাবেই ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান।

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২২৪ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করছে। তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম হওয়ায় জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে, ফ্লোর ও দেয়ালে ফাটল রয়েছে। বর্ষাকালে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। ভেঙে গেছে হোয়াইট বোর্ড; নেই ডিজিটাল ক্লাসের ব্যবস্থাও।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন মণ্ডল বলেন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি ক্লাস বটতলায় নিতে হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ জরুরি।

তিনি জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে তিনটি নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসছে, টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে দোকানের খাবার খাচ্ছে না এবং বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল নিয়ে আসছে না।

প্রধান শিক্ষক বলেন, এসব নিয়ম চালু হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের শ্রেণিপাঠে মনোযোগ বেড়েছে বলে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমেছে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌসুমী বিশ্বাসসহ অন্য শিক্ষার্থীরা জানায়, নতুন নিয়মগুলো চালুর পর পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ভবনের বিভিন্ন সমস্যায় তারা উদ্বিগ্ন। অনেক সময় বটতলায় ক্লাস করতে হওয়ায় তাদের অসুবিধা হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুস শাকুর বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক ক্লাস খোলা আকাশের নিচে বটতলায় করাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কিছু করার নেই। বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন খুবই প্রয়োজন।’

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লিমন বিশ্বাস ইউনুস বলেন, প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই দ্রুত একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, তিনি ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ভিসা সহজ করে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
ভিসা সহজ করে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এসব তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভিয়েতনামের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের এই সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী ও উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণ করার জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুলকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তাকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মাঝে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তার ভিয়েতনাম সফরের কথা স্মরণ করেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করতে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

এসময় তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, বাইসাইকেল, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির জন্য ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান।

বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে তার সফল কর্মকাল এবং বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্ক উন্নয়নে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরেও তিনি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখবেন বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন এবং ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভিয়েতনাম দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

৩৬ কিলোমিটার সড়কে গর্ত-ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
৩৬ কিলোমিটার সড়কে গর্ত-ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝিনাইদহের আমতলা-তৈলটুপি-আলমডাঙ্গা (জেড-৭৪০৪) জেলা সড়কটি এখন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ৩৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ফাটল ও ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কোথাও উঠে গেছে সড়কের পিচ। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সড়কটি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের আমতলা বাজার থেকে শুরু হয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুর, ফলসী, রঘুনাথপুর, জোড়াদহ ও ভায়না ইউনিয়নের ওপর দিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া হয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলা বাজার, মকিমপুর, ছোট ভাদড়া, কন্যাদহ, জিন্দারের মোড়, দরিবিন্নি ও সড়াবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোথাও পিচ উঠে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও দেখা দিয়েছে দীর্ঘ ফাটল। বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ ছোট যানবাহনের চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে সড়কের কিছু অংশে ইট, বালু ও মাটি ফেলে সাময়িক মেরামত করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। কিছুদিন পরই সংস্কার করা অংশে আবারও গর্ত ও ভাঙন দেখা দেয়। তাদের দাবি, টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) ঝিনাইদহের তথ্যমতে, এলজিইডি থেকে সওজে হস্তান্তর করা ৩৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়কের মাত্র ১৩ কিলোমিটার অংশ মোটামুটি চলাচলের উপযোগী রয়েছে। আমতলা বাজার থেকে ০-৪, ৫-১৩ এবং ২৫-৩৪ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

সওজ সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি টেন্ডারের মাধ্যমে ৩ হাজার ৩৫০ মিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটিতে কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।

সওজ ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন বলেন, সড়কটির সংস্কারে বরাদ্দের অপ্রতুলতা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করা হবে। সড়কটি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তবে সেটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

দৌলতপুরে এখনও পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ, সুপেয় পানির সংকট

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
দৌলতপুরে এখনও পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ, সুপেয় পানির সংকট

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি কমতে শুরু করলেও বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ, সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে পদ্মার পানি প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার কমেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বকমারি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, পানি কিছুটা কমলেও তাদের কষ্ট কমেনি। ঘরের ভেতরে-বাইরে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। আশপাশের গ্রাম ডুবে থাকায় অনেক দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তিনি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার দাবি জানান।

চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর গ্রামের রহিমা খাতুন বলেন, পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বাড়িতে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যক্যাম্প স্থাপন ও খাদ্য সহায়তার দাবি জানান তিনি।

সাম্প্রতিক বন্যায় দৌলতপুরের পদ্মাতীরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে এক হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছেন। দুর্গতদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি দুটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম কাজ করছে। সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণও জোরদার করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, পদ্মার পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। চিলমারী, রামকৃষ্ণপুরসহ দুর্গম চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। পাশাপাশি স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্য সরবরাহেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।

বিজিবির খাদ্য সহায়তা

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার বেলা ১১টার দিকে চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার-উদয়নগর ও ভাগজত এলাকায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) উদ্যোগে ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসব খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, আটা ও লবণ।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন এবং ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির দায়িত্বের অংশ। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এসকে