খুঁজুন
                               
, ,
           

থামছে না চায়না দুয়ারি জালের বিস্তার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
থামছে না চায়না দুয়ারি জালের বিস্তার

নিষেধাজ্ঞা আছে, অভিযানও চলছে—তবু থামছে না চায়না দুয়ারি জালের বিস্তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ্যেই চলছে এই জালের প্রচার ও বিক্রি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারেও মিলছে জালটি। ফলে একদিকে যেমন আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে নির্বিচার মাছ শিকারের এই উপকরণ দেশি মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য তৈরি করছে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি।

ফাঁদে মাছের সঙ্গে পোনা ও জলজ প্রাণী
চায়না দুয়ারি বা চায়না রিং জাল মূলত এক ধরনের ফাঁদ। জালের দুই পাশে প্রবেশপথ থাকে। মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ভেতরে ঢোকার পর সহজে বের হতে পারে না। কয়েক হাত থেকে শত হাত পর্যন্ত লম্বা এই জালে নির্দিষ্ট দূরত্বে রিং বসানো থাকে।

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রচারপত্রেও বলা হয়েছে, দেশি মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহারে মাছের পাশাপাশি পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও নির্বিচারে আটকা পড়ে। ফলে প্রজনন ও স্বাভাবিক বংশবিস্তারের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

আইনে নাম নেই, নিষেধাজ্ঞার ভিত্তি অন্য জায়গায়
চায়না দুয়ারি জালকে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে আলাদাভাবে নাম উল্লেখ করে নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে আইনে ‘ফিক্সড ইঞ্জিন’ স্থাপন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে।
আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, মাছ ধরার জন্য মাটিতে গেঁথে বা অন্য কোনো উপায়ে স্থির করা জাল, খাঁচা, ফাঁদ কিংবা অন্য কোনো কৌশল ‘ফিক্সড ইঞ্জিন’-এর আওতায় পড়ে। মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চায়না দুয়ারি জাল এই বিধানের আওতায় অবৈধ। অর্থাৎ জালের নাম আইনে না থাকলেও এর ব্যবহার পদ্ধতিই নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তি।

ফেসবুক-ইউটিউবে যেন খোলা বাজার
নিষেধাজ্ঞার বাস্তব চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে। ‘চায়না রিং জাল’ নামেই একাধিক পেজ রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন নামে আরও বহু পেজে পাইকারি ও খুচরা বিক্রির প্রচার চলছে।

ইউটিউবেও রয়েছে জালটির বিক্রয়সংক্রান্ত ভিডিও। কিছু ভিডিওতে কারখানায় উৎপাদনের দৃশ্য, যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোর তথ্য এবং জালের দাম পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ উৎপাদন থেকে বিপণন—পুরো প্রক্রিয়াটিই অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতার সামনে উন্মুক্ত।

রাজধানীর বাজারেও মিলছে
অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয় চায়না দুয়ারি জালের বাজার। রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারেও এর বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর সেখানে এক দোকানদার জানান, তাঁর কাছে জালটি রয়েছে এবং কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা থেকে এনে তিনি বিক্রি করেন।

এতে বোঝা যায়, অনলাইন প্রচারের পাশাপাশি সরবরাহের একটি বাস্তব বাজারও গড়ে উঠেছে। ফলে শুধু ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা কঠিন। উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির উৎস শনাক্ত করাও জরুরি।

অভিযান আছে, পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই
চায়না দুয়ারি জালের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে গত ১৩ এপ্রিল দেশের সব বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়। অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

তবে এরপর বা চলতি বছরে কতটি অভিযান হয়েছে, কত জাল জব্দ হয়েছে কিংবা কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এর পূর্ণাঙ্গ তথ্য অধিদপ্তরে নেই। অভ্যন্তরীণ মৎস্য বিভাগের পরিচালক মোতালেব হোসেন অবশ্য জানিয়েছেন, ব্যাপকভাবে জাল জব্দ করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কয়েকটি কারখানার বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

প্রশ্নটা শুধু একটি জালের নয়
মৎস্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে খাল-বিল, নদী-নালা, হাওর-বাঁওড়ে মাছের প্রাপ্যতা আরও কমে যেতে পারে। কারণ চায়না দুয়ারি জালের ক্ষতি শুধু ধরা পড়া মাছের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও।

তাই সমস্যাটিকে কেবল অবৈধ জাল জব্দের অভিযান হিসেবে দেখলে চলবে না। উৎপাদনকারী কারখানা, সরবরাহকারী, বাজার ও অনলাইন বিক্রয়—পুরো শৃঙ্খলকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আইনের প্রয়োগ কতটা নিয়মিত ও কার্যকর হচ্ছে, তার পরিমাপযোগ্য তথ্য প্রকাশ করাও জরুরি। কারণ পানিতে একবার জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হলে শুধু অভিযান চালিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না।

কালের আলো/এম/এএএইচ

সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়

২২৪ শিক্ষার্থীর পাঠদান, শ্রেণিকক্ষের অভাবে আশ্রয় বটতলায়

চিতলমারী (বাগেরহাট)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
২২৪ শিক্ষার্থীর পাঠদান, শ্রেণিকক্ষের অভাবে আশ্রয় বটতলায়

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে খোলা আকাশের নিচে বটতলায় পাঠদান চলছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এভাবেই ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান।

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২২৪ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করছে। তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম হওয়ায় জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে, ফ্লোর ও দেয়ালে ফাটল রয়েছে। বর্ষাকালে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। ভেঙে গেছে হোয়াইট বোর্ড; নেই ডিজিটাল ক্লাসের ব্যবস্থাও।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন মণ্ডল বলেন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি ক্লাস বটতলায় নিতে হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ জরুরি।

তিনি জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে তিনটি নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসছে, টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে দোকানের খাবার খাচ্ছে না এবং বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল নিয়ে আসছে না।

প্রধান শিক্ষক বলেন, এসব নিয়ম চালু হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের শ্রেণিপাঠে মনোযোগ বেড়েছে বলে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমেছে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌসুমী বিশ্বাসসহ অন্য শিক্ষার্থীরা জানায়, নতুন নিয়মগুলো চালুর পর পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ভবনের বিভিন্ন সমস্যায় তারা উদ্বিগ্ন। অনেক সময় বটতলায় ক্লাস করতে হওয়ায় তাদের অসুবিধা হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুস শাকুর বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক ক্লাস খোলা আকাশের নিচে বটতলায় করাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কিছু করার নেই। বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন খুবই প্রয়োজন।’

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লিমন বিশ্বাস ইউনুস বলেন, প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই দ্রুত একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, তিনি ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৮৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৮৪

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৪ জন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৬। আর এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৮ হাজার ৪০০ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

গুলশান-ধানমন্ডি-নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
গুলশান-ধানমন্ডি-নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ

রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমন্ডি লেকের দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গুলশান-ধানমন্ডি-নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।

লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমন্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে লেকে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ করছে। সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ উপস্থাপন করে।

লেকের দূষণ রোধে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ, ভবন ভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা পানি সংগ্রহের জন্য এলাকা তৈরির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করা হয়। বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ানোর যন্ত্র (এরেটর) স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদী স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে, রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতে ইতোমধ্যেই ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম নিয়োজিত করা হয়েছে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ