খুঁজুন
                               
, ,
           

ভিসা সহজ করে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
ভিসা সহজ করে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এসব তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভিয়েতনামের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের এই সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী ও উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণ করার জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুলকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তাকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মাঝে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তার ভিয়েতনাম সফরের কথা স্মরণ করেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করতে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

এসময় তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, বাইসাইকেল, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির জন্য ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান।

বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে তার সফল কর্মকাল এবং বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্ক উন্নয়নে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরেও তিনি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখবেন বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন এবং ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভিয়েতনাম দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুল ও লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া স্থাপনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তথ্য অনুসন্ধানী মিশন।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং মিশন অন ইরানের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনাবের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো হামলার ঘটনায় মার্কিন বাহিনী জড়িত থাকার যুক্তিসংগত ভিত্তি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় স্কুলটি একটি বেসামরিক স্থাপনা ছিল। এটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। অথচ বিদ্যালয়টিতে তখন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই শিশু। নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন স্কুলশিক্ষার্থী ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

জাতিসংঘের তদন্তে আরও বলা হয়েছে, স্কুলের পাশের একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সময় বিদ্যালয় ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারীদের মতে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল এবং হামলার আগে তথ্যগুলো যথাযথভাবে যাচাই বা হালনাগাদ করা হয়নি।

এ ঘটনায় হামলাটি কেবল সাধারণ সামরিক ভুল ছিল, নাকি আন্তর্জাতিক আইনের আরও গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে—সে বিষয়েও তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের মিশনের মতে, বেসামরিক স্থাপনা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

এ ছাড়া লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রেও মার্কিন হামলার ঘটনা তদন্ত করেছে জাতিসংঘের মিশন। ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে অভিহিত করেছেন।

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন মিনাবের স্কুলে হামলার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি এবং বিভিন্ন তদন্তের তথ্য নিয়ে বিতর্ক চলছে। জাতিসংঘের নতুন তদন্তে অবশ্য ঘটনাগুলোর আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে ২০ সেপ্টেম্বর শুরু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে ২০ সেপ্টেম্বর শুরু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

রাজশাহীতে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উপ-অঞ্চল পর্যায়ের খেলা শুরু হচ্ছে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোহাঃ আব্দুর রশিদ বিষয়টি জানিয়েছেন।

চার ইভেন্টে প্রতিযোগিতা

উপ-অঞ্চল পর্যায়ে ছাত্র ও ছাত্রীদের চারটি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ইভেন্টগুলো হলো—সাঁতার, দাবা, হ্যান্ডবল ও কাবাডি।

জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল ও প্রতিযোগীরাই উপ-অঞ্চল পর্যায়ের খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা শেষে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

৩৬ কিলোমিটার সড়কে গর্ত-ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
৩৬ কিলোমিটার সড়কে গর্ত-ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝিনাইদহের আমতলা-তৈলটুপি-আলমডাঙ্গা (জেড-৭৪০৪) জেলা সড়কটি এখন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ৩৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ফাটল ও ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কোথাও উঠে গেছে সড়কের পিচ। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সড়কটি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের আমতলা বাজার থেকে শুরু হয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুর, ফলসী, রঘুনাথপুর, জোড়াদহ ও ভায়না ইউনিয়নের ওপর দিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া হয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলা বাজার, মকিমপুর, ছোট ভাদড়া, কন্যাদহ, জিন্দারের মোড়, দরিবিন্নি ও সড়াবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোথাও পিচ উঠে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও দেখা দিয়েছে দীর্ঘ ফাটল। বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ ছোট যানবাহনের চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে সড়কের কিছু অংশে ইট, বালু ও মাটি ফেলে সাময়িক মেরামত করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। কিছুদিন পরই সংস্কার করা অংশে আবারও গর্ত ও ভাঙন দেখা দেয়। তাদের দাবি, টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) ঝিনাইদহের তথ্যমতে, এলজিইডি থেকে সওজে হস্তান্তর করা ৩৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়কের মাত্র ১৩ কিলোমিটার অংশ মোটামুটি চলাচলের উপযোগী রয়েছে। আমতলা বাজার থেকে ০-৪, ৫-১৩ এবং ২৫-৩৪ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

সওজ সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি টেন্ডারের মাধ্যমে ৩ হাজার ৩৫০ মিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটিতে কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।

সওজ ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন বলেন, সড়কটির সংস্কারে বরাদ্দের অপ্রতুলতা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করা হবে। সড়কটি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তবে সেটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

কালের আলো/এমএসআইপি