খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুল ও লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া স্থাপনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তথ্য অনুসন্ধানী মিশন।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং মিশন অন ইরানের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনাবের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো হামলার ঘটনায় মার্কিন বাহিনী জড়িত থাকার যুক্তিসংগত ভিত্তি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় স্কুলটি একটি বেসামরিক স্থাপনা ছিল। এটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। অথচ বিদ্যালয়টিতে তখন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই শিশু। নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন স্কুলশিক্ষার্থী ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

জাতিসংঘের তদন্তে আরও বলা হয়েছে, স্কুলের পাশের একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সময় বিদ্যালয় ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারীদের মতে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল এবং হামলার আগে তথ্যগুলো যথাযথভাবে যাচাই বা হালনাগাদ করা হয়নি।

এ ঘটনায় হামলাটি কেবল সাধারণ সামরিক ভুল ছিল, নাকি আন্তর্জাতিক আইনের আরও গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে—সে বিষয়েও তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের মিশনের মতে, বেসামরিক স্থাপনা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

এ ছাড়া লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রেও মার্কিন হামলার ঘটনা তদন্ত করেছে জাতিসংঘের মিশন। ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে অভিহিত করেছেন।

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন মিনাবের স্কুলে হামলার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি এবং বিভিন্ন তদন্তের তথ্য নিয়ে বিতর্ক চলছে। জাতিসংঘের নতুন তদন্তে অবশ্য ঘটনাগুলোর আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

লংমার্চের নামে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: রাশেদ খাঁন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
লংমার্চের নামে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: রাশেদ খাঁন

জামায়াত লংমার্চের নামে সরকার পতনের হুঁশিয়ারি দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, হঠকারিতার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ দেশে ফিরে এলে এর দায় জামায়াতকেই নিতে হবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাস্থল ও স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, শহীদ আবু সাঈদ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তার রক্তের সঙ্গে জামায়াত বেঈমানি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি সংকটের কথা বলে লংমার্চের নামে গাড়িবহর নিয়ে জামায়াত-এনসিপি জনদুর্ভোগ তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তার ভাষ্য, লংমার্চ গাড়িবহর নিয়ে নয়, পায়ে হেঁটে হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, শুধু নির্বাচনে জেতার জন্য আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মানুষ এসব ভুলে যায়নি। গণহত্যার বিচার বিএনপি সরকার করছে। ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলার রায় হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রংপুরে লংমার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতের উত্থাপিত সাতটি দাবির প্রত্যেকটিই সরকার বাস্তবায়ন করছে। এ অবস্থায় রাস্তাঘাট বন্ধ করে লংমার্চ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাস্তাঘাট অচল করে জনগণের উপকারের পরিবর্তে ভোগান্তি বাড়ানো হচ্ছে দাবি করে রাশেদ খাঁন বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন সড়ক বন্ধ রাখার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রংপুরের সড়কও বন্ধ হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে।

এর আগে সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি আগামী দুই বছরের মধ্যে হাসপাতালটিকে আধুনিকায়নের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রংপুরের মানুষকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে না এবং হাসপাতালে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট থাকবে না।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ট্রাম্পের নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। এ ছাড়া সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক হতে পারে।

এ ছাড়া বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকাও তুলনামূলক ছোট রাখা হচ্ছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

হাসিনার আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
হাসিনার আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের সরকার। ঢাকার এই উদ্যোগ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নয়াদিল্লি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টিও এই পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে—এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া কী?

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন দেখেছি, তবে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে কিছু জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’

এরআগে গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টিও এই পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ।

তিনি বলেন, আগের সরকারের করা কিছু ব্যবস্থায় বিদেশি জাহাজকে বাংলাদেশের জাহাজের তুলনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এসব চুক্তির পর্যালোচনার ফলাফল খুব শিগগিরই জানানো হবে বলেও জানান চিফ হুইপ। তবে কোন কোন চুক্তি বহাল থাকবে, সংশোধন হবে বা বাতিল হতে পারে—এ বিষয়ে সরকার এখনো নির্দিষ্ট কোনো তালিকা প্রকাশ করেননি তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএউচ