খুঁজুন
                               
, ,
           

দখল-ভরাটে অস্তিত্ব সংকটে রংপুরের নদী

রংপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
দখল-ভরাটে অস্তিত্ব সংকটে রংপুরের নদী

একসময় রংপুর বিভাগের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্য ও নৌপথের অন্যতম প্রধান অবলম্বন ছিল নদ-নদী। সময়ের সঙ্গে দখল, ভরাট, অবৈধ স্থাপনা, পানিপ্রবাহে বাধা ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় সেই নদীগুলোর অনেকগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। কোথাও নদী পরিণত হয়েছে সরু খালে, কোথাও ড্রেনে; আবার কোথাও হারিয়ে গেছে নদীর চিহ্নই।

রংপুর বিভাগের আট জেলায় সরকারি ও স্থানীয় বিভিন্ন তালিকায় তিন শতাধিক নদ-নদীর তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে রংপুরে ৪৩টি, লালমনিরহাটে ২৫টি এবং কুড়িগ্রামে অর্ধশতাধিক নদ-নদীর উল্লেখ রয়েছে। তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, করতোয়া, আত্রাই ও ইছামতীর পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য ছোট নদী ও শাখানদী। তবে তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে অনেক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা কমে গেছে।

শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুক জেগে ওঠার পর কোথাও কোথাও সেই জমি দখল করে চাষাবাদ কিংবা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এতে বর্ষাকালে পানিনিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাছের প্রজননক্ষেত্র, জীববৈচিত্র্য ও নদীনির্ভর কৃষি।

লালমনিরহাটের সতী নদীর বিভিন্ন অংশও সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নদীর জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ, পুকুর খনন ও কচুরিপানার আধিক্যে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার গিরাই নদী নিয়েও রয়েছে দখলের অভিযোগ।

রংপুর অঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা। এ নদীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। ঘাঘট, যমুনেশ্বরী ও করতোয়াসহ বিভিন্ন নদীরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু নাব্যতা কমে যাওয়ায় অনেক স্থানে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

লেখক ও গবেষক মো. আলামীন বলেন, নদী রক্ষায় সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ ও পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। নদী বাঁচলে কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড দেশের নদ-নদীর সংখ্যা নির্ধারণ ও তালিকা হালনাগাদের অংশ হিসেবে বিভাগীয় পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য পুনঃযাচাই করে খসড়া তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে কোন নদীর অবস্থান কোথায়, সীমানা কতটুকু এবং মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব অবস্থা কী—এসব বিষয় নতুন করে যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, নদী রক্ষার উদ্যোগ শুধু বাঁধ নির্মাণ বা ভাঙন ঠেকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, প্রয়োজনীয় স্থানে খনন এবং পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকি জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও নদীর প্রবাহের পরিবর্তন ভবিষ্যতে ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

তাই রংপুর বিভাগের নদ-নদীগুলোকে টিকিয়ে রাখতে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়—এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য, পানি নিষ্কাশন ও মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.১৪ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.১৪ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩ হাজার ৬১৪ কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা ৩৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১২৯ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার ডলার বা ৩১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের এ তথ্য প্রকাশ করে।

এর আগে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই ও আগস্ট মাসের আমদানি বিল বাবদ ১৩৯ কোটি ২২ লাখ ৭ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়। আকুর বিল পরিশোধের আগে আগস্টের শেষ নাগাদ দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। বিল পরিশোধের পর তা সাময়িকভাবে কমে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে যায়। পরে রিজার্ভ আবার বেড়ে ৩৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।

আকু হলো আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক লেনদেন ও আমদানি বিল পরিশোধের একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক আমদানি-রপ্তানি লেনদেন সহজ করা হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা কমানো হয়।

সাধারণত দুই মাস পরপর আকুর বিল পরিশোধ করা হয়। অর্থাৎ বছরে মোট ছয় দফায় এ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। আকুর প্রধান কার্যালয় ইরানের রাজধানী তেহরানে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ নয়টি দেশ এ ব্যবস্থার সদস্য—ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার ও ইরান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সোনার দাম ফের বাড়ল, রুপা অপরিবর্তিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
সোনার দাম ফের বাড়ল, রুপা অপরিবর্তিত

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। তেজাবি সোনার দাম বাড়ার কারণে প্রতি ভরি সোনায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা সোনার নতুন দাম ঘোষণা করেন। সকাল ১০টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা।

তবে সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১২০ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৬১ দফা কমানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

আলোক ফাঁদে কমছে আমনে বালাইনাশকের অপচয়

লালমনিরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
আলোক ফাঁদে কমছে আমনে বালাইনাশকের অপচয়

আমন ধানের ক্ষেতে অপরিমিত ও অপ্রয়োজনীয় বালাইনাশকের ব্যবহার কমাতে লালমনিরহাটে ‘আলোক ফাঁদ’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী বালাই ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশ ও উপকারী পোকামাকড় রক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন ব্লকে প্রতি সপ্তাহে একযোগে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। আমন ক্ষেতের পাশে আলো জ্বালিয়ে তার নিচে সাবান বা কেরোসিন মিশ্রিত পানির পাত্র রেখে তৈরি করা হচ্ছে এ ফাঁদ।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোয়াহেল আহমেদ বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর পোকার সঙ্গে উপকারী পোকাও মারা যায়। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। আলোক ফাঁদের মাধ্যমে মাঠে থাকা পোকামাকড় শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, আলোর আকর্ষণে ফাঁদে পড়া পোকামাকড় পর্যবেক্ষণ করে জমিতে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকার উপস্থিতি নির্ধারণ করা হয়। এরপর পোকার পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী কৃষকদের বালাইনাশক প্রয়োগ কিংবা অন্যান্য বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গুড়িয়াদহ ব্লকে আলোক ফাঁদ কর্মসূচি পরিদর্শন করেন জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী বলেন, অনেক সময় কৃষকেরা না বুঝেই জমিতে অতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগ করেন। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি উপকারী পোকামাকড়ও ধ্বংস হয়। আলোক ফাঁদের মাধ্যমে পোকা শনাক্ত করে পরিমিত বালাইনাশক ব্যবহার করলে ফসল নিরাপদ রাখার পাশাপাশি কৃষকের খরচও কমানো সম্ভব।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোয়াহেল আহমেদ জানান, আলোক ফাঁদ ব্যবহারে বালাইনাশকের অপচয় কমার পাশাপাশি আগাম বালাই সতর্কতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে সদর উপজেলার আমন ক্ষেতগুলোর সার্বিক অবস্থা সন্তোষজনক।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি আমন মৌসুমে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় হাইব্রিড ও উফশীসহ বিভিন্ন আধুনিক জাতের মোট ১৫ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি