খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধান শিক্ষক নেই, বেতনও নেই; সংকটে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক নেই, বেতনও নেই; সংকটে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজে নেই প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বেও নেই কেউ। নানা সংকটে এক সময়ের জমজমাট প্রতিষ্ঠানটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সাত বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা। অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিবহনসহ নানা সমস্যায় কমে গেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশে মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। প্রথম বছর ৬৭৫ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তখন ১৬ শিক্ষক ও তিন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০১৯ সালের পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। ২০২০ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠদানের অনুমোদন পায় বিদ্যালয়টি।

পরে বিদ্যালয়টি উপাচার্যের বাসভবনের পাশে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে জরাজীর্ণ আধাপাকা ভবনের নয়টি কক্ষে প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বৃষ্টি হলে টিনের চাল দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। এমনকি একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদানও করতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমের পাশে ঝোপঝাড় থাকায় সেখানে সাপের ভয় রয়েছে। নেই খেলার মাঠও। ফলে নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী হওয়া কমে গেছে।

শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাদের। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ এবং অনেক সময় নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাদিম আহমেদ বলেন, ২০১৯ সালে তৎকালীন উপাচার্য চলে যাওয়ার পর থেকেই তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ। বিদ্যালয় স্থানান্তরের পর সংকট আরও বেড়েছে। সমস্যা সমাধান করা গেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি জেলার অন্যতম ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সোহেল হাসান জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টির বর্তমানে কোনো অনুমোদন নেই এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামেও নেই। তিনি বলেন, কমিটি গঠন করে বিদ্যালয়টিকে অর্গানোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর ইউজিসির অনুমোদন নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়টির সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

খানাখন্দে বেহাল আতাইকুলা-ডেমরা সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
খানাখন্দে বেহাল আতাইকুলা-ডেমরা সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

 

সংস্কারের অভাবে পাবনার আতাইকুলা-ডেমরা আঞ্চলিক সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে সাঁথিয়া, ফরিদপুর ও আতাইকুলা এলাকার প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন। বাড়ছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন; পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে নির্মিত এ আঞ্চলিক সড়কটি প্রায় সাত বছর আগে সর্বশেষ সংস্কার করা হয়। তখন প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। সংস্কারের পর কয়েক বছর সড়কটি চলাচলের উপযোগী থাকলেও গত দুই থেকে তিন বছরে আবারও বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তিন থানার মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার যানবাহনের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী তেল ডিপোর গাড়ি এ সড়ক ব্যবহার করে নাটোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় যায়। শাহজাদপুর ও আতাইকুলা হাটের ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সড়কটির বেহাল দশার কারণে ধুলাউড়ি হাটসহ বিভিন্ন বাজারে কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোগান্তি বাড়ছে। ভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। পাশাপাশি গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হওয়ায় চালকদের মেরামত খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ভাড়াতেও।

ফরিদপুরের ডেমরা এলাকার কৃষক মো. হানিফ বলেন, এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। সড়কটির মাধ্যমে বিভিন্ন বাজারে কৃষিপণ্য নিতে হয়। কিন্তু বড় বড় গর্তের কারণে পণ্যবোঝাই যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

কলেজ শিক্ষার্থী রিপন, আরমান ও তৌহিদা জামান জানান, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে তাদের কলেজ ও পাবনা শহরে যাতায়াত করতে হয়। জেলার জেনারেল হাসপাতালেও যেতে হয় এ পথ ধরে। বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বড় গর্তগুলোতে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়।

অটোরিকশাচালক বিপ্লব বলেন, কয়েক দিন আগে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় গর্তে পড়ে তার অটোরিকশা বিকল হয়ে যায়। পরে ঋণ নিয়ে গাড়িটি মেরামত করতে হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে জানান তিনি।

সিএনজিচালকদের কয়েকজন জানান, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে তারা সড়কটিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। আগে দুই মাসে একবার গাড়িতে গ্রিজ করতে হলেও এখন মাসে দুইবার করতে হচ্ছে। গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের কারণে আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়া গেলে সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, জনবল সংকট; বাঁশখালী হাসপাতালে দুর্ভোগ চরমে

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, জনবল সংকট; বাঁশখালী হাসপাতালে দুর্ভোগ চরমে

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও মেঝেতে গাদাগাদি করে চলছে রোগীর চিকিৎসা। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ প্রায় দ্বিগুণ। ফলে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে চিকিৎসক-নার্সসহ জনবল সংকট, ওষুধের স্বল্পতা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ।

প্রায় সাত লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। সরেজমিনে দেখা যায়, ভর্তি রোগীর পাশাপাশি জরুরি বিভাগেও রয়েছে ভিড়। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। শিশু রোগীর সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীনদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীও রয়েছেন।

হাসপাতালের বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ে বলে জানিয়েছেন নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এতে কর্মরতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ছাদের অংশ খসে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

হাসপাতালের ভেতরে ময়লা-আবর্জনার পাশাপাশি ড্রেনের আশপাশে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার লার্ভাও দেখা গেছে। পশ্চিম পাশে দীর্ঘদিন ধরে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় হাসপাতালটি অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

জনবল সংকটেও ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চক্ষু ও সার্জারি বিভাগের দুটি জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদ শূন্য। চারজন মেডিকেল অফিসার সংযুক্তিতে অন্যত্র কর্মরত। মেডিকেল অফিসারের আরও চারটি পদ শূন্য রয়েছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ডবয় ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন পদে মোট ৫৪টি পদ শূন্য।

এ ছাড়া এক্স-রে টেকনোলজিস্ট না থাকায় কয়েক মাস ধরে হাসপাতালের এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধের স্বল্পতা রয়েছে। ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ও জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা নিতে এসে স্বস্তির বদলে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাদের।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মুমিনুল হক বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট প্রবল। প্রায় সাত লাখ মানুষের এই হাসপাতালে প্রতিদিন শয্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ড্রেন নির্মাণের জন্য পৌরসভাকে জানানো হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন ফগার মেশিনও পাওয়া গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী বলেন, হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, নতুন ভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কার, রোগীদের জন্য নিজস্ব অক্সিজেন প্ল্যান্ট, পর্যাপ্ত সরকারি ওষুধ এবং ল্যাবরেটরি সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এদিকে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাঁচ দশক পেরিয়ে কোরআন শেখার পথে ৪২ প্রবীণ

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ দশক পেরিয়ে কোরআন শেখার পথে ৪২ প্রবীণ

মাগরিবের নামাজের পর মসজিদে নেমে আসে নীরবতা। সেই নীরবতা ভেঙে ভেসে আসে পবিত্র কোরআনের আয়াত পাঠের শব্দ। মসজিদের মেঝেতে গোল হয়ে বসে আছেন বেশ কয়েকজন প্রবীণ। কারও চুলে পাক ধরেছে, কারও শরীর নুয়ে পড়েছে বয়সের ভারে। তবুও কোরআন শেখার আগ্রহে নিয়মিত মসজিদে ছুটে আসছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে কোরআন শেখার এমন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৪২ জন প্রবীণ শ্রমজীবী। ছোটবেলা থেকে দারিদ্র্য, জীবনসংগ্রাম ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে যারা কোরআন শেখার সুযোগ পাননি, পাঁচ দশক পার করে তারাই এখন নিয়মিত কোরআন শিক্ষা নিচ্ছেন। পাশাপাশি শুদ্ধভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নিয়মকানুনও শিখছেন তারা।

শুক্রবার রাতে কামারখন্দ উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, কোরআন শিক্ষা সম্পন্ন করা এসব প্রবীণ শিক্ষার্থীর হাতে কোরআন শরিফ তুলে দেওয়া হচ্ছে। ‘শেখ আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনা মূল্যে মাদানি পদ্ধতিতে তাদের কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়।

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সবজি বিক্রেতাদের পাঠদান করছেন উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল মোমেন। সারা দিনের কাজ শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েও প্রতিদিন মাগরিবের পর থেকে এশার আজান পর্যন্ত মসজিদে এসে পাঠ নেন প্রবীণরা।

কোরআন উপহার পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একজনের জন্য ছিল বিশেষ চমক। লটারির মাধ্যমে ৭০ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম তারাকে বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দিয়েছে ‘স্যাম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’। এমন উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক মাওলানা ক্বারী মুয়াজ নোমানী জানান, এটি তাদের কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের দ্বিতীয় ব্যাচ। ২০২৫ সালের ৯ জুলাই এই ব্যাচের পাঠদান শুরু হয়। দ্বিতীয় ব্যাচের আরও তিন মাসের কার্যক্রম বাকি রয়েছে। এরপর তৃতীয় ব্যাচ শুরু হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় প্রবীণদের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বিনা মূল্যের এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় জ্ঞানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন, শেখ আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, ওলামা নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি