খুঁজুন
                               
, ,
           

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষে ৫৮ জনের চাকরি

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষে ৫৮ জনের চাকরি
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির ২০ ক্যাটাগরির পদে মোট ৫৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র ডাকযোগে অথবা অন্য কোনো উপায়ে নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছাতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৬।

যেসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ল্যান্ড সার্ভেয়ার পদে দুজন, হেভি ড্রাইভার পদে পাঁচজন, বোট চালক পদে একজন, ক্রেন অপারেটর পদে একজন এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে একজন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ইলেকট্রিশিয়ান পদে দুজন, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে দুজন এবং প্লাম্বার পদে একজন নেওয়া হবে। ল্যান্ড সার্ভেয়ার, হেভি ড্রাইভার, বোট চালক, ক্রেন অপারেটর, কম্পিউটার অপারেটর, ইলেকট্রিশিয়ান ও টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের মাসিক বেতন ১৮ হাজার ৫১৪ টাকা। প্লাম্বার পদের বেতন ১৭ হাজার ৯৯২ টাকা।

ড্রাইভার ও বন্দর পরিচালনাসংশ্লিষ্ট পদ

লাইট ড্রাইভার পদে ১২ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের মাসিক বেতন ১৭ হাজার ৯৯২ টাকা। মুরিং গ্যাং পদে ১০ জন এবং গ্রিজার পদে একজন নেওয়া হবে। এ দুই পদের বেতন ১৭ হাজার ৬৩০ টাকা।

এ ছাড়া সুকানি পদে একজন এবং বোট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে একজন নিয়োগ দেওয়া হবে। উভয় পদের মাসিক বেতন ১৭ হাজার ১০৮ টাকা।

অন্যান্য পদে নিয়োগ

গার্ডেনার পদে দুজন এবং বাবুর্চি পদে তিনজন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ দুই পদের মাসিক বেতন ১৭ হাজার ১০৮ টাকা। মেসেঞ্জার, আয়া, লিফটম্যান ও সহকারী বাবুর্চি পদে একজন করে কর্মী নেওয়া হবে। এসব পদের বেতন ১৬ হাজার ৬৭৩ টাকা।

এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে দুজন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের মাসিক বেতনও ১৬ হাজার ৬৭৩ টাকা।

বয়সসীমা ও চুক্তির মেয়াদ

আবেদনকারীদের বয়স ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের চুক্তির মেয়াদ হবে দুই বছর। আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত মূল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

যেভাবে আবেদন করবেন

আগ্রহী প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র ‘সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ), পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ, কলাপাড়া, পটুয়াখালী’ বরাবর পাঠাতে হবে। আবেদনপত্র ডাকযোগে অথবা অন্য কোনো উপায়ে নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছানো যাবে।

আবেদন ফরম পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট https://ppa.gov.bd থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

আবেদন ফি

১ থেকে ৯ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা। অন্যদিকে, ১০ থেকে ২০ নম্বর পদের আবেদন ফি ৫০ টাকা।

আবেদনের শেষ সময়

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের এই নিয়োগে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

কালের আলো/এসএ

তিস্তা প্রকল্পে ডাচ সহায়তার প্রস্তাব, তারেক রহমানের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
তিস্তা প্রকল্পে ডাচ সহায়তার প্রস্তাব, তারেক রহমানের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক

তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কারিগরি ও জ্ঞানগত সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে ডাচ মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপযুক্ত সময় এসেছে। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের আগ্রহকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র। অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জবাবে ডাচ মন্ত্রী পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপযোগী নদীব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা এবং কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন ডাচ মন্ত্রী। কৃষিতে দেশটির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুসংহত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তাঁর সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ডাচ মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সফল এফএম-৯০ লাইভ ফায়ারিং মহড়া বিমান বাহিনীর, আকাশসীমার সুরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
সফল এফএম-৯০ লাইভ ফায়ারিং মহড়া বিমান বাহিনীর, আকাশসীমার সুরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার পথে আরও একটি ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। আকাশ প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি, ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় পেশাদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কক্সবাজারের নিদানিয়ায় অবস্থিত কক্সবাজার এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে (সিএডিএফআর) বিমান বাহিনীর ৩০১ স্যাম ইউনিট এই মহড়া পরিচালনা করে। মহড়া সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

সফল মহড়া পেশাদারিত্বের ইতিবাচক প্রতিফলন
একটি আধুনিক বিমান বাহিনীর শক্তি শুধু উন্নত যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এসব সরঞ্জাম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রস্তুতির একটি ইতিবাচক দিককে তুলে ধরেছে।

  • কক্সবাজারে লাইভ ফায়ারিং পরিদর্শন বিমান বাহিনী প্রধানের
  • আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

মহড়া পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি লাইভ মিসাইল ফায়ারিং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সফলভাবে মহড়া সম্পন্ন করায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর এই স্বীকৃতি বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মদক্ষতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব
মহড়া পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান জানান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ, আধুনিকায়নকে কেবল সরঞ্জাম সংযোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করার অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় জোরদার প্রস্তুতি
একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় আকাশসীমার সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় নজরদারি, পরিস্থিতি মূল্যায়ন, উপযুক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা এবং প্রশিক্ষিত জনবলের সমন্বিত প্রস্তুতি অপরিহার্য। এফএম-৯০-এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার লাইভ ফায়ারিং অনুশীলন সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাস্তব ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। এ ধরনের অনুশীলন নিয়মিত পরিচালিত হলে সদস্যদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

মহড়া পরিদর্শনকালে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ) এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল শরিফুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম মাহিউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, বিমান সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঘাঁটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভবিষ্যৎ সক্ষমতার ভিত্তি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম এবং এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া থেকে একটি ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়—প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে নতুন সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি উন্নয়নে আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান হালনাগাদ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারে সফল এফএম-৯০ লাইভ মিসাইল ফায়ারিং মহড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রমে একটি উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা। আধুনিকায়ন, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সমন্বিত চর্চা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রস্তুতি আরও সুসংহত করার পথনকশা প্রস্তুত হচ্ছে।

কালের আলো/এএএএমকে

জার্মান পর্যটকের হারানো ম্যাকবুক উদ্ধার, পুরস্কৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
জার্মান পর্যটকের হারানো ম্যাকবুক উদ্ধার, পুরস্কৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুক ফিরে পেয়েছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষ থেকে হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এ ঘটনায় পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মান পর্যটক ক্রিলের হাতে উদ্ধার করা ম্যাকবুকটি তুলে দেন আইজিপি। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নাটোর রেলস্টেশনে হারিয়ে যায় ল্যাপটপ ও ক্যামেরা

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার।

গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে অবস্থান করছিলেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের ম্যাকবুক ও ক্যামেরা সেখানে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। ফিরে এসে দেখেন, সেখানে রাখা তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা আর নেই।

নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র হারিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ক্রিল। পরে সহায়তা চেয়ে নাটোর থানায় যান এবং লিখিত অভিযোগ করেন।

ল্যাপটপে ছিল ছয় মাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুকটি ক্রিলের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে তাঁর গত ছয় মাসের কার্যক্রমের তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত ছিল। ফলে ল্যাপটপটি ফিরে পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।

অভিযোগ পাওয়ার পর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

কাপুড়িয়াপট্টির দোকান থেকে উদ্ধার ম্যাকবুক

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ম্যাকবুকটি উদ্ধার করা হয়।

পরে উদ্ধার করা ল্যাপটপটি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটক ক্রিলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে হারিয়ে যাওয়া ক্যামেরাটির বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

কৃতজ্ঞতা জানালেন জার্মান পর্যটক

হারানো ম্যাকবুক ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় পাওয়া ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বীকৃতি হিসেবে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার দেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।

পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পুলিশের নির্দেশনা

অনুষ্ঠানে আইজিপি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পেশাদার সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় পুলিশের সব ইউনিটকে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত ও পেশাদার সেবা দেওয়া এবং মানুষের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা দেন আইজিপি। পাশাপাশি পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একজন বিদেশি পর্যটকের হারানো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উদ্ধার ও তা ফিরিয়ে দেওয়ার এ ঘটনা দেশের পর্যটন খাতে নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশের সেবার মান নিয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি