খুঁজুন
                               
, ,
           

এসএসসি পাসেই পুলিশে কনস্টেবল হওয়ার সুযোগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
এসএসসি পাসেই পুলিশে কনস্টেবল হওয়ার সুযোগ
বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের আবেদন শুরু হয়েছে। ‘শৃঙ্খলা নিরাপত্তা অগ্রগতি’ মূলমন্ত্র এবং ‘সেবার ব্রতে চাকরি’ স্লোগান সামনে রেখে সারা দেশে পুলিশ সদস্য নিয়োগের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন শুরু হয়েছে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা।

পদের নাম ও বেতন

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদটি ১৭তম গ্রেডের। এ পদের বেতন স্কেল ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত পূরণ করে আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সসীমা

আবেদনকারীদের এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায়, ভোকেশনালসহ, উত্তীর্ণ হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ বা সমমান থাকতে হবে। ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক এবং অবিবাহিত হতে হবে। তালাকপ্রাপ্ত প্রার্থীও এ শর্তে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

পুরুষ ও নারী প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা

সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং নারীর ন্যূনতম উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং নারীর ৫ ফুট ২ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রার্থীদের দৃষ্টিশক্তি ৬/৬ হতে হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন

ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে আবেদন করতে হবে অনলাইনে। এ জন্য বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আবেদন ও নিয়োগের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে: https://www.police.gov.bd/en/recruitment_information

আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর প্রাপ্ত ইউজার আইডি ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন সম্পন্ন করার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রিপেইড টেলিটক সিমের মাধ্যমে ৬৫ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে।

নিয়োগে স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্রে ভুল, মিথ্যা বা ভুয়া তথ্য দেওয়া কিংবা কোনো তথ্য গোপন করা হলে প্রার্থিতা বা নিয়োগ বাতিল হতে পারে। চাকরিতে যোগদানের পরও তথ্যের অসত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সব তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণকালীন সুযোগ-সুবিধা

নিয়োগের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণকালীন বিনা মূল্যে পোশাকসামগ্রী, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসাসুবিধা দেওয়া হবে। এ ছাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

আবেদনের সময়সীমা

বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টায়। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ও ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

কালের আলো/এসএ

জার্মান পর্যটকের হারানো ম্যাকবুক উদ্ধার, পুরস্কৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
জার্মান পর্যটকের হারানো ম্যাকবুক উদ্ধার, পুরস্কৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুক ফিরে পেয়েছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষ থেকে হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এ ঘটনায় পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মান পর্যটক ক্রিলের হাতে উদ্ধার করা ম্যাকবুকটি তুলে দেন আইজিপি। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নাটোর রেলস্টেশনে হারিয়ে যায় ল্যাপটপ ও ক্যামেরা

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার।

গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে অবস্থান করছিলেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের ম্যাকবুক ও ক্যামেরা সেখানে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। ফিরে এসে দেখেন, সেখানে রাখা তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা আর নেই।

নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র হারিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ক্রিল। পরে সহায়তা চেয়ে নাটোর থানায় যান এবং লিখিত অভিযোগ করেন।

ল্যাপটপে ছিল ছয় মাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুকটি ক্রিলের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে তাঁর গত ছয় মাসের কার্যক্রমের তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত ছিল। ফলে ল্যাপটপটি ফিরে পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।

অভিযোগ পাওয়ার পর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

কাপুড়িয়াপট্টির দোকান থেকে উদ্ধার ম্যাকবুক

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ম্যাকবুকটি উদ্ধার করা হয়।

পরে উদ্ধার করা ল্যাপটপটি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটক ক্রিলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে হারিয়ে যাওয়া ক্যামেরাটির বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

কৃতজ্ঞতা জানালেন জার্মান পর্যটক

হারানো ম্যাকবুক ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় পাওয়া ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বীকৃতি হিসেবে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার দেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।

পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পুলিশের নির্দেশনা

অনুষ্ঠানে আইজিপি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পেশাদার সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় পুলিশের সব ইউনিটকে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত ও পেশাদার সেবা দেওয়া এবং মানুষের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা দেন আইজিপি। পাশাপাশি পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একজন বিদেশি পর্যটকের হারানো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উদ্ধার ও তা ফিরিয়ে দেওয়ার এ ঘটনা দেশের পর্যটন খাতে নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশের সেবার মান নিয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

মেমোরি চিপের সংকটে স্মার্টফোনের বাজারে ১৪ বছরের রেকর্ড ধস

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
মেমোরি চিপের সংকটে স্মার্টফোনের বাজারে ১৪ বছরের রেকর্ড ধস

মেমোরি চিপের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ বছরের মধ্যে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এবারই স্মার্টফোন সরবরাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ বাড়ায় মেমোরি চিপের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এআই খাতে চিপের ব্যাপক ব্যবহার স্মার্টফোন নির্মাতাদের সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোনের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদামে।

এআইয়ের চাহিদায় চিপের সংকট, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন অবকাঠামো ও প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে চিপ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্মার্টফোন নির্মাতারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহে সমস্যায় পড়ছেন।

চিপের সরবরাহ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি নির্মাতাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে স্মার্টফোনের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। আবার কিছু নির্মাতা উৎপাদন ও সরবরাহ কমিয়ে বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোর পরিবর্তে মুনাফা ধরে রাখার কৌশল অনুসরণ করছে।

এতে একদিকে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের জন্য নতুন ফোন কেনার খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজারে শীর্ষে স্যামসাং, তবু সরবরাহ কমেছে

বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহ কমলেও তৃতীয় প্রান্তিকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্যামসাং। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, এ সময় বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের ২৩ শতাংশ ছিল প্রতিষ্ঠানটির দখলে।

গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ সিরিজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ এবং মধ্যম দামের স্মার্টফোন তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের তুলনামূলক স্থিতিশীল সরবরাহ স্যামসাংকে এগিয়ে থাকতে সহায়তা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাজারে শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহে পতন হয়েছে। গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন সরবরাহ কমেছে ৩ শতাংশ।

অ্যাপলের বাজার হিস্যা ২২ শতাংশ

স্যামসাংয়ের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপল। তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারের ২২ শতাংশ দখলে ছিল প্রতিষ্ঠানটির।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর আইফোন ১৭ সিরিজের সব মডেল বাজারে এলেও চলতি বছর আইফোন ১৮ সিরিজের সাধারণ মডেলটি বাজারে আসেনি। ফলে নতুন আইফোন বাজারে ছাড়ার প্রথম মাসে বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কম ছিল।

স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের অবস্থান শক্তিশালী থাকলেও নতুন মডেল বাজারে আসার সময়সূচি সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চীনা ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহে বড় পতন

মেমোরি চিপের সংকটে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে কয়েকটি চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, তৃতীয় প্রান্তিকে অপো ও ভিভোর স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। শাওমির সরবরাহ কমেছে ৩০ শতাংশেরও বেশি।

মুনাফা ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে শাওমি কম দামের স্মার্টফোনের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম সীমিত করেছে। পাশাপাশি কয়েকটি বিদেশি বাজারে ব্যবসার পরিসরও কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্লেষকদের মতে, যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে গেলে কম দামের স্মার্টফোন তৈরি ও বিক্রি করে আগের মতো মুনাফা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে নির্মাতারা উৎপাদন কমানো কিংবা তুলনামূলক বেশি দামের মডেলের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তবে এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাজেট ফোনের ক্রেতাদের বিকল্প আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

পুরোনো ফোন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিলপি জৈন বলেন, ক্রেতারা প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় পুরোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। তাঁদের অনেকে নতুন ফোন কেনার পরিবর্তে সংস্কার করা ব্যবহৃত স্মার্টফোনের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে তুলনামূলক বেশি দামের ও উন্নত সুবিধাসম্পন্ন ফোনের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।

এই প্রবণতা স্মার্টফোন বাজারে নতুন ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে ক্রেতাদের একটি অংশ ফোনের ব্যবহারকাল বাড়িয়ে নতুন ডিভাইস কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের কথা বিবেচনা করে উন্নত সুবিধার ফোন কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

ফলে বাজারে কম দামের নতুন স্মার্টফোনের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহৃত ও সংস্কার করা ফোনের গুরুত্ব বাড়তে পারে।

বছরের বাকি সময়েও সংকটের আশঙ্কা

চলতি বছরের বাকি সময়েও স্মার্টফোন বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাতারা উৎপাদন কমানো, স্মার্টফোনের মডেলের সংখ্যা সীমিত করা এবং বেশি দামের ফোনের দিকে মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল অব্যাহত রাখতে পারেন।

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন কম বাজেটের ক্রেতারা। মেমোরি চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের সরবরাহ সীমিত থাকা এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে স্মার্টফোনের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফোনের দাম বাড়লে নতুন ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন অনেক ক্রেতা। এতে বাজারে চাহিদা আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। একই সঙ্গে কম দামের ফোনের বিকল্প সীমিত হয়ে গেলে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন ডিভাইস কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ব্যয়ও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার স্মার্টফোন শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও মেমোরি চিপের সরবরাহ ও দামের ওপর বাড়তি চাপ এই শিল্পকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আগামী মাসগুলোতে চিপের সরবরাহ পরিস্থিতি এবং নির্মাতাদের মূল্য ও উৎপাদন কৌশলই বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, যাচাই করবে গুগলের নতুন টুল

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, যাচাই করবে গুগলের নতুন টুল

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা অডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে গুগল। এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে সিন্থআইডি ডিটেক্টর (SynthID Detector) নামের একটি যাচাইকরণ পোর্টাল। এর মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্টে গুগলের তৈরি অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা যায়।

গুগলের এ উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ডিপফেক, কৃত্রিম ছবি ও ভিডিও এবং এআই দিয়ে তৈরি অডিওর ব্যবহার বাড়ছে। এসব কনটেন্টের কারণে অনলাইনে প্রকৃত তথ্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি আধেয়ের মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ছবি, ভিডিও বা অডিওর উৎস যাচাইয়ের প্রযুক্তি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যেভাবে কাজ করে সিন্থআইডি ডিটেক্টর

সিন্থআইডি ডিটেক্টর ব্যবহার করে কোনো কনটেন্ট যাচাই করতে প্রথমে synthid.com ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর পরীক্ষা করতে চাওয়া ছবি, ভিডিও বা অডিও ফাইল আপলোড করতে হবে। পোর্টালটি ফাইল বিশ্লেষণ করে তাতে গুগলের সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা করবে।

সিন্থআইডি হলো গুগলের তৈরি একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের মধ্যে অদৃশ্য ডিজিটাল সংকেত যুক্ত করা যায়। সাধারণ চোখে এসব সংকেত দেখা যায় না। তবে উপযুক্ত শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো খুঁজে বের করা সম্ভব।

এই ওয়াটারমার্কের উদ্দেশ্য হলো এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করা সহজ করা। ফলে কোনো ফাইল গুগলের নির্দিষ্ট এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ডিপফেক ও অপতথ্য শনাক্তে কেন গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমানে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তব মানুষের মতো দেখতে ছবি তৈরি, কণ্ঠস্বর নকল এবং বিশ্বাসযোগ্য ভিডিও নির্মাণ করা সম্ভব। এসব প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, প্রতারণা কিংবা কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরির ঝুঁকিও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে কনটেন্টের উৎস শনাক্ত করার প্রযুক্তি অনলাইনে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সন্দেহজনক ছবি, ভিডিও বা অডিও পরীক্ষা করে এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্তের চেষ্টা করতে পারবেন।

তবে কোনো ফাইলে সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেলেই সেটি সব দিক থেকে ভুয়া—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। একইভাবে ওয়াটারমার্ক শনাক্ত না হলে কনটেন্টটি যে অবশ্যই বাস্তব বা মানুষের তৈরি, সেটিও নিশ্চিত হয় না। কারণ এই প্রযুক্তি মূলত নির্দিষ্ট ধরনের ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করে।

অংশীদারত্বে প্রযুক্তির প্রসার

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ওপেনএআই, এনভিডিয়া ও কাকাওসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এ ধরনের কনটেন্ট যাচাই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যাপলের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল আধেয়ের উৎস যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা। তবে সিন্থআইডি ডিটেক্টর সব ধরনের এআই-নির্মিত ছবি, ভিডিও বা অডিও শনাক্ত করতে পারে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

কনটেন্ট যাচাইয়ে ব্যবহারকারীদের করণীয়

সন্দেহজনক কোনো ছবি বা ভিডিও দেখলে শুধু একটি শনাক্তকরণ টুলের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে আরও কয়েকটি বিষয় যাচাই করা উচিত। কনটেন্টটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়েছে, প্রকাশকের পরিচয় কী, একই ঘটনার নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিবেদন রয়েছে কি না এবং ছবির সঙ্গে দেওয়া বর্ণনা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মেলে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

গুগলের সিন্থআইডি ডিটেক্টর এ ক্ষেত্রে সহায়ক একটি প্রযুক্তিগত উপায় হতে পারে। তবে অনলাইনে অপতথ্য ও ডিপফেক শনাক্ত করতে প্রযুক্তির পাশাপাশি তথ্যের উৎস যাচাই এবং সমালোচনামূলক বিশ্লেষণও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ