বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পানির নিচে লুকিয়ে রয়েছে জলজ প্রাণীর সমৃদ্ধ এক ভান্ডার। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ডিএনএ বারকোড প্রযুক্তি ব্যবহার করে বনের জলসীমায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য নতুন পাঁচ প্রজাতির মাছ ও দুই প্রজাতির চিংড়ির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। আগের গবেষণার তথ্যসহ সুন্দরবনে শনাক্ত মাছের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮২ প্রজাতিতে। পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুকসহ খোলসযুক্ত প্রাণী পাওয়া গেছে ৮৮ প্রজাতির।
তবে জীববৈচিত্র্যের এই সমৃদ্ধির বিপরীতে উদ্বেগজনক চিত্রও উঠে এসেছে গবেষণায়। গত দেড় দশকে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বড় সাদা মাছের আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অতিরিক্ত মাছ ধরা, ছোট মাছ ও পোনা আহরণ এবং বিষ প্রয়োগের মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড জলজ সম্পদের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
‘সুন্দরবনের জলজ সম্পদের মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণাটি সরকারের সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হয়েছে। সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন ১৬ মাস ধরে গবেষণাটি করে। গত ১৩ আগস্ট খুলনায় গবেষণার খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
ডিএনএ পরীক্ষায় নতুন পাঁচ মাছ ও দুই চিংড়ি
গবেষকেরা ৮৩টি মাছের নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমার জন্য নতুন পাঁচ প্রজাতির মাছ ও দুই প্রজাতির চিংড়ি শনাক্ত করেছেন। ডিএনএ বারকোডের মাধ্যমে প্রজাতির পরিচয় নির্ধারণ করায় আগে স্থানীয়ভাবে অন্য মাছের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা প্রাণীগুলোকেও আলাদাভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
নতুন শনাক্ত পাঁচ প্রজাতির মাছ হলো বড় আইশ পারশে (Planiliza macrolepis), ফোটা বাটা (Crenimugil seheli), বার্মিজ এক ঠুইটা (Dermogenys burmanica), কুলি বেলে বা চ্যাপ্টা মাথা বেলে (Butis humeralis) এবং ফোটা বেলে (Acentrogobius viridipunctatus)।
এ ছাড়া সুন্দরবনের পানিতে নতুন দুই প্রজাতির চিংড়ির সন্ধান মিলেছে। এগুলো হলো Cloridos scorpio ও Nematopalaemon tenuipes। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় জেলেরা এসব চিংড়িকে সাধারণ ছোট নদীর চর চিংড়ির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলতেন। ফলে এত দিন এগুলোর আলাদা আঞ্চলিক নাম গড়ে ওঠেনি।
গবেষণায় সুন্দরবনের ৩০ প্রজাতির মাছ ও ১১ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর ডিএনএ বারকোড তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মাছ ও একটি কাঁকড়ার ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিনব্যাংকের ডেটাবেজে আগে ছিল না। সেগুলো প্রথমবারের মতো জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সুন্দরবনে ৩৮২ প্রজাতির মাছ, খোলসযুক্ত প্রাণী ৮৮
সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গবেষণা শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) পরিচালিত জরিপে প্রথমবারের মতো সুন্দরবনে ১৭৫ প্রজাতির মাছ শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গবেষণায় আরও প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় সুন্দরবনের জলসীমায় ২৫১ প্রজাতির মাছ এবং ৫১ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর উপস্থিতি নথিবদ্ধ হয়েছে। আগের গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে বনে মোট ৩৮২ প্রজাতির সাদা মাছ ও ৮৮ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
খোলসযুক্ত প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ২৭ প্রজাতির চিংড়ি, ২৪ প্রজাতির কাঁকড়া, ১৬ প্রজাতির শামুক, ১৫ প্রজাতির ঝিনুক এবং অক্টোপাস ও স্কুইড মিলিয়ে পাঁচ প্রজাতি। এ ছাড়া এক প্রজাতির বার্নাকল ও এক প্রজাতির কাইটনের সন্ধান মিলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ প্রজাতির মাছ জেলেদের জালে নিয়মিত ধরা পড়ে। তবে মৌসুমভেদে মাছের প্রাপ্যতায় পার্থক্য রয়েছে। শীতকালে পাঙাশ, কাইন মাগুর, চাকা চিংড়ি ও হরিণা চিংড়ি বেশি পাওয়া যায়। বর্ষাকালে ভাঙন, ভোল, দাঁতিনা, জাওয়া, পারশে, পায়রা, নোনা ট্যাংরা ও ভেটকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বেশি ধরা পড়ে।
রেঞ্জভিত্তিক জরিপে শরণখোলায় ১৬৪ প্রজাতির মাছ শনাক্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জে পাওয়া গেছে ১৫২ প্রজাতি, খুলনা রেঞ্জে ১৪২ এবং চাঁদপাই রেঞ্জে ১২৩ প্রজাতির মাছ।
১৫ বছরে কমেছে বড় মাছের আহরণ
গবেষণার অন্যতম উদ্বেগজনক দিক হলো, সুন্দরবনে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বড় মাছের আহরণ কমে যাওয়া। আইড়, ভেটকি, ভোল ও পাঙাশের মতো মাছের উৎপাদন কমছে। বিপরীতে জেলেদের জালে তুলনামূলক কম মূল্যের ছোট আকৃতির মাছ বেশি ধরা পড়ছে।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা মাছ আহরণের এই নিম্নমুখী প্রবণতা তুলে ধরেছেন। শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ২০০৯ সালে ৪ হাজার ৩৬০ টন মাছ সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৭০ টনে।
একইভাবে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৭৯৭ টন মাছ সংগ্রহ করা হলেও ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০ টনে। অর্থাৎ বিভিন্ন রেঞ্জের তথ্যেই মাছ আহরণের পরিমাণে বড় ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে।
গবেষকেরা বলছেন, ভেটকি, পোয়া, পাঙাশ ও বাগদা চিংড়ির মতো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি অতিরিক্ত আহরণের চাপে রয়েছে। মাছ ছোট থাকা অবস্থায় কিংবা পোনা হিসেবে জালে আটকা পড়ায় প্রজননের আগেই অনেক মাছ জলজ পরিবেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে প্রজাতির বংশবিস্তার ও ভবিষ্যৎ উৎপাদনে।
বিষ প্রয়োগ ও ক্ষতিকর জালে বাড়ছে ঝুঁকি
গবেষক দলের প্রধান ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হক বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় জলভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নার্সারি। উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এখানকার জলজ সম্পদ আরও বাড়ানো সম্ভব।
তিনি জানান, ছোট মাছ ও পোনা অবস্থায় অনেক প্রজাতি জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। বিষ প্রয়োগের কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতি। জলজ সম্পদের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ভেটকি, পোয়া, কাইন মাগুর ও শিলা কাঁকড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির আহরণের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় ক্ষতিকর জাল ও বিষ প্রয়োগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা, মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সীমা পুনর্বিবেচনা এবং পারশে, নোনা ট্যাংরা ও দাঁতিনার পোনা হ্যাচারিতে উৎপাদনের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বননির্ভর মানুষের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে জীবিকার প্রয়োজনে সুন্দরবনের জলজ সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
কুমির, ভোঁদড় ও প্লাঙ্কটনেরও সমৃদ্ধ উপস্থিতি
সুন্দরবনের জলজ পরিবেশে শুধু মাছ ও চিংড়িই নয়, রয়েছে নানা ধরনের মেরুদণ্ডী প্রাণী ও অণুজীব। গবেষণাটিতে প্রথমবারের মতো মাছ নয়—এমন জলজ মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ওপরও নিবিড় জরিপ চালানো হয়েছে।
৪২৪ কিলোমিটার নদী ও খাল জরিপ করে গবেষকেরা ৭৬টি লবণপানির কুমিরের দেখা পেয়েছেন। বিশ্বব্যাপী বিপন্ন এই প্রাণী সুন্দরবনের জলজ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে, ৪৮৭ কিলোমিটার খাল জরিপে ৫১টি দলে মোট ১৭২টি ভোঁদড় দেখা গেছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের জলজ বাস্তুতন্ত্রে চার প্রজাতির পানিনির্ভর সাপ—রাজগোখরা, গোখরা, মেটে সাপ ও কুকুরমুখী জলসাপের উপস্থিতি নথিবদ্ধ হয়েছে। পাওয়া গেছে রামসংকে বা মেছো তক্ষক এবং স্বাদুপানির পুকুরে ১৫ প্রজাতির উভচর ব্যাঙের প্রজনন ও উপস্থিতির তথ্য।
জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্লাঙ্কটনেরও বৈচিত্র্য রয়েছে বনে। গবেষণায় সুন্দরবনের খালে ১৫১ প্রজাতির ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও ১১০ প্রজাতির জুপ্লাঙ্কটন পাওয়া গেছে। এসব ক্ষুদ্র জীব জলজ প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সংরক্ষিত খালে মাছের প্রজননের সম্ভাবনা
সুন্দরবনে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার বাড়াতে ১৯৮৯ সালে ১৮টি খালকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়। এসব খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ খালের তুলনায় সংরক্ষিত খালগুলোর পরিবেশগত অবস্থা ও পানির মান ভালো।
এসব খাল পাঙাশ, বোয়াল, কই, টাকি, ট্যাংরা, পুঁটি, বাইম ও চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ও আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। ফলে জলজ সম্পদ সংরক্ষণে এ ধরনের খালের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে দীর্ঘদিন পলি জমে শরণখোলা রেঞ্জের দাশেরভারণী খাল এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জের ছোট কেয়াখালী খালের মতো কয়েকটি সংরক্ষিত খাল ভরাট হয়ে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় পুরোনো ও নাব্য হারানো খালের পরিবর্তে নতুন সংরক্ষিত খাল অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন গবেষকেরা।
প্রস্তাবিত নতুন খালগুলোর মধ্যে রয়েছে খোদিয়াখালী, আঠারোবেকি, আরমাল ও কাগাবোগা খাল। সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জ থেকে বাস্তুসংস্থানগতভাবে উপযুক্ত এসব খালকে সংরক্ষিত তালিকায় যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বন বিভাগের ক্যাম্প বা স্টেশনের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০ মিটারের কম চওড়া ছোট খালগুলো এক বছর পরপর পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখার জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
মাছের উৎপাদন বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের সুপারিশ
সুন্দরবনের জলজ সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ বিভিন্ন গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় সুন্দরবনের ২৩ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য ছিল। জলজ সম্পদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালে বনের ৫৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এলাকাকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। সংরক্ষিত এলাকার পরিমাণ বাড়ার কারণেও মোট মাছ আহরণের পরিমাণ কমে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, গবেষকেরা মনে করছেন, মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে শুধু অভয়ারণ্য ঘোষণা যথেষ্ট নয়। ক্ষতিকর মাছ ধরার পদ্ধতি বন্ধ করা, পোনা আহরণ নিয়ন্ত্রণ, প্রজননক্ষেত্র রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ও খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তাবনায় গবেষণার সুপারিশগুলো যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সুপারিশ বাস্তবায়নে তাৎক্ষণিক, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
সুন্দরবনের জলসীমায় নতুন প্রজাতি শনাক্ত হওয়া একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়েছে, অন্যদিকে বড় মাছের আহরণ কমে যাওয়ার তথ্য জলজ সম্পদ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। গবেষকদের সুপারিশ বাস্তবায়ন, প্রজননক্ষেত্র রক্ষা এবং ক্ষতিকর আহরণ বন্ধ করা গেলে সুন্দরবনের এই প্রাকৃতিক ভান্ডার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতে পারে।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
Array