খুঁজুন
                               
, ,
           

একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৫ গ্রামের ৮ হাজার মানুষ

রাঙামাটি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৫ গ্রামের ৮ হাজার মানুষ

একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষ। ডেবাছড়া এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিকল্প পথ না থাকায় ভাঙাচোরা সেতু দিয়েই পারাপার হচ্ছেন কৃষক, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে একদিকে যেমন কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদের যাতায়াতেও তৈরি হচ্ছে বড় বাধা।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর কাঠের সেতুটি মেরামত করতে অর্থ ও শ্রম ব্যয় হলেও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান মিলছে না। এ অবস্থায় ডেবাছড়া এলাকায় প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ একটি স্থায়ী স্টিল বা বেইলি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ভাঙাচোরা সেতুতে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

দক্ষিণ তক্তানালা থেকে রোয়াপাড়া ছড়ায় যাওয়ার পথে ডেবাছড়া এলাকায় পাড়াবাসীর উদ্যোগে নির্মিত কাঠের সেতুটি এখন ভগ্নদশায় পড়ে আছে। সেতুর বিভিন্ন স্থানের কাঠের তক্তা নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কাঠ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটি পুরোপুরি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। কিন্তু বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই সেতুর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে পাঁচ গ্রামের মানুষকে।

স্থানীয় কৃষক ভুবনজয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে শত শত মানুষ চলাচল করেন। এলাকার অনেকের ধানখেত ও বাগান সেতুর দুই পাশে রয়েছে। কিন্তু চলতি বছর সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথও নেই।

তিনি বলেন, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন করতে না পারলে এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর আয়-রোজগারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবছর মেরামতে ব্যয়, তবু মিলছে না স্থায়ী সমাধান

স্থানীয় বাসিন্দা ভারতচন্দ্র কার্বারী জানান, কয়েক বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এখানে কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কাঠের সেতু দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় প্রতিবছরই মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। এ জন্য পাড়াবাসী পরিবারপ্রতি চাঁদা তুলে গাছ ও তক্তা কেনেন। সেতু মেরামতে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।

তবে চলতি বছর বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে এলাকার অনেকের ধানখেত, বাগান ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে স্থানীয় পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে। ফলে সেতুটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভারতচন্দ্র কার্বারী বলেন, এই সেতু দিয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা কৃষিপণ্য মূল সড়কে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাজস্থলী হয়ে বিভিন্ন শহরে পণ্য পরিবহন করা হয়। শুকনো মৌসুমে কলা, ফরাস শিম, বাদাম, আদা, হলুদ ও ঝাড়ু ফুলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এ পথে নেওয়া হয়। এসব পণ্যের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজার রয়েছে, কিছু পণ্য বিদেশেও রপ্তানি হয়।

তাঁর ভাষ্য, সেতুটি শুধু কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য নয়, স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদের চলাচলে সেতুটি বড় ভূমিকা রাখে। তাই এটি ভেঙে পড়লে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণে বেড়ে যায়।

তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও নির্ভরশীল

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মনিলতা তঞ্চঙ্গ্যা জানান, তক্তানালা থেকে রোয়াপাড়া ছড়ায় যাওয়ার পথে সেতুটি থাকলেও এর ওপর নির্ভরশীল শুধু ওই এলাকার মানুষ নন। ফুঁছড়া, উলুছড়ি, মাইত কুমা পাড়া ও উত্তর পাড়ার বাসিন্দারাও নিয়মিত সেতুটি ব্যবহার করেন। কোনো কোনো সময় ওরাছড়ি ও ফারুয়া এলাকার মানুষও এ পথ দিয়ে চলাচল করেন।

সব মিলিয়ে পাঁচ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে সেতুটির ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সেতুটি ব্যবহার করেন।

মনিলতা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে সেতুর নিচে পানির প্রবাহ বাড়ে। সে সময় ভাঙা সেতু দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে কেউ পানিতে পড়ে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিকল্প পথ না থাকায় কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে শ্রমিক দিয়ে মালামাল পরিবহন করাও কঠিন।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে সরাসরি যানবাহন চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। সংযোগ সড়কের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে পাকা হয়েছে। তাই সেখানে একটি স্টিল বা পাকা সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

২৫০ ফুট সেতু নির্মাণে প্রয়োজন বড় বরাদ্দ

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল চাকমা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে এখানে কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এবং একাধিকবার মেরামতও করা হয়েছে। তবে সেতুটি দীর্ঘ হওয়ায় এখানে পাকা বা স্টিলের সেতু নির্মাণে বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে।

তাঁর মতে, কাঠের সেতু বারবার মেরামত করার পরিবর্তে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা গেলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি ডেবাছড়া এলাকায় স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে সীমান্ত সড়কের রোয়াপাড়া ছড়া থেকে তক্তানালা দক্ষিণ পাড়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজও সহজ হবে।

বিলাইছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফরহাদ হোসেন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সর্বোচ্চ ৫০ ফুট পর্যন্ত সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ডেবাছড়া এলাকায় প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ সেতু প্রয়োজন। এ কারণে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমেও সেখানে স্টিলের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

বেইলি সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ প্রয়োজন

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভি দাশ বলেন, প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ নতুন বেইলি সেতু নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ প্রয়োজন হবে এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে।

তবে স্থানীয়ভাবে কাঠের সেতুটি মেরামত করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, বিলাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ফকির বলেন, উপজেলার যাতায়াতব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ফারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট কাঠের সেতু রয়েছে, যেগুলো বারবার মেরামত করতে হয়। এতে সরকারি ও ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করতে ডেবাছড়া এলাকায় দ্রুত একটি বেইলি সেতু নির্মাণ জরুরি। এ জন্য তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের সুদৃষ্টি কামনা করেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

স্থায়ী সেতুই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান

ডেবাছড়ার কাঠের সেতুটি ঘিরে পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কেবল যাতায়াতের সমস্যায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষিপণ্য বাজারজাত করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার বিষয়ও।

প্রতিবছর কাঠের সেতু মেরামতে অর্থ ব্যয় করেও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে সেখানে একটি স্টিল বা বেইলি সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের অবসান ঘটার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও মানুষের দৈনন্দিন চলাচলও সহজ হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

জনবল সংকটে ধুঁকছে ছাতক বিদ্যুৎ বিভাগ, ভোগান্তিতে ৪৫ হাজার গ্রাহক

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
জনবল সংকটে ধুঁকছে ছাতক বিদ্যুৎ বিভাগ, ভোগান্তিতে ৪৫ হাজার গ্রাহক

জরুরি বিদ্যুৎ মেরামতের জন্য নেই পর্যাপ্ত লাইনম্যান, শূন্য ফোরম্যান ও ইলেকট্রিশিয়ানের পদ। মিটার পাঠক, স্টোর কিপার ও অভিযোগ গ্রহণকারীর পদেও নেই জনবল। জরুরি কাজে ব্যবহারের জন্য তিনটি গাড়ি থাকলেও নেই স্থায়ী চালক। অনুমোদিত ৯০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৪ জন। এমন জনবল সংকট নিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সুনামগঞ্জের ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কার্যক্রম।

এ পরিস্থিতিতে ছাতক উপজেলার পাশাপাশি দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার আংশিক এলাকার বিদ্যুৎসেবা পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে বিভাগের আওতাধীন প্রায় ৪৫ হাজার ৩০০ গ্রাহক কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে তা মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় এই ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

৯০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২৪ জন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পদে অনুমোদিত জনবল ৯০ জন। কিন্তু স্থায়ীভাবে কর্মরত আছেন মাত্র ২৪ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত জনবলের বড় একটি অংশই নেই। গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ও প্রশাসনিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় তৈরি হয়েছে সংকট।

কার্যালয়ে সহকারী প্রকৌশলীর পদ শূন্য। উপসহকারী প্রকৌশলীর চারটি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। উচ্চমান সহকারী ও হিসাব সহকারীর পদও শূন্য রয়েছে। নিম্নমান সহকারীর চারটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন একজন। নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিকের দুটি পদের একটি শূন্য।

এ ছাড়া চারটি মিটার পাঠকের পদে কেউ নেই। স্টোর কিপার ও অভিযোগ গ্রহণকারীর পদেও জনবল নেই। সাবস্টেশন-সংশ্লিষ্ট এসবিএর ১৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। ফলে কারিগরি কাজের পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

লাইনম্যান ও ফোরম্যানের সংকটে ব্যাহত মেরামতকাজ

বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামতের জন্য লাইনম্যান ও ফোরম্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু ছাতক বিদ্যুৎ বিভাগে এই জনবলই সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফোরম্যান ও তিন শ্রেণির লাইনম্যানের মোট ছয়টি পদ শূন্য। ইলেকট্রিশিয়ানের সব পদও খালি। বিদ্যুৎ লাইনের কাজে সহায়তাকারী ১৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় নিয়মিত সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিভাগটিকে।

কার্যালয়ে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে ব্যবহারের জন্য তিনটি গাড়ি থাকলেও সেগুলো চালানোর স্থায়ী চালক নেই। পাশাপাশি এমএলএসএস কাম গার্ডের ছয়টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। নিরাপত্তা প্রহরীর ১৩টি পদের মধ্যে চারটি শূন্য। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এমএলএস পদেও জনবল সংকট রয়েছে।

অস্থায়ী শ্রমিক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

জনবল সংকট সামাল দিতে বাধ্য হয়ে অদক্ষ ও অস্থায়ী দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের দিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক কাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব কাজে যুক্ত শ্রমিকেরা বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লাইনম্যানের অভাবে গ্রাহকদের সেবা দিতে অস্থায়ী শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও রয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনে কাজের জন্য প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা না গেলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা—দুই ক্ষেত্রেই ঝুঁকি থেকে যায়।

বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন, ঝড়-বৃষ্টিতে বাড়ে দুর্ভোগ

ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন এলাকায় রয়েছে বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক পরিসর। খাল-বিল ও হাওরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন বিস্তৃত থাকায় বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সেখানে পৌঁছে মেরামত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঝড়-তুফানের সময় বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা দেখা দিলে জনবল সংকটের কারণে তা মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগছে।

বিভাগটির আওতায় ছাতক ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে ছাতক উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ছাতক ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্র থেকে ১৩২ কেভি সার্কিটের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

এ এলাকায় লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট কারখানা, ছাতক সিমেন্ট কারখানা, সিলেট পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলসহ বিভিন্ন ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি দপ্তর রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামত করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

বছরের পর বছর শূন্য পদ, চিঠি দিয়েও মিলছে না সমাধান

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, জনবল সংকট নিরসনে শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জরুরি মেরামত, বিদ্যুৎ লাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে দ্রুত জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনেও সংকটের কার্যকর সমাধান হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পর্যাপ্ত জনবল না পাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা থেকেই যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে গ্রাহকসেবায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করা, মেরামতকাজ পরিচালনা এবং গ্রাহকদের অভিযোগের নিষ্পত্তি—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে সীমিতসংখ্যক কর্মীকে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান

ছাতক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ তারেক বলেন, জনবল স্বল্পতার কারণে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সিলেট অঞ্চলের বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি তাঁদের জানা রয়েছে। এ নিয়ে বিদ্যুতের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগের বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে জনবল সংকট অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

হকার-অটোরিকশার দখলে মাদানী অ্যাভিনিউ, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
হকার-অটোরিকশার দখলে মাদানী অ্যাভিনিউ, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

রাজধানীর ভাটারা থানার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট প্রশস্ত সড়ক দখল, অবৈধ পার্কিং ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচলের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। হকারদের দোকানপাট ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচলের জন্য অবশিষ্ট থাকছে মাত্র ১০ ফুট জায়গা। এতে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রশস্ত সড়ক থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে যানবাহনগুলোকে চলতে হচ্ছে সীমিত পরিসরে। অন্যদিকে ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদেরও বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে মাদানী অ্যাভিনিউয়ের স্বাভাবিক চলাচলব্যবস্থা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

১০০ ফুটের সড়কে দখল, সংকুচিত যান চলাচল

সরেজমিনে দেখা যায়, মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ফুটপাতের পাশাপাশি মূল সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে বসেছে অস্থায়ী দোকানপাট। কোথাও কোথাও তিন থেকে চার সারিতে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব দোকান সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে দুই দিক থেকে আসা যানবাহনকে সীমিত জায়গার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও ফুটপাত মিলিয়ে প্রায় ৯০ ফুট জায়গা দখলে থাকায় কোনো কোনো স্থানে যানবাহন চলাচলের জন্য মাত্র ১০ ফুট জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। প্রশস্ত সড়কের বড় অংশ এভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ব্যস্ত সময়ে যানজট আরও তীব্র হচ্ছে।

সড়কটির এমন পরিস্থিতিতে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। বিশেষ করে অফিস শুরুর ও ছুটির সময় যানবাহনের চাপ বাড়লে চলাচলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

ফুটপাত দখলে, ঝুঁকি নিয়ে হাঁটছেন পথচারীরা

সড়কের পাশাপাশি ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পথচারীরা। হাঁটার নির্ধারিত জায়গা না পেয়ে অনেককে চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে কিংবা মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। ফুটপাত ব্যবহার করতে না পারায় তাঁদের যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। সন্ধ্যা ও রাতে মানুষের চলাচল বেড়ে গেলে সড়ক পারাপার এবং নিরাপদে হাঁটাচলা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

নগরীর ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাদানী অ্যাভিনিউয়ে সেই সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এতে শুধু যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ্য নয়, জননিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল

সড়কটিতে যানজটের আরেকটি বড় কারণ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব যানবাহনের চালকদের অনেকেই হঠাৎ লেন পরিবর্তন করেন, কোথাও উল্টো পথে চলেন, আবার কোথাও মূল সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামান।

এ ধরনের আচরণে অন্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয়। সংকীর্ণ হয়ে পড়া সড়কে একটি যানবাহন থামলেই পেছনে তৈরি হতে পারে দীর্ঘ সারি। একই সঙ্গে আকস্মিকভাবে দিক পরিবর্তন বা যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে সংঘর্ষের ঝুঁকিও বাড়ে।

সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাব এবং চলাচলের জায়গা কমে যাওয়ার প্রভাব একসঙ্গে পড়ছে যানবাহন ও পথচারীদের ওপর। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াত ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অবৈধ পার্কিংয়ে আরও কমছে সড়কের জায়গা

হকারদের দখলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ের সমস্যা। সড়কের দুই পাশে, প্রবেশপথে এবং বিভিন্ন সংযোগস্থলের কাছাকাছি ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা যায়।

এতে আগে থেকেই সংকুচিত সড়কের ব্যবহারযোগ্য জায়গা আরও কমে যাচ্ছে। কোথাও দোকানপাটের কারণে যানবাহন চলাচলের পথ সরু, আবার কোথাও পার্ক করা গাড়ি সেই জায়গাও আটকে রাখছে। এর ফলে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে বাড়তি জট।

সড়কের পাশে নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকলে এবং নিয়ম ভেঙে যানবাহন দাঁড় করানোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।

অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রতিদিনের দুর্ভোগ

মাদানী অ্যাভিনিউয়ের এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী ব্যক্তিরা। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ সীমিত হওয়ায় সড়কটি ব্যবহার করাও হয়ে উঠছে উদ্বেগের বিষয়।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সড়কটি এভাবে সংকুচিত হয়ে থাকলে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের গাড়ির মতো জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হতে পারে। সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কিংবা দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যানজট বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

যদিও এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি, তবু সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা কমে যাওয়ায় এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

দখলমুক্ত সড়ক ও নিয়মিত নজরদারির দাবি

মাদানী অ্যাভিনিউয়ের স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনতে সড়ক ও ফুটপাত অবিলম্বে দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, শুধু এককালীন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। উচ্ছেদের পর যেন আবার দোকানপাট বসতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফুটপাত পথচারীদের ব্যবহারের উপযোগী রাখা এবং সড়কের নির্ধারিত জায়গায় যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করাও জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

অর্থনীতি সামলাতে তিন খাতে সংস্কার চায় আইএমএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
অর্থনীতি সামলাতে তিন খাতে সংস্কার চায় আইএমএফ

দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাংলাদেশকে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে শুধু কঠোর মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে সংস্থাটি। এ জন্য আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তারা।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কমে প্রায় ৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন অনুপাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর করা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোকে বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন চন্দ্র।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতির পরামর্শ

বাংলাদেশে সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সোনালি জৈন চন্দ্র বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কারও জরুরি।

আইএমএফের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতি—এই তিন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। শুধু মুদ্রানীতি কঠোর রাখার পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য দুর্বলতা দূর করতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হতে পারে।

মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্তেও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।

আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর করার তাগিদ

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, দেশের আর্থিক খাত বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খাতটির সক্ষমতা বাড়ানো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। আর্থিক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে আইএমএফ।

আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা না থাকলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে অর্থায়ন এবং বিনিয়োগের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই আর্থিক খাতের সংস্কারকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ

বাংলাদেশের দুর্বল রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি আইএমএফের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে এ অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন অনুপাতগুলোর মধ্যে অন্যতম।

রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত দিয়ে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বোঝানো হয়। এই অনুপাত কম থাকলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, জনসেবা সম্প্রসারণ এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থের জোগান সীমিত হতে পারে।

আইএমএফের মতে, উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহ এবং আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে

বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সোনালি জৈন চন্দ্র জানান, আগের কর্মসূচির আওতায় আর ঋণের কিস্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর গত মে মাসে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আইএমএফের সহায়তায় নতুন একটি কর্মসূচির অনুরোধ জানায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। ওই সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আইএমএফ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় উঠে আসা সংস্কারের বিষয়গুলো চলতি বছরের আর্টিকেল ফোর পরামর্শে দেওয়া সুপারিশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর্টিকেল ফোর পর্যালোচনার মাধ্যমে আইএমএফ সদস্যদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিমালা বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সুপারিশ দিয়ে থাকে।

সংস্কারে সহায়তা দিতে আগ্রহী আইএমএফ

জুলাইয়ের প্রতিনিধিদল সফরের পর থেকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইএমএফের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোনালি জৈন চন্দ্র বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্থাটির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আইএমএফ আগ্রহী।

তবে নতুন ঋণ কর্মসূচির চূড়ান্ত শর্ত, ঋণের পরিমাণ কিংবা অনুমোদনের সময়সীমা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি