খুঁজুন
                               
, ,
           

বিমানবন্দর-উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
বিমানবন্দর-উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর বিমানবন্দর ও উত্তরার জসীমউদ্‌দীন এলাকায় চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালেও বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান বেতন দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যসহ জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিমানবন্দর-উত্তরায় যান চলাচলে বিঘ্ন

বৃহস্পতিবার উত্তরার একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁদের অবস্থান ও বিক্ষোভের কারণে বিমানবন্দর ও জসীমউদ্‌দীন এলাকার সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ এবং দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা অনন্যা পরিবহনের যাত্রী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, যানজট এড়াতে তিনি ভোরেই রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দর এলাকায় এসে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে আছেন। কখন সড়ক ছাড়বে এবং কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা বুঝতে পারছেন না।

রাইদা পরিবহনের যাত্রী শেহজাদ আহমেদ বলেন, বাড্ডায় অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে রওনা হয়েছেন। কত দূর যেতে পারবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী আবারও আন্দোলন

এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে বিমানবন্দর ও জসীমউদ্‌দীন এলাকার বিভিন্ন স্থানে কয়েক শ পোশাকশ্রমিক জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বুধবারের কর্মসূচি সম্পর্কে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সকাল থেকে বিমানবন্দর থেকে জসীমউদ্‌দীন পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কয়েক শ পোশাকশ্রমিক অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালানোর ঘোষণা

বুধবার আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছিলেন, সেদিনের কর্মসূচি শেষ হলেও বৃহস্পতিবার আবারও তাঁরা সড়কে নামবেন। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছিলেন তাঁরা।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবারও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের মূল দাবি, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। শ্রমিকদের ভাষ্য, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা বাড়ানো প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৫ গ্রামের ৮ হাজার মানুষ

রাঙামাটি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৫ গ্রামের ৮ হাজার মানুষ

একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষ। ডেবাছড়া এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিকল্প পথ না থাকায় ভাঙাচোরা সেতু দিয়েই পারাপার হচ্ছেন কৃষক, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে একদিকে যেমন কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদের যাতায়াতেও তৈরি হচ্ছে বড় বাধা।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর কাঠের সেতুটি মেরামত করতে অর্থ ও শ্রম ব্যয় হলেও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান মিলছে না। এ অবস্থায় ডেবাছড়া এলাকায় প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ একটি স্থায়ী স্টিল বা বেইলি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ভাঙাচোরা সেতুতে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

দক্ষিণ তক্তানালা থেকে রোয়াপাড়া ছড়ায় যাওয়ার পথে ডেবাছড়া এলাকায় পাড়াবাসীর উদ্যোগে নির্মিত কাঠের সেতুটি এখন ভগ্নদশায় পড়ে আছে। সেতুর বিভিন্ন স্থানের কাঠের তক্তা নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কাঠ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটি পুরোপুরি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। কিন্তু বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই সেতুর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে পাঁচ গ্রামের মানুষকে।

স্থানীয় কৃষক ভুবনজয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে শত শত মানুষ চলাচল করেন। এলাকার অনেকের ধানখেত ও বাগান সেতুর দুই পাশে রয়েছে। কিন্তু চলতি বছর সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথও নেই।

তিনি বলেন, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন করতে না পারলে এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর আয়-রোজগারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবছর মেরামতে ব্যয়, তবু মিলছে না স্থায়ী সমাধান

স্থানীয় বাসিন্দা ভারতচন্দ্র কার্বারী জানান, কয়েক বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এখানে কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কাঠের সেতু দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় প্রতিবছরই মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। এ জন্য পাড়াবাসী পরিবারপ্রতি চাঁদা তুলে গাছ ও তক্তা কেনেন। সেতু মেরামতে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।

তবে চলতি বছর বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে এলাকার অনেকের ধানখেত, বাগান ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে স্থানীয় পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে। ফলে সেতুটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভারতচন্দ্র কার্বারী বলেন, এই সেতু দিয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা কৃষিপণ্য মূল সড়কে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাজস্থলী হয়ে বিভিন্ন শহরে পণ্য পরিবহন করা হয়। শুকনো মৌসুমে কলা, ফরাস শিম, বাদাম, আদা, হলুদ ও ঝাড়ু ফুলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এ পথে নেওয়া হয়। এসব পণ্যের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজার রয়েছে, কিছু পণ্য বিদেশেও রপ্তানি হয়।

তাঁর ভাষ্য, সেতুটি শুধু কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য নয়, স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদের চলাচলে সেতুটি বড় ভূমিকা রাখে। তাই এটি ভেঙে পড়লে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণে বেড়ে যায়।

তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও নির্ভরশীল

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মনিলতা তঞ্চঙ্গ্যা জানান, তক্তানালা থেকে রোয়াপাড়া ছড়ায় যাওয়ার পথে সেতুটি থাকলেও এর ওপর নির্ভরশীল শুধু ওই এলাকার মানুষ নন। ফুঁছড়া, উলুছড়ি, মাইত কুমা পাড়া ও উত্তর পাড়ার বাসিন্দারাও নিয়মিত সেতুটি ব্যবহার করেন। কোনো কোনো সময় ওরাছড়ি ও ফারুয়া এলাকার মানুষও এ পথ দিয়ে চলাচল করেন।

সব মিলিয়ে পাঁচ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে সেতুটির ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সেতুটি ব্যবহার করেন।

মনিলতা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে সেতুর নিচে পানির প্রবাহ বাড়ে। সে সময় ভাঙা সেতু দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে কেউ পানিতে পড়ে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিকল্প পথ না থাকায় কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে শ্রমিক দিয়ে মালামাল পরিবহন করাও কঠিন।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে সরাসরি যানবাহন চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। সংযোগ সড়কের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে পাকা হয়েছে। তাই সেখানে একটি স্টিল বা পাকা সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

২৫০ ফুট সেতু নির্মাণে প্রয়োজন বড় বরাদ্দ

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল চাকমা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে এখানে কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এবং একাধিকবার মেরামতও করা হয়েছে। তবে সেতুটি দীর্ঘ হওয়ায় এখানে পাকা বা স্টিলের সেতু নির্মাণে বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে।

তাঁর মতে, কাঠের সেতু বারবার মেরামত করার পরিবর্তে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা গেলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি ডেবাছড়া এলাকায় স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে সীমান্ত সড়কের রোয়াপাড়া ছড়া থেকে তক্তানালা দক্ষিণ পাড়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজও সহজ হবে।

বিলাইছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফরহাদ হোসেন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সর্বোচ্চ ৫০ ফুট পর্যন্ত সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ডেবাছড়া এলাকায় প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ সেতু প্রয়োজন। এ কারণে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমেও সেখানে স্টিলের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

বেইলি সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ প্রয়োজন

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভি দাশ বলেন, প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ নতুন বেইলি সেতু নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ প্রয়োজন হবে এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে।

তবে স্থানীয়ভাবে কাঠের সেতুটি মেরামত করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, বিলাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ফকির বলেন, উপজেলার যাতায়াতব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ফারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট কাঠের সেতু রয়েছে, যেগুলো বারবার মেরামত করতে হয়। এতে সরকারি ও ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করতে ডেবাছড়া এলাকায় দ্রুত একটি বেইলি সেতু নির্মাণ জরুরি। এ জন্য তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের সুদৃষ্টি কামনা করেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

স্থায়ী সেতুই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান

ডেবাছড়ার কাঠের সেতুটি ঘিরে পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কেবল যাতায়াতের সমস্যায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষিপণ্য বাজারজাত করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার বিষয়ও।

প্রতিবছর কাঠের সেতু মেরামতে অর্থ ব্যয় করেও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে সেখানে একটি স্টিল বা বেইলি সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের অবসান ঘটার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও মানুষের দৈনন্দিন চলাচলও সহজ হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত হচ্ছে রূপপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত হচ্ছে রূপপুর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রথম ইউনিটের বিভিন্ন পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট শুরু হওয়ায় প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলোর অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে হলে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ধাপগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুটি ইউনিটের কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রকল্পটির সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি ইউনিট চালুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, রূপপুর তৃতীয় প্রজন্মের আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেও প্রকল্পটি সঠিক পথে রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সম্ভাব্য সময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুবিধা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলে জানানো হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিউক্লিয়ার মেডিসিনভিত্তিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা বাড়াতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান অর্জন, নতুন ধারণা তৈরি এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে দেশীয় উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও পণ্যকে বাজারজাত করা এবং সেগুলোর রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ এবং মো. আব্দুল গফুর অংশ নেন।

এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে সভাপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচিতি পর্ব এবং পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থা ভালো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থা ভালো

মালয়েশিয়ায় প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে স্ত্রী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো বলে জানিয়েছেন ব্যক্তিগত সহকারী সচিব মিজানুর রহমান সোহেল।

তিনি বলেন, “স্যার চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। এখন অনেকটাই সুস্থ।”

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফলোআপ চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া যান মির্জা আব্বাস। সেখানে তিনি প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছিলেন তিনি।

গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে মির্জা আব্বাসকে রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরে দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নেন তিনি। সর্বশেষ ফলোআপ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি