খুঁজুন
                               
, ,
           

কলকাতা থেকে জেলায়, দুর্গাপূজার মণ্ডপে এবার থিমের চমক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
কলকাতা থেকে জেলায়, দুর্গাপূজার মণ্ডপে এবার থিমের চমক
শুক্রবার (তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬) মহাষষ্ঠী। দেবী দুর্গার বোধন ও পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মহাষষ্ঠী থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী পর্যন্ত উৎসবের আনন্দে মাতবে পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতা থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা—সবখানেই পূজাকে কেন্দ্র করে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমার রূপ, মণ্ডপের নকশা, আলোকসজ্জা ও অভিনব উপস্থাপনায় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে এবারও প্রতিযোগিতায় নেমেছেন পূজার আয়োজকেরা।

প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে থিমের বৈচিত্র্য। কোথাও বিশ্বের বিখ্যাত স্থাপত্যের প্রতিরূপ, কোথাও বাংলার সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি, আবার কোথাও পরিবেশদূষণ, ক্ষুধা কিংবা শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রামের মতো সামাজিক বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে। সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাও জায়গা করে নিয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। সব মিলিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শিল্প, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক সচেতনতার এক বর্ণিল মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে এবারের দুর্গোৎসব।

বিশ্বঐতিহ্যের স্বীকৃতিতে কলকাতার দুর্গাপূজার বাড়তি আকর্ষণ

দুর্গাপূজার জন্য কলকাতার খ্যাতি দীর্ঘদিনের। উৎসবের দিনগুলোতে শহরের অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সবখানেই দেখা যায় দর্শনার্থীদের ঢল। বড় বাজেটের পূজা, শৈল্পিক মণ্ডপ, ব্যতিক্রমী প্রতিমা এবং চোখধাঁধানো আলোকসজ্জার কারণে কলকাতার দুর্গাপূজা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতের অন্যান্য রাজ্য ও বিদেশের পর্যটকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণীয়।

২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো কলকাতার দুর্গাপূজাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ বা মানবজাতির অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এই স্বীকৃতি দুর্গাপূজার আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে উৎসবটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক গুরুত্বও বিশ্বপরিসরে নতুনভাবে আলোচনায় আসে।

কলকাতার দুর্গাপূজার বিশেষত্ব হলো, এখানে ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি শিল্প ও সৃজনশীলতার ব্যাপক প্রকাশ ঘটে। প্রতিটি মণ্ডপ যেন একেকটি আলাদা গল্প বলে। কোনো মণ্ডপে ফুটে ওঠে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস, কোনোটি তুলে ধরে বাংলার গ্রামীণ জীবন, আবার কোনোটি সমসাময়িক সামাজিক সমস্যার প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মহালয়ার জমকালো আয়োজন, উৎসবের আমেজে নতুন মাত্রা

এবারের দুর্গোৎসবের শুরুতেই বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে মহালয়ার দিন জমকালো আয়োজন করা হয়। ড্রোন শো, আতশবাজি, বর্ণিল আলোকসজ্জা, নাচ ও গানের পরিবেশনায় উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনাকে ঘিরে বাঙালির আবেগ ও প্রত্যাশা বরাবরই প্রবল। ভোরে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার ঐতিহ্য থেকে শুরু করে প্রতিমা দর্শনের প্রস্তুতি—সবকিছু মিলিয়ে এই দিনটি দুর্গাপূজার আনন্দকে আরও গভীর করে তোলে। এবারের জমকালো আয়োজন সেই উৎসবের আবহকে আরও বিস্তৃত করেছে।

অন্যদিকে, আগের বছরগুলোতে বিসর্জনের পর কলকাতার রেড রোডে যে দুর্গা কার্নিভ্যাল আয়োজন করা হতো, এবার তা হচ্ছে না। ফলে উৎসবের জৌলুশ বাড়াতে মহালয়ার অনুষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে পূজার আনন্দকে মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

হাওয়া মহল থেকে ভ্যাটিকান সিটি, মণ্ডপে বিশ্বস্থাপত্যের ছোঁয়া

 

এবার কলকাতার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত স্থাপত্যের আদলে নকশা তৈরি করা হয়েছে। রাজস্থানের ঐতিহাসিক হাওয়া মহল, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির স্বামী নারায়ণ মন্দির, মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী প্যাগোডা এবং ভ্যাটিকান সিটির স্থাপত্যশৈলীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আয়োজন। কোথাও উঠে এসেছে গুজরাটের সোমনাথ মন্দির, কোথাও আবার হরিদ্বারের ধর্মীয় পরিবেশকে মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এসব মণ্ডপে দর্শনার্থীরা শুধু প্রতিমা দর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না; বরং স্থাপত্যের নকশা, কারুকাজ, উপকরণের ব্যবহার এবং শিল্পীদের সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বাস্তব স্থাপত্যের আদল ফুটিয়ে তুলতে আয়োজকেরা মণ্ডপ নির্মাণে নকশা, রং, আলো ও বিভিন্ন উপকরণের সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

বাগবাজার সর্বজনীনের পূজা এবার ১০৮তম বছরে পা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই পূজার মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির স্বামী নারায়ণ মন্দিরের আদলে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রেখেও নতুন স্থাপত্যশৈলীকে উপস্থাপনের এই উদ্যোগ দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করছে।

অন্যদিকে, উত্তর শহরতলির বিদ্রোহী স্পোর্টিং ক্লাবের মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে ভ্যাটিকান সিটির আদল। নদীয়ার কল্যাণীর আইটিআই মোড়ের পূজায় দেখা যাবে মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী প্যাগোডার অনুকরণে তৈরি মণ্ডপ। মালদহের বালুচর কল্যাণ সমিতির আয়োজনে নীল নদের তীর ও প্রাচীন মিসরের পিরামিডের আদলও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্দে মাতরম থেকে মহিষাসুরমর্দিনী, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নানা উপস্থাপনা

কলকাতার অন্যতম বড় পূজাগুলোর একটি সন্তোষ মিত্র স্কয়ার। এবার এই পূজার থিম ‘বন্দে মাতরম’। দেশাত্মবোধ ও ঐতিহাসিক আবহকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন আয়োজকেরা। অন্যদিকে, নাকতলা উদয়ন সংঘের থিম ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। দেবী দুর্গার পৌরাণিক মাহাত্ম্য ও অসুরবধের কাহিনিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এই আয়োজন।

একডালিয়া এভারগ্রিনের মণ্ডপে গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরের আদল তুলে ধরা হয়েছে। সল্টলেকের বিজে ব্লকেও সোমনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। ফলে একই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের অনুপ্রেরণা একাধিক পূজামণ্ডপে দেখা যাচ্ছে।

দমদম পার্ক ভারত চক্রের থিম বাংলার রথের ঐতিহ্য। বাংলার ধর্মীয় উৎসব, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক রথযাত্রার স্মৃতিকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে এই আয়োজন। দমদম পার্ক সর্বজনীনে থাকছে পুতুলনাচের ব্যবস্থা, যা বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকবিনোদনের ধারাকে নতুন করে তুলে ধরবে।

বরাহনগরের নেতাজি কলোনির মণ্ডপে হরিদ্বারের আদল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, বেলেঘাটা ৩৩ পল্লির থিম ‘পোখরান-২’। ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষার ইতিহাসকে কেন্দ্র করে এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় উৎসবের মঞ্চে ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন আয়োজকেরা।

উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে চলচ্চিত্রের স্মৃতি, ছড়ার বইয়ে শৈশবের আবহ

 

এ বছর বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে কলকাতার টালা পার্কের পূজামণ্ডপ সাজানো হয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তমকুমারের অবদান এবং দর্শকদের মনে তাঁর স্থায়ী জনপ্রিয়তাকে স্মরণ করার সুযোগ তৈরি করেছে এই থিম।

উত্তমকুমার শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না; বাংলা চলচ্চিত্রের একটি স্বর্ণালি অধ্যায়ের প্রতীক হিসেবেও তাঁকে বিবেচনা করা হয়। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও পর্দার উপস্থিতি কয়েক প্রজন্মের দর্শকের কাছে আজও সমানভাবে স্মরণীয়। জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে তাঁকে ঘিরে পূজামণ্ডপ সাজানোর উদ্যোগে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়তে পারে।

এদিকে, হাতিবাগান নবীন পল্লির থিম শিশুতোষ ছড়ার বই ‘হাসিখুশি’। যোগীন্দ্রনাথ সরকারের লেখা এই বই বাংলা শিশুসাহিত্যের পরিচিত একটি নাম। ছড়া, শৈশবের স্মৃতি ও পরিচিত সাহিত্যিক আবহকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ সাজানোর মধ্য দিয়ে বাংলার সাহিত্য ঐতিহ্যকে সামনে আনা হয়েছে।

এফডি ব্লকের থিম ‘নকশিকাঁথার মাঠ’। বাংলার লোকজ শিল্প, গ্রামীণ জীবন ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে কেন্দ্র করে এই আয়োজন। নকশিকাঁথার নকশা ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতির সঙ্গে বাংলার মানুষের জীবনযাত্রার সম্পর্ক রয়েছে দীর্ঘদিনের। সেই পরিচিত সাংস্কৃতিক উপাদানকে মণ্ডপের মাধ্যমে উপস্থাপনের উদ্যোগ দর্শনার্থীদের সামনে গ্রামীণ ঐতিহ্যের ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরবে।

গঙ্গাদূষণ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য, পরিবেশ রক্ষার বার্তা মণ্ডপে

এবারের দুর্গাপূজায় সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা নিয়েও বিশেষভাবে ভাবছেন আয়োজকেরা। নলিন সরকার স্ট্রিটের থিম গঙ্গাদূষণ। কুমোরটুলি পার্কের থিম ‘ও গঙ্গা তুমি বইছ কেন?’—এই আয়োজনেও নদী ও পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

গঙ্গা নদী ভারতের কোটি মানুষের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু নদীদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা এবং মানুষের অসচেতনতা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ। পূজামণ্ডপে এই বিষয়গুলো তুলে ধরার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

একইভাবে, ৭১ পল্লিতে প্লাস্টিকের বোতল ও বস্তা ব্যবহার করে মণ্ডপ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্যকে সৃজনশীল উপায়ে কাজে লাগানোর এই প্রচেষ্টা বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ধারণাকে সামনে নিয়ে এসেছে। উৎসবের আয়োজনেও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের গুরুত্ব যে বাড়ছে, এমন উদ্যোগ তারই ইঙ্গিত দেয়।

হিন্দুস্তান পার্কে দেশলাই কারখানার আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। সাধারণত দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত একটি পরিচিত জিনিসকে কেন্দ্র করে এমন মণ্ডপ নির্মাণের উদ্যোগ দর্শনার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, আদি বাবুবাগানের থিম ‘ক্ষুধা’। মানুষের মৌলিক চাহিদা, খাদ্যসংকট ও সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয়কে সামনে আনার চেষ্টা রয়েছে এই আয়োজনে।

কয়লাখনির শ্রমিকদের জীবন, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম এবং সমাজের বিভিন্ন বাস্তবতাও উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক মণ্ডপে। এসব থিম ধর্মীয় উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করছে।

কলকাতার বাইরে জেলাগুলোতেও থিমের বৈচিত্র্য

দুর্গাপূজার থিমের প্রতিযোগিতা শুধু কলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও পূজার আয়োজকেরা অভিনব মণ্ডপ নির্মাণে ব্যস্ত। স্থানীয় ঐতিহ্য, আন্তর্জাতিক স্থাপত্য, ধর্মীয় ইতিহাস এবং সামাজিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের আয়োজন।

পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার চৈতন্যপুর সর্বজনীনের থিম ‘উড়ান’। নামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার ধারণা ফুটিয়ে তোলার সুযোগ রয়েছে এই আয়োজনে। পাশকুড়ার মৌচাক সেবা সংঘের মণ্ডপে প্রাচীন মিসরের দেবদেবী ও স্থাপত্যের অনুকরণ থাকছে। অন্যদিকে, দিঘার অলংকারপুর সর্বজনীনের থিম ‘পুরোনো সেই দিনের কথা’। অতীতের স্মৃতি ও হারিয়ে যাওয়া সময়ের আবহকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে এই আয়োজন।

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের দেশবন্ধু স্পোর্টিং ক্লাবের থিম ইন্ডিয়া গেট। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে কেন্দ্র করে এই মণ্ডপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় ধর্মীয় স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের অনুকরণে মণ্ডপ তৈরির প্রবণতা এবারের উৎসবকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

জলপাইগুড়ির মোহিতনগরের পূজায় উঠে এসেছে বৃদ্ধাশ্রমের বিষয়টি। প্রবীণ মানুষের জীবন, একাকিত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের মতো বিষয়কে সামনে আনার সুযোগ তৈরি করেছে এই থিম। অন্যদিকে, বিভিন্ন মণ্ডপে কুরুক্ষেত্র, রামায়ণ, পুরীর জগন্নাথদেবের রন্ধনশালা, বারানসির ঘাট এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

কোচবিহারের দিনহাটার বলরামপুর সর্বজনীনে হরিদ্বার থেকে আনা তিন কোটি রুদ্রাক্ষ দিয়ে মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। এমন আয়োজন বাস্তবায়িত হলে তা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। ধর্মীয় উপকরণ, স্থাপত্য ও শিল্পের সমন্বয়ে মণ্ডপ সাজানোর এই উদ্যোগ উৎসবের বৈচিত্র্যকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ঝাড়গ্রামে মোদির ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্য, মণ্ডপে সমসাময়িক রাজনীতি

এবারের দুর্গাপূজায় আলোচনায় এসেছে ঝাড়গ্রামের গিধনি স্পোর্টিং ক্লাবের মণ্ডপ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝালমুড়ি খাওয়ার একটি আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এই মণ্ডপের থিম। রাজনৈতিক ঘটনা, স্থানীয় স্মৃতি এবং বাংলার জনপ্রিয় খাবারকে একসঙ্গে উপস্থাপন করার কারণে আয়োজনটি আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ঝাড়গ্রামে গিয়ে গত ১৯ এপ্রিল একটি দোকান থেকে ১০ টাকা দিয়ে ঠোঙায় ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন মোদি। ঘটনাটি তখন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় আসে। ঝালমুড়ি বিক্রি করেছিলেন দোকানমালিক বিক্রম কুমার সাউ। এবার সেই ঘটনাকে পূজার থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে গিধনি স্পোর্টিং ক্লাব।

৮২ বছরে পা দেওয়া এই পূজামণ্ডপে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও লোকজ খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত খাবার ঝালমুড়ি বাংলার পথঘাট ও আড্ডার সংস্কৃতিরও অংশ। সেই খাবারকে কেন্দ্র করে একটি আলোচিত রাজনৈতিক মুহূর্তের পুনর্নির্মাণ মণ্ডপটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

এই আয়োজন দেখাচ্ছে, দুর্গাপূজার থিম এখন শুধু পুরাণ, ইতিহাস কিংবা স্থাপত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সমসাময়িক ঘটনা, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় স্মৃতিকেও শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরছেন আয়োজকেরা। ফলে কলকাতার বড় পূজাগুলোর পাশাপাশি ঝাড়গ্রামের এই আয়োজনও দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

আলোকসজ্জা, প্রতিমা ও শিল্পের সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ

দুর্গাপূজায় থিমের পাশাপাশি প্রতিমার নির্মাণশৈলীও গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমায় বিভিন্ন শিল্পরীতি প্রয়োগ করা হয়। কোথাও ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের ধারা বজায় রাখা হয়েছে, কোথাও আবার আধুনিক নকশা ও সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিমাকে আলাদা রূপ দেওয়া হয়েছে।

মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা তৈরি, আলোকসজ্জার পরিকল্পনা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা—সবকিছু মিলিয়ে একটি পূজার আয়োজনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হয়। বড় পূজাগুলোতে মাসের পর মাস ধরে চলে পরিকল্পনা ও নির্মাণকাজ। শিল্পী, কারিগর, আলোকসজ্জাকর্মী এবং আয়োজকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত পূজামণ্ডপগুলো দর্শনার্থীদের সামনে নতুন রূপে হাজির হয়।

মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হওয়ায় এবারও বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মানুষের ভিড় বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। বিশেষ করে যেসব মণ্ডপে বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব কিংবা সামাজিক বার্তাকে থিম হিসেবে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও সামাজিক বার্তার মঞ্চ

দুর্গাপূজা বাঙালির কাছে শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বিষয় নয়; এটি সামাজিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সম্মিলিত আনন্দেরও উপলক্ষ। পূজাকে ঘিরে শিল্পী ও কারিগরদের কর্মসংস্থান তৈরি হয়, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসে এবং পর্যটন খাতেও বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়।

কলকাতার দুর্গাপূজা বিশেষভাবে পরিচিত তার সর্বজনীন চরিত্র ও সৃজনশীল মণ্ডপসজ্জার জন্য। বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন। থিমের বৈচিত্র্য দর্শনার্থীদের সামনে নতুন নতুন বিষয় তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। ফলে পূজামণ্ডপ অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক প্রদর্শনী বা সাংস্কৃতিক পরিসরের রূপও নেয়।

এবারের আয়োজনেও সেই প্রবণতা স্পষ্ট। কোথাও দেশাত্মবোধ ও ইতিহাস, কোথাও চলচ্চিত্র ও সাহিত্য, কোথাও পরিবেশ রক্ষা, আবার কোথাও ক্ষুধা, শ্রমজীবী মানুষের জীবন কিংবা প্রবীণদের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। দেশ-বিদেশের স্থাপত্যের অনুকরণে তৈরি মণ্ডপগুলোও দর্শনার্থীদের সামনে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের এবারের দুর্গাপূজায় ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটেছে। হাওয়া মহল, সোমনাথ মন্দির, ভ্যাটিকান সিটি কিংবা মিয়ানমারের প্যাগোডার আদলে তৈরি মণ্ডপ যেমন আন্তর্জাতিক স্থাপত্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরছে, তেমনি গঙ্গাদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য, ক্ষুধা ও বৃদ্ধাশ্রমের মতো বিষয় সামাজিক সচেতনতার বার্তা দিচ্ছে। আর ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ির থিম দেখাচ্ছে, সমসাময়িক ঘটনাও কীভাবে উৎসবের শিল্পিত উপস্থাপনার অংশ হয়ে উঠতে পারে।

দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসবে তাই প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি মণ্ডপের গল্প, শিল্পীদের সৃজনশীলতা এবং সামাজিক বার্তাও হয়ে উঠছে বাড়তি আকর্ষণ। কলকাতা থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত জেলা—সবখানেই থিমের বৈচিত্র্য আর উৎসবের আবহ মিলিয়ে দুর্গাপূজা আবারও রূপ নিচ্ছে এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনে।

কালের আলো/এএন/এসএ

 

ক্ষমতার ছয় মাসেই এক দফা আন্দোলন, বিরোধীদের সমালোচনায় প্রতিমন্ত্রী

বগুড়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ছয় মাসেই এক দফা আন্দোলন, বিরোধীদের সমালোচনায় প্রতিমন্ত্রী

রাজপথে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না করে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং জাতীয় সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর মতে, আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিবর্তে সরকারের সমালোচনা, ভুল সংশোধনের পরামর্শ এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা উচিত।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৬৫টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদের এক দফা আন্দোলনের সমালোচনা

বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, সামাজিক অন্যায়-অবিচার এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির পরিস্থিতিতে জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিরোধী দলের এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচি হাস্যকর, অরাজনৈতিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজপথে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া, সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করা এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত। তাঁর বক্তব্যে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিবর্তে সংসদীয় আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

‘ভোট দিলে সরকারে, না দিলে বিরোধী দলে’

নির্বাচন ও ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বিনা ভোটে কিংবা ‘দিনের ভোট রাতে’ করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।তিনি বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যেই সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করছে। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে সরকার আবার জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে। জনগণ ভোট দিলে সরকার গঠন করবে, আর ভোট না দিলে বিরোধী দলে চলে যাবে।

মীর শাহে আলমের ভাষ্য, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেই পাঁচ বছর পর নির্বাচনে ভোট চাইতে যেতে চায় সরকার। উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেই সরকার পাঁচ বছর পর আবার ভোট চাইতে যাবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

‘হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের পকেটে নেই’

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, একসময় ধারণা করা হতো, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত। তবে তাঁর নির্বাচনী এলাকার হিন্দু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বেশি ভোট পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এর মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রমাণ করেছেন যে তাঁরা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রতি অন্ধ আনুগত্যশীল নন; তাঁরা দেশের সচেতন নাগরিক।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে আত্মীয় মনে করে। তাঁদের ধর্মীয় উৎসব আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপনের সুযোগ তৈরি করতেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

দুর্গাপূজায় ছুটি বৃদ্ধি ও মন্দিরে চাল বরাদ্দের কথা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি এক দিন বাড়ানো, মন্দিরে চাল বরাদ্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে পোশাক বিতরণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন মীর শাহে আলম।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নির্বাহী আদেশে এবার দুর্গাপূজার ছুটি এক দিন বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্দিরে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে পোশাক বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন তাঁদের ধর্মীয় উৎসব আরও আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপন করতে পারেন।

২০ অক্টোবর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: প্রতিমন্ত্রী

মীর শাহে আলম জানান, আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুদান বিতরণ ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

৬৫ পূজামণ্ডপে অনুদান, দুস্থ নারীদের শাড়ি বিতরণ

শুক্রবার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৬৫টি পূজামণ্ডপে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ করা হয়।শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন তৌফিক, সদস্যসচিব রোকন উদ্দিন, শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রামনারায়ণ কানু এবং সনাতন ধর্মীয় নেতা নয়ন চন্দ্র।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলায় ৩ শিশুসহ নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলায় ৩ শিশুসহ নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারীও রয়েছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার (তারিখ যাচাই প্রয়োজন) পোর্টল্যান্ড থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বেন্ড শহরের ‘সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে’ এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির সময় এমন সহিংস ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় নিহত তিন শিশুর বয়স ৫ থেকে ১১ বছর

বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্র্যান্টজ জানান, হামলায় নিহত তিন শিশুর বয়স ৫, ৮ ও ১১ বছর। এ ছাড়া একজন শিক্ষকও নিহত হয়েছেন। হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত ১৬ বছর বয়সী কিশোরও ঘটনাস্থলে মারা যায়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা অন্তত পাঁচ।

এ ঘটনায় ৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এবং ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের বেন্ডের সেন্ট চার্লস মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হামলার পরপরই জরুরি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ভেতরে আর কেউ বিপদের মধ্যে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি চালায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকর্মীরা।

বন্ধ দরজা ভেঙে বিদ্যালয়ে প্রবেশের অভিযোগ

পুলিশ প্রধান মাইক ক্র্যান্টজের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী বিদ্যালয়ের বন্ধ দরজায় গুলি চালিয়ে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে। তবে সে ওই বিদ্যালয়ের বর্তমান বা সাবেক শিক্ষার্থী ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হামলার উদ্দেশ্য, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং হামলাকারী কীভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

দুপুরে গুলির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশি অভিযান

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে একটি গাড়ি থেকে গুলির শব্দ বা গুলিবর্ষণের বিষয়ে প্রথম খবর আসে। অভিযোগে দীর্ঘ নলবিশিষ্ট আগ্নেয়াস্ত্রধারী এক ব্যক্তির কথা জানানো হয়েছিল।

এর দুই মিনিট পর, দুপুর ১টা ১ মিনিটে বিদ্যালয়টি লকডাউন করা হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও শুরু হয়।

ঘটনার প্রাথমিক বিবরণে বলা হয়েছে, এক প্রত্যক্ষদর্শী নাগরিক হামলাকারীকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখে তার পিছু নেন। পরে তিনি হামলাকারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ওই কিশোর ঘটনাস্থলে নিহত হয় বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ পরে সেখানে পৌঁছে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীর ভূমিকা, গুলি চালানোর পরিস্থিতি এবং ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সরিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

হামলার পর বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে বাসে করে পার্শ্ববর্তী একটি চার্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার মতো ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কারণে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি যোগাযোগ এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তদন্তে এফবিআইয়ের সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে তদন্তে সহায়তা করতে সংস্থাটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

এ ধরনের তদন্তে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য, আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, সম্ভাব্য পূর্বপরিকল্পনা এবং হামলাকারীর সঙ্গে বিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে এই ঘটনায় তদন্তকারীরা কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

অরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসা নাগরিকের সাহসিকতার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই বড় সামাজিক ও জননিরাপত্তা সমস্যা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এসব হামলায় শিশু, শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মী সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েন।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্দুক সহিংসতার ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ’-এর হিসাবে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৩৬৯টি বড় ধরনের বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ‘এভরিটাউন ফর গান সেফটি’র হিসাবে, চলতি বছরে মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্তত ১০০টি গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা, গণনার সময়সীমা ও সর্বশেষ হালনাগাদ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় সাধারণত আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, আগাম হুমকি শনাক্তকরণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট হামলার কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফল ও যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।

নিহতদের পরিবারে শোক, তদন্তের অপেক্ষা

বেন্ডের এই হামলায় তিন শিশুর মৃত্যু আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন সামনে এনেছে। শিশুদের জন্য বিদ্যালয়কে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব শুধু নিরাপত্তাকর্মীদের নয়; জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ, কার্যকর যোগাযোগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর। অন্যদিকে, স্থানীয় পুলিশ ও এফবিআই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। হামলার উদ্দেশ্য, আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ সম্পর্কে তদন্তকারীদের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএন/এসএ

সৌদিতে যুদ্ধের আতঙ্কে ওমরাহযাত্রীরা বিপাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
সৌদিতে যুদ্ধের আতঙ্কে ওমরাহযাত্রীরা বিপাকে

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফ করছেন হাজারো মুসল্লি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাত ও হামলার আশঙ্কায় এবার তাঁদের অনেকের পবিত্র এই যাত্রা ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। বিমান চলাচলে বিঘ্ন, ফ্লাইট বাতিল এবং নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওমরাহযাত্রী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীরা।

প্রদত্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি বিমানবন্দর টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হামলার সময় বিমানবন্দরে ওমরাহযাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। এতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর পাশাপাশি ২৪ জন আহত হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব হতাহতের তথ্য এবং হামলার স্থান ও পরিস্থিতি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

পবিত্র যাত্রার মধ্যে যুদ্ধের আতঙ্ক

ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থানরত মুসল্লিদের উদ্বেগের প্রধান কারণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশটিতে গেছেন। তাঁদের জন্য একদিকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা, অন্যদিকে নিরাপদে থাকা ও দেশে ফেরার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক মুসল্লি বলেন, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোনে বারবার সতর্কবার্তা আসছে, যা তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি সৌদি আরবসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনাও করেন।

যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতের সময় ভ্রমণকারীদের উদ্বেগ শুধু সরাসরি হামলার আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন, ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প পরিবহন না পাওয়ার মতো বিষয়ও তাঁদের দুর্ভোগ বাড়ায়।

মক্কা-মদিনা ঘিরে স্বস্তি থাকলেও যাত্রাপথে অনিশ্চয়তা

ইসলামের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ পালন করতে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এই দুই শহরকে লক্ষ্যবস্তু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

মক্কা ও মদিনায় সরাসরি হামলার খবর না থাকলেও সেখানে পৌঁছাতে কিংবা সেখান থেকে দেশে ফিরতে অনেক যাত্রীকে অন্য শহরের বিমানবন্দর ও পরিবহনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে রিয়াদসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে তার প্রভাব ওমরাহযাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও পড়তে পারে।

এ কারণে যাত্রীরা শুধু পবিত্র শহরগুলোর পরিস্থিতি নয়, বরং তাঁদের ফ্লাইটের রুট, ট্রানজিট বিমানবন্দর এবং দেশে ফেরার সম্ভাব্য ব্যবস্থাও নিয়ে চিন্তিত।

ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচি পরিবর্তনে বাড়ছে ভোগান্তি

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিভিন্ন ফ্লাইট বাতিল কিংবা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।

ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের নতুন টিকিট সংগ্রহ, হোটেলে অতিরিক্ত অবস্থান এবং খাবারসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মুসল্লি, শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এমন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দোহা ও দুবাইগামী স্থলপথের পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। বিকল্প পথে যাতায়াতের চাহিদা বাড়লে পরিবহনব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে কোন রুটে কতটা ভাড়া বেড়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

ফ্লাইট না পেয়ে ভ্রমণ স্থগিত করছেন অনেকে

সৌদি আরবে অবস্থানরত আরেক মুসল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের কয়েকজনের ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাঁর কয়েকজন বন্ধু সৌদি আরবে আসতে পারেননি।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন যাঁদের ভ্রমণের তারিখ নির্ধারিত, হোটেল বুকিং করা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফেরার প্রয়োজন রয়েছে। ওমরাহযাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বিদেশি কর্মীরাও বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষ করে যাঁদের ভিসার মেয়াদ, কর্মস্থলে যোগদানের সময় কিংবা দেশে ফেরার সঙ্গে জরুরি পারিবারিক বিষয় জড়িত, তাঁদের জন্য ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা বাড়তি চাপ তৈরি করে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ভ্রমণ ব্যয়ও বাড়তে পারে।

সৌদি ভ্রমণে সতর্কতা জারি বিভিন্ন দেশের

আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও ভ্রমণের আগে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনস, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশি দূতাবাসের হালনাগাদ নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা জরুরি।

উদ্বেগের মধ্যে ওমরাহযাত্রীদের অপেক্ষা

ওমরাহ মুসলমানদের কাছে গভীর ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সঞ্চয় করে কিংবা পরিবারের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এই সফরে যান। ফলে যাত্রার মাঝপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বা ফ্লাইট বাতিলের খবর তাঁদের জন্য মানসিক ও আর্থিক—দুই ধরনের চাপ তৈরি করে।

একদিকে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ইবাদত সম্পন্ন করার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে নিরাপদে যাতায়াত ও দেশে ফেরার নিশ্চয়তা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছেন যাত্রীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অনেকেরই ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

সব মিলিয়ে, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নেই; বিমান চলাচল, পর্যটন, ব্যবসা এবং ধর্মীয় ভ্রমণেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা, হতাহতের সংখ্যা এবং দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

কালের আলো/জেএন/এসএ