পিছিয়ে পড়েও নেইমারদের দারুণ জয়
ব্রাজিলিয়ান লিগে ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দারুণ জয় তুলে নিয়েছে সান্তোস। নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে গাবিগোলের সমতাসূচক গোল এবং ফিলিপে কুতিনহোর জয়সূচক গোলে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও বিরতির পর আক্রমণে গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে সান্তোস। শেষ পর্যন্ত গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পোর তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে কুতিনহো জয় নিশ্চিত করেন।
শুরুতেই ধাক্কা খায় সান্তোস
ম্যাচের শুরুতে লুয়ান পেরেসের ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগায় ফ্লুমিনেন্স। সেই আক্রমণে ইগর রাবেলোর মাধ্যমে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন কাস্তিয়ো। শুরুতেই গোল হজম করে চাপে পড়ে সান্তোস। গোলরক্ষক দিওগেনেসের ভুলও ওই গোলের ঘটনায় আলোচনায় আসে। তবে পরবর্তী সময়ে সাভারিনোর দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে হাল্কের গোলের সুযোগও নস্যাৎ করেন এই গোলরক্ষক।
গাবিগোলের গোলে সমতায় ফেরে সান্তোস
পিছিয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে সান্তোস। রক্ষণভাগে নির্ভরযোগ্য ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও অবদান রাখেন রদিনি। তাঁর পা থেকেই আসে গাবিগোলের সমতাসূচক গোলের অ্যাসিস্ট। গোলটি সান্তোসকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেয়। এরপর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে বিরতির পর সান্তোসের খেলায় আরও বেশি সমন্বয় ও গতির ছাপ দেখা যায়।
বোন্তেম্পোর ক্রসে কুতিনহোর জয়সূচক গোল
দ্বিতীয়ার্ধে সান্তোসের ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম কারিগর ছিলেন গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পো। তাঁর ক্রস থেকেই জয়সূচক গোল করেন ফিলিপে কুতিনহো। এই গোলেই ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে এগিয়ে যায় সান্তোস। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে রোলহাইসারও আক্রমণে উজ্জ্বলতা দেখান। তবে ফ্লুমিনেন্সের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফাবিওর দৃঢ়তায় গোলের দেখা পাননি তিনি। অন্যদিকে মাঝমাঠে সুরক্ষা ও ভারসাম্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গুস্তাভো এনরিকে।
চোটে মাঠ ছাড়লেন ভেরিসিমো
রক্ষণভাগে লুকাস ভেরিসিমো প্রথমার্ধে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও পরে নিজেকে গুছিয়ে নেন। তবে ম্যাচের শেষদিকে বাঁ পায়ের ঊরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। তাঁর বদলি হিসেবে অভিষেক হয় জোয়াও আলেনকারের। নতুন দায়িত্বে নেমে তিনি নিজের কাজ ভালোভাবেই সামলান। এদিকে বারিয়াল রক্ষণে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও অবদান রাখেন। বাঁ দিক দিয়ে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন রনি। এভারটনও গাবিগোলকে একটি ভালো পাস দিয়েছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত ড্রিবলিংয়ের কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি গাবিগোল।
বিরতির পর বদলে যায় সান্তোসের খেলা
মাঝমাঠে স্থিরতা আনতে বদলি হিসেবে নামেন অলিভা। গাবিগোলের বাড়ানো বল থেকে গোল করার সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাঠে নামেন রাফায়েল গোনজাগা।প্রথমার্ধের ভুলত্রুটি কাটিয়ে বিরতির পর দলকে নতুনভাবে সাজান কোচ কুকা। তাঁর কৌশলগত পরিবর্তনে সান্তোসের আক্রমণ আরও সংগঠিত হয়ে ওঠে। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। সব মিলিয়ে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সান্তোস। গাবিগোলের সমতা ফেরানো গোল এবং কুতিনহোর জয়সূচক ফিনিশিংয়ে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে ওঠে দলটির জন্য।
কালের আলো/এএএন/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]