খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার ছিল যুবলীগের রাজীবের, বন্ধু মিশুই ‘নাটের গুরু’!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার ছিল যুবলীগের রাজীবের, বন্ধু মিশুই ‘নাটের গুরু’!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ছিলেন পান-সিগারেট বিক্রেতা। বাবা-চাচা ছিলেন রাজমিস্ত্রী। সাকুল্যে ৩৬ হাজার টাকা বেতনের একজন কাউন্সিলর ছিলেন। অথচ কী রাজকীয় জীবন যাপন তাঁর! প্রাসাদম বাড়ি বা হাল সময়কার বিএমডাব্লিউ ও পাজারোসহ বিলাসী অনেক গাড়ি।

আরও পড়ুন: কাউন্সিলর রাজীবের অস্ত্রবাজ সেই ক্যাডাররা কোথায়?

কী ছিল না তাঁর ভুবনে? ঠাঁটবাট বুঝাতে নাম বদলও করেছেন বহুবার। কখনও টিজেড রাজীব। আবার কখনও নিজেকে পরিচিত করেছেন ‘লায়ন টিজেড রাজীব’ নামে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের বহিস্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজীবের বেলায় এসব খবর এখন পুরনোই বটে! চাঞ্চল্যকর খবর হচ্ছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য ধরে রাখতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার গড়ে তুলেছিলেন সরকার দলীয় সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর এ ‘পালক পুত্র’।

ইতোমধ্যেই র‌্যাবের অভিযানে ধরা পড়ার সময় তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও তিন রাউন্ড গুলি।

অস্ত্রের পেছনে রাজীব মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করায় তাঁর বাহিনীর কব্জায় আছে আরও ভয়ঙ্কর সব অবৈধ অস্ত্র। এসব অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই জমি দখল, ফুটপাত, সিএনজি স্ট্যান্ড ও কাঁচাবাজার থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলতো তাঁর ক্যাডাররা। রাজীব নিজেও বাসা থেকে বের হলেই কোমরে বহন করতেন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র!

শাহ আলম জীবন ছিলেন রাজীবের ‘ডান হাত’। থাকতেন রাজীবের সব অপকীর্তির আগে। এখন তিনি নিরুদ্দেশ।

আরও পড়ুন: ‘জনতার কমিশনারের’ সম্পদের পাহাড়, গায়েব লেনদেনের আলামত!

মোহাম্মদপুর এলাকায় বড় মাদকের চালান আনার সময়ও কীনা বাহিনীর সদস্যরা এসব অস্ত্র ব্যবহার করতো। ভীতি-আতঙ্ক ছড়াতো। কাউন্সিলর রাজীব চার দেয়ালের বাসিন্দা হওয়ার পর তাঁর সংরক্ষণে থাকা এসব অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ড বা পাতাল জগতের বাসিন্দাদের হাতে চলে যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন অনেকেই।

ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিশুকে নিয়ে কৌতূহল
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তারেকুজ্জামান রাজীব। ৯ তলা বাড়ির সপ্তম তলা ভাড়া নিয়েছিলেন রাজীবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিশু হাসান। র‌্যাব জানিয়েছে, অভিযানের সময়ই মিশু হাসান দেশের বাইরে ছিলেন।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরের ‘যুবরাজ’ গ্রেফতারে শুদ্ধি অভিযানে গতি, দুশ্চিন্তার ভাঁজ নেতার কপালে

সূত্র মতে, মিশু আর রাজীব হরিহর আত্মা ছিলেন। একে অন্যকে ছাড়া চলতেন না। ফলে বন্ধুর বিপদে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আশ্রয় দিয়েছেন নিজের বাসায়। মূলত রাজীবকে এ বাসাতে রেখেই নিজে বাইরে থেকে প্রভাবশালী মহলে কড়া নেড়েছেন।

কিন্তু এবার আর সুবিধা করতে পারেননি এ ‘নাটের গুরু’। রিমান্ডে থাকা রাজীবের এ বন্ধুকে ঘিরেই এখন জনমনে সন্দেহ-সংশয় তৈরি হয়েছে।

পেছনে রাজীব। সামনে রাস্তা ক্লিয়ার করছেন শাহ আলম জীবন ওরফে কালা জীবন।

আরও পড়ুন: রাজমিস্ত্রির ছেলে কাউন্সিলর রাজীবের রূপকথার রাজত্ব!

বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রটি আরও বলছে, এ মিশু হাসান ছিলেন রাজীবের সব অপকীর্তির সাক্ষী এবং ব্যবসায়িক অংশীদার। ক্ষমতাসীন দলের সাবেক এক মন্ত্রীর ছেলে ও দেশের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সন্তানের সঙ্গে গভীর সখ্য ছিল তাঁর।

রাজীবের হয়ে রথী-মহারথীদের সঙ্গে যোগাযোগ যেমন রক্ষা করতেন, তেমনি রাজীবকে নামিদামি ব্র্যান্ডের সব গাড়িও সরবরাহ করতেন।

ফলে রাজীবের ধুরন্ধর স্বভাবের এ বন্ধুকে গ্রেফতারেরও জোর দাবি উঠেছে। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেই রাজীবকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে এমনটিও মনে করছে একাধিক সূত্র।

আরও পড়ুনঃ রাজীবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ : র‌্যাব

তবে রাজীবকে গ্রেফতারের অভিযানের রাতেই র‌্যাব জানিয়েছিল, গ্রেফতার এড়াতে রাজীব ১৩ অক্টোবর থেকে ওই বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।

নবম তলা বাড়ির সপ্তম তলার ওই বাসাটি রাজীবের আমেরিকা প্রবাসী বন্ধু মিশু হাসান ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে অভিযানের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। মিশু হাসান বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন।

মোহাম্মদপুর ও বছিলায় রাজীব বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ ব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বঘোষিত জনতার কমিশনার’ তারেকুজ্জামান রাজীব। এসব এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজীব।

আরও পড়ুন: কাউন্সিলর রাজীবের ‘দিনবদলের দখলবাজি’, দীর্ঘশ্বাসই যেন ‘নিয়তি’ সরফরাজ-ফারুকদের!

গুরু রাজীবকে সাঙ্গপাঙ্গরা নাম দিয়েছিলেন ‘জনতার কমিশনার’। কম যাননি শিষ্য শাহ আলম জীবনও। পোস্টার বা প্যানাফ্ল্যাক্সে নিজেকে প্রচার করতেন ‘জনতার নেতা’ হিসেবে।

এলাকার ফুটপাত, বাড়ি, ফ্ল্যাট বা ভবন এমন কোন কিছু বাদ নেই যেখান থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতো না রাজীবের ক্যাডাররা। অভিযোগ রয়েছে, অটোরিকশা, লেগুনা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও বাস থেকে নিত্যদিন প্রায় ৩ লাখ টাকা চাঁদা যেতো কাউন্সিলর রাজীবের পকেটে। রাজীব হাউজিং ও বছিলায় মাদক বাণিজ্যের মূল হোতাও ছিলেন এ রাজীব।

একই সূত্রের অভিযোগ, রাজীবের ‘ডান হাত’ শাহ আলম জীবন, ইয়াবা ব্যবসায়ী সিএনজি কামাল ও অভি ফারুকের নেতৃত্বে প্রতিমাসে কেবলমাত্র স্ট্যান্ড থেকেই প্রায় দুই কোটি টাকা চাঁদা তোলা হতো। ঈদুল আজহার সময় মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড় থেকে বছিলা পর্যন্ত সড়কে বসানো হয় হতো কোরবানির পশুর হাট।

এ হাট থেকে প্রতি বছর ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন রাজীব। গত ৫ বছর যাবত এ হাটটি ছিল রাজীব বাহিনীর কব্জায়।

আরও পড়ুন: বন্ধুর বাড়িতে আত্নগোপনে ছিলেন রাজীব, অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

ময়লার ভ্যানের আড়ালে চাঁদাবাজি
মোহাম্মদপুর এলাকার ফুটপাত, সিএনজি স্ট্যান্ড ও কাঁচাবাজার থেকে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজির পর আরেকটি চাঁদাবাজির খাত তৈরি করেন কাউন্সিলর রাজীব। অবশ্য এজন্য একটি কৌশল প্রয়োগ করেন তিনি। নিজে কাউন্সিলর হওয়ায় বাসার ময়লা থেকে চাঁদাবাজিও করতো তাঁর পোষ্য ক্যাডাররা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এলাকার প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে ময়লার ভ্যান পাঠানো হতো। সেখান থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা তোলা হতো। ডিশ ব্যবসার মতোই লাভজনক এ খাত থেকেও নিত্যদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা নিতো রাজীবের সাঙ্গপাঙ্গরা।

মোহাম্মদপুর থেকে বছিলায় প্রতি ঈদুল আজহায় বিশাল গরুর হাট থেকে ৩ কোটি টাকা চাঁদা নিতো রাজীব বাহিনীর ক্যাডাররা।

রাজীবের অবৈধ অস্ত্রগুলো কার হাতে?
কাউন্সিলর রাজীবের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা ও ডিশ ব্যবসাসহ সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে সর্বাগ্রে উচ্চারিত হচ্ছে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জীবনের নাম।

‘গুরু’ যেমন স্বঘোষিত ‘জনতার কমিশনার’ তেমনি এ গুণধর শিষ্যও নিজেকে পরিচিত করে তুলেন ‘জনতার নেতা’ হিসেবে। থাকতেন প্রতিটি অপকীর্তির আগেভাগে। রাজীবের নির্দেশে যখন তখন যে কাউকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করতেও করিৎকর্মা ছিলেন শাহ আলম।

রাজীবের নানা অপকর্মের আরও সঙ্গী ছিলেন সিএনজি কামাল, আশিকুজ্জামান রনি, চাচা ইয়াসিন, ফারুক ও রাজীবের শ্যালক ইমতিহান হোসেন ইমতি ও একরামুল। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইস্রাফিল লাবু, সায়েম, বাদল, মিতুল ও রুহুল বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউজিং, সাত মসজিদ হাউজিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

রাজীব গ্রেফতার পর পর ইস্রাফিল সরাসরি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের আশ্রয়ে চলে গেছেন। ওই নেতার পক্ষে সাফাই গেয়ে ফেসবুকে প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায়, রাজীবের বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডারের খোঁজ জানেন শাহ আলম জীবন, চাচা ইয়াসিন, ইস্রাফিল লাবু, ইমতিহান হোসেন ইমতি ও একরামুলের নেতৃত্বাধীন শক্ত সিন্ডিকেট।

বেশভূষায় রাজীব হয়ে উঠেছিলেন ‘মোহাম্মদপুরের সুলতান।’ সামনে-পেছনে ক্যাডার বহর ছাড়া চলতেন না। কায়দা করে নিতেন মন্ত্রীর মতো ভিআইপি প্রটোকল। এসব শোডাউনের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতেন। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখতেন স্থানীয় পথচারী ও বাসিন্দারা।

তাদের মাধ্যমেই সীমান্তের চোরাকারবারিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কিনতেন রাজীব। ভাড়াও দিতেন তাদের মাধ্যমেই, এমন কথাবার্তাও স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে।

অত্যাধুনিক এসব আগ্নেয়াস্ত্র পাড়া মহল্লার উঠতি মাস্তানদেরও সরবরাহ করে ‘কিশোর গ্যাং’ গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করতেন। নিজেদের প্রয়োজনে আতঙ্ক ছড়াতেই তাঁরা প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি করতো।

চতুর রাজীব গ্রেফতার হওয়ার আগেই যেমন লেনদেনের আলামত ঘায়েব করেছেন তেমনি অবৈধ অস্ত্রগুলোও নিজের এসব সহযোগীদের কব্জাতেই রেখে গেছেন। একটি অস্ত্র নিজের সাথে থাকায় লাইসেন্সহীন সেই অস্ত্র ও গুলি জব্ধ করেছে র‌্যাব।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রাজীব গ্রেফতার আতঙ্কে আত্নগোপনের পরপরই তাঁর সিন্ডিকেটের এসব সদস্যরাও গা ঢাকা দিয়েছেন। তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হলেই অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডারের খোঁজ মিলবে বলে স্থানীয় সূত্রটি এমন দাবি করেছে।

কী বলছে এলাকার বাসিন্দারা
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার নব্য ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ কাউন্সিলর রাজীব গ্রেফতার হওয়ার পর স্বস্তির শ্বাস ফেলছেন স্থানীয় মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দারা। এতোদিন যারা তাঁর ক্যাডারদের অত্যাচার-নির্যাতনের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করেননি এখন তাঁরা প্রকাশ্যে রাজীব ও তাঁর ক্যাডারদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

এ যেন কথিত ‘জনতার কমিশনারের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদী জনতার স্বত:স্ফূর্ত গণজাগরণ!

ইস্রাফিল লাবু রাজীবের অপকর্মের আরেক সঙ্গী। লাবু-জীবনের সিন্ডিকেট কামিয়েছে কোটি কোটি টাকা। নিজেরাও বনে গেছেন বিত্তবৈভবের মালিক।

সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে কালের আলো। স্থানীয়রা জানায়, গত রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজীবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে নির্যাতিত-নিপীড়িত স্থানীয় লোকজন।

এ সময় তাঁরা রাজীবের নামে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। অভিনন্দন জানান সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে।

প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যান ইউনিট আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক তসিরকে হত্যা করে রাজীবের লোকজন। এরপর থানায় মামলা হলেও সুবিচার পাননি তাঁর হতভাগ্য পরিবার।

নিহত তসিরের মা আম্বিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল রাজীবের লোকজন। আমার ছেলে হত্যার দায়ে আমি রাজীবের ফাঁসি চাই।’

ফারুক নামের স্থানীয় এক দোকানি বলেন, ‘রাজীবের চলাফেরার স্টাইল ছিল রাজা-বাদশা’র মতো। ‘জনতার কমিশনার’ টাইটেল নিয়ে এলাকার মানুষজনকে শোষণ করতেন। চাঁদাবাজি আর জমি দখল করে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়েছেন। খুপড়ি ঘর থেকে প্রাসাদ বানিয়েছিলেন।’

এ যেন বিক্ষুব্ধ জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা কাউন্সিলর রাজীব রিমান্ডে। তাঁর শাস্তির দাবিতেই মোহাম্মদপুরে বিক্ষোভ করে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি কাঁচাবাজারের নিয়ন্ত্রণেরও অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলর রাজীবের বিরুদ্ধে। মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, ‘কাঁচাবাজার পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজীব। প্রতি ব্যবসায়ীকে ১৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। অনেক ব্যবসায়ীকে আরও বাড়তি অর্থ গুণতে হতো।’

এ হাউজিং সোসাইটির কাঁচাবাজার সমিতির বৈধ সভাপতি আবুল হোসেন কালের আলোকে জানান, ‘আমাকে বেআইনিভাবে সরিয়ে মহিউদ্দিন আহম্মেদ খোকাকে সভাপতি করেন রাজীব। তিনি কর অঞ্চল-১০-এর প্রধান সহকারী। এরপর তাঁর মাধ্যমে গত কয়েক বছরে চাঁদা বাবদ এখান থেকেই প্রায় ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রাজীব।

কালের আলো/এএ/এসআর

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

সরকারি ছুটির দিনে সরকারের তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান একজন সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ফারাহ্ শাম্মীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে।

পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি