খুঁজুন
                               
, ,
           

অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার ছিল যুবলীগের রাজীবের, বন্ধু মিশুই ‘নাটের গুরু’!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার ছিল যুবলীগের রাজীবের, বন্ধু মিশুই ‘নাটের গুরু’!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ছিলেন পান-সিগারেট বিক্রেতা। বাবা-চাচা ছিলেন রাজমিস্ত্রী। সাকুল্যে ৩৬ হাজার টাকা বেতনের একজন কাউন্সিলর ছিলেন। অথচ কী রাজকীয় জীবন যাপন তাঁর! প্রাসাদম বাড়ি বা হাল সময়কার বিএমডাব্লিউ ও পাজারোসহ বিলাসী অনেক গাড়ি।

আরও পড়ুন: কাউন্সিলর রাজীবের অস্ত্রবাজ সেই ক্যাডাররা কোথায়?

কী ছিল না তাঁর ভুবনে? ঠাঁটবাট বুঝাতে নাম বদলও করেছেন বহুবার। কখনও টিজেড রাজীব। আবার কখনও নিজেকে পরিচিত করেছেন ‘লায়ন টিজেড রাজীব’ নামে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের বহিস্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজীবের বেলায় এসব খবর এখন পুরনোই বটে! চাঞ্চল্যকর খবর হচ্ছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য ধরে রাখতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার গড়ে তুলেছিলেন সরকার দলীয় সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর এ ‘পালক পুত্র’।

ইতোমধ্যেই র‌্যাবের অভিযানে ধরা পড়ার সময় তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও তিন রাউন্ড গুলি।

অস্ত্রের পেছনে রাজীব মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করায় তাঁর বাহিনীর কব্জায় আছে আরও ভয়ঙ্কর সব অবৈধ অস্ত্র। এসব অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই জমি দখল, ফুটপাত, সিএনজি স্ট্যান্ড ও কাঁচাবাজার থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলতো তাঁর ক্যাডাররা। রাজীব নিজেও বাসা থেকে বের হলেই কোমরে বহন করতেন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র!

শাহ আলম জীবন ছিলেন রাজীবের ‘ডান হাত’। থাকতেন রাজীবের সব অপকীর্তির আগে। এখন তিনি নিরুদ্দেশ।

আরও পড়ুন: ‘জনতার কমিশনারের’ সম্পদের পাহাড়, গায়েব লেনদেনের আলামত!

মোহাম্মদপুর এলাকায় বড় মাদকের চালান আনার সময়ও কীনা বাহিনীর সদস্যরা এসব অস্ত্র ব্যবহার করতো। ভীতি-আতঙ্ক ছড়াতো। কাউন্সিলর রাজীব চার দেয়ালের বাসিন্দা হওয়ার পর তাঁর সংরক্ষণে থাকা এসব অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ড বা পাতাল জগতের বাসিন্দাদের হাতে চলে যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন অনেকেই।

ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিশুকে নিয়ে কৌতূহল
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তারেকুজ্জামান রাজীব। ৯ তলা বাড়ির সপ্তম তলা ভাড়া নিয়েছিলেন রাজীবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিশু হাসান। র‌্যাব জানিয়েছে, অভিযানের সময়ই মিশু হাসান দেশের বাইরে ছিলেন।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরের ‘যুবরাজ’ গ্রেফতারে শুদ্ধি অভিযানে গতি, দুশ্চিন্তার ভাঁজ নেতার কপালে

সূত্র মতে, মিশু আর রাজীব হরিহর আত্মা ছিলেন। একে অন্যকে ছাড়া চলতেন না। ফলে বন্ধুর বিপদে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আশ্রয় দিয়েছেন নিজের বাসায়। মূলত রাজীবকে এ বাসাতে রেখেই নিজে বাইরে থেকে প্রভাবশালী মহলে কড়া নেড়েছেন।

কিন্তু এবার আর সুবিধা করতে পারেননি এ ‘নাটের গুরু’। রিমান্ডে থাকা রাজীবের এ বন্ধুকে ঘিরেই এখন জনমনে সন্দেহ-সংশয় তৈরি হয়েছে।

পেছনে রাজীব। সামনে রাস্তা ক্লিয়ার করছেন শাহ আলম জীবন ওরফে কালা জীবন।

আরও পড়ুন: রাজমিস্ত্রির ছেলে কাউন্সিলর রাজীবের রূপকথার রাজত্ব!

বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রটি আরও বলছে, এ মিশু হাসান ছিলেন রাজীবের সব অপকীর্তির সাক্ষী এবং ব্যবসায়িক অংশীদার। ক্ষমতাসীন দলের সাবেক এক মন্ত্রীর ছেলে ও দেশের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সন্তানের সঙ্গে গভীর সখ্য ছিল তাঁর।

রাজীবের হয়ে রথী-মহারথীদের সঙ্গে যোগাযোগ যেমন রক্ষা করতেন, তেমনি রাজীবকে নামিদামি ব্র্যান্ডের সব গাড়িও সরবরাহ করতেন।

ফলে রাজীবের ধুরন্ধর স্বভাবের এ বন্ধুকে গ্রেফতারেরও জোর দাবি উঠেছে। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেই রাজীবকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে এমনটিও মনে করছে একাধিক সূত্র।

আরও পড়ুনঃ রাজীবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ : র‌্যাব

তবে রাজীবকে গ্রেফতারের অভিযানের রাতেই র‌্যাব জানিয়েছিল, গ্রেফতার এড়াতে রাজীব ১৩ অক্টোবর থেকে ওই বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।

নবম তলা বাড়ির সপ্তম তলার ওই বাসাটি রাজীবের আমেরিকা প্রবাসী বন্ধু মিশু হাসান ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে অভিযানের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। মিশু হাসান বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন।

মোহাম্মদপুর ও বছিলায় রাজীব বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ ব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বঘোষিত জনতার কমিশনার’ তারেকুজ্জামান রাজীব। এসব এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজীব।

আরও পড়ুন: কাউন্সিলর রাজীবের ‘দিনবদলের দখলবাজি’, দীর্ঘশ্বাসই যেন ‘নিয়তি’ সরফরাজ-ফারুকদের!

গুরু রাজীবকে সাঙ্গপাঙ্গরা নাম দিয়েছিলেন ‘জনতার কমিশনার’। কম যাননি শিষ্য শাহ আলম জীবনও। পোস্টার বা প্যানাফ্ল্যাক্সে নিজেকে প্রচার করতেন ‘জনতার নেতা’ হিসেবে।

এলাকার ফুটপাত, বাড়ি, ফ্ল্যাট বা ভবন এমন কোন কিছু বাদ নেই যেখান থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতো না রাজীবের ক্যাডাররা। অভিযোগ রয়েছে, অটোরিকশা, লেগুনা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও বাস থেকে নিত্যদিন প্রায় ৩ লাখ টাকা চাঁদা যেতো কাউন্সিলর রাজীবের পকেটে। রাজীব হাউজিং ও বছিলায় মাদক বাণিজ্যের মূল হোতাও ছিলেন এ রাজীব।

একই সূত্রের অভিযোগ, রাজীবের ‘ডান হাত’ শাহ আলম জীবন, ইয়াবা ব্যবসায়ী সিএনজি কামাল ও অভি ফারুকের নেতৃত্বে প্রতিমাসে কেবলমাত্র স্ট্যান্ড থেকেই প্রায় দুই কোটি টাকা চাঁদা তোলা হতো। ঈদুল আজহার সময় মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড় থেকে বছিলা পর্যন্ত সড়কে বসানো হয় হতো কোরবানির পশুর হাট।

এ হাট থেকে প্রতি বছর ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন রাজীব। গত ৫ বছর যাবত এ হাটটি ছিল রাজীব বাহিনীর কব্জায়।

আরও পড়ুন: বন্ধুর বাড়িতে আত্নগোপনে ছিলেন রাজীব, অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

ময়লার ভ্যানের আড়ালে চাঁদাবাজি
মোহাম্মদপুর এলাকার ফুটপাত, সিএনজি স্ট্যান্ড ও কাঁচাবাজার থেকে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজির পর আরেকটি চাঁদাবাজির খাত তৈরি করেন কাউন্সিলর রাজীব। অবশ্য এজন্য একটি কৌশল প্রয়োগ করেন তিনি। নিজে কাউন্সিলর হওয়ায় বাসার ময়লা থেকে চাঁদাবাজিও করতো তাঁর পোষ্য ক্যাডাররা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এলাকার প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে ময়লার ভ্যান পাঠানো হতো। সেখান থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা তোলা হতো। ডিশ ব্যবসার মতোই লাভজনক এ খাত থেকেও নিত্যদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা নিতো রাজীবের সাঙ্গপাঙ্গরা।

মোহাম্মদপুর থেকে বছিলায় প্রতি ঈদুল আজহায় বিশাল গরুর হাট থেকে ৩ কোটি টাকা চাঁদা নিতো রাজীব বাহিনীর ক্যাডাররা।

রাজীবের অবৈধ অস্ত্রগুলো কার হাতে?
কাউন্সিলর রাজীবের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা ও ডিশ ব্যবসাসহ সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে সর্বাগ্রে উচ্চারিত হচ্ছে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জীবনের নাম।

‘গুরু’ যেমন স্বঘোষিত ‘জনতার কমিশনার’ তেমনি এ গুণধর শিষ্যও নিজেকে পরিচিত করে তুলেন ‘জনতার নেতা’ হিসেবে। থাকতেন প্রতিটি অপকীর্তির আগেভাগে। রাজীবের নির্দেশে যখন তখন যে কাউকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করতেও করিৎকর্মা ছিলেন শাহ আলম।

রাজীবের নানা অপকর্মের আরও সঙ্গী ছিলেন সিএনজি কামাল, আশিকুজ্জামান রনি, চাচা ইয়াসিন, ফারুক ও রাজীবের শ্যালক ইমতিহান হোসেন ইমতি ও একরামুল। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইস্রাফিল লাবু, সায়েম, বাদল, মিতুল ও রুহুল বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউজিং, সাত মসজিদ হাউজিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

রাজীব গ্রেফতার পর পর ইস্রাফিল সরাসরি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের আশ্রয়ে চলে গেছেন। ওই নেতার পক্ষে সাফাই গেয়ে ফেসবুকে প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায়, রাজীবের বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডারের খোঁজ জানেন শাহ আলম জীবন, চাচা ইয়াসিন, ইস্রাফিল লাবু, ইমতিহান হোসেন ইমতি ও একরামুলের নেতৃত্বাধীন শক্ত সিন্ডিকেট।

বেশভূষায় রাজীব হয়ে উঠেছিলেন ‘মোহাম্মদপুরের সুলতান।’ সামনে-পেছনে ক্যাডার বহর ছাড়া চলতেন না। কায়দা করে নিতেন মন্ত্রীর মতো ভিআইপি প্রটোকল। এসব শোডাউনের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতেন। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখতেন স্থানীয় পথচারী ও বাসিন্দারা।

তাদের মাধ্যমেই সীমান্তের চোরাকারবারিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কিনতেন রাজীব। ভাড়াও দিতেন তাদের মাধ্যমেই, এমন কথাবার্তাও স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে।

অত্যাধুনিক এসব আগ্নেয়াস্ত্র পাড়া মহল্লার উঠতি মাস্তানদেরও সরবরাহ করে ‘কিশোর গ্যাং’ গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করতেন। নিজেদের প্রয়োজনে আতঙ্ক ছড়াতেই তাঁরা প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি করতো।

চতুর রাজীব গ্রেফতার হওয়ার আগেই যেমন লেনদেনের আলামত ঘায়েব করেছেন তেমনি অবৈধ অস্ত্রগুলোও নিজের এসব সহযোগীদের কব্জাতেই রেখে গেছেন। একটি অস্ত্র নিজের সাথে থাকায় লাইসেন্সহীন সেই অস্ত্র ও গুলি জব্ধ করেছে র‌্যাব।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রাজীব গ্রেফতার আতঙ্কে আত্নগোপনের পরপরই তাঁর সিন্ডিকেটের এসব সদস্যরাও গা ঢাকা দিয়েছেন। তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হলেই অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডারের খোঁজ মিলবে বলে স্থানীয় সূত্রটি এমন দাবি করেছে।

কী বলছে এলাকার বাসিন্দারা
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার নব্য ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ কাউন্সিলর রাজীব গ্রেফতার হওয়ার পর স্বস্তির শ্বাস ফেলছেন স্থানীয় মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দারা। এতোদিন যারা তাঁর ক্যাডারদের অত্যাচার-নির্যাতনের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করেননি এখন তাঁরা প্রকাশ্যে রাজীব ও তাঁর ক্যাডারদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

এ যেন কথিত ‘জনতার কমিশনারের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদী জনতার স্বত:স্ফূর্ত গণজাগরণ!

ইস্রাফিল লাবু রাজীবের অপকর্মের আরেক সঙ্গী। লাবু-জীবনের সিন্ডিকেট কামিয়েছে কোটি কোটি টাকা। নিজেরাও বনে গেছেন বিত্তবৈভবের মালিক।

সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে কালের আলো। স্থানীয়রা জানায়, গত রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজীবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে নির্যাতিত-নিপীড়িত স্থানীয় লোকজন।

এ সময় তাঁরা রাজীবের নামে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। অভিনন্দন জানান সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে।

প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যান ইউনিট আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক তসিরকে হত্যা করে রাজীবের লোকজন। এরপর থানায় মামলা হলেও সুবিচার পাননি তাঁর হতভাগ্য পরিবার।

নিহত তসিরের মা আম্বিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল রাজীবের লোকজন। আমার ছেলে হত্যার দায়ে আমি রাজীবের ফাঁসি চাই।’

ফারুক নামের স্থানীয় এক দোকানি বলেন, ‘রাজীবের চলাফেরার স্টাইল ছিল রাজা-বাদশা’র মতো। ‘জনতার কমিশনার’ টাইটেল নিয়ে এলাকার মানুষজনকে শোষণ করতেন। চাঁদাবাজি আর জমি দখল করে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়েছেন। খুপড়ি ঘর থেকে প্রাসাদ বানিয়েছিলেন।’

এ যেন বিক্ষুব্ধ জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা কাউন্সিলর রাজীব রিমান্ডে। তাঁর শাস্তির দাবিতেই মোহাম্মদপুরে বিক্ষোভ করে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি কাঁচাবাজারের নিয়ন্ত্রণেরও অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলর রাজীবের বিরুদ্ধে। মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, ‘কাঁচাবাজার পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজীব। প্রতি ব্যবসায়ীকে ১৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। অনেক ব্যবসায়ীকে আরও বাড়তি অর্থ গুণতে হতো।’

এ হাউজিং সোসাইটির কাঁচাবাজার সমিতির বৈধ সভাপতি আবুল হোসেন কালের আলোকে জানান, ‘আমাকে বেআইনিভাবে সরিয়ে মহিউদ্দিন আহম্মেদ খোকাকে সভাপতি করেন রাজীব। তিনি কর অঞ্চল-১০-এর প্রধান সহকারী। এরপর তাঁর মাধ্যমে গত কয়েক বছরে চাঁদা বাবদ এখান থেকেই প্রায় ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রাজীব।

কালের আলো/এএ/এসআর

শাহজালালে যাত্রীদের মুখোমুখি মন্ত্রী,ব্যাগেজ সেবায় সন্তুষ্টি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
শাহজালালে যাত্রীদের মুখোমুখি মন্ত্রী,ব্যাগেজ সেবায় সন্তুষ্টি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও ব্যাগেজ ডেলিভারি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আকস্মিকভাবে বিমানবন্দরে গিয়ে তিনি ব্যাগেজ ডেলিভারি এলাকায় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিমান থেকে নামার পর যাত্রীরা কত সময়ের মধ্যে লাগেজ হাতে পাচ্ছেন, ব্যাগেজ ডেলিভারি ব্যবস্থাপনা কেমন এবং যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে সরাসরি তাদের মতামত জানতে চান।

মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যাত্রীরা ব্যাগেজ ডেলিভারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ হাতে পাওয়ার বিষয়েও তারা ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানান। যাত্রীদের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি সেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। বিমানবন্দরের প্রতিটি কার্যক্রমে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে যাত্রীদের সুবিধা আরও বাড়াতে দ্রুত ট্রলির সংখ্যা বৃদ্ধির নির্দেশনাও দেন।

যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়

বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনায় যাত্রীসেবার বাস্তব চিত্র জানতে সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা দাপ্তরিক উপস্থাপনার পরিবর্তে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকেই অভিজ্ঞতা জানার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। ব্যাগেজ ডেলিভারি নিয়ে যাত্রীদের সন্তুষ্টির বিষয়টি বিমানবন্দরের সেবাব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে সেবার মান আরও উন্নত করার জন্য মন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশনা ভবিষ্যতে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে পারে।

যাত্রীসেবায় আরও উন্নতির লক্ষ্য

একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান শুধু দ্রুত লাগেজ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যাত্রীদের বিমান থেকে নেমে লাগেজ সংগ্রহ, ট্রলি পাওয়া এবং স্বাচ্ছন্দ্যে টার্মিনাল ত্যাগ—পুরো প্রক্রিয়াটিই যাত্রী অভিজ্ঞতার অংশ। এ কারণে ট্রলির সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর নির্দেশনাকে যাত্রীসেবার ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখা যায়। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রলি নিশ্চিত করা গেলে লাগেজ সংগ্রহের পর যাত্রীদের চলাচল আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে।

আকস্মিক পরিদর্শনে মাঠপর্যায়ের সেবায় গুরুত্ব

রাতে আকস্মিকভাবে মন্ত্রীর বিমানবন্দরে গিয়ে ব্যাগেজ ডেলিভারি এলাকা পরিদর্শন এবং যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মধ্য দিয়ে যাত্রীসেবার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার একটি বার্তা উঠে এসেছে। বিশেষ করে যাত্রীদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা শোনা এবং একই সঙ্গে আরও উন্নয়নের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া—দুটি বিষয়ই সেবাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার পথকে এগিয়ে নিতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে

একই পরিবারের ৪ জনসহ ৬ জনকে হারিয়ে শোকে জামালপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
একই পরিবারের ৪ জনসহ ৬ জনকে হারিয়ে শোকে জামালপুর

ময়মনসিংহে বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায়। নিহতদের মধ্যে ছয়জনই জামালপুরের বাসিন্দা। তাদের চারজন একই পরিবারের সদস্য।

একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন পরিবারের প্রবীণ সদস্য, তার ছেলে, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে এবং পাঁচ বছরের নাতি। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ।

একই পরিবারের চারজন নিহত

নিহতরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রাশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা (২৫) এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনাল।

এ ছাড়া একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী (৩৪) এবং একই উপজেলার নান্দিনা বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৪৮) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত অপর নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

গাজীপুর যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

স্বজনরা জানান, শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মা রাশিদা বেগম, দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনালকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মোফাজ্জল হোসেন লেবু।

নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রথমে ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিল তাদের। এরপর সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। মা রাশিদা বেগম, মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনালকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই আগের দিন তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

‘একসঙ্গে সবাইকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব’

মোফাজ্জল হোসেন লেবুর ভাবি ইসমতারা বলেন, তার দেবর গাজীপুরে থেকে দিনমজুরের কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যদের গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্যই তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, মর্জিনা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। একসঙ্গে পরিবারের চারজনকে হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

দুর্ঘটনার বিচার দাবি এলাকাবাসীর

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, রাজিব পরিবহনের বাসের কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে বলে তারা অভিযোগ করে আসছেন। তবে এবারের দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে এলাকার মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে মর্জিনা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

একসঙ্গে একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যেও শোক নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল ও দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

এক শোকবার্তায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অন্যতম পথিকৃৎ। দেশের গণমাধ্যমের বিকাশ ও অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

তথ্যমন্ত্রী মরহুম তৌফিক ইমরোজ খালিদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি