খুঁজুন
                               
, ,
           

অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার ছিল যুবলীগের রাজীবের, বন্ধু মিশুই ‘নাটের গুরু’!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার ছিল যুবলীগের রাজীবের, বন্ধু মিশুই ‘নাটের গুরু’!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ছিলেন পান-সিগারেট বিক্রেতা। বাবা-চাচা ছিলেন রাজমিস্ত্রী। সাকুল্যে ৩৬ হাজার টাকা বেতনের একজন কাউন্সিলর ছিলেন। অথচ কী রাজকীয় জীবন যাপন তাঁর! প্রাসাদম বাড়ি বা হাল সময়কার বিএমডাব্লিউ ও পাজারোসহ বিলাসী অনেক গাড়ি।

আরও পড়ুন: কাউন্সিলর রাজীবের অস্ত্রবাজ সেই ক্যাডাররা কোথায়?

কী ছিল না তাঁর ভুবনে? ঠাঁটবাট বুঝাতে নাম বদলও করেছেন বহুবার। কখনও টিজেড রাজীব। আবার কখনও নিজেকে পরিচিত করেছেন ‘লায়ন টিজেড রাজীব’ নামে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের বহিস্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজীবের বেলায় এসব খবর এখন পুরনোই বটে! চাঞ্চল্যকর খবর হচ্ছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য ধরে রাখতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার গড়ে তুলেছিলেন সরকার দলীয় সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর এ ‘পালক পুত্র’।

ইতোমধ্যেই র‌্যাবের অভিযানে ধরা পড়ার সময় তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও তিন রাউন্ড গুলি।

অস্ত্রের পেছনে রাজীব মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করায় তাঁর বাহিনীর কব্জায় আছে আরও ভয়ঙ্কর সব অবৈধ অস্ত্র। এসব অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই জমি দখল, ফুটপাত, সিএনজি স্ট্যান্ড ও কাঁচাবাজার থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলতো তাঁর ক্যাডাররা। রাজীব নিজেও বাসা থেকে বের হলেই কোমরে বহন করতেন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র!

শাহ আলম জীবন ছিলেন রাজীবের ‘ডান হাত’। থাকতেন রাজীবের সব অপকীর্তির আগে। এখন তিনি নিরুদ্দেশ।

আরও পড়ুন: ‘জনতার কমিশনারের’ সম্পদের পাহাড়, গায়েব লেনদেনের আলামত!

মোহাম্মদপুর এলাকায় বড় মাদকের চালান আনার সময়ও কীনা বাহিনীর সদস্যরা এসব অস্ত্র ব্যবহার করতো। ভীতি-আতঙ্ক ছড়াতো। কাউন্সিলর রাজীব চার দেয়ালের বাসিন্দা হওয়ার পর তাঁর সংরক্ষণে থাকা এসব অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ড বা পাতাল জগতের বাসিন্দাদের হাতে চলে যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন অনেকেই।

ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিশুকে নিয়ে কৌতূহল
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তারেকুজ্জামান রাজীব। ৯ তলা বাড়ির সপ্তম তলা ভাড়া নিয়েছিলেন রাজীবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিশু হাসান। র‌্যাব জানিয়েছে, অভিযানের সময়ই মিশু হাসান দেশের বাইরে ছিলেন।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরের ‘যুবরাজ’ গ্রেফতারে শুদ্ধি অভিযানে গতি, দুশ্চিন্তার ভাঁজ নেতার কপালে

সূত্র মতে, মিশু আর রাজীব হরিহর আত্মা ছিলেন। একে অন্যকে ছাড়া চলতেন না। ফলে বন্ধুর বিপদে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আশ্রয় দিয়েছেন নিজের বাসায়। মূলত রাজীবকে এ বাসাতে রেখেই নিজে বাইরে থেকে প্রভাবশালী মহলে কড়া নেড়েছেন।

কিন্তু এবার আর সুবিধা করতে পারেননি এ ‘নাটের গুরু’। রিমান্ডে থাকা রাজীবের এ বন্ধুকে ঘিরেই এখন জনমনে সন্দেহ-সংশয় তৈরি হয়েছে।

পেছনে রাজীব। সামনে রাস্তা ক্লিয়ার করছেন শাহ আলম জীবন ওরফে কালা জীবন।

আরও পড়ুন: রাজমিস্ত্রির ছেলে কাউন্সিলর রাজীবের রূপকথার রাজত্ব!

বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রটি আরও বলছে, এ মিশু হাসান ছিলেন রাজীবের সব অপকীর্তির সাক্ষী এবং ব্যবসায়িক অংশীদার। ক্ষমতাসীন দলের সাবেক এক মন্ত্রীর ছেলে ও দেশের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সন্তানের সঙ্গে গভীর সখ্য ছিল তাঁর।

রাজীবের হয়ে রথী-মহারথীদের সঙ্গে যোগাযোগ যেমন রক্ষা করতেন, তেমনি রাজীবকে নামিদামি ব্র্যান্ডের সব গাড়িও সরবরাহ করতেন।

ফলে রাজীবের ধুরন্ধর স্বভাবের এ বন্ধুকে গ্রেফতারেরও জোর দাবি উঠেছে। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেই রাজীবকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে এমনটিও মনে করছে একাধিক সূত্র।

আরও পড়ুনঃ রাজীবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ : র‌্যাব

তবে রাজীবকে গ্রেফতারের অভিযানের রাতেই র‌্যাব জানিয়েছিল, গ্রেফতার এড়াতে রাজীব ১৩ অক্টোবর থেকে ওই বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।

নবম তলা বাড়ির সপ্তম তলার ওই বাসাটি রাজীবের আমেরিকা প্রবাসী বন্ধু মিশু হাসান ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে অভিযানের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। মিশু হাসান বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন।

মোহাম্মদপুর ও বছিলায় রাজীব বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ ব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বঘোষিত জনতার কমিশনার’ তারেকুজ্জামান রাজীব। এসব এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজীব।

আরও পড়ুন: কাউন্সিলর রাজীবের ‘দিনবদলের দখলবাজি’, দীর্ঘশ্বাসই যেন ‘নিয়তি’ সরফরাজ-ফারুকদের!

গুরু রাজীবকে সাঙ্গপাঙ্গরা নাম দিয়েছিলেন ‘জনতার কমিশনার’। কম যাননি শিষ্য শাহ আলম জীবনও। পোস্টার বা প্যানাফ্ল্যাক্সে নিজেকে প্রচার করতেন ‘জনতার নেতা’ হিসেবে।

এলাকার ফুটপাত, বাড়ি, ফ্ল্যাট বা ভবন এমন কোন কিছু বাদ নেই যেখান থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতো না রাজীবের ক্যাডাররা। অভিযোগ রয়েছে, অটোরিকশা, লেগুনা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও বাস থেকে নিত্যদিন প্রায় ৩ লাখ টাকা চাঁদা যেতো কাউন্সিলর রাজীবের পকেটে। রাজীব হাউজিং ও বছিলায় মাদক বাণিজ্যের মূল হোতাও ছিলেন এ রাজীব।

একই সূত্রের অভিযোগ, রাজীবের ‘ডান হাত’ শাহ আলম জীবন, ইয়াবা ব্যবসায়ী সিএনজি কামাল ও অভি ফারুকের নেতৃত্বে প্রতিমাসে কেবলমাত্র স্ট্যান্ড থেকেই প্রায় দুই কোটি টাকা চাঁদা তোলা হতো। ঈদুল আজহার সময় মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড় থেকে বছিলা পর্যন্ত সড়কে বসানো হয় হতো কোরবানির পশুর হাট।

এ হাট থেকে প্রতি বছর ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন রাজীব। গত ৫ বছর যাবত এ হাটটি ছিল রাজীব বাহিনীর কব্জায়।

আরও পড়ুন: বন্ধুর বাড়িতে আত্নগোপনে ছিলেন রাজীব, অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

ময়লার ভ্যানের আড়ালে চাঁদাবাজি
মোহাম্মদপুর এলাকার ফুটপাত, সিএনজি স্ট্যান্ড ও কাঁচাবাজার থেকে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজির পর আরেকটি চাঁদাবাজির খাত তৈরি করেন কাউন্সিলর রাজীব। অবশ্য এজন্য একটি কৌশল প্রয়োগ করেন তিনি। নিজে কাউন্সিলর হওয়ায় বাসার ময়লা থেকে চাঁদাবাজিও করতো তাঁর পোষ্য ক্যাডাররা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এলাকার প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে ময়লার ভ্যান পাঠানো হতো। সেখান থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা তোলা হতো। ডিশ ব্যবসার মতোই লাভজনক এ খাত থেকেও নিত্যদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা নিতো রাজীবের সাঙ্গপাঙ্গরা।

মোহাম্মদপুর থেকে বছিলায় প্রতি ঈদুল আজহায় বিশাল গরুর হাট থেকে ৩ কোটি টাকা চাঁদা নিতো রাজীব বাহিনীর ক্যাডাররা।

রাজীবের অবৈধ অস্ত্রগুলো কার হাতে?
কাউন্সিলর রাজীবের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা ও ডিশ ব্যবসাসহ সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে সর্বাগ্রে উচ্চারিত হচ্ছে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জীবনের নাম।

‘গুরু’ যেমন স্বঘোষিত ‘জনতার কমিশনার’ তেমনি এ গুণধর শিষ্যও নিজেকে পরিচিত করে তুলেন ‘জনতার নেতা’ হিসেবে। থাকতেন প্রতিটি অপকীর্তির আগেভাগে। রাজীবের নির্দেশে যখন তখন যে কাউকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করতেও করিৎকর্মা ছিলেন শাহ আলম।

রাজীবের নানা অপকর্মের আরও সঙ্গী ছিলেন সিএনজি কামাল, আশিকুজ্জামান রনি, চাচা ইয়াসিন, ফারুক ও রাজীবের শ্যালক ইমতিহান হোসেন ইমতি ও একরামুল। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইস্রাফিল লাবু, সায়েম, বাদল, মিতুল ও রুহুল বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউজিং, সাত মসজিদ হাউজিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

রাজীব গ্রেফতার পর পর ইস্রাফিল সরাসরি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের আশ্রয়ে চলে গেছেন। ওই নেতার পক্ষে সাফাই গেয়ে ফেসবুকে প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায়, রাজীবের বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডারের খোঁজ জানেন শাহ আলম জীবন, চাচা ইয়াসিন, ইস্রাফিল লাবু, ইমতিহান হোসেন ইমতি ও একরামুলের নেতৃত্বাধীন শক্ত সিন্ডিকেট।

বেশভূষায় রাজীব হয়ে উঠেছিলেন ‘মোহাম্মদপুরের সুলতান।’ সামনে-পেছনে ক্যাডার বহর ছাড়া চলতেন না। কায়দা করে নিতেন মন্ত্রীর মতো ভিআইপি প্রটোকল। এসব শোডাউনের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতেন। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখতেন স্থানীয় পথচারী ও বাসিন্দারা।

তাদের মাধ্যমেই সীমান্তের চোরাকারবারিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কিনতেন রাজীব। ভাড়াও দিতেন তাদের মাধ্যমেই, এমন কথাবার্তাও স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে।

অত্যাধুনিক এসব আগ্নেয়াস্ত্র পাড়া মহল্লার উঠতি মাস্তানদেরও সরবরাহ করে ‘কিশোর গ্যাং’ গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করতেন। নিজেদের প্রয়োজনে আতঙ্ক ছড়াতেই তাঁরা প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি করতো।

চতুর রাজীব গ্রেফতার হওয়ার আগেই যেমন লেনদেনের আলামত ঘায়েব করেছেন তেমনি অবৈধ অস্ত্রগুলোও নিজের এসব সহযোগীদের কব্জাতেই রেখে গেছেন। একটি অস্ত্র নিজের সাথে থাকায় লাইসেন্সহীন সেই অস্ত্র ও গুলি জব্ধ করেছে র‌্যাব।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রাজীব গ্রেফতার আতঙ্কে আত্নগোপনের পরপরই তাঁর সিন্ডিকেটের এসব সদস্যরাও গা ঢাকা দিয়েছেন। তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হলেই অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডারের খোঁজ মিলবে বলে স্থানীয় সূত্রটি এমন দাবি করেছে।

কী বলছে এলাকার বাসিন্দারা
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার নব্য ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ কাউন্সিলর রাজীব গ্রেফতার হওয়ার পর স্বস্তির শ্বাস ফেলছেন স্থানীয় মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দারা। এতোদিন যারা তাঁর ক্যাডারদের অত্যাচার-নির্যাতনের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করেননি এখন তাঁরা প্রকাশ্যে রাজীব ও তাঁর ক্যাডারদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

এ যেন কথিত ‘জনতার কমিশনারের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদী জনতার স্বত:স্ফূর্ত গণজাগরণ!

ইস্রাফিল লাবু রাজীবের অপকর্মের আরেক সঙ্গী। লাবু-জীবনের সিন্ডিকেট কামিয়েছে কোটি কোটি টাকা। নিজেরাও বনে গেছেন বিত্তবৈভবের মালিক।

সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে কালের আলো। স্থানীয়রা জানায়, গত রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজীবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে নির্যাতিত-নিপীড়িত স্থানীয় লোকজন।

এ সময় তাঁরা রাজীবের নামে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। অভিনন্দন জানান সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে।

প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যান ইউনিট আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক তসিরকে হত্যা করে রাজীবের লোকজন। এরপর থানায় মামলা হলেও সুবিচার পাননি তাঁর হতভাগ্য পরিবার।

নিহত তসিরের মা আম্বিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল রাজীবের লোকজন। আমার ছেলে হত্যার দায়ে আমি রাজীবের ফাঁসি চাই।’

ফারুক নামের স্থানীয় এক দোকানি বলেন, ‘রাজীবের চলাফেরার স্টাইল ছিল রাজা-বাদশা’র মতো। ‘জনতার কমিশনার’ টাইটেল নিয়ে এলাকার মানুষজনকে শোষণ করতেন। চাঁদাবাজি আর জমি দখল করে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়েছেন। খুপড়ি ঘর থেকে প্রাসাদ বানিয়েছিলেন।’

এ যেন বিক্ষুব্ধ জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা কাউন্সিলর রাজীব রিমান্ডে। তাঁর শাস্তির দাবিতেই মোহাম্মদপুরে বিক্ষোভ করে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি কাঁচাবাজারের নিয়ন্ত্রণেরও অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলর রাজীবের বিরুদ্ধে। মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, ‘কাঁচাবাজার পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজীব। প্রতি ব্যবসায়ীকে ১৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। অনেক ব্যবসায়ীকে আরও বাড়তি অর্থ গুণতে হতো।’

এ হাউজিং সোসাইটির কাঁচাবাজার সমিতির বৈধ সভাপতি আবুল হোসেন কালের আলোকে জানান, ‘আমাকে বেআইনিভাবে সরিয়ে মহিউদ্দিন আহম্মেদ খোকাকে সভাপতি করেন রাজীব। তিনি কর অঞ্চল-১০-এর প্রধান সহকারী। এরপর তাঁর মাধ্যমে গত কয়েক বছরে চাঁদা বাবদ এখান থেকেই প্রায় ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রাজীব।

কালের আলো/এএ/এসআর

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ও শ্রেণিকৃত ঋণের চাপ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এটি ক্রমেই পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। একদিকে বাড়ছে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ, অন্যদিকে এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না অনেক ব্যাংক। ফলে কাগজে-কলমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালে প্রকৃত ঝুঁকি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন ২০২৬ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ও বাস্তবে সংরক্ষিত প্রভিশনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুনে তা বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ এখন শ্রেণিকৃত। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এত বড় অংশের ঋণ সমস্যাগ্রস্ত হয়ে পড়া শুধু ব্যাংকের মুনাফাকে চাপের মুখে ফেলছে না, বরং নতুন ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

প্রভিশনের অর্ধেকও সংরক্ষণ হয়নি
খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাংককে আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—ঋণ শেষ পর্যন্ত আদায় না হলে যেন একবারে বড় ধাক্কা না আসে। কিন্তু এখানেই বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। বিপরীতে বাস্তবে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রয়োজনীয় ও প্রকৃত প্রভিশনের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সম্ভাব্য ঋণক্ষতির যে পরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলোর আলাদা করে রাখার কথা, তার অর্ধেকের কিছু বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে ব্যাংকগুলোর মুনাফার বড় অংশ ভবিষ্যৎ লোকসানের বিপরীতে আটকে রাখতে হবে। দুর্বল আয়, কম মূলধন ও বেশি খেলাপি ঋণের ব্যাংকগুলোর জন্য তা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বড় ঘাটতিতে বেসরকারি ব্যাংক
প্রভিশন ঘাটতির সবচেয়ে বড় অংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এ খাতের ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। বিপরীতে প্রকৃত প্রভিশন সংরক্ষণ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। মার্চে এই ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট প্রভিশন ঘাটতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতেই বর্তমানে সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি এবং আয় কম, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও বড় চাপ
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ৭৪ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। মার্চ ২০২৬ শেষে এ ঘাটতি ছিল ৭৪ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খুব বেশি না বাড়লেও ঘাটতির পরিমাণ ইতোমধ্যে বিপুল।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের দুর্বলতার বোঝা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা ও জনগণের অর্থের ওপর পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রকৃত ঝুঁকি আড়াল
একটি ব্যাংক যখন ঋণ দেয়, তখন সেটি ধরে নেয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত আসবে। কিন্তু কোনো ঋণ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেলে ব্যাংককে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয়। ধরা যাক, কোনো ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকার ঋণের বড় অংশ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। ভবিষ্যতে ওই অর্থ ফেরত না এলে ব্যাংক যেন হঠাৎ বড় লোকসানে না পড়ে, সে জন্য আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়।

প্রয়োজনীয় প্রভিশন না থাকলে ব্যাংকের হিসাবের খাতায় মুনাফা তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য লোকসানও জমতে থাকে। ফলে প্রভিশন ঘাটতি মূলত ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ওপর একটি ‘স্থগিত চাপ’ তৈরি করে।

ছাড়ের নীতি সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূলধন ঘাটতির বড় কারণ খেলাপি ঋণ। তবে প্রকাশিত ঘাটতিও প্রকৃত চিত্রের পুরোটা তুলে ধরে না বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, অনেক ব্যাংক দেন-দরবারের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি শিথিল করে। একইভাবে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নানা নীতিগত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।ব্যাংকগুলোও ঋণগ্রহীতার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই, তদারকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় কঠোরতা দেখাচ্ছে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এক দশকের বেশি সময় ধরে এ ধরনের শিথিলতার পথ অনুসরণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং একসময় যে খেলাপি ঋণকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল, তা এখন স্বীকৃত হিসাবেই মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। স্বীকৃত নয় এমন সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বিবেচনায় নিলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আমদানি-রপ্তানিতেও প্রভাব
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা কমে গেলে আমদানি-রপ্তানি লেনদেনে ঝুঁকি ও ব্যয় দুটিই বাড়তে পারে। ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে অনাস্থা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের রিস্ক প্রিমিয়াম এমনিতেই বিশ্বের মধ্যে উচ্চ—ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আরও প্রকট হলে সেই ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্কার না হলে ছড়িয়ে পড়বে ঝুঁকি
ব্যাংক খাতের বর্তমান চিত্রের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—সমস্যাটি শুধু খেলাপি ঋণের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নেই। ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রভিশন ঘাটতি বলছে, সম্ভাব্য ক্ষতির একটি বড় অংশ এখনো ব্যাংকের হিসাবের বাইরে চাপ হিসেবে জমে আছে। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যেতে পারে, মূলধন আরও দুর্বল হতে পারে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ

দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেন, ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যত স্বপ্নই দেখা হোক, তা টেকসই হবে না। মানসম্মত উন্নয়নের জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রয়োজন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট’ নিশ্চিত করতে হলে ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আনতে হবে। গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে এবং রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, ভালো উপাদান থাকলেও দক্ষ বাবুর্চি ছাড়া যেমন ভালো খাবার তৈরি করা যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।

বরিশালের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফুটবল, রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল ও এ অঞ্চলের মানুষ দেশের নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন।

তিনি বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এজন্য বরিশালসহ আশপাশের নির্বাচনি এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন উন্নয়নের অংশ হলেও দেশের এখন প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর এ জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব অপরিহার্য।

তিনি বলেন, যারা বর্তমানে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্মের যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আসার পথ তৈরি করা। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য পরিবেশ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে হবে।

আন্দালিভ রহমান বলেন, আমরা হয়তো অনেক কিছু তৈরি করে যেতে পারব, কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বরিশাল থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বড় নেতা উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও ভালো নেতৃত্ব সামনে আসতে হবে। দেশের মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করলে সেটিই হবে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি