খুঁজুন
                               
, ,
           

গন্ডির বাইরে মানবিক বৈভবে সেনাবাহিনী, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
গন্ডির বাইরে মানবিক বৈভবে সেনাবাহিনী, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

মাত্র ১২ দিন হলো সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এরই মধ্যে সরকারের নির্দেশে ‘লকডাউন’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই অগ্রভাগে থাকতে হচ্ছে অকুতোভয় দেশপ্রেমিক সেনাদের।

আরও পড়ুন: বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রোকন উদ্দিন আহমেদের সন্তানই এখন দেশের সেনাপ্রধান

দক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে দিন-রাত নিজ বাহিনীর সদস্যদের সার্বিক কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন সেনাপ্রধান। কিন্তু এবার বাস্তবিক অর্থেই এসব কর্মযজ্ঞ নিজ চোখে দেখতে করোনা ঝুঁকিকে তুচ্ছ করে মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) ময়মনসিংহ সফর করেছেন তিনি।

সেনাপ্রধান হিসেবে এটি জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের প্রথম কোনো জেলা সফর। এদিন সকালে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল এলাকায় টহল কার্যক্রম পরিদর্শন করে নিজ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন।

পরে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন জেনারেল শফিউদ্দিন। ময়মনসিংহ এলাকায় চলমান ‘অপারেশন কোভিড শিল্ডে’র দ্বিতীয় পর্বে সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের দিক-নির্দেশনায় কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাবে।’

সেনাপ্রধানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় বলীয়ান সেনা সদস্যরা নতুনভাবে প্রাণিত ও উদ্দীপ্ত হয়েছেন।

সূত্র জানায়, জেনারেল এস এম শফিউদ্দিনের নেতৃত্বে চিরায়ত গণ্ডির বাইরে এসে বিপুল মানবিক বৈভব নিয়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে মহামারি প্রতিরোধে দেশজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে চলেছেন সেনা সদস্যরা। নিজেদের রেশনের টাকায় অভাবী, দুস্থ ও অসহায়ের মুখে ফুটিয়ে যাচ্ছেন অনাবিল মুগ্ধতার হাসি। সেনাদের খাবারে নিরন্ন ও দরিদ্র মানুষের মুখে দোল খেয়েছে আনন্দের আলো।

নিজেদের বুকভরা সাহস এবং গর্বিত গরিমায় দেশপ্রেমের নাক্ষত্রীয় আভায় উদ্ভাসিত মনোলোক ধারণ করে সেনা সদস্যরা রচনা করেছেন মহিমান্বিত বিরল অমরগাথা। অপরিসীম মমত্ব ও কর্তব্যবোধে নিজেরাই প্রস্তুত ও উন্মুক্ত করেছেন গতিময় এক আলোর ফটক। জয় করেছেন জনহৃদয়ও।

এর আগেও বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালে দুস্থ ও অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানাবিধ কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

সূত্র মতে, শতভাগ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে চলমান কঠিন সময়ে মানবিক কর্মযজ্ঞে বিস্ময়ামুখী এক সৌন্দর্যবোধও যেন তৈরি করেছেন সেনা সদস্যরা। সাধারণ মানুষকে প্রাণঘাতী করোনা থেকে সুরক্ষিত করতে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে দিন-রাত সড়কে সড়কে অবস্থান করছেন। কঠোর মানসিকতার চেনা প্রথা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন।

প্রাণঘাতী করোনা থেকে রক্ষায় সচেতনতাই যে মৌলিক ও অনিবার্য- এ বক্তব্যই গেঁথে দিচ্ছেন পথচলতি মানুষের মন-মননে। এসবের মাধ্যমে সত্যপ্রিয়তা ও মানবতাবোধের পূর্ণতার আলোকেও সমুজ্জ্বল করছেন নিজেদেরে। বাস্তবের রূঢ় সত্যকে চিরন্তন সুন্দরের সঙ্গে মিশিয়ে তাঁরা করে তুলেছেন সর্বাঙ্গসুন্দর।

সেনাপ্রধানের এ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আর্মি ট্রেনিং ও ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, সেনা সদর দপ্তরের অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন, সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (এমআই) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ. ফ. ম. আতিকুর রহমান, ময়মনসিংহ স্টেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান।

আর্টডক সূত্র জানায়, কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার লক্ষ্যে গত ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের সদস্যরা ময়মনসিংহ জেলায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করছেন।

করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ পরিবারদের মাঝে নিজস্ব তহবিল থেকে খাবার সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করছে।

জানা গেছে, সেনাপ্রধান পদে নিয়োগের আগে দক্ষতার সঙ্গে আর্মি ট্রেনিং ও ডকট্রিন কমান্ডকে (আর্টডক) নেতৃত্ব দিয়েছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ওই সময় ময়মনসিংহে অপারেশন কোভিড শিল্ডের প্রথম পর্ব পরিচালনা করে আর্টডক। এরপর তিনি সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) হিসেবে সুনাম ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

কালের আলো/আরআই/এমএএএমকে

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন এখন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সংসদের ভেতরে-বাইরে কথা বলার অধিকার রয়েছে। বিরোধী দল কর্মসূচি করুক, এতে আপত্তি নেই। তবে হুমকি-ধমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা করেন রিজভী। তাঁর দাবি, যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাব অনুযায়ী ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে যখন ডিজেল সরবরাহে সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প প্রস্তাব কী—এ প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে, তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাদেরও পরিকল্পনা জানানো উচিত।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্য

রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু সরকারের একক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস ও এলএনজি আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ঠিক হওয়ায় গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাসে আগুন, বোমাবাজি নিয়েও প্রশ্ন

দেশ অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করে জামায়াতের আমিরের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী

এক দফার আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এক দফার কথা শুনে বিএনপি গলি দিয়ে পালিয়ে যাবে না কিংবা প্রাচীর টপকে পালাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দলটি আন্দোলন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনও দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি