খুঁজুন
                               
, ,
           

গন্ডির বাইরে মানবিক বৈভবে সেনাবাহিনী, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
গন্ডির বাইরে মানবিক বৈভবে সেনাবাহিনী, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

মাত্র ১২ দিন হলো সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এরই মধ্যে সরকারের নির্দেশে ‘লকডাউন’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই অগ্রভাগে থাকতে হচ্ছে অকুতোভয় দেশপ্রেমিক সেনাদের।

আরও পড়ুন: বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রোকন উদ্দিন আহমেদের সন্তানই এখন দেশের সেনাপ্রধান

দক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে দিন-রাত নিজ বাহিনীর সদস্যদের সার্বিক কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন সেনাপ্রধান। কিন্তু এবার বাস্তবিক অর্থেই এসব কর্মযজ্ঞ নিজ চোখে দেখতে করোনা ঝুঁকিকে তুচ্ছ করে মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) ময়মনসিংহ সফর করেছেন তিনি।

সেনাপ্রধান হিসেবে এটি জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের প্রথম কোনো জেলা সফর। এদিন সকালে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল এলাকায় টহল কার্যক্রম পরিদর্শন করে নিজ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন।

পরে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন জেনারেল শফিউদ্দিন। ময়মনসিংহ এলাকায় চলমান ‘অপারেশন কোভিড শিল্ডে’র দ্বিতীয় পর্বে সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের দিক-নির্দেশনায় কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাবে।’

সেনাপ্রধানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় বলীয়ান সেনা সদস্যরা নতুনভাবে প্রাণিত ও উদ্দীপ্ত হয়েছেন।

সূত্র জানায়, জেনারেল এস এম শফিউদ্দিনের নেতৃত্বে চিরায়ত গণ্ডির বাইরে এসে বিপুল মানবিক বৈভব নিয়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে মহামারি প্রতিরোধে দেশজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে চলেছেন সেনা সদস্যরা। নিজেদের রেশনের টাকায় অভাবী, দুস্থ ও অসহায়ের মুখে ফুটিয়ে যাচ্ছেন অনাবিল মুগ্ধতার হাসি। সেনাদের খাবারে নিরন্ন ও দরিদ্র মানুষের মুখে দোল খেয়েছে আনন্দের আলো।

নিজেদের বুকভরা সাহস এবং গর্বিত গরিমায় দেশপ্রেমের নাক্ষত্রীয় আভায় উদ্ভাসিত মনোলোক ধারণ করে সেনা সদস্যরা রচনা করেছেন মহিমান্বিত বিরল অমরগাথা। অপরিসীম মমত্ব ও কর্তব্যবোধে নিজেরাই প্রস্তুত ও উন্মুক্ত করেছেন গতিময় এক আলোর ফটক। জয় করেছেন জনহৃদয়ও।

এর আগেও বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালে দুস্থ ও অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানাবিধ কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

সূত্র মতে, শতভাগ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে চলমান কঠিন সময়ে মানবিক কর্মযজ্ঞে বিস্ময়ামুখী এক সৌন্দর্যবোধও যেন তৈরি করেছেন সেনা সদস্যরা। সাধারণ মানুষকে প্রাণঘাতী করোনা থেকে সুরক্ষিত করতে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে দিন-রাত সড়কে সড়কে অবস্থান করছেন। কঠোর মানসিকতার চেনা প্রথা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন।

প্রাণঘাতী করোনা থেকে রক্ষায় সচেতনতাই যে মৌলিক ও অনিবার্য- এ বক্তব্যই গেঁথে দিচ্ছেন পথচলতি মানুষের মন-মননে। এসবের মাধ্যমে সত্যপ্রিয়তা ও মানবতাবোধের পূর্ণতার আলোকেও সমুজ্জ্বল করছেন নিজেদেরে। বাস্তবের রূঢ় সত্যকে চিরন্তন সুন্দরের সঙ্গে মিশিয়ে তাঁরা করে তুলেছেন সর্বাঙ্গসুন্দর।

সেনাপ্রধানের এ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আর্মি ট্রেনিং ও ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, সেনা সদর দপ্তরের অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন, সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (এমআই) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ. ফ. ম. আতিকুর রহমান, ময়মনসিংহ স্টেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান।

আর্টডক সূত্র জানায়, কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার লক্ষ্যে গত ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের সদস্যরা ময়মনসিংহ জেলায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করছেন।

করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ পরিবারদের মাঝে নিজস্ব তহবিল থেকে খাবার সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করছে।

জানা গেছে, সেনাপ্রধান পদে নিয়োগের আগে দক্ষতার সঙ্গে আর্মি ট্রেনিং ও ডকট্রিন কমান্ডকে (আর্টডক) নেতৃত্ব দিয়েছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ওই সময় ময়মনসিংহে অপারেশন কোভিড শিল্ডের প্রথম পর্ব পরিচালনা করে আর্টডক। এরপর তিনি সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) হিসেবে সুনাম ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

কালের আলো/আরআই/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি