খুঁজুন
                               
, ,
           

গন্ডির বাইরে মানবিক বৈভবে সেনাবাহিনী, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
গন্ডির বাইরে মানবিক বৈভবে সেনাবাহিনী, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

মাত্র ১২ দিন হলো সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এরই মধ্যে সরকারের নির্দেশে ‘লকডাউন’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই অগ্রভাগে থাকতে হচ্ছে অকুতোভয় দেশপ্রেমিক সেনাদের।

আরও পড়ুন: বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রোকন উদ্দিন আহমেদের সন্তানই এখন দেশের সেনাপ্রধান

দক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে দিন-রাত নিজ বাহিনীর সদস্যদের সার্বিক কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন সেনাপ্রধান। কিন্তু এবার বাস্তবিক অর্থেই এসব কর্মযজ্ঞ নিজ চোখে দেখতে করোনা ঝুঁকিকে তুচ্ছ করে মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) ময়মনসিংহ সফর করেছেন তিনি।

সেনাপ্রধান হিসেবে এটি জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের প্রথম কোনো জেলা সফর। এদিন সকালে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল এলাকায় টহল কার্যক্রম পরিদর্শন করে নিজ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন।

পরে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন জেনারেল শফিউদ্দিন। ময়মনসিংহ এলাকায় চলমান ‘অপারেশন কোভিড শিল্ডে’র দ্বিতীয় পর্বে সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের দিক-নির্দেশনায় কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাবে।’

সেনাপ্রধানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় বলীয়ান সেনা সদস্যরা নতুনভাবে প্রাণিত ও উদ্দীপ্ত হয়েছেন।

সূত্র জানায়, জেনারেল এস এম শফিউদ্দিনের নেতৃত্বে চিরায়ত গণ্ডির বাইরে এসে বিপুল মানবিক বৈভব নিয়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে মহামারি প্রতিরোধে দেশজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে চলেছেন সেনা সদস্যরা। নিজেদের রেশনের টাকায় অভাবী, দুস্থ ও অসহায়ের মুখে ফুটিয়ে যাচ্ছেন অনাবিল মুগ্ধতার হাসি। সেনাদের খাবারে নিরন্ন ও দরিদ্র মানুষের মুখে দোল খেয়েছে আনন্দের আলো।

নিজেদের বুকভরা সাহস এবং গর্বিত গরিমায় দেশপ্রেমের নাক্ষত্রীয় আভায় উদ্ভাসিত মনোলোক ধারণ করে সেনা সদস্যরা রচনা করেছেন মহিমান্বিত বিরল অমরগাথা। অপরিসীম মমত্ব ও কর্তব্যবোধে নিজেরাই প্রস্তুত ও উন্মুক্ত করেছেন গতিময় এক আলোর ফটক। জয় করেছেন জনহৃদয়ও।

এর আগেও বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালে দুস্থ ও অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানাবিধ কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

সূত্র মতে, শতভাগ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে চলমান কঠিন সময়ে মানবিক কর্মযজ্ঞে বিস্ময়ামুখী এক সৌন্দর্যবোধও যেন তৈরি করেছেন সেনা সদস্যরা। সাধারণ মানুষকে প্রাণঘাতী করোনা থেকে সুরক্ষিত করতে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে দিন-রাত সড়কে সড়কে অবস্থান করছেন। কঠোর মানসিকতার চেনা প্রথা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন।

প্রাণঘাতী করোনা থেকে রক্ষায় সচেতনতাই যে মৌলিক ও অনিবার্য- এ বক্তব্যই গেঁথে দিচ্ছেন পথচলতি মানুষের মন-মননে। এসবের মাধ্যমে সত্যপ্রিয়তা ও মানবতাবোধের পূর্ণতার আলোকেও সমুজ্জ্বল করছেন নিজেদেরে। বাস্তবের রূঢ় সত্যকে চিরন্তন সুন্দরের সঙ্গে মিশিয়ে তাঁরা করে তুলেছেন সর্বাঙ্গসুন্দর।

সেনাপ্রধানের এ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আর্মি ট্রেনিং ও ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, সেনা সদর দপ্তরের অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন, সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (এমআই) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ. ফ. ম. আতিকুর রহমান, ময়মনসিংহ স্টেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান।

আর্টডক সূত্র জানায়, কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার লক্ষ্যে গত ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের সদস্যরা ময়মনসিংহ জেলায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করছেন।

করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ পরিবারদের মাঝে নিজস্ব তহবিল থেকে খাবার সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করছে।

জানা গেছে, সেনাপ্রধান পদে নিয়োগের আগে দক্ষতার সঙ্গে আর্মি ট্রেনিং ও ডকট্রিন কমান্ডকে (আর্টডক) নেতৃত্ব দিয়েছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ওই সময় ময়মনসিংহে অপারেশন কোভিড শিল্ডের প্রথম পর্ব পরিচালনা করে আর্টডক। এরপর তিনি সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) হিসেবে সুনাম ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

কালের আলো/আরআই/এমএএএমকে

নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

নেপাল সীমান্তসংলগ্ন জিরং স্থলবন্দরের কাছে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ওই এলাকায় নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে পার্বত্য এলাকায় একটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় হ্রদটির পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে যেকোনো সময় হ্রদটি ভেঙে গিয়ে প্রবল পানির স্রোত, কাদা ও পাথরের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জিরং স্থলবন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। সিসিটিভির সঙ্গে থাকা এক প্রতিবেদক জানান, সামনের সারির দল থেকে জরুরি নির্দেশনা পাওয়ার পর সব উদ্ধারকারীকে জিরং বন্দরের দিকে আর না এগোতে বলা হয়েছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলের বেশির ভাগ সদস্য বর্তমানে জিরং শহরের লাওজিয়াং গ্রামের প্রবেশমুখে অবস্থান করছেন। গ্রামটি চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে।

এর আগে বুধবারের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। তবে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কালের আলো/এসএ

গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যু

গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সার্বীয় জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস এ তথ্য জানিয়েছে।

১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায় ভূমিকার জন্য ‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত ছিলেন ম্লাদিচ। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তিনি কয়েকবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল তাঁর পরিবার ও সার্বিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা। তবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দ্য হেগের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল।

স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার ঘটনায় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন ম্লাদিচ।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধ ছিল সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় সমাজতন্ত্রের পতনের পর ছড়িয়ে পড়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায়। ওই যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ নিহত এবং ২২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

যুদ্ধের সবচেয়ে নৃশংস অধ্যায়গুলোর একটি ছিল স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা। জাতিসংঘের সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত স্রেব্রেনিৎসায় আশ্রয় নেওয়া বসনিয়ার মুসলিম পুরুষ ও কিশোরদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে ম্লাদিচের নেতৃত্বাধীন সার্ব বাহিনী হত্যা করে।

তখনকার ভিডিও ফুটেজে ম্লাদিচকে নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার আগে শিশুদের হাতে মিষ্টি তুলে দিতে দেখা যায়। এরপর পুরুষ ও কিশোরদের একটি বনে নিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহগুলো গণকবরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ গোপন করতে অনেক গণকবর থেকে মরদেহ তুলে অন্য জায়গায় পুনরায় দাফন করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

স্রেব্রেনিৎসা থেকে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সার্ব বাহিনীর হাতে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন।

১৯৯৫ সালের নভেম্বরে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। সামরিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর গ্রেপ্তার এড়িয়ে ছিলেন।

শুরুর দিকে সার্বিয়ার সামরিক বাহিনীর সহায়তায় অনেকটা প্রকাশ্যেই জীবনযাপন করেছেন ম্লাদিচ। দেশটির একটি অংশ তাঁকে এখনো নায়ক হিসেবে দেখে।

তবে ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ায় গ্রেপ্তার হন ম্লাদিচ। পরে তাঁকে দ্য হেগে নেওয়া হয়।

বিচারের পুরো প্রক্রিয়ায় ম্লাদিচ গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে গেছেন। আদালতে একাধিকবার ক্ষুব্ধ বক্তব্যও দেন তিনি। বিচারকদের উদ্দেশে আদালতকে ‘পশ্চিমা শক্তির সন্তান’ বলে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেকে ‘ন্যাটো জোটের লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

২০১৭ সালে তাঁকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২১ সালে আপিলেও সেই সাজা বহাল থাকে।

মুসলিম ও বসনীয়দের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে বিতাড়িত করে তথাকথিত ‘বৃহত্তর সার্বিয়া’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাপক জাতিগত নিধন অভিযান পরিচালনার জন্যও তাঁকে দায়ী করা হয়।

তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের আমলে সংঘটিত অপরাধকে ‘মানবজাতির জানা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম’ বলে অভিহিত করেছিল। সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধান জেইদ রা’দ আল-হুসেইন তাঁকে ‘অশুভর প্রতিমূর্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

জীবনের শেষ দিকে ম্লাদিচের আইনজীবীরা মানবিক কারণে তাঁর মুক্তির আবেদন করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, তিনি গুরুতর ও নিরাময়-অযোগ্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং এমন অবস্থায় তাঁকে কারাগারে রাখা অমানবিক শাস্তির পর্যায়ে পড়ে।

তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত দ্য হেগের কারাগারেই মৃত্যু হলো সাবেক এই সার্বীয় সামরিক প্রধানের।

ম্লাদিচের বয়স নিয়েও দীর্ঘদিন বিতর্ক ছিল। তিনি দাবি করতেন, তাঁর জন্ম ১৯৪৩ সালের মার্চে। তবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নথিতে তাঁর জন্মসন ১৯৪২ সাল উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’-তাসরিফ খান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’-তাসরিফ খান

অবসর কাটাতে নেপালে গিয়ে বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে ঘান্দ্রুক গ্রামে আটকা পড়েছেন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তাঁদের ফেরার পথ।

তাসরিফ জানান, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা বর্তমানে নিরাপদে আছেন। তবে কবে ঘান্দ্রুক থেকে বের হয়ে দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার পরিচিত পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুক অন্নপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচু এই এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ তাঁরা দেখেননি। তবে বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের একাধিক অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কোথাও সেতুও ভেঙে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন ওই পথে চলাচল বন্ধ রেখেছে।

তাসরিফ বলেন, বুধবার রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যে বড় বিপর্যয় ঘটেছে, সেটি ঘান্দ্রুক থেকে অনেক দূরে। তবে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের দুর্যোগের খবর এবং তাঁদের ফেরার পথের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

মঙ্গলবার তাঁরা ঘান্দ্রুকে পৌঁছান। বুধবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু বের হতে কিছুটা দেরি হওয়ায় গাইড তাঁদের ওই দিন আর যাত্রা না করার পরামর্শ দেন।

পরে তাঁরা জানতে পারেন, ফেরার পথে সড়কের বিভিন্ন অংশ পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাসরিফের ভাষায়, সময়মতো বের হলে হয়তো তাঁরাও বিপদের মধ্যে পড়তেন। দেরি হওয়াটাই তাঁদের রক্ষা করেছে।

বর্তমানে তাঁদের গাইড বিকল্প পথের সন্ধান করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। গাইড ফিরে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁদের আরও দুই থেকে তিন দিন ঘান্দ্রুকে থাকতে হতে পারে।

দুর্যোগের পাশাপাশি অর্থসংকটও তৈরি হয়েছে তাসরিফদের জন্য। তাঁর হাতে অল্প কিছু নেপালি রুপি ও প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার রয়েছে। কার্ডে টাকা থাকলেও দুর্গম এই এলাকায় কার্ড বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে নগদ অর্থ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

দেশে ফেরার নতুন টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক সড়কপথ ব্যবহার করা সম্ভব না হলে নদীর পাশ দিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্রেক করে বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের মধ্যে এমন পথও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি নিশ্চিত না হয়ে তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চান না তাসরিফ।

স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, পাহাড়ি এই এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। দুর্যোগের কারণে পর্যটননির্ভর এলাকার বাসিন্দারাও জীবিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

টানা কাজের পর কয়েক দিনের অবসর কাটাতেই নেপালে গিয়েছিলেন তাসরিফ। সম্প্রতি তাঁর রোমান্টিক ঘরানার মৌলিক গান ‘বৃষ্টি’ মুক্তি পেয়েছে। দেশে ফিরে রক ঘরানার নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও ধারণের পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।

তবে এখন সব পরিকল্পনা বাদ দিয়ে নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।

তাসরিফ বলেন, ‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’

তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যাতে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা সুস্থভাবে দেশে ফিরে প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।

কালের আলো/এসএ