খুঁজুন
                               
, ,
           

সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সাফল্যের মহাকাশ ছোঁয়া বীরকন্যাদের স্মরণীয় দিন, হৃদয়ের উষ্ণতায় আনন্দ নন্দিত অভিবাদন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:০১ অপরাহ্ণ
সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সাফল্যের মহাকাশ ছোঁয়া বীরকন্যাদের স্মরণীয় দিন, হৃদয়ের উষ্ণতায় আনন্দ নন্দিত অভিবাদন

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

মাসখানেক আগেই নেপালে বিজয় কেতন উড়িয়েছে বীরকন্যারা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে তাঁরা। ঐতিহাসিক, অবিস্মরণীয় বিজয় বলে চলেছে ফুটবলে নারীদের শক্তি ও সম্ভাবনার কথা। ফুটবল আকাশে এতোদিন যে শ্রেষ্ঠত্ব ছিল আকাশের চাঁদ- সাবিনা, রুপনা, ঋতুপর্ণা আর মনিকা চাকমারা সেই মহাকাশই ছুঁয়ে দিচ্ছেন বারবার। বিশ্ব পরিমণ্ডলে উড়িয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা। বাধার প্রাচীর দুমড়েমুচড়ে এগিয়ে চলা, অসম্ভবকে সম্ভবে রূপান্তরিত করা হিমাদ্রির শিখরে ওঠে বাংলার ফুটবলের পুনর্জাগরণের গল্প বলা নারী ফুটবলারদের এবার হৃদয়ের উষ্ণতায় অভিবাদন জানিয়েছে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।

সমুদ্র নগরী কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী এলাকায় সেনাবাহিনী পরিচালিত বে-ওয়াচ হোটেল গ্রাউন্ডে শনিবার (০৭ ডিসেম্বর) রাতে আয়োজিত এই সংবর্ধনায় দেশের জন্য গৌরবময় অধ্যায় তৈরি করা বাংলার বাঘিনীদের অনন্য এক মর্যাদায় করা হয়েছে মহিয়ান। হিমালয়ের কোলে বাংলাদেশের ফুটবলের আশার ফুল ফুটানো সাবিনা-মারিয়া মান্দারা সংবর্ধনার পাশাপাশি এদিন পেয়েছেন এক কোটি টাকা অর্থ পুরস্কার। সাফ সাম্রাজ্য নিজেদের করে নেওয়া নারী ফুটবলারদের প্রত্যেকেই পুরস্কার পেয়েছেন ৪ লাখ করে। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিতে ঋতুপর্ণা চাকমা এবং সেরা গোলকিপার রূপনা চাকমাকে অতিরিক্ত এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হয়েছে। দলের কোচ ও কর্মকর্তাদের দেওয়া হয় অর্ধলাখ টাকা করে পুরস্কার। এছাড়া তাদেরকে ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) এমন ভালোবাসায় আপ্লুত সাফজয়ী কন্যারা। দেশের জন্য বিদেশের মাটি থেকে টানা দু’বার ট্রফি এনে দেওয়া, সাফল্যের নতুন পাণ্ডুলিপিতে প্রত্যাশার রেণু উড়ানোর শনিবারের (০৭ ডিসেম্বর) মাহেন্দ্রক্ষণে স্বশরীরে এক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান ও বিওএ সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ও সাঁতার ফেডারেশনের সভাপতি এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান ও হকি ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতা বাংলাদেশের বীরকন্যাদের দক্ষতা প্রদর্শনের নির্মাল্যে আর অভাবনীয় সফল কৃতিত্বের ধারবাহিক নৈপুণ্যে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বাংলার নরম মৃত্তিকার শক্ত খেলোয়াড়দের অনন্য সফলতায় অনবদ্য স্বপ্নের হাতছানিতে তিনি মনে করেন ‘নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা দেশের গর্বের ধন। একাধিকবার সাফ জয়ের মাধ্যমে নারী ফুটবল দল এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। উৎসবের আমেজে সংবর্ধনার এমন আয়োজন নারী ফুটবলারদের প্রেরণা যোগাবে।’

২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে হারিয়েই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও সেই দশরথ স্টেডিয়ামেই মনিকা ও ঋতুপর্ণার দুই গোলে নেপালের মেয়েদের হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রানির মুকুট বঙ্গললনাদের মাথায়। বাংলাদেশ ধরে রাখলো দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের শিরোপা। হিমালয় কন্যা নেপালের পাদদেশে কঠিন ভূমিতে সদর্প বিচরণে বাংলার বাঘিনীদের দুঃসাহসিক অভিযানে অনন্য জয়মাল্যে গর্বিত বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত ১৬ নভেম্বর এক কোটি টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে সাফজয়ীদের সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

সশস্ত্র বাহিনী ও বিওএ’র যৌথ আয়োজন মাতিয়ে দিয়েছে বাঘিনীদেরও
পার্বত্য অঞ্চলের নারী ফুটবলারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি করতে ও বীরকন্যাদের নতুন এক মর্যাদায় অভিষিক্ত করতে কক্সবাজারের ইনানী বিচে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিওএ’র যৌথ উদ্যোগে তাদের সংবর্ধিত করা হলেও এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বিওএ’র যৌথ আয়োজনে পর্বতের চূড়ায় উঠা সাবিনা, মারিয়া আর ঋতুপর্ণা চাকমাদের শিরোপা উপহারে হৃদয়ের মর্মমূল থেকে গভীর ভালোবাসায় সিক্ত করা হয়েছে। জমকালো এমন আয়োজন মাতিয়ে দিয়েছে ওদেরও। ২০২৪ সালের এই সাফল্য নি:সন্দেহে খেলার মাঠে বাংলার নারী যোদ্ধাদের এগিয়ে চলার যাত্রাপথের মাইলফলক হিসেবেই বিবেচিত হবে।

আগামীতেও নারী ফুটবলাররা দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে বড় অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে
আগামীতেও নারী ফুটবলাররা দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে বড় অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়ায় নয় সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে নারী ফুটবলাররা। সেই সঙ্গে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে নারী ফুটবল দলের এই সাফল্য সার্বিকভাবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রেরণার সঞ্চার করবে।’

দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও প্রচেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেও নারী ফুটবল দল গঠন করা হয়েছে। এরইমধ্যে সেনাবাহিনীর নারী ফুটবল দল বেশ সফলতাও অর্জন করেছে। তাঁরা ২০২৩ সালে লীগ খেলায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। আমরা নারীদেরকে আরও স্পন্সর করবো ও তাদের দেখভাল করলে তাঁরা প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের বিভিন্ন সম্মান এনে দিতে পারবেন। নারী ফুটবল দলের কোচরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আমি তাদেরকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

এ সময় সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনার আনন্দঘন এই আয়োজন অনুপ্রেরণা যোগাবে। শুধু সাফ নয়, এএফসি কাপ জেতারও স্বপ্ন দেখছে নারী ফুটবলাররা।’ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শেষে দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা ঘিরে নারী ফুটবলারদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও অংশ গ্রহণ করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা মিয়ারচরের শত পরিবার

বানারীপাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা মিয়ারচরের শত পরিবার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা ও জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। গত দুই বছরে নদীভাঙনে অন্তত ৪০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই পাঁচটি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙনে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেসব আশ্রয়স্থলও এখন নদীর গ্রাসে চলে যাচ্ছে।

মিয়ারচরের বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে এরই মধ্যে দুইবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। অন্যের জমিতে ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই ঘরও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা অলিল ব্যাপারী বলেন, নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লারখাল এবং গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুরা খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, তীব্র স্রোতে বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার একটি অংশ ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লারখাল এলাকার বাসিন্দারাও জানান, পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। নতুন করে নদীতীরবর্তী সড়ক ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, মিয়ারচর এলাকায় নদীভাঙন রোধে ১০০ মিটার অংশে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা অন্য অংশও পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

গাজীপুরের কাশিমপুরের চক্রবর্তী এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে গাজী রাফিস আহমেদ (৩২) নামে এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাফিসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাফিস আহমেদের বাড়ি খুলনার দাকোপ থানার বাঁশখালী গ্রামে। তার বাবার নাম খোরশেদ আলম গাজী। তিনি পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের চক্রবর্তী এলাকায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

নিহতের খালাতো ভাই শেখ নাজমুল হাসান জানান, বুধবার রাতে চক্রবর্তী এলাকায় রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঝালমুড়ি খাচ্ছিলেন রাফিস। এ সময় পাশের একটি দোকানের ঝালমুড়ি বিক্রেতার সঙ্গে কয়েকজন পথচারীর বাকবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচি চলছিল।

বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে রাফিস সেখানে গেলে একপর্যায়ে ঝালমুড়ি বিক্রেতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় তিনি নিজের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রাফিসসহ আরও দুজনের ওপর হামলা চালান। এতে রাফিসের পেটের ডান পাশে গভীর ছুরিকাঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাজমুল হাসান আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে একটি টহল পুলিশ দল আটক করে। তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে রাফিসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পেঁপের সঙ্গে মরিচ-কচু, একই জমিতে তিন ফসলের চাষ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
পেঁপের সঙ্গে মরিচ-কচু, একই জমিতে তিন ফসলের চাষ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সর্জন পদ্ধতিতে একই জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা মুসলিম উদ্দীন। উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নে ৩৩ শতক জমিতে পেঁপের পাশাপাশি বারোমাসি মরিচ ও কাঠ কচু চাষ করছেন তিনি। তাঁর সফলতা দেখে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মুসলিম উদ্দীনের জমিতে সারি সারি পেঁপে গাছ। গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা পেঁপে। পেঁপের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে চাষ করা হয়েছে বারোমাসি মরিচ। আর জমির নিচু নালায় রোপণ করা হয়েছে কাঠ কচু। ফলে একই জমি থেকে একসঙ্গে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন তিনি।

কৃষক মুসলিম উদ্দীন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৩৩ শতক জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। জমির উঁচু বেডে পেঁপে, বেডের দুই পাশে মরিচ এবং নিচু নালায় কচু চাষ করছেন। ইতোমধ্যে মরিচ ও কচু বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। পেঁপের ফলনও ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে পেঁপে বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, একই জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করা যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি আশাবাদী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাই উপজেলায় সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য চারটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম উদ্দীনের জমিটিও একটি। তিনি পেঁপের সঙ্গে সহফসল হিসেবে মরিচ ও কচু চাষ করছেন।

তিনি জানান, সর্জন পদ্ধতিতে নিচু জমিকে উঁচু করে বেড তৈরি করা হয় এবং মাঝখানে নিচু নালা রাখা হয়। এতে বেডে বিভিন্ন সবজি বা ফসল এবং নালায় কচু ও মাছ চাষের সুযোগ থাকে। একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত করা সম্ভব।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মুসলিম উদ্দীনের উদ্যোগ সফল হওয়ায় মিরসরাইয়ের অন্য কৃষকরাও সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হবেন। এতে পতিত বা নিচু জমির কার্যকর ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি