খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরানের হামলায় নেতানিয়াহু নিহত!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
ইরানের হামলায় নেতানিয়াহু নিহত!

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।

একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে। খবর জেরুজালেম পোস্টের।

প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের এক্সপোস্টের বরাত ছাড়া আর কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি।

এক্সে সোমবার স্কট রিটার নামের মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু।

এ সময় তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন ইতামার বেন-গিভর। তিনি আহত হয়েছেন।’তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্ট করা হয়েছে, সেটি আদৌ স্কট রিটার ব্যবহার করেন কি-না—এখনও নিশ্চিত নয়।

ফার্সি ভাষার সংবাদমাদ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর উপর হামলার প্রমাণ বা কোনও ক্ষতির নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তার পরিবর্তে, এটি বেশ কয়েকটি পরিস্থিতিগত বিষয় একত্রিত করা হয়েছে।

যার মধ্যে রয়েছে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও ক্লিপগুলির অনুপস্থিতি, ইসরায়েলি মিডিয়ায় তার বাড়ির চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন, জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের একটি কথিত সফর স্থগিত করা এবং রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ফোনালাপের ফরাসি রেকর্ড, যেখানে কথোপকথনের তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও এ ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের রেকর্ড বলছে, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছিল গত ৭ মার্চ।

সেদিন ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত কয়েকজনকে দেখতে গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু।

ইরানের সংবাদমাধ্যমে অবশ্য নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ নতুন কিছু নয়। এর আগে ২ মার্চ কয়েকটি ইরানি সংবাদাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন।

তবে পরে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্য ‘নিছকই গুজব’।

কালের আলো/এসএম/এএএন

একদিনে হামের উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
একদিনে হামের উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের সর্বোচ্চ।

এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭০ জন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০৭৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন এবং হাম সন্দেহে ৯৭৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের। এর মধ্যে পাঁচজনই ঢাকার দুই সিটির বাসিন্দা।

এছাড়া মৃতদের মধ্যে সিলেটের একজন, চট্টগ্রামের দুজন, খুলনার একজন এবং রংপুরের একজন রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বরের চারটি অপ্রকাশিত মৃত্যু আজকের রিপোর্টে যোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন আরও বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১১৩ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগী ১ হাজার ১৫৭ জন।

এ নিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৩০০। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ২০ হাজার ৮৫১ এবং সন্দেহজনক হাম রোগী ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জন।

এছাড়া চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ২০০ ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ২০০ ছাড়াল

ভয়ানক হয়ে ওঠা ডেঙ্গু জ্বরে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন।

এই সময়ের মধ্যে রোগটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬৮ জন।

এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে হয়ে গেল ২০১ জন। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গু বিষয়ক বিশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৮৭২ জন, যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

অনির্দিষ্টকাল ধরে রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশের ওপর বহন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা কখনোই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য শরণার্থী শিবিরগুলো আদর্শ নয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাও কমছে। ২০২৬ সালের জন্য সহায়তার আবেদন কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি।

তিনি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ ভূমিতে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রথমত, দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণ ও রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ করে নিজ ভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইসিজে ও আইসিসিসহ আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্তব্যবস্থাকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পঞ্চমত, মাদক, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্রসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। বাংলাদেশ মানবিকতার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করেছে; এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ যেন নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির গল্প না হয়ে ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও আশার গল্প হয়—এ লক্ষ্যে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি