খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরানি তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
ইরানি তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র 

ইরানের কিছু তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে বিরূপ প্রভাব তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে রফতানির উদ্দেশে সমুদ্রের বিভিন্ন জাহাজে আটকে থাকা ইরানি তেল বিক্রির অনুমতি দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বল্পমেয়াদী নির্দেশনা জারির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

এ পদক্ষেপকে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও এ থেকে কতটা সুফল মিলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বরং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের শিকার ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে অর্থ আয়ের মাধ্যমে তহবিল গঠনের সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই মনে করেন তারা।

এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি উৎপাদনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে।

শুক্রবার বেসেন্ট জানান, এ অনুমতি শুধু বর্তমানে জাহাজে বোঝাই থাকা ইরানে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এছাড়া এ অনুমোদন আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলেও জানিয়েছে মার্কিন অর্থ দফতর।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এ পদক্ষেপের ফলে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল দ্রুত বিশ্ব বাজারে আসবে।

যুদ্ধের আগে ইরান থেকে সরবরাহ করা তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল চীন। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে খুব কম দামে এই তেল কিনে নিত বেইজিং।

বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইরানের জ্বালানি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ফলে ভারত, জাপান ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর আরও বেশি তেল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

একই সঙ্গে চীনকেও প্রকৃত ‘বাজার দর’ পরিশোধে বাধ্য করবে এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় তেল বিক্রির অর্থ যাতে ইরান সরকারের হাতে না পৌঁছায়, সে বিষয়ে কোনো নিয়ম থাকবে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি বেসেন্ট।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন কমপ্লায়েন্স সার্ভিসেস-এর পরিচালক ডেভিড ট্যানেনবাম বৃহস্পতিবার বলেন, ‘সহজ কথায় বলতে গেলে, এটা একটা উদ্ভট ব্যাপার। মূলত আমরা ইরানকে তেল বিক্রি করার অনুমতি দিচ্ছি, যা পরবর্তীতে যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।’

এই পরিকল্পনা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে কি না এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দাম অপরিবর্তিত রাখতে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।’

এদিকে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, এই ছাড়ের ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না।

মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’-এর সহযোগী সিনিয়র ফেলো র‌্যাচেল জিয়েম্বা বলেন, ‘আমি মনে করি না এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে। বরং এর ফলে অনেক প্রশ্ন সামনে চলে আসছে।’

এই তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইরান সরকারের কাছে যাক, যুক্তরাষ্ট্র এমনটি চাইবে বলে মনে করেন না জিয়েম্বা। কিন্তু বাস্তবে এটি ঠেকানো কঠিন হতে পারে বলেই মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাপক সরবরাহ ঘাটতির কারণে মার্কিন সরকার এখন এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছে যেখানে প্রতিটি ব্যারেলই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই তারা যেখানেই সম্ভব অতিরিক্ত তেল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’

সরবরাহ বাড়াতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পাশাপাশি নিজেদের কাছে মজুদ থাকা লাখ লাখ ব্যারেল তেলের মজুদও ছেড়ে দিয়েছে তারা।

যদিও রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি ইউরোপের নেতাদের কাছ থেকে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। তারা বলেছিলেন, এ সিদ্ধান্ত ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনকে শক্তিশালী করবে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে।

বিশ্বে প্রতিদিন যে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ব্যবহার হয়, তার পাঁচ ভাগের প্রায় এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে, যা ইরানের উপকূল বরাবর অবস্থিত।

কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ রুট দিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কিছু তেল বিকল্প পথে পাঠানো হলেও, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ কমে গেছে বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের।

ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানি সরবরাহের এই ঘাটতি আরও কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

কালের আলো/এসআর/এএএন 

সায়েদাবাদ টার্মিনালকে ৪ মাসে কাঁচপুরে সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
সায়েদাবাদ টার্মিনালকে ৪ মাসে কাঁচপুরে সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। টার্মিনালটি সরিয়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর নেওয়া হবে।

আগামী চার মাসের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে ‘কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ‘কাঁচপুর বাস টার্মিনালের শেড নির্মাণ, টিকেট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ’ শীর্ষক কাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী যাত্রাবাড়ী (সায়েদাবাদ) টার্মিনাল কাঁচপুরে এবং ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের নির্দশনা দেন। যাত্রাবাড়ী (সায়েদাবাদ) স্থানান্তরের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্থান চার মাসের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী করে স্থায়ী টয়লেট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে ১৬ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে এরইমধ্যে প্রস্তাবিত স্থানে ইয়ার্ডের উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রস্তাবিত টার্মিনালের শেড, টিকেট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মোট ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

ঢাকা শহরের প্রধান কয়েকটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের অন্যতম সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল। প্রায় ১০ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত এই টার্মিনালটি যাত্রাবাড়ীর পশ্চিমে অবস্থিত। ১৯৮৪ সালে নির্মিত সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে প্রায় ১৯০০টি বাস রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও দক্ষিণ বঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার দূরপাল্লার বাসের যাত্রী ওঠানামা করে এই টার্মিনাল থেকে।

তবে ঢাকায় ঢোকার মুখে অবস্থিত হওয়ায় এই টার্মিনালটির কারণে শহরের আন্তঃনগর পরিবহণ চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ঢাকার রাস্তায় যানজটের একটি বড় কারণ এই টার্মিনাল।

এ কারণে ২০২৩ সালে কাঁচপুরে ১২ বিঘা জমির ওপর ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল ডিএসসিসি। ওই বছরের ৯ আগস্ট ওই প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এর আর কোনো অগ্রগতি ছিল না।

কালের আলো/এসআর/এএএন

৫ আগস্টের আগেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে : তথ্য উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
৫ আগস্টের আগেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে : তথ্য উপদেষ্টা

আগামী ৫ আগস্টের আগেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জাদুঘরের কিছু চূড়ান্ত কাজ, জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই এটি উদ্বোধন করা হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন।এক সাংবাদিক জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘর নিয়ে আলোচনা চলছে।

কিছু চূড়ান্ত কাজ বাকি রয়েছে। জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি বিষয় সম্পন্ন করা হচ্ছে।

আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ৫ আগস্টের আগেই জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন হবে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়া সফর করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর ছিল চীন।

আবার বিভিন্ন পর্যায়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা দেশগুলোর সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান ও তুরস্ক সফর করবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে অবশ্যই যাওয়া হবে। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে সরকারের দ্বিধা নেই। জাতীয় স্বার্থই এখানে মূল বিবেচ্য।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে রপ্তানিমুখী বিনিয়োগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল (ইপিজেড) রয়েছে। একইসঙ্গে সরকার রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘদিন আমরা একটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম, যা ঝুঁকিপূর্ণ। এখন রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে গম আমদানির অনুমোদন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এর অংশ হিসেবে কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পরিমাণে কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের আয় শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, গার্মেন্টস খাত সচল থাকলে এর সুফল অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং জনগণ বিষয়টি উপলব্ধি করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি

৬ দিনের বিরতির পর সংসদ অধিবেশন শুরু, চলছে প্রশ্নোত্তর পর্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
৬ দিনের বিরতির পর সংসদ অধিবেশন শুরু, চলছে প্রশ্নোত্তর পর্ব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ছয় দিনের বিরতি শেষে শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রকাশিত কার্যসূচি অনুযায়ী, এরপর জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ, একটি বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কার্যসূচি অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের অনুমতি চাইবেন। অনুমতি পেলে বিলটি সংসদে উত্থাপন করে পরীক্ষাপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করা হবে।

এ ছাড়া ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। পরে বিলটি পাসের প্রস্তাবও উত্থাপন করবেন শিক্ষামন্ত্রী।

অধিবেশনের শুরুতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয় সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে।

এদিন বিধি-৭১ অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত নোটিশ নিষ্পত্তির পাশাপাশি দুটি গৃহীত নোটিশের ওপর আলোচনা হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের সংকট, কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য এবং রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। অন্যদিকে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্রদের মধ্যে খাস জমি বন্দোবস্তের বিষয়ে ভূমিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

অধিবেশনে বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর ওপর বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনও উপস্থাপন করবেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ