রাজশাহীতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের কথা বলা হলেও বাজারে কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।
রাজশাহীতে প্রতি পিস গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। একটু বড় হলে পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে এবারও দাম নেই ছাগলের চামড়ার। প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা।
ঈদের দিন (বৃহস্পতিবার) ২৮ মে বিকেলে রাজশাহী নগরীর রেলগেট ও পরের দিন (শুক্রবার) ২৯ মে পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবারও বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং দাম আরও কমে এসেছে।
রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ফজলুল করিম বলেন, গেল বছর ১৫০-২০০ টাকা দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। এবার কেউ কিনতে আসেনি। এতিমখানা থেকেও কাউকে চামড়া সংগ্রহ করতে আসতে দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, এবার ভাবছিলাম সরকার পরিবর্তন হওয়াতে পশুর চামড়ার চাহিদা বাড়বে, ভালো দামও পাওয়া যাবে। কিন্তু যে লাউ, সেই কদু‘। বরং অন্যান্য বছরের তুলনায় অবস্থা আরো খারাপ।
নগরীর রায়পাড়া এলাকার আবু জাফর বলেন, চামড়া কেনা তো দূরের কথা, সকাল গড়িয়ে বিকেল গড়িয়ে গেলেও কোনো ক্রেতার দেখা পাওয়া যায়নি। প্রতিবছর কোরবানিতে পশু জবাইয়ের পর চামড়া ক্রয়ের জন্য দেখতে আসে, দরদাম করে। শেষে স্থানীয় এক মাদ্রাসায় চামড়া দিয়ে এসেছি।
আমবাগানের বাসিন্দা তরিকুল আলম বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া গরিবের হক। তা বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যেত, তা গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয়। কিন্তু চামড়াই বিক্রি করা যাচ্ছে না, তাদের কি দেব?
স্থানীয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নাজমুল হক বলেন, এক সময় মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হতো। তা সংরক্ষণ করে বিক্রির পর লাভের টাকা এতিম ছাত্রদের জন্য খরচ করা হতো। কিন্তু এখন চামড়ার যে দাম, চামড়া সংগ্রহ করে আনতে যে পরিমাণ গাড়ি ভাড়া লাগবে, তাই উঠবে না। চামড়া সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা অনেক কষ্টের। অনেক পরিশ্রম করেও লাভ হয় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এবার কোরবানি হয়েছে প্রায় পৌনে চার লাখ পশুর কিন্তু কি পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট কেউ জানাতে পারেনি।
নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ৪০০ চামড়া কিনেছেন। প্রতি পিস চামড়া ১০০-২০০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। সবগুলো চামড়াতে শ্রম দিয়ে লবণ যুক্ত করতে হবে। এতে পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের পারিশ্রমিকের কারণে চামড়ার ক্রয়মূল্য বেড়ে যাবে।
মৌসুমি চামড়া বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা এলাকায় ঘুরে ঘুরে পশুর চামড়া কিনেছি। পশুর চামড়াগুলো আকার ও প্রকার ভেদে ২০০-৩০০ টাকায় কিনেছি। এছাড়া ছাগলের চামড়া ১০-২০ টাকা দরে কিনেছি। এখানে বিক্রি করে এসে তেমন দাম পাচ্ছি না। দেখি বেলপুকুর মোকামে নিয়ে যাব।
রেলগেট এলাকায় বেশ কয়েকজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পশুর চামড়া বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। তারা জানান, তাদের মাদ্রাসায় বিভিন্ন মানুষ দিয়েছে। সেগুলো বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে দাম বলছে।
চামড়া ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, রাজশাহী নগরী এবং নগরীর বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে পশুর চামড়া গুলো আসছে। সেগুলো রেলগেট এলাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। তবে এ বছর চামড়ার তেমন দাম নেই। ছাগলের চামড়া ১০-২০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। এছাড়া গরুর চামড়া ৩০০-৪০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। তবে এবার ছাগলের চামড়ায় ছুরিকাঘাতের ছিদ্র বেশি।
আপনার মতামত লিখুন
Array