খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

যে প্রশ্নের জবাবে নবীজি ‘হ্যাঁ’ বললেই প্রতিবছর হজ ফরজ হয়ে যেত!

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
যে প্রশ্নের জবাবে নবীজি ‘হ্যাঁ’ বললেই প্রতিবছর হজ ফরজ হয়ে যেত!

ঈমান, নামাজ, জাকাত ও রোজার পর ইসলামের পঞ্চম রুকন হলো হজ। এটি এমন একটি ইবাদত, যা শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জীবনে একবারই সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর হজ ফরজ হয়। তবে এই ফরজ বিধান নির্ধারণের পেছনে রয়েছে এক অনন্য ঘটনা, যা ইসলামের সহজতা, প্রজ্ঞা ও রহমতের দিককে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

সেই ঐতিহাসিক প্রশ্ন ও নবীজির প্রজ্ঞা

একবার রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বললেন- ‘হে মানবসকল! আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ আদায় করো।’ এ কথা শুনে এক সাহাবি প্রশ্ন করলেন- ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! প্রতিবছর কি হজ করতে হবে?’ তিনি এ প্রশ্নটি তিনবার করলেন। রাসুলুল্লাহ (স.) তখন নীরব থাকলেন। এরপর তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণভাবে উত্তর দিলেন- ‘আমি যদি ‘হ্যাঁ’ বলতাম, তবে তা (প্রতিবছর হজ) ফরজ হয়ে যেত, আর তোমাদের পক্ষে তা পালন করা সম্ভব হতো না।’ (সহিহ মুসলিম: ১৩৩৭; মুসনাদে আহমদ: ১০৬০৭; সহিহ ইবনে হিববান: ৩৭০৪)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, হজ জীবনে মাত্র একবারই ফরজ। এর অতিরিক্ত যা আদায় করা হয়, তা নফল হিসেবে গণ্য হয়। (সুনানে আবু দাউদ: ১৭২১)

হজ ফরজ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক আদায়ের গুরুত্ব

হজ একবার ফরজ হলেও সামর্থ্য অর্জনের পর তা বিলম্ব করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত। কারণ সময়ের অনিশ্চয়তা, অসুস্থতা বা অন্য প্রতিবন্ধকতা যেকোনো সময় এসে যেতে পারে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি হজ করার ইচ্ছা করে, সে যেন তাড়াতাড়ি তা আদায় করে নেয়। কারণ সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা বাহনের ব্যবস্থা নাও থাকতে পারে।’ (মুসনাদে আহমদ: ১৮৩৩; সুনানে ইবনে মাজাহ)

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করার পরিণাম

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ করা ফরজ। আর কেউ যদি অস্বীকার করে, তবে জেনে রাখো আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করার বিষয়ে হজরত ওমর (রা.) বলেন- ‘যে ব্যক্তি হজ করার সামর্থ্য রাখে, তবুও হজ করে না- সে ইহুদি বা খ্রিষ্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করল কি না, আল্লাহ তার পরোয়া করেন না।’ (তাফসির ইবনে কাসির: ১/৫৭৮)

‘হতভাগা ও বঞ্চিত’

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আমি আমার বান্দাকে সুস্থতা দিলাম, তার রিজিক প্রশস্ত করলাম, তবুও পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সে আমার ঘরে আসেনি, সে হতভাগা ও বঞ্চিত।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৩৬৯৫)
এই বর্ণনা হজের প্রতি অবহেলার ভয়াবহতা ও গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্ট করে।

হজ আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও ভালোবাসার প্রকাশ। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সেই ঐতিহাসিক উত্তর- “আমি যদি হ্যাঁ বলতাম…” উম্মতের জন্য আল্লাহর রহমত ও সহজতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অতএব, যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে, তার উচিত বিলম্ব না করে দ্রুত তা আদায় করা। কারণ জীবন অনিশ্চিত, আর ফরজ হজ বাকি রেখে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হওয়া এক চরম ক্ষতির বিষয় হতে পারে।

কালের আলো/জেএন

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনছে সরকার

Oplus_131072

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয় উৎস থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। রাজশাহীর নাবিল নবা ফুডস লিমিটেড প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে এ ডাল সরবরাহ করবে।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৩৯ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন ডাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ সারাদেশে টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টিসিবির মাসিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা পূরণে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুসারে উন্মুক্ত জাতীয় দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নাবিল নবা ফুডস লিমিটেডকে নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মসুর ডালের দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৮৭ টাকা ৩৭ পয়সা। সেখানে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দর প্রস্তাব করেছে, যা প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় ৪ টাকা ৮৩ পয়সা কম।

এ ছাড়া টিসিবির বাজার তথ্য শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মে স্থানীয় বাজারে সমজাতীয় মসুর ডালের গড় পাইকারি মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৮৪ টাকা। সে হিসাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের দর বাজারদরের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৪৬ পয়সা কম।

টিসিবির তথ্য বলছে, সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল প্রতি কেজি ৮৩ টাকা ৬৩ পয়সা এবং ১৬ এপ্রিল ৮৪ টাকা ৭৭ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবারও তুলনামূলক কম দরে ডাল সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণেও স্থানীয় উৎস থেকে ক্রয়কে লাভজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া উৎসের মসুর ডাল আমদানি করে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা খরচ পড়বে।

অন্যদিকে ভারতীয় উৎসের মসুর ডালের ক্ষেত্রে এ ব্যয় দাঁড়াবে ১২৪ টাকা ২৪ পয়সা। ফলে স্থানীয় বাজার থেকে ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে ডাল সংগ্রহকে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে টিসিবির গুদামে ১৪ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন মসুর ডাল মজুত রয়েছে। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ ও পাইপলাইনে রয়েছে আরও ৩৬ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চালাতে প্রায় ৫৫ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন মসুর ডালের প্রয়োজন হবে। এ কারণে নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনাকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে সংস্থাটি।

কালের আলো/এসএকে

ইসলামী ব্যাংক ইস্যু স্মারকলিপি জমা, সচেতন গ্রাহক ফোরামের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংক ইস্যু  স্মারকলিপি জমা, সচেতন গ্রাহক ফোরামের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী।

তিনি বলেন, আমাদের গ্রাহকবৃন্দের যে ছয় দফা দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে স্মারক আকারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় পৌঁছে দিয়েছি। আমরা আশা করবো আমাদের দাবিগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। যদি আমাদের দাবিগুলো মানা না হয়, তাহলে সারাদেশের গ্রাহকদের নিয়ে আরো বড় পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া শেষে উপস্থিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক নুর উন-নবী বলেন, আমাদের গ্রাহকদের যে ছয় দফা দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে স্মারক আকারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের দাবি ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে এবং যারা ব্যাংকের অর্থ লুটপাট করেছে তাদের কাছ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যাংকের মালিকানা স্থায়ীভাবে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। যারা লুটপাট করেছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের এই দাবিগুলো আমরা স্মারকলিপি আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। যেহেতু আমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, আমরা আশা করি যে আজকের মধ্যে আমাদের সব দাবি পূরণ করা হবে।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক বলেন, আজকের মধ্যে যদি আমাদের এই দাবিগুলো পূরণ করা না হয়, তাহলে আগামীকাল আমরা ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি বসে আরও বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো। ৩ কোটি গ্রাহক সবাইকে নিয়ে আমরা আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বাধ্য করব চেয়ারম্যানের অপসারণ নিশ্চিত করতে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ে অভিমুখে যাওয়ার পথে পল্টন মোড়ে মিছিলটি থামিয়ে দেয় পুলিশ। তবে ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলকে লিখিত দাবিগুলো স্মারক আকারে অর্থমন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। পরে আন্দোলনকারীরা পল্টন থেকে গুলিস্তান অভিমুখের প্রধান সড়ক আটকে বসে পড়েন।

দুপুর ১টার দিকে স্মারকলিপি জমা দেয়ার প্রতিনিধিদল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সড়ক থেকে সবাইকে সরে যেতে বলা হয়।

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী জানান, বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টায় মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করবেন তারা। এসময় তাদের লিখিত দাবিগুলো স্মারক আকারে অর্থ মন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়া হবে।

গত ১ জুন সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন শুরু করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। এরপর থেকে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ওই আন্দোলনের মধ্যেই গত ১ জুন রাতে ব্যাংকের এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন বই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন বই

২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন বই। শিল্প ও সংস্কৃতি নামের এই বইয়ে ৪টি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত থাকবে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা। ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হবে এই বিষয়গুলো।

বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষা ‎প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এসব বিষয়ে একটি টেকসই ক্যারিয়ার পাথওয়ে গড়ে উঠবে। আগামী ৫ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

এ ব্যাপারে ‎‎বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা চাই, আপনাদের শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। সে লক্ষ্যে কীভাবে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কীভাবে যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা যায়—সেসব বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চাই সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়; বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। এ জন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক তৈরির বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

‎‎সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব এবং দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে