খুঁজুন
                               
, ,
           

নববর্ষ আমাদের জাতীয় চেতনা, ঐতিহ্য ও ঐক্যের প্রতীক: প্রিন্স

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
নববর্ষ আমাদের জাতীয় চেতনা, ঐতিহ্য ও ঐক্যের প্রতীক: প্রিন্স

বাংলা নববর্ষের সাংস্কৃতিক, সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, এই উৎসব আমাদের জাতীয় চেতনা, ঐতিহ্য ও ঐক্যের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ জনপদের প্রাণের এই উৎসব মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। এই দিনে আমরা পুরনো সকল গ্লানি, দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনার পথে যাত্রা শুরু করি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা সদরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বর্ষবরণ উদযাপন কমিটি হালুয়াঘাটের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রিন্স।

তিনি বলেন, আজকের এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, এটি আমাদের জন্য একটি অঙ্গীকারের দিনও বটে। আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমাদের সমাজে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

প্রিন্স বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি— অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অস্থিরতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় আমাদের সমাজকেও প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তভাবে ধারণ করতে হবে। বিএনপি নেতা তার বক্তব্যে সমসাময়িক জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আজ টাঙ্গাইলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে প্রিন্স বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারের বয়স দুই মাস যেতে না যেতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে জাতির কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার একের পর এক বাস্তবায়ন করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন এবং গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য জামায়াত- এনসিপির নেতৃত্বে কয়েকটি দল অহেতুক উস্কানিমূলক ও অসত্য বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে। এসময় একাত্তর ও বিএনপি নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন প্রিন্স।

তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নয়, জমায়াত ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ। জামায়াত ছাড়া একাত্তরের চেতনা দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের মাঝে বিদ্যমান। বিএনপি সেই চেতনাকে ধারণ করে।

প্রিন্স বলেন, জামায়তের মধ্যে সেই চেতনা নেই বলে তারা বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। জামায়াতের রাজনীতি একাত্তরের চেতনা ও আবেগের বিরোধী। এজন্য একাত্তরের প্রসঙ্গ এলেই তারা নার্ভাস হয়ে পড়ে। তাদের মুখে একাত্তর শোভা পায় না।

তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এবং সেই চেতনা থেকেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেয়।

প্রিন্স তার বক্তব্যে বিএনপিকে আন্দোলনের সুবিধাভোগী উল্লেখ করে এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলামের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন। বলেন, বিএনপি কোনো আন্দোলনের সুবিধাভোগী নয়, বরং দেশের সকল গণঅভ্যুত্থান ও আন্দোলনের রূপকার এবং নেতৃত্বদানকারী শক্তি।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ও এনসিপির জোটের নেতারা অসংলগ্ন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। অন্তর্র্বতী সরকারের সময় নির্বাচন বিলম্বিত করে দীর্ঘমেয়াদী অনির্বাচিত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা তারা করেছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে তা ব্যর্থ হওয়ায় এখন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।

প্রিন্স বলেন, জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকার এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে লড়াই তারেক রহমান শুরু করেছেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের অপচেষ্টা জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।

অনুষ্ঠানে লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন পরিবেশনা ও নাটক মঞ্চস্থ হয়। সেখানে আরও বক্তব্য দেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, নাট্যকার আব্দুস সামাদ, লোকজ শিল্পী হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা আবদুল জলিল ও যুবদল নেতা তারিকুল ইসলাম চঞ্চল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১৯

কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১৯

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড়ধস ও বাড়ির দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন রোহিঙ্গা এবং পাঁচজন স্থানীয় বাসিন্দা।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি জানান, টানা মুষলধারে ও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলীর হাজীপাড়াসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। অনেকেই প্রথমে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহ দেখালেও তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে যেতে প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠে কাজ করছেন।

তিনি জানান, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা মিলিয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে কেক খাওয়ানোর প্রলোভনে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে কেক খাওয়ানোর প্রলোভনে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ

রাজশাহীর চারঘাটে কেক খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার (৮ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে চারঘাট স্লুইসগেট সংলগ্ন হঠাৎপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম শ্রী দেব (২১)। সে ওই এলাকার শ্রী জয়ের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দেব পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শিশুটি চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। বুধবার  দুপুরে তার মা তাকে গোসল করানোর জন্য খোঁজাখুঁজি করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেশী দেবের বাড়ির বারান্দায় শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখেন।

কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি তার মাকে জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে দেব তাকে কেক খাওয়ানোর কথা বলে ঘরের ভেতর ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটির মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত দেব কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পরই স্বজন ও প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে শিশুটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, ঘটনাটি জানার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।

এ ঘটনায় চারঘাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই জঘন্য অপরাধের বিচার দাবি করে দেবের বাড়িতে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

Oplus_131072

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। আর এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাও সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু তার প্রশ্নে জানতে চান, দেশের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের গুণগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে বাজেটে শিক্ষা খাতে বিশেষ কোনো অগ্রাধিকারমূলক বরাদ্দ রেখেছেন কি না?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের গুণগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধে অর্থাৎ শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে প্রথমবারের মতো জিডিপির ২ (দুই) শতাংশে উন্নীত করেছে।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে (এসইডিপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট ৪১৯৯ কোটি টাকা (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৩৫৯৯ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৬০০ কোটি টাকা) বরাদ্দ রাখা-হয়েছে। এসইডিপি-এর আওতায় মোট ১০টি স্কিম চলমান রয়েছে। এই ১০টি স্কিমের মধ্যে ১টি স্কিম ন্যাশনাল কারিকুলাম ডিসেমিনেশন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১ জন শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বেসিক ট্রেনিং, বিষয়ভিত্তিক প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের লিডারশিপ ট্রেনিং, ভোকেশনাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ব্লেন্ডেড লার্নিং, আইসিটি, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বুলিং প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রশিক্ষণ।

সংসদ নেতা এরপর বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিচালন বাজেটে ৩০৪০.৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ২১৯৬.৪ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ৮৪৪.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৫ (পিইডিপি-৫) সহ ৫টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে চলতি অর্থবছর থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও উপবৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে ক্রীড়া উপকরণ সরবরাহ করা হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি বাবদ ৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে