খুঁজুন
                               
, ,
           

৫ জেলা থেকে ১১ মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
৫ জেলা থেকে ১১ মরদেহ উদ্ধার

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের পাঁচটি জেলা থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নওগাঁ, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও খুলনায় পৃথক এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে এক নারী ও নবজাতকের মরদেহ। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে তিন যুবক এবং খুলনা ও সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মেইলের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

নওগাঁয় একই পরিবারের চারজন খুন

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে রাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মরদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত পপি আক্তারের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমার মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনিকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

টেকনাফে পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন-উত্তর শীলখালী এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম রবি (১৯), মৃত নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮) এবং মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে নুর বশর (২০)। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন শ্রমিক পাহাড়ের পূর্ব পাশে কাজ করতে গেলে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো গয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

টেকনাফে গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কাদের জানান, সকালে স্থানীয়রা পাহাড়ের পাশ থেকে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। নিহতদের মধ্যে একজন তার আত্মীয় বলে জানান।

আরো দুইজন নিখোঁজ আছে জানিয়ে হুমায়ুন কাদের বলেন, তাদের সন্ধান পেতে খোঁজ চলছে।

বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাটি খুঁড়ে মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাতে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর সেতুর পাশ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয়রা ওই এলাকায় দুর্গন্ধ পান। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীর চুল দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মাটি খুঁড়ে ওই নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, মাটি খুঁড়ে ওই নারীকে বের করে আনার সময় তার সঙ্গে এক নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী প্রায় সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তার মৃত্যুর সময় নবজাতক প্রসব হয়। পরে দুইজনকে মাটিচাপা দেওয়া হয়। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সোমবার রাগ আটটার দিকে খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিরালার ৭ নম্বর রোডের এফ-৮৫ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।

নিহতের নাম উৎস রায়। তিনি দাকোপ উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা কনক কান্তি রায়ের ছেলে এবং নগরীর নর্থ ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।

সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই হতাশা থেকেই তিনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।

ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সিরাজগঞ্জে অটোভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফুলজোড় নদীর পাশ থেকে জাহের আলী আকন্দ (৬৫) নামের এক অটোভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে সলঙ্গা থানার ফুলজোড় নদীর কালিকাপুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জাহের আলী আকন্দ সলঙ্গা থানার ঘুড়কা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত ইনসাফ আলী আকন্দের ছেলে।

সলঙ্গা থানার ওসি আসলাম উদ্দিন জানান, গতকাল সন্ধ্যায় জাহের আলী আকন্দ অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। আজ সকালে ফুলজোড় নদীর কালিকাপুর এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১৯

কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১৯

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড়ধস ও বাড়ির দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন রোহিঙ্গা এবং পাঁচজন স্থানীয় বাসিন্দা।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি জানান, টানা মুষলধারে ও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলীর হাজীপাড়াসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। অনেকেই প্রথমে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহ দেখালেও তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে যেতে প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠে কাজ করছেন।

তিনি জানান, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা মিলিয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে কেক খাওয়ানোর প্রলোভনে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে কেক খাওয়ানোর প্রলোভনে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ

রাজশাহীর চারঘাটে কেক খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার (৮ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে চারঘাট স্লুইসগেট সংলগ্ন হঠাৎপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম শ্রী দেব (২১)। সে ওই এলাকার শ্রী জয়ের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দেব পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শিশুটি চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। বুধবার  দুপুরে তার মা তাকে গোসল করানোর জন্য খোঁজাখুঁজি করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেশী দেবের বাড়ির বারান্দায় শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখেন।

কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি তার মাকে জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে দেব তাকে কেক খাওয়ানোর কথা বলে ঘরের ভেতর ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটির মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত দেব কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পরই স্বজন ও প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে শিশুটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, ঘটনাটি জানার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।

এ ঘটনায় চারঘাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই জঘন্য অপরাধের বিচার দাবি করে দেবের বাড়িতে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

Oplus_131072

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। আর এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাও সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু তার প্রশ্নে জানতে চান, দেশের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের গুণগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে বাজেটে শিক্ষা খাতে বিশেষ কোনো অগ্রাধিকারমূলক বরাদ্দ রেখেছেন কি না?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের গুণগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধে অর্থাৎ শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে প্রথমবারের মতো জিডিপির ২ (দুই) শতাংশে উন্নীত করেছে।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে (এসইডিপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট ৪১৯৯ কোটি টাকা (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৩৫৯৯ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৬০০ কোটি টাকা) বরাদ্দ রাখা-হয়েছে। এসইডিপি-এর আওতায় মোট ১০টি স্কিম চলমান রয়েছে। এই ১০টি স্কিমের মধ্যে ১টি স্কিম ন্যাশনাল কারিকুলাম ডিসেমিনেশন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১ জন শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বেসিক ট্রেনিং, বিষয়ভিত্তিক প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের লিডারশিপ ট্রেনিং, ভোকেশনাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ব্লেন্ডেড লার্নিং, আইসিটি, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বুলিং প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রশিক্ষণ।

সংসদ নেতা এরপর বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিচালন বাজেটে ৩০৪০.৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ২১৯৬.৪ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ৮৪৪.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৫ (পিইডিপি-৫) সহ ৫টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে চলতি অর্থবছর থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও উপবৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে ক্রীড়া উপকরণ সরবরাহ করা হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি বাবদ ৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে