খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় : আইজিপি

খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় : আইজিপি

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য থেকে শুরু করে প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ববোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। সবসময় মনে রাখতে হবে পুলিশ জনগণের সেবক, আর জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আইজিপি থানাকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজগম্য, জনবান্ধব ও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশনা প্রদান করেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের প্রধানসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ডিজিটাল প্রযুক্তি, সাইবার ট্র্যাকিংসহ সকল আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পুলিশ ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সমাজের সচেতন ও ভালো মানুষদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যাতে অপরাধ দমনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

আইজিপি আরও বলেন, কোনো দুর্ঘটনা, অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক তদন্ত, সঠিক রিপোর্টিং এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমেই সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

সভায় খুলনা বিভাগের পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যগণ তাদের কিছু সমস্যা ও চাহিদার কথা আইজিপির কাছে তুলে ধরেন। আইজিপি সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং যথাসম্ভব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সকলকে আশ্বস্ত করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, খুলনার কমান্ড্যান্ট মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়াসহ খুলনাস্থ বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারবৃন্দ।

এর আগে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির শনিবার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে আগমন করলে পুলিশের একটি চৌকস দল আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তিনি পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে একটি জাবুটিকাবা গাছের চারা রোপণ করেন।

এদিন সকাল সাড়ে ৯ টায় লবণচরা গুলজান সিটিতে লবণচরা থানার জন্য নির্মাণাধীন নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন আইজিপি। পরিদর্শনকালে তিনি চলমান কাজের অগ্রগতি, গুণগত মান ও সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শন শেষে আইজিপি থানা প্রাঙ্গণে একটি দৃষ্টিনন্দন কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

কালের আলো/এসএকে

নৌপথে নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হতে দেব না: নৌপ্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
নৌপথে নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হতে দেব না: নৌপ্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, নাগরিকরা নৌপথে ভোগান্তির শিকার হবে, এটা আমরা হতে দেব না। রোববার (৩১ মে) বিকেল ৩টার দিকে আকস্মিক সফরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গা থেকে অধিক সংখ্যক মানুষ নৌপথে চলাচল করে প্রত্যেকটি জায়গা চাঁদপুর, বরিশাল, মজুচৌধুরীঘাট ও ইলিশা আমরা গিয়েছি। হাতিয়া থেকে শুরু করে সবগুলো ঘাটেই আমরা গিয়েছি।

আমাদের দায়িত্ব এটা, মানুষগুলোকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। আগামীকাল থেকে যেন নিরাপদে সবাইকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ানো যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা যখন ঘাটগুলোতে যাই তখন ছোটখাটো ভুলগুলো আমাদের চোখে পড়ে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আমরা মানুষকে কথা দিয়েছি, তারা নিরাপদে প্রিয়জনের কাছে যাবে এবং নিরাপদে ফেরত যাবে। সে জায়গাটি আমরা ভালোভাবে শেষ করতে পারছি।

আমরা প্রত্যেকটি কাজকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছি, মানুষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য। এ ছাড়া, ভোলার ইলিশা নদীবন্দরকে একটি সুন্দর নদীবন্দর হিসেবে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যেসব নৌযান সরকারি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সেগুলোকে শুমারির মাধ্যমে চিহ্নিত করছি। সবগুলো নৌযানের ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতাকে মাথায় রেখে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসছি এবং নৌযান শুমারি শেষ হয়ে গেলে অবৈধ নৌযানের বিষয়টি থাকবে না।

যেসব জায়গায় আরও সংখ্যক জাহাজ দরকার সেসব জায়গায় আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানা জাহাজ যুক্ত করার চেষ্টা করবো।

এ সময় বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে, অভিযোগ রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে, অভিযোগ রিজভীর

অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে ইসলামীতে আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন অভিযোগ করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ওনারা (জামায়াতে ইসলামী) বড় বড় কথা বলছেন, টেলিফোনে চাঁদাবাজি হয়েছে। তো নিজেদের দিকে একবার তাকান। মিরেরসরাইয়ে ফেনী নদীর বালু তুলতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন জামায়াতের দুই নেতা…একজনের নাম জাহাঙ্গীর আরেকজনের নাম রবিউল। ফেনীতে মামলার থেকে অব্যাহতি দেবে বলে এক নেতা সে আবার রোকন তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে সেটাও পত্রপত্রিকায় এসেছে। আমি তো একটা কি দুইটা উদাহরণ দিলাম। তাহলে তো জামায়াত প্রশ্রয় দেয়।’

রিজভী বলেন, ‘ধর্মের নামে রাজনীতি করেন সব নাকি পবিত্র মানুষ। এখানে যেমন তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে ছাত্রলীগের মধ্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে থেকে। অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজও জামায়াতের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে আছে। আপনারা (জামায়াতে ইসলাম) একটা আরবি শব্দ ব্যবহার করেন। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি না বলে আপনারা সেটাকে হাদিয়াবাজি করেন, ইয়ানতবাজি করেন …আরবি শব্দ দিয়ে ওটাকে একটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটা একটা বড় ধরনের এই হাদিয়াবাজি-ইয়ানতবাজি আপনারা কম করেন না এবং বহু জায়গায় প্রমাণ আছে যে ধমক দিয়ে থ্রেট করে করছেন আমি তো দুই তিনটার নাম মাত্র বললাম, অসংখ্য আছে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার কথা হলো রাজনৈতিক দলগুলো তো থাকতে পারে, ঢুকে যেতে পারে কিন্তু সেই দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না? বিএনপির মধ্যে ৫ আগস্টে এই ধরনের কিছু কর্মকাণ্ড হয়েছে আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছেন, দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে শোকজ করা হয়েছে…কেউ বাদ যায়নি। শক্তিশালী নেতা থেকে শুরু করে একবারে তৃণমূল পর্যন্ত কেউ বাদ যায়নি।’

রিজভী বলেন, ‘তারপরে চাঁদাবাজির অভিযোগ আপনাদের নামে এবং আপনাদের অধিকাংশ রোকন সদস্য… আপনাদের যে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নানা স্তরের লোক আছেন তারা অভিযুক্ত হয়েছে। যখন পেপারে এসেছে তখন আপনারা বহিষ্কার করেছেন। আপনারা ফেরেশতা হয়ে গেলেন কি করে? এত একেবারে পরিশুদ্ধ হলেন কি করে? তাহলে যেগুলো ধরা পড়েনি। তারা তো আছেই আপনার দলের মধ্যে। তাহলে বড় বড় কথা বলছেন যে। এটা কথা বলছেন এই কারণে যে বোধহয় পাওয়ারে চলে আসবে। কিন্তু এদেশের মানুষের মানে মাইন্ডসেটটা আপনারা বুঝতে পারেননি। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু জামায়াতকে পছন্দ করে না, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু অতিরিক্ত ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও পছন্দ করে না।’

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই আলোচনা সভা হয়। এর আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।

রিজভী বলেন, ‘একদিকে যেমন ধর্ম ব্যবসা জামায়াত করেছে তাদেরকেও পছন্দ করে না। এদেশের মানুষ আবার একবারে ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সহযোগীরা আছে তাদের যে কর্মকাণ্ড সেটাও পছন্দ করে না। আওয়ামী লীগের এক নেতা যেমন বলেছিলেন মনে নাই আপনাদের..লতিফ সিদ্দিকী যে হজ মক্কা শরীফে এগুলো নিয়ে কি মন্তব্য করেছিলেন…হজ আরবরা অর্থনৈতিক কারণে করেছে…মানুষ এগুলো পছন্দ করেনি। আবার ধর্মের নাম বিক্রি করে ধর্ম ব্যবসা করে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া এটাও এদেশের মানুষ কোনদিনই এটা পছন্দ করেনি।’

জাসাসের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘আমি মনে করি যে, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন তারা একটা এদেশের মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত আমাদের যে সংস্কৃতির যে স্ফুরণ সেটার অনুশীলন এবং চর্চা করা এর সঙ্গে সংস্কৃতি মানেই শুধু নিজস্ব সেটা না। পৃথিবীর ভালো ভালো যে সাংস্কৃতিক অর্জনগুলো সেগুলোকে গ্রহণ করতেও তো কোনো অসুবিধা নেই।’

জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের লিয়াকত আলী লাকি, ফেরদৌস ফকির, জাবেদ আহমেদ কিসলু, খালেদুজ্জামান জুয়েল, ফরহাদ হোসেন নিয়ন, রাফিজা আলম লাকি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

দক্ষিণ লেবাননে ‘বড় অভিযানের’ ঘোষণা ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ লেবাননে ‘বড় অভিযানের’ ঘোষণা ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েল। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের কাছে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রুসেডারদের বোফোর্ট দুর্গ (কালাআত আল-শাকিফ) দখল করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বড় অভিযানের ঘোষণাও দিয়েছে।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ বোফোর্ট দুর্গের ওপর ইসরায়েলি পতাকা উড়তে থাকা ছবি প্রকাশ করার পর দুর্গটি দখলের খবর সামনে আসে। ক্রুসেডার আমলে নির্মিত এই দুর্গটি লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি উঁচু পাহাড়ি রিজের ওপর অবস্থিত।

তবে এ বিষয়ে লেবাননের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যটি নিশ্চিত হলে, ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এটি ইসরায়েলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ইউনেস্কো-সুরক্ষিত এই ঐতিহাসিক দুর্গটি ২০০০ সালে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে ১৮ বছর ধরে ইসরায়েলের দখলে ছিল।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এলা ওয়াওইয়া জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের বোফোর্ট রিজ এবং ওয়াদি আল-সালুকি এলাকায় একটি ‘বৃহৎ পরিসরের অভিযান’ শুরু হয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দক্ষিণ লেবাননে কার্যক্রমগত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং গালিলি প্যানহ্যান্ডেল অঞ্চল ও মেতুলা বসতির প্রতি সরাসরি হুমকি দূর করার অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস ও নাশকতাকারীদের নির্মূল করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

ওয়াওইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে বিপুলসংখ্যক স্থলবাহিনী নিয়ে অভিযানটি শুরু হয়েছে। সামনের প্রতিরক্ষা রেখা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সেনারা বর্তমানে আক্রমণাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদী অতিক্রম করেছে এবং নদীর উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করেছে। একই সঙ্গে অভিযান অতিরিক্ত এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

ওয়াওইয়া বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে নাবাতিয়েহ এলাকার আশপাশে অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজন হলে হামলা আরও বিস্তৃত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ করে চলেছে। অভিযোগ রয়েছে, দেশটি বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অভিযানটি গত এক-চতুর্থাংশ শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ