খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার ৩% খালাস ৭০%

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার ৩% খালাস ৭০%

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রাপ্তির চিত্র উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছে।

বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাবকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং তা নিরসনের উপায়’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাটি দেশের ৩২টি জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে জুন- সময়কালে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এতে মামলার সময়সীমা, মুলতবি, সাক্ষ্য-অভিযুক্তের তথ্য, ফরেনসিক ও মেডিকেল প্রতিবেদন, দণ্ড ও খালাসের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় জর্জরিত।

একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়ে সময় লাগছে প্রায় ৩ বছর ৭ মাস, অর্থাৎ ১ হাজার ৩৭০ দিন। এ সময়ের মধ্যে প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার করে তারিখ পড়ছে, যা বিচার বিলম্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

মামলার ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, এসব মামলায় সাজার হার অত্যন্ত কম- মাত্র ৩ শতাংশ। বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

গবেষণায় বিচার বিলম্বের পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- অভিযোগকারী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি, ঘনঘন সময় প্রার্থনা, তদন্তে বিলম্ব, দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থা, ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দেরি এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাব।

এছাড়া তদন্তের নিম্নমান, নিষিদ্ধ পদ্ধতির ব্যবহার (যেমন : টু-ফিঙ্গার টেস্ট), সামাজিক চাপের কারণে আপস বা মামলা থেকে সরে দাঁড়ানো, আইনি অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অভিযুক্তদের প্রভাবও বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে উল্লেখ করা হয়।

পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এখানে আলোচনায় বিভিন্ন সমস্যা উঠে এসেছে, পরিসংখ্যান এসেছে, বাস্তব চিত্র এসেছে। এসবের মূল কথা হলো, আমাদের সক্ষমতা, বিশেষ করে রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও আইন প্রশাসনের সক্ষমতা।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন আইনজীবী ছিলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম, বর্তমানে আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। জাতীয় বাজেটের দিকে তাকালে এটি স্পষ্ট হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পুরো বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ যেখানে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, সেখানে শুধু বিটিভির জন্য বরাদ্দ প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা। যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দও এর চেয়ে বেশি। অথচ একটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বিচার বিভাগ এই সীমিত বরাদ্দে পরিচালিত হচ্ছে- বিচারকদের বেতন, প্রশাসনিক খরচ, অবকাঠামো, সবকিছু মিলিয়ে এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।’

মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি চাই বিচার বিভাগের বাজেট আরও বৃদ্ধি পাক। কিন্তু বাজেট আলোচনায় নানা স্তরের প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেয়। এই কাঠামোগত সমস্যাগুলো আমাদের সমাধান করতে হবে।

এসময় তিনি বলেন, বিচার বিভাগে বিচারক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং কাঠামোগত ভারসাম্য নিয়েও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত জনবল কাঠামোতে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা যায়। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বর্তমান প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেক স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। একইভাবে বার কাউন্সিলের পরীক্ষাও যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সেখানে কিছু বিতর্ক ছিল, তবে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে হলে আমাদের মানসিকতা, কাঠামো এবং সক্ষমতা- এই তিনটি ক্ষেত্রেই উন্নয়ন প্রয়োজন।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা এবং আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ।

গবেষণা উপস্থাপন করেন প্রাক্তন জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুম। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগ, মানবাধিকার সংগঠন এবং উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

গবেষণায় বলা হয়, শক্তিশালী আইন থাকা সত্ত্বেও পদ্ধতিগত দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।

গবেষণায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বাড়াতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মামলা ব্যবস্থাপনা ও বিচারিক তদারকি জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি মামলার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং বিচারপ্রক্রিয়া নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়।

আইনে নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

অপ্রয়োজনীয় মুলতবি কমিয়ে আনার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ঘনঘন সময় প্রার্থনার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত ও প্রমাণ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সময়মতো ফরেনসিক ও মেডিকেল রিপোর্ট সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এতে মামলার প্রমাণ উপস্থাপন আরও শক্তিশালী হবে এবং বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।

একই সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে তারা সংবেদনশীল এসব মামলায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সুপারিশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এ জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং সহায়ক সেবা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া যেসব জেলায় মামলার চাপ বেশি, সেখানে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে মামলার জট কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়াকে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক, সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে বিচারিক নেতৃত্ব, নীতি সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। তা না হলে দ্রুত বিচার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে পূরণ হবে না।

কালের আলো/এসআর/এএএন

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

সরকারি ছুটির দিনে সরকারের তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান একজন সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ফারাহ্ শাম্মীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে।

পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি