খুঁজুন
                               
, ,
           

রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট রবিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট রবিবার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। ফলে আগামীকাল রবিবারের (২৪ মে) মধ্যেই এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হতে পারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান শনিবার (২৩ মে) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে।

আজ রিপোর্ট হাতে পেলে মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। আশা করছি, আগামীকালই আদালতে চার্জশিট জমা দিতে পারবো। ’

এদিকে এ মামলায় গত বুধবার (২০ মে) গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জবানবন্দিতে সোহেল জানান, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করেন সোহেল।

এর মধ্যে শিশু রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন।

তিনি আরও জানান, এ সময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করেন। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করেন তিনি। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখেন।

ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন।

পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার কোনও পূর্ব শত্রুতা ছিল না।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।

একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।

জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওইদিন দুপুরে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে একটি আবেদন আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার ও অপর আবেদনে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আর্জি জানানো হয়।

এদিকে, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শিশু রামিসা হত্যা মামলায় ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেলে ঈদের আগেই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে। আজ শনিবার গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২২৮

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২২৮ শিশু। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম–বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে এ সময়ে ৯৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৩১ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৭ জন। এ সময়ে ১ হাজার ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮২৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৩। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৪০৪। এ সময়ে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংবিধান ও নিয়ম মেনে যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন ঘোষণা: মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
সংবিধান ও নিয়ম মেনে যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন ঘোষণা: মঈন খান

সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, তার কিন্তু একটি সাংবিধানিক পদ্ধতি আছে। আজকে যদি বলে দেই যে অমুক দিন নির্বাচন হবে, এই কথার কোনো অর্থ থাকবে না।

কাজেই এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তরটা কিন্তু আমার দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত হবে না। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়, নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘোষণা করবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনের কথা তুলে ধরে মঈন খান বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আপনারা বিগত নির্বাচনগুলো দেখেছেন। আট (২০০৮) এর নির্বাচন, চৌদ্দ এর নির্বাচন, আঠার এর নির্বাচন এবং চব্বিশ এর নির্বাচন।

আট (২০০৮) কিন্তু বিশেষ করে বলছি। এই চারটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করে নাই। দীর্ঘ দিন পরে আমরা সৌভাগ্যবান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সত্যিকারে অর্থে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আজকে আজকে আপনাদের সামনে এসেছি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, স্পষ্ট ভাষায় বলছি, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা আইনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা আইনের পথে যেতে চাই।

বিচার বিভাগ নিয়ে মঈন খান বলেন, এই দেশের বিচার ব্যবস্থাকেও তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচারের রায়, জজ সাহেব লিখতো না, মন্ত্রণালয়ে লেখা হতো। কাজেই আমরা কোনো উইচ হান্টিংয়ে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই এই দেশে, সত্যিকারের অর্থে গণতান্ত্রিক যে সিস্টেম, সেই সিস্টেমটাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ফিরিয়ে আনার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমরা সেই পথে হাঁটছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমার অগ্রাধিকার হলো জনগণ। আমাদের জনগণের সরকার, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা এই সরকার গঠন করেছি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সচিব মো. শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএএন/এমডিএইচ

সেপ্টেম্বরে নবম পে স্কেলের গেজেট!

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
সেপ্টেম্বরে নবম পে স্কেলের গেজেট!

বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশকে ঘিরে আবারও আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জুলাইয়ে গেজেট প্রকাশের আলোচনা থাকলেও নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। এবার সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা—এই কয়েকটি বিষয় নিয়ে পর্যালোচনার কারণেই প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা দীর্ঘ হয়েছে। তবে এসব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

  • জুলাইয়ের বিলম্ব কাটিয়ে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি

  • অক্টোবর থেকে নতুন বেতন, কার্যকর ধরা হবে ১ জুলাই—তিন মাসের বকেয়া সমন্বয়ের পরিকল্পনা

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

জুলাইয়ের আশা, সেপ্টেম্বরে নতুন লক্ষ্য
নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আলোচনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

এবার সেপ্টেম্বরকে চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে সামনে রেখে কাজ এগোচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে গেজেট প্রকাশ না হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে হতাশা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কারণ পে স্কেল শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত থাকে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, উৎসব ভাতা, অবসর-সুবিধাসহ সরকারি চাকরিজীবীদের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামো। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে লাখো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনীতিতে।

অক্টোবর থেকে নতুন বেতন, কার্যকর ১ জুলাই
সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল অক্টোবর থেকে বাস্তবে কার্যকর করার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে বেতন কাঠামোটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হতে পারে। এর অর্থ, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পরে ওই তিন মাসের বকেয়া অর্থ সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে অথবা সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বকেয়া অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হবে। তবে বকেয়া কীভাবে এবং কত ধাপে দেওয়া হবে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

অর্থের সংস্থান নিয়ে সরকারের ভাবনা
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হচ্ছে অর্থের সংস্থান। বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তবে এটি কবে থেকে এবং কত ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ঋণ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার শুধু রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর নির্ভর করছে না; প্রয়োজন হলে ঘাটতি অর্থায়নের পথও খোলা রাখছে।

বেতন বাড়বে কত, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
গেজেট প্রকাশের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি আগ্রহ বেতন কতটা বাড়বে তা নিয়ে। নতুন পে স্কেলে বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন কী হারে বাড়বে, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কতটা পরিবর্তিত হবে এবং ভাতাগুলো কীভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা বাস্তবসম্মত বেতন বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বেতন বাড়ানোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদে এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা। অর্থাৎ, নতুন পে স্কেলে শুধু বেতন বৃদ্ধির হার নয়, সরকারের আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠেছে।

জুডিশিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয়েও জটিলতা
নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ক্যাডার ও সার্ভিসের মধ্যে বেতন কাঠামোর ভারসাম্য বজায় রাখা না গেলে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। ফলে একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, অন্যদিকে বিভিন্ন সার্ভিসের মধ্যে সামঞ্জস্য এবং সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করেই চূড়ান্ত।

কালের আলো/এএএন/এমডিএইচ