খুঁজুন
                               
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপির বিবৃতিতেই সর্বপ্রথম শাপলা ট্র্যাজেডিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ‘শাপলার শহীদগাঁথা: স্মরণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বিএনপি সাহসিকতার সঙ্গে এটিকে গণহত্যা হিসেবে তুলে ধরেছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, সে সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার সত্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে।

একই অনুষ্ঠানে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদের নির্মম উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শাপলা চত্বরে অভিযান চালানোর সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তদন্তে ৭২ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান একই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ, যা কর্তৃত্ববাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিফলন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

গত ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধরত দুই প্রতিবেশী দেশ রাশিয়া এবং ইউক্রেন তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। শনিবার (৯ মে) থেকে আগামী  সোমবার (১১ মে) পর্যন্ত থাকবে এই যুদ্ধবিরতি।

শুক্রবার (৮ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি শনিবার (৯ মে) থেকে সোমবার (১১ মে) পর্যন্ত স্থায়ী হবে।

যুদ্ধবিরতির এই তিন দিন যাবতীয় হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ রাখবে রাশিয়া এবং ইউক্রেন এবং দুই দেশের প্রত্যেকে ১ হাজার করে মোট ২ হাজার যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দেবে।

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে রাশিয়া এবং ইউক্রেন আগামী তিন দিন (৯, ১০ এবং ১১ মে) যুদ্ধবিরতি পালন করবে। রাশিয়ায় এই উদযাপন বিজয় দিবস উপলক্ষে এবং একইভাবে ইউক্রেনেও; কারণ তারাও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বড় অংশ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিল।’

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন জয় করতে দেশটিতে প্রবেশ করেছিল জার্মানির তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসী সেনাবাহিনী। তবে তারা ব্যর্থ হয় এবং ১৯৪৫ সালের ৮ মে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে আত্মসমর্পণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই থেকে ৮ মে-কে বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করে রাশিয়া।

এর কিছুক্ষণ পরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ক্রেমলিন– উভয়পক্ষ তিন দিনের এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সমঝোতা হয়েছে। রাশিয়া এর আগে শনিবার তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘বিজয় দিবস’ (৯ মে) উপলক্ষে এককভাবে দুই দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল।

যুদ্ধবিরতির এই তিন দিনে পরস্পরকে লক্ষ্য করে সব ধরনের আক্রমণ রাশিয়া এবং ইউক্রেন বন্ধ রাখবে এবং প্রত্যেকে ১ হাজার করে যুদ্ধবন্দি মুক্তি দেবে— উল্লেখ করে ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আশা করছি, এই যুদ্ধবিরতি একটি অত্যন্ত দীর্ঘ, প্রাণঘাতী এবং কঠিন লড়াইয়ের অবসানের সূচনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি সবচেয়ে বড় যুদ্ধ এবং এ যুদ্ধ শেষ করতে আমাদের আলোচনা অব্যাহত আছে। আমরা প্রতিদিন এই যুদ্ধ সমাপ্তির আরো কাছাকাছি আসছি। এ বিষয়ে মনোযোগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আশা করি, এটি একটি অত্যন্ত দীর্ঘ, প্রাণঘাতী এবং কঠিন লড়াইয়ের অবসানের সূচনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃহত্তম এই বড় সংঘাতের অবসানের জন্য আলোচনা চলছে এবং আমরা প্রতিদিন এর আরও কাছাকাছি আসছি। এই বিষয়ে আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ!’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রাশিয়ার এই উদযাপন বিজয় দিবসের জন্য, তবে একইভাবে এটি ইউক্রেনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারাও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বড় অংশ এবং চালিকাশক্তি ছিল। এই যুদ্ধবিরতির সময়ে সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকবে এবং উভয় দেশ থেকে ১ হাজার করে মোট ২ হাজার বন্দি বিনিময় করা হবে।’

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। এমনকি তিনি এমন দাবিও করেছিলেন, ক্ষমতায় ফেরার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এ সংঘাত মিটিয়ে দেবেন।

তবে প্রায় দেড় বছর কেটে গেলেও ওয়াশিংটন এক্ষেত্রে বড় সাফল্য পেতে হিমশিম খাচ্ছে। রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ বন্ধে তেমন কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এই সংঘাত এখন একটি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, যেখানে পুতিন বিশ্বাস করেন যে, বিশাল সামরিক বাহিনীর কারণে শেষ পর্যন্ত রাশিয়াই জয়ী হবে।

স্থবির হয়ে পড়া শান্তি আলোচনার সর্বশেষ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেনের পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চল। এই অঞ্চলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে।

মস্কো দাবি করেছে, দোনেৎস্কের যেসব অংশ রুশ বাহিনী এখনও দখল করতে পারেনি, সেখান থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের সরিয়ে নিতে হবে। তবে ইউক্রেন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত মেনে কৃষ্ণ সাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ইউক্রেনের তদবিরের জেরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই অভিযান চলছে।

জেলেনস্কি বারবার যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তবে ট্রাম্প ও কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ইউক্রেনের সামনে হয়ত শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না।

সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

থমকে গেল থালাপতি বিজয়ের শপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
থমকে গেল থালাপতি বিজয়ের শপথ

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে সরকার গঠনের সমীকরণ। সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত শপথ নিতে পারছেন না অভিনেতা থালাপতি বিজয়। শনিবার (৯ মে) তার শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

শুক্রবার (৮ মে) রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। টানা তিন দিনের আলোচনার পরও তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে জোট এখনও পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে পারেনি।

তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট আসন ২৩৪টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। গত ৪ মে ঘোষিত নির্বাচনি ফলাফলে বিজয়ের দল টিভিকে পায় ১০৮টি আসন। এরপর সরকার গঠনের লক্ষ্যে কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সমর্থন আদায়ে তৎপরতা শুরু করেন তিনি।

ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, অন্তত চারটি দল টিভিকেকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। সে হিসাবে জোটের আসন সংখ্যা ১২০-এ পৌঁছাতে পারে বলেও আলোচনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সমীকরণে জটিলতা দেখা দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাস্তবে বিজয়ের জোটের নিশ্চিত আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৬। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও দুই আসন পিছিয়ে রয়েছে টিভিকে।

জানা গেছে, ভিসিকে ও আইইউএমএল নামে দুটি দলের সমর্থন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজ্যপালের কাছে ওই দুই দলের আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র দেখাতে পারেননি বিজয়। পরে আইইউএমএল এক বিবৃতিতে জানায়, তারা টিভিকেকে সমর্থন দেবে না।

এদিকে টিটিভি নামের আরও একটি দলও সরকার গঠনে বিজয়কে সমর্থন না করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে নতুন করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থার মুখে পড়েছে তামিলনাড়ু।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শনিবার (০৯ মে) যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের ফলো-আপ হিসেবে কেমব্রিজের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরোয়ার আলম শুক্রবার (০৮ মে) এ তথ্য জানান।

সরোয়ার আলম জানান, মো. সাহাবুদ্দিনকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট শনিবার সকালে লন্ডনের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে।

রাষ্ট্রপতির সহধর্মীনি ড. রেবেকা সুলতানাসহ পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রপতির চিকিৎসক ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সফরে তার সফরসঙ্গী হবেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আগামী ১৮ মে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ