খুঁজুন
                               
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বন্ধ চিনিকল চালু করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: শিল্পমন্ত্রী

পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
বন্ধ চিনিকল চালু করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: শিল্পমন্ত্রী

শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তবে এ প্রক্রিয়ায় আখচাষি, শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনার বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড কারখানা প্রাঙ্গণে আখচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, এসব মিল দেশের মানুষের সম্পদ। তাই এগুলোর সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার চায়, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আনুক।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে কয়েকটি চিনিকল বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা অনেক মিলও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ মিলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর পার হয়েছে। ফলে আধুনিকায়ন, সংস্কার ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোনো কোনো মিল নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে চালু করতে হবে। কোথাও অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় নিতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রেই আখচাষিদের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও লাভজনক পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি শিল্পকারখানা সচল থাকলে শুধু সরাসরি শ্রমিক নয়, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল করা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন এবং পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আতিকুজ্জামানসহ আখচাষি প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড ১৯৬৬-৬৯ সালে দৈনিক ১ হাজার ১৬ মেট্রিক টন আখ মাড়াই সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৯-৭০ সালে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শনিবার (৯ মে) ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড (বিএসএসএফ) আয়োজিত ‘ইনশিউরিং সেফ ফুড ফর আ সাসটেইনেবল ফিউচার’ প্রতিপাদ্যভিত্তিক ৮ম জাতীয় বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড হেলথ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান ও অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। দেশে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতে গবেষণার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একসময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষের পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণ এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে মাদক সমস্যা দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে এসে সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুডের (বিএসএসএফ) সভাপতি প্রফেসর ড. মো. খালেদ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মোশিউর রহমান।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য পরিচালক (মৎস্য বিভাগ) ড. মো. মনিরুল ইসলাম। এসময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট রয়েছে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তবে এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, রেলসহ সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। চলমান পরিকল্পনাগুলো সেই গুরুত্বের ভিত্তিতেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিলেট আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সিলেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি এই অঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম অনুমোদন দিয়েছেন। রেল উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও সিলেটকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট রুটে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি বর্তমানে সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট রুটে রেল যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসবে, আশাবাদি তিনি।

তিনি বলেন, সিলেট রুটে মিটারগেজ রেলসেবায় লোকোমোটিভ সংকট ও একক লাইনের কারণে প্রায়ই শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। অবশ্য সীমিত সম্পদের মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। কোথাও ইঞ্জিন বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে যায়। কারণ অনেক জায়গায় এখনো সিঙ্গেল লাইন। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিটারগেজ অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকোমোটিভ নেই। অনেক ক্ষেত্রে ৩০ সিরিজের ইঞ্জিনের পরিবর্তে ২৯ সিরিজের পুরোনো লোকোমোটিভ দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। কোথাও ৩০ থেকে ৩৫টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও সচল আছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি। বাকিগুলো মেরামত করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সমস্যা নিয়ে বসে থাকতে চাই না, দ্রুত সমাধান করতে চাই। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যাতে দায়িত্বে কোনো ঘাটতি না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

রেল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকায় বসে কেবল নির্দেশনা দিলে হবে না, সরাসরি সেবা পরিস্থিতি দেখতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলে অতিরিক্ত কোচ ও লোকোমোটিভ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন লোকোমোটিভ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরও সেবা বাড়ানো সম্ভব হবে।

রেলের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দখল উচ্ছেদে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রেলকে লাভবান করতে যাত্রীসেবার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের দিকেও সরকার নজর দিচ্ছে। তবে রেলের সেবা নিশ্চিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরপরও সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে। কোনো ধরণের দায়িত্বে অবহেলা মেনে নেওয়া যাবে না।

এরআগে সকালে রেলযোগে সিলেট পৌঁছে প্রতিমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং শাহপরান( রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন।

পরে দিনব্যাপী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিআরটিসি, বিআরটিএ, রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচি শেষে রাতে রেলযোগে ঢাকা ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২ মে দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের রেল-সড়ক, কৃষি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শিক্ষকদের পাঠদানের মান মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
শিক্ষকদের পাঠদানের মান মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

শনিবার (৯ মে) কক্সবাজারে লিডারশীপ ট্রেনিং সেন্টারে স্কুল ফিডিং ও প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু জবাবদিহিতা নয়, শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতায়ন ও সহায়তাও নিশ্চিত করা হবে।

নিজের ১৭ বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষায় আসা অনেক শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান দুর্বল থাকে, যার মূল কারণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের দুর্বল ভিত্তি। তাই প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা গেলে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সামগ্রিক উন্নয়নের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে পারলে মব কালচারসহ নানা সামাজিক সমস্যা কমে আসবে। দেশের সব সমস্যার মূলে গেলে শিক্ষা ব্যবস্থাকেই পাওয়া যায়। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমাদের সবার।

প্রতিমন্ত্রী স্কুলের অবকাঠামো, মাঠ ও প্লেগ্রাউন্ডের অবস্থা, ফাউন্ডেশনাল লার্নিং ও নিউমারেসি কার্যক্রম, মিড ডে মিল বাস্তবায়ন, গার্ড ও ক্লিনার সংকট, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষকদের মতামত জানতে চান।

তিনি আরও বলেন, কমিউনিকেশনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের সিস্টেমগুলো ইমপ্রুভ করতে পারব। প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সরাসরি মতামত ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তব সমস্যাগুলো নির্ভয়ে ও খোলামেলাভাবে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি জনবান্ধব সরকার হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থার ‘স্ট্রাকচারাল মেরামত’ করতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনতে মিড ডে মিল, ইউনিফর্ম, জুতা ও পাঠ্যবই প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে আনাই যথেষ্ট নয়, শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ