খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস (ডব্লিউটিআইএসডি) আজ (১৭ মে)। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশও দিবসটি উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল লাইফলাইন : একটি সংযুক্ত বিশ্বে স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করা’, যেখানে বিভিন্ন দেশ সংযুক্ত বিশ্বের সবার জন্য সংযোগ, সেবার ধারাবাহিকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে স্থিতিস্থাপক ডিজিটাল ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে দিনটি পালন করবে।

এ বছরের মূল বার্তা হলো ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তি অবকাঠামো যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার আক্রমণ বা যেকোনো বিপর্যয়ের পরেও টিকে থাকতে পারে এবং কেউ যেন সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়।

দিবসটি উপলক্ষ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ (পিটিডি) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেবেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী। দিবসটি উপলক্ষ্যে একই স্থানে একটি টেলিযোগাযোগ মেলাও আয়োজন করা হবে।১৮৬৫ সালের ১৭ মে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠার স্মরণে ডব্লিউটিআইএসডি প্রতিবছর ১৭ মে দিবসটি উদযাপন করে।

কালের আলো/এসআইপি

লাশ চুরিতে কোটি টাকার বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
লাশ চুরিতে কোটি টাকার বাণিজ্য

অন্ধকার রাত। রাজধানীর উপকণ্ঠের কোনো এক নির্জন গোরস্তান। মাটির গভীরে সবেমাত্র দাফন করা হয়েছে এক ব্যক্তির লাশ। কিন্তু চিরনিন্দ্রায় শায়িত ওই লাশ তুলতে ওতপেতে আছে একদল ‘লাশচোর’। শাবলের কোপে মাটি সরে যায়, কাফন ছিঁড়ে বের করে আনা হয় নিথর দেহ। এরপর শুরু হয় বীভৎসতা। মাংস অ্যাসিডে ঝলসে ও রাসায়নিক দিয়ে পুড়িয়ে হাড়গুলো আলাদা করা হয়। এ হাড়গুলোই কয়েক হাত বদল হয়ে যখন ধবধবে সাদা কঙ্কাল হিসেবে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে পৌঁছায়, তখন এর দাম গিয়ে ঠেকে ৩০-৪০ হাজার টাকায়।

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও থ্রিডি সিমুলেশনের মাধ্যমে মানবদেহের নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করছে, তখন বাংলাদেশের ১০ হাজার নবীন চিকিৎসকের পড়াশোনার হাতেখড়ি হচ্ছে কবর থেকে চুরি হওয়া লাশের হাড় দিয়ে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, যুগের পর যুগ ধরে চলা অমানবিক ও বীভৎস এ ‘কঙ্কাল বাণিজ্য’ এখন কয়েক কোটি টাকার এক সুসংগঠিত মাফিয়া সিন্ডিকেট

সদ্য মৃত প্রিয়জনকে পরম মমতায় যখন স্বজনরা কবরে শায়িত করেন, তখন তারা কল্পনাও করতে পারেন না যে, অচিরেই নিথর দেহটি পরিণত হতে পারে পণ্য বা ব্যবসায়িক হাতিয়ারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার নতুন মেডিকেল শিক্ষার্থীর

অ্যানাটমি শিক্ষার অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মানুষের কঙ্কাল বা ‘হিউম্যান স্কেলেটন’। কিন্তু এই কঙ্কাল সংগ্রহের কোনো বৈধ বা রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া না থাকায় গড়ে উঠেছে ভয়াবহ ও অমানবিক এক ‘লাশ চুরি’ সিন্ডিকেট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও থ্রিডি প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েও একটি প্রাচীন ও অমানবিক প্রথা আঁকড়ে ধরে রাখার এ জেদ কেবল লাশের অবমাননাই করছে না; বরং হবু চিকিৎসকদের শিক্ষার শুরুতেই এক অনৈতিক বাণিজ্যের অংশীদার করে তুলছে।

 

সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ আমলে মেডিকেল কলেজগুলোয় এই কঙ্কাল বাণিজ্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হাতে। মেডিকেল কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগ নেতারা এ ব্যবসাকে কোটি টাকা আয়ের উৎস বানিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের (মিটফোর্ড) শিক্ষার্থী ছিলেন মুর্তজা শাহরিয়ার। তিনি আমার দেশকে বলেন, “তৎকালীন মিটফোর্ড ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা হাসান আরিফ ছিলেন এই কঙ্কাল সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। কঙ্কাল বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় ‘মাফিয়া’ ছিলেন একই মেডিকেল কলেজের তৎকালীন শীর্ষ ছাত্রলীগ নেতা মজনু মিয়া। শেরপুর নিবাসী ছাত্রলীগের ওই নেতার নিয়ন্ত্রণে ছিল কঙ্কাল ডিস্ট্রিবিউশনের বিশাল নেটওয়ার্ক। এ সিন্ডিকেটের তিনটি ভাগ ছিলÑএকদল কবর থেকে লাশ সরাত, একদল লাশ গলিয়ে হাড় আলাদা করত আর ছাত্রনেতারা ছিল ‘ডিস্ট্রিবিউটর’।”

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর কঙ্কাল বাণিজ্য সিন্ডিকেটে জড়িত মিটফোর্ড হাসপাতালের ওই ছাত্রলীগ নেতারাও আত্মগোপনে চলে যান। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনীতির পটপরিবর্তন হলেও অমানবিক প্রথাটি আজও থামেনি; কেবল হাতবদল হয়েছে কঙ্কাল বাণিজ্যের।

চলতি বছরের মার্চে রাজধানীর উত্তরায় একটি ডেন্টাল কলেজের হোস্টেল থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল হাড় উদ্ধার করে পুলিশ। এতে স্পষ্ট হয়, এই ব্যবসা এখন অনলাইন গ্রুপ ও বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে ২০১৬ সালে কাফরুল থেকে ৩৫টি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি ২০২২ সালে কঙ্কাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জড়িত থাকার ঘটনা প্রমাণ করে যে, অবৈধ এ সরবরাহব্যবস্থা দীর্ঘদিনের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, পড়াশোনা শেষে এ হাড়গুলো অনেক সময় প্রোপার ডিসপোজাল হয় না; নর্দমা বা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, যা লাশের প্রতি চূড়ান্ত অসম্মান।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই হাড় কিনতে বাধ্য হন। কারণ, অ্যানাটমি ক্লাস এবং আইটেম পরীক্ষায় হাড় সামনে নিয়ে ডেমোনস্ট্রেশন না দিলে অনেক শিক্ষক ভালোভাবে নেন না।চিকিৎসাবিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের এই যুগে মানুষের কঙ্কাল নিয়ে পড়াশোনার ধারণাটি বিশ্বজুড়ে আমূল বদলে গেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে উন্নত দেশগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে মানবদেহের জটিলতম স্নায়ুতন্ত্র ব্যবচ্ছেদ করছে। অথচ বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীরা এখনো কবর থেকে চুরি হওয়া লাশের হাড়ের ওপর নির্ভরশীল।

চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে ‘কমপ্লিট অ্যানাটমি’র মতো বিশ্বখ্যাত থ্রিডি অ্যাপ্লিকেশনগুলো অ্যানাটমি শিক্ষার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। একটি স্মার্টফোন বা ট্যাবের পর্দায় মানুষের হাড়ের প্রতিটি খাঁজ, সূক্ষ্ম ছিদ্র এবং লিগামেন্টের অবস্থান অনেক বেশি নিখুঁতভাবে জুম করে দেখা সম্ভব। অথচ বাংলাদেশে অ্যানাটমি বিভাগগুলো আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি অনুকরণ না করে অতীতের প্রথা মেনে চলায় এই সিন্ডিকেট আজও টিকে আছে। তাদের যুক্তি, ‘আসল হাড় স্পর্শ না করলে শিক্ষা পূর্ণ হয় না।’ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে হাড়ের ভেতরের গঠনও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব, সেখানে কেবল স্পর্শের দোহাই দিয়ে লাশ চুরির মতো জঘন্য অপরাধকে পরোক্ষভাবে মদত দেওয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু? নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সামান্য পরিবর্তনই পারে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে চুরিকৃত হাড়ের বদলে আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দিতে।মেডিকেল শিক্ষার্থীরা জানান, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন আর ‘আসল হাড়’-নির্ভর নয়। চীন, আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোয় এখন ৯৬% থেকে ৯৯% নির্ভুল ‘অ্যানাটমিক্যালি অ্যাকুরেট’ প্লাস্টিক কঙ্কাল মডেল ব্যবহৃত হয়, যা টেকসই এবং সম্পূর্ণ আইনসম্মত। পাশের দেশ ভারতেও প্লাস্টিক মডেল ও স্টিমুলেশন অ্যাপের ব্যবহার এখন প্রধান মাধ্যম। অথচ বাংলাদেশে চিত্রটি একেবারেই উল্টো। এখানে একজন নবীন শিক্ষার্থীকে একটি চুরিকৃত কঙ্কালের জন্য ৩০-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি ডিজিটাল অ্যাপ সাবস্ক্রিপশনের বার্ষিক খরচ মাত্র ছয় থেকে আট হাজার টাকা। উন্নত বিশ্বে কেবল যারা স্বেচ্ছায় মরণোত্তর দেহদান করে গেছেন, তাদের হাড়ই অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে মেডিকেল মিউজিয়ামে রাখা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে লাশ চুরির বাজারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রযুক্তি যেখানে সমাধানের পথ দেখাচ্ছে, সেখানে প্রশাসনের এ ধরনের স্থবিরতা কেবল লাশের অবমাননাই নয়; বরং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানবিক দর্শনের সঙ্গেও চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ মোহাম্মদ ইরফান আমার দেশকে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তি হন। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য ১১ হাজার কঙ্কাল স্বাভাবিক উপায়ে সংগ্রহ করা অসম্ভব। আর এ সুযোগেই একটি চক্র কবর থেকে লাশ চুরির মতো অপরাধ করে।’কঙ্কাল কেনা বা রাখার অধিকার কেবল মেডিকেল প্রতিষ্ঠানগুলোর থাকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বা ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ যদি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাঁচটি করে কঙ্কালের সেট রাখে, তবে তা দিয়ে অনায়াসে ১০-১৫ বছর চালানো সম্ভব। এতে প্রতি বছর নতুন কঙ্কালের প্রয়োজন হবে না। শিক্ষার্থীরা বাজার থেকে প্লাস্টিকের মডেল বা সিমুলেশন মডেল কিনে ব্যক্তিগত পড়াশোনা করতে পারে। আর যখন আসল হাড় দেখার প্রয়োজন হবে, তখন তারা কলেজের ল্যাব বা লাইব্রেরিতে থাকা ‘বোনস ব্যাংক’ থেকে সেটি ব্যবহার করবে।”

চিকিৎসকদের অনেকে বলছেন, লাশ পাহারা দিয়ে এই চুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। সমাধান লুকিয়ে আছে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিএমডিসি যদি ঘোষণা করেÑমেডিকেল পরীক্ষায় ‘আসল হাড়’ ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং এর বদলে থ্রিডি স্টিমুলেশন বা প্লাস্টিক মডেল ব্যবহার হবে, তাহলেই লাশ চুরির এই কোটি টাকার মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে পড়বে।

কালের আলো/এসআইপি

চিকিৎসকের ওপর হামলাকারী কাউকে ছাড় নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের ওপর হামলাকারী কাউকে ছাড় নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলাকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, মূল আসামিসহ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শরীয়তপুরের ঘটনায় আহত চিকিৎসাধীন ডা. নাসিরকে দেখতে গিয়ে মন্ত্রী এসব জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাদের ছাড় না দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীতে অনেক চিকিৎসককে হুমকি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মেডিকেল এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সব সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতালের টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ঘিরে লুটপাট ঠেকাতে সজাগ আছে সরকার। মেডিকেল বিষয়ে কোনো সন্ত্রাসীকেই রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় দেশের প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন সশস্ত্র কর্মী এবং একজন পেট্রন কমান্ডার নিয়োগ করা হচ্ছে।

হাম ও নিউমোনিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বলেও জানান মন্ত্রী।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরানের জন্য ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
ইরানের জন্য ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে: ট্রাম্প

শিগগিরই একটি শান্তিচুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি না হলে তেহরানের জন্য খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরানের জন্য এখন সমঝোতায় পৌঁছানোই সবচেয়ে ভালো পথ। যদিও সাম্প্রতিক চীন সফরে ইরান ইস্যুতে বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত দিতে পারেননি তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদেরও (ইরানের) স্বার্থ রয়েছে।’

এদিকে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরান এখনও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে পরস্পরবিরোধী বার্তা ও অতীত হামলার কারণে ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না ইরান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুদ্ধ শেষে নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামো আনার পরিকল্পনা করছে তেহরান।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তুতি জোরদার করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই নতুন অভিযান চালানোর মতো প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, সম্ভাব্য অভিযানে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, যদিও এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ অভিযানের এলাকায় একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে হবে।

চলমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানি বন্দর অবরোধের মধ্যে অন্তত ৭৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে হয়েছে। অন্যদিকে, প্রণালি ব্যবহারে ফি আরোপ ও নিজস্ব তদারকির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। এতে তেল সরবরাহ, জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে ক্রমান্বয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ ফোনালাপে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। একই সময়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তেহরান সফর করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সংলাপের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ইসলামাবাদ এখনও যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করেছে, আর ইরানে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা ও নতুন সমঝোতায় পৌঁছানো এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ