খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

দল হিসেবে আ.লীগ নিষিদ্ধে তদন্ত নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
দল হিসেবে আ.লীগ নিষিদ্ধে তদন্ত নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে তদন্ত চলছে কিনা প্রত্যক্ষ ধারণা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত কোনো ধারণা নেই। কোনো তদন্ত চলছে কিনা, তা তদন্ত সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলতে পারবেন। এ নিয়ে আমার প্রত্যক্ষ কোনো ধারণা নেই।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের তদন্তে তাহলে অগ্রগতি নেই; এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত চলছে কিনা, এমন কোনো ধারণা আমার নেই। এমন কোনো তদন্ত সম্পর্কে জানি না। অতএব যখন জানবো, তখন আপনারাও নিশ্চিত জানতে পারবেন।

শাপলা চত্বরের মামলায় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখানোয় অ্যামনেস্টিসহ অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছে- সাংবাদিকের এক প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, দুজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আমাদের ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। তবে অ্যামনেস্টি কি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা আমরা দেখিনি। আমাদের একটি চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। আইনগত সুযোগও নেই। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার এখতিয়ার। তাদের কাজ করতে দেওয়াই উচিত। এখন কোনো সংস্থা তথা অ্যামনেস্টি হোক, বা হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন হোক, কারও এ বিষয়ে এখন হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না।

এ মামলায় আর কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান। আমি আগেও বলেছি, যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদেরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে আমরা অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করার জন্য বিচারের মুখোমুখি করবো না।

কালের আলো/এসএকে

মেট্রোরেলে হাফ ভাড়া দিতে পারবেন কারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
মেট্রোরেলে হাফ ভাড়া দিতে পারবেন কারা

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত জানিয়েছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মেট্রোরেলে ৫০ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘সিএসএফ সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেট ও নীতিনির্ধারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমান অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি জেলায় প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াত সহজ করতে মেট্রোরেলে ভাড়ায় বিশেষ ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এর আগে প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মেট্রোরেল ও ট্রেনে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ২৫ জুন থেকে এ সুবিধা কার্যকর হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

প্রধানমন্ত্রীর সামনেই সংসদে কিল-ঘুষি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সামনেই সংসদে কিল-ঘুষি

জর্জিয়ার সংসদের চলতি অধিবেশনের শেষ পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে হঠাৎ করেই ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম সিভিল জর্জিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় প্রশ্নোত্তর পর্বে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

সিভিল জর্জিয়া বলছে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য জর্জি শারাশিদজে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সাম্প্রতিক জর্জিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় তিনি বলেন, ওই সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান তার প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করেছে। তার বক্তব্যের পর ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় কয়েক মিনিট ধরে সংসদ কক্ষে ধাক্কাধাক্কি, মারামারি ও বাকবিতণ্ডা চলে। পরে সংসদের নিরাপত্তাকর্মীরা বিরোধী দলের সদস্যদের কক্ষ থেকে বের করে দেন। এ সময় সংসদের সরাসরি সম্প্রচারও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে ক্ষমতাসীন দলের ইরাকলি খেলাদজে ও বিরোধী দলের গিগা পারুলাভার মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে আরও অনেক সংসদ সদস্য এতে জড়িয়ে পড়েন। পুরো ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজ নিজ আসন থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

ঘটনার পর সংসদ ভবনে জরুরি চিকিৎসাসেবা ডাকা হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসাকর্মীদের ঘটনাস্থলে দেখা যায়।

কালের আলো/এসএকে

বাংলাদেশকে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বিশ্ববাজারে সার ও জ্বালানির দাম এবং সরবরাহে অস্থিরতা মোকাবেলা, খাদ্যনিরাপত্তা টেকসই রাখা এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশে দুটি প্রকল্পে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এতে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংক। ধান উৎপাদনের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, পরিবার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

৩০০ মিলিয়ন ডলারের ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের জুলাই-অক্টোবর আমন মৌসুম এবং আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। দেশে মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশিই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক, যার অর্ধেকই ইউরিয়া সার। এতে ক্ষুদ্র কৃষকদের চাষ করা ১৪ লাখ হেক্টর জমির ধান উৎপাদন সহায়তা পাবে।

বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার সোলেমান কুলিবালি বলেন, ‘বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা আমন ও বোরো ধান মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। এ দুই মৌসুম মিলিয়ে দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে। এ ছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষি খাতে কর্মরত। তাই সার সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা শুধু খাদ্যনিরাপত্তাকেই ঝুঁকিতে ফেলবে না, দারিদ্র্য বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলবে।’

এছাড়া ৭১৩ মিলিয়ন ডলারের ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ প্রকল্পের আওতায় দ্রুত ছাড়যোগ্য জরুরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ সহায়তা ও জীবিকা সহায়তা। সংকটকালে আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষায় এ সহায়তা ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আওতায় জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহেও অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি এবং পানির মতো অপরিহার্য সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রকল্পের অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার লেসলি জেন ইউ করদেরো বলেন, বিশ্বব্যাংকের সংকট প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার টুলকিট বা ব্যবস্থার মাধ্যমে এ প্রকল্প বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে তহবিল পাওয়ার সুযোগ দেবে। বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে সম্পদ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আকস্মিক ধাক্কার প্রভাব থেকে মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানগুলোকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসএকে