খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ঈদযাত্রার ১৩ দিনে দুর্ঘটনায় ৩০৬ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রার ১৩ দিনে দুর্ঘটনায় ৩০৬ জনের মৃত্যু

Oplus_131072

ঈদুল আজহার আগে ও পরে ১৩ দিনে (গত ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত) দেশে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মোট ৩০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ সময়ে মোট ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮১ জন। এর মধ্যে নারী ৩৪ ও শিশু ৪৮ জন। আহত হয়েছেন ৮৩৭ জন।

একই সময়ে ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় আটজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে মারা গেছে কোরবানির ২৪টি গরু। আর ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন।

ঈদযাত্রা নিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রার ১৩ দিনে দেশজুড়ে ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয় ১২৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ। ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় আটজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে। রেলপথে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছে।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ১২৪ জন, বাসযাত্রী ২১, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রলির আরোহী ৩২ ও প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ১১ জন। এছাড়া থ্রি-হুইলারের (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৪৮ যাত্রী ও স্থানীয়ভাবে তৈরি করা যানবাহনের (নছিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র) আট যাত্রী নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৯৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ১১২টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪২টি গ্রামীণ সড়কে, ৩৭টি শহরের সড়কে ও চারটি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

মেয়ের মা হলেন বুবলী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
মেয়ের মা হলেন বুবলী

পুত্র বীরের পর এবার কন্যা সন্তানের মা হলেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। বিষয়টি এক স্ট্যাটাসে জানালেন নায়িকা নিজেই।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে দেওয়া এক পোস্টে সুখরটি জানিয়ে বুবলী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে।

তিনি আরও লেখেন, এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভ কামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।

অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শবনম বুবলীকে বিয়ে করেন শাকিব খান। পরে ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে তাদের ছেলে শেহজাদ খান বীরের জন্ম হয়।

২০২২ সালে সন্তান ও বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এই দুই তারকা।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

এবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও আসছে এআই!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
এবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও আসছে এআই!

রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের পর এবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও একই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, পরিবেশ রক্ষায় মানসিকতার পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ বিষয়ে সবাই সচেতন হলে যেকোনো উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সিটি করপোরেশন তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোও এ কাজে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এটি একদিনে সম্ভব নয়, তবে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতায় ধাপে ধাপে কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শব্দদূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকের পর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালনা করা হবে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর সড়কে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার শব্দদূষণ পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে চায় বাংলাদেশ

Oplus_131072

বাংলাদেশ সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের। বৈঠকে তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য স্বাক্ষরের সম্ভাবনার বিষয়ে আলোকপাত করেছি। আমরা একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা সম্পর্কে অবহিত করেছি এবং তুরস্কের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের প্রতি আমরা আমাদের সমর্থন জানাই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ সকালে আমাদের নিজস্ব বৈঠকে আলোচনা করেছি এবং একমত হয়েছি যে বাংলাদেশ তুরস্কের মতো বন্ধুদের সঙ্গে সহযোগিতা, শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ভাগ করে নেওয়া সমৃদ্ধি প্রচারের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং আমাদের দুদেশের মানুষের স্থিতিশীল উন্নয়ন। আমরা জোর দিয়ে বলছি, এই সফর বাংলাদেশ তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসেছে এবং সহযোগিতা গভীর এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে উভয়ের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির পরিচয় দেয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগ নিয়ে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিল্প অংশীদারত্বের লক্ষ্যে বিনিয়োগ, তুরস্কের বিনিয়োগ প্রচার সংস্থার সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য আমরা তুর্কি সহযোগিতা সংস্থার সহযোগিতা সম্প্রসারণের অনুরোধ জানাই। আমরা তুরস্কের সম্ভাব্য বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেছি যেমন টেক্সটাইল ও অ্যাপারেলস, প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইসিটি, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ। আমরা প্রস্তাব করছি যে তুরস্ক ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট তৈরি করতে পারে। আমরা আপনাকে আরও বেশি করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃত্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। বর্তমানে প্রায়  ৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকরা তুরস্কে বসবাস করছেন এবং তাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দুই দেশের মধ্যে ছাত্র বিনিময়সহ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এর জন্য আমি হাকান ফিদানকে সহযোগিতা, সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।

এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট। আমি নিজে আমার পূর্ববর্তী অবতারে রোহিঙ্গা বিষয়গুলির জন্য উচ্চ অনুতপ্ত ছিলাম। আমি এই সমস্যার পরিধি এবং গুরুত্ব খুব বুঝতে পারি। গত সপ্তাহে জাতিসংঘে আমি আমাদের অগ্রাধিকার রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন বলে জানিয়েছিলাম। ৯ বছর পেরিয়ে গেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সংকট সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক গুরুতর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা রয়েছে তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের অবশ্যই পদক্ষেপগুলো একত্রিত করতে হবে। আমরা কৃতজ্ঞ যে তুরস্ক এই সংকট সমাধানে মানবিক সহায়তা এবং কূটনৈতিক সহায়তা দিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।

কালের আলো/এসএকে