বলিউড অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এ গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয়ের ঘোষণা আসার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ছবিটি নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার পাশাপাশি তেলেগু ও হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পের কাজের পরিবেশ নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী।
রাকুলের মতে, তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পে শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আন্তরিকতা এবং ঐক্যের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা বলিউডে তুলনামূলকভাবে অনেক কম দেখা যায়। তাঁর ভাষায়, প্রতিযোগিতা দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই আছে, তবে তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পে সেই প্রতিযোগিতা কখনোই সহকর্মীদের প্রতি সমর্থন বা সৌহার্দ্যকে বাধাগ্রস্ত করে না।
নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাকুল বলেন, তাঁর অভিনয়ের আসল প্রশিক্ষণ হয়েছে তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে তিনি এমন একটি পরিবেশ দেখেছেন, যেখানে সবাই একে অপরের সাফল্যকে উদযাপন করেন।
তিনি বলেন, “আমার কাজের প্রশিক্ষণ তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পে হয়েছে। সেই ইন্ডাস্ট্রি খুবই ঐক্যবদ্ধ। সেখানে প্রতিযোগিতা অবশ্যই আছে, কিন্তু মানুষ একে অপরের ছবিকেও সমর্থন করে। আমরা একে অপরের ছবির স্ক্রিনিং ও প্রিমিয়ারে যেতাম, সিনেমা নিয়ে আলোচনা করতাম এবং সাফল্যের অনুষ্ঠানেও অংশ নিতাম। সেখানে কে যাচ্ছে, তাই আমাকেও যেতে হবে—এমন মানসিকতা ছিল না। বরং সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে একে অপরকে সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকত।”
অভিনেত্রীর মতে, এই পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতিই তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে মুম্বাইয়ে এসে তিনি ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন। রাকুলের দাবি, বলিউডে অনেকের মধ্যেই এক ধরনের অনিরাপত্তাবোধ কাজ করে, যার কারণে অন্যের সাফল্যকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি বলেন, “মুম্বাইয়ে এসে আমার মনে হয়েছিল সবাই এত প্রতিযোগিতাপূর্ণ কেন? আমার মনে হয়, বলিউডেও যদি আমরা তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পের মতো মানসিকতা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে পুরো ইন্ডাস্ট্রি আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু অনিরাপত্তাবোধ মানুষকে সেটা করতে দেয় না। এটি এমন একটি বিষয়, যার ওপর প্রত্যেকেরই কাজ করা উচিত।”
রাকুলের এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির কাজের ধরন ও সংস্কৃতি ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক।
সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘রামায়ণ’-এর ট্রেলার উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাকুল প্রীত সিং। অনুষ্ঠানের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তিনি লেখেন,
“এমন একটি প্রকল্পের অংশ হতে পারা সত্যিই গর্বের। এটি জীবনের চেয়েও বড়, সিনেমার চেয়েও বড়। এটি আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের ‘রামায়ণ’। আমরা বিশ্বের সামনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দর্শকেরা কবে আমাদের সঙ্গে এই জগতে প্রবেশ করবেন, সেই অপেক্ষায় আছি।”
রাকুল এই ছবিতে রাবণের বোন শূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় করছেন। পৌরাণিক কাহিনির অন্যতম জটিল ও শক্তিশালী এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে তিনি বিশেষভাবে উচ্ছ্বসিত।
নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত ‘রামায়ণ’ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় বাজেটের প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ছবিটি দুই পর্বে মুক্তি পাবে।
প্রথম পর্ব মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৬ সালের দীপাবলিতে, আর দ্বিতীয় পর্ব আসবে ২০২৭ সালের দীপাবলিতে।
সবশেষে রাকুলকে দেখা গেছে ‘পতি পত্নী অউর ও ২’ ছবিতে। মুদাসসর আজিজ পরিচালিত এই কমেডি চলচ্চিত্রে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন আয়ুষ্মান খুরানা, ওয়ামিকা গাব্বি এবং সারা আলী খান।
তবে এখন তাঁর পুরো মনোযোগ ‘রামায়ণ’ ঘিরেই। বিশাল বাজেট, তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী এবং মহাকাব্যিক উপস্থাপনার কারণে ছবিটি ইতোমধ্যেই ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে প্রতীক্ষিত প্রকল্পগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। আর সেই ছবির অংশ হতে পেরে নিজেকে গর্বিত বলেই জানিয়েছেন রাকুল প্রীত সিং।
কালের আলো/এসএ
আপনার মতামত লিখুন
Array