খুঁজুন
                               
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

পিস্তল, দুই শটগান; যুবদল নেতা হত্যার দৃশ্য ধরা পড়ল সিসি ক্যামেরায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
পিস্তল, দুই শটগান; যুবদল নেতা হত্যার দৃশ্য ধরা পড়ল সিসি ক্যামেরায়

চট্টগ্রামের রাউজানের ব্যস্ত চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫)। হত্যাকাণ্ডের পর আতঙ্ক সৃষ্টি করতে অস্ত্রধারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো ঘটনাটি বাজারের বিভিন্ন সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদুল পাশের উপজেলা রাঙ্গুনিয়ার যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পাঁচ থেকে সাতজন অস্ত্রধারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাজারে আসে। তাদের মধ্যে একজনের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল, অন্যদের মুখ স্পষ্ট দেখা গেছে। হামলাকারীদের তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের হাতে শটগান ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকা থেকে অটোরিকশায় করে চৌমুহনী বাজারে আসেন মাসুদুল। তাকে অনুসরণ করে আরেকটি অটোরিকশায় করে বাজারে পৌঁছায় অস্ত্রধারীরা। বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়ানোর পর খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, গুলির আঘাতে মাসুদুলের মাথায় গুরুতর ক্ষতি হয়। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় কয়েকজনকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, কেউ যেন কাছে না আসে এবং দোকানপাট বন্ধ করে চলে যায়। পরে তারা অটোরিকশায় করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আধা কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত। বাজারজুড়ে ৩০টির বেশি সিসি ক্যামেরা থাকলেও প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত মাসুদুলের বড় ভাই মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাসুদুল।

হত্যার পর মাসুদুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোববার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা বালু ব্যবসা কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য নিহতের পরিবারকে থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বাজারজুড়ে আতঙ্ক

ঘটনার পরপরই চৌমুহনী বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে চলে যান। সন্ধ্যার পর খোলা থাকা বেশিরভাগ দোকানও বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মাবুদ বলেন, দিনের বেলায় এত বড় গোলাগুলির ঘটনা আগে দেখেননি। তার মতে, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। বাজারে অসংখ্য সিসি ক্যামেরা থাকার পরও অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে দ্বিধা করেনি।

উল্লেখ্য, প্রায় দেড় মাস আগে একই ধরনের হামলায় রাউজানের কদলপুর এলাকার শমসের পাড়ায় যুবদলকর্মী মুহাম্মদ নাসির নিহত হন। ঘটনাস্থলটি চৌমুহনী বাজার থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে অন্তত ২৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৮টির পেছনে রাজনৈতিক বিরোধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষে সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মাসুদুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন থেকে চারজনের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই রাউজানের বাসিন্দা। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো তাদের কোনো দলীয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তারা বেতাগী দিক থেকে এসে রাউজানের কদলপুরের পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে পালিয়ে গেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদে হিজাব নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে রাবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ২:৫০ পূর্বাহ্ণ
সংসদে হিজাব নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে রাবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় এমপি মনিরুল হক কর্তৃক হিজাব নিয়ে কটাক্ষের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবির।

রবিবার (১৪ জুন) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে উক্ত বিক্ষোভ মিছিল আয়োজিত হয়।

এসময় তারা ‘পর্দা মায়ের অধিকার, কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কার’, ‘হিজাব নিকাব বিদ্বেষ, রুখে দাও বাংলাদেশ’, ‘ইসলামের শত্রুরা হুঁশিয়ার সাবধান’—এমন স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভে হিজাব নিয়ে এমন মন্তব্যকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে মন্তব্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। মুখে ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা বলে তারা হিজাবের বেলায় তা অস্বীকার করে। এমন ইসলামবিদ্বেষীদের কাছ থেকে আমাদের ইসলাম শিখতে হবে না বলে মন্তব্য করেন নেতাকর্মীরা।

শাখা ছাত্রশিবিরের দাওয়াহ সম্পাদক ও মতিহার হল সংসদের ভিপি তাজুল ইসলাম বলেন, “যে বিএনপি আগে মজলুম ছিল, সেই বিএনপি আজ ক্ষমতা পেয়ে ইসলামবিদ্বেষী রূপে আবির্ভূত হয়েছে। বিএনপি আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী, হিজাববিদ্বেষী রূপ ধারণ করেছে। আপনারা আজকে সংসদে দেখেছেন মনিরুল হক কীভাবে কটূক্তি করেছেন। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এই কটূক্তির তীব্র নিন্দা জানাই।”

শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, “মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বোরকা ও হিজাব নিয়ে কটূক্তি করেছেন।

ইসলামী ছাত্রশিবির এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। নির্বাচনের আগে আপনারা বলেছিলেন, মদিনার সনদের আদলে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। মাথায় টুপি পরে দেশের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু আজ আমরা দেখছি, জাতীয় সংসদে গিয়ে আপনারাই ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনারাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছেন। মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে আমরা ধরে নেব, এটি শুধু তার ব্যক্তিগত বক্তব্য নয়, বরং বিএনপির অবস্থানেরই প্রতিফলন।”

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “আজ সংসদে পর্দা সম্পর্কে যে কটূক্তি করা হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে বিএনপি শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, দলীয়ভাবেও ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে।

বিএনপি নিজেদের, জনগণের এবং দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান না করে সারাক্ষণ সংসদে বিরোধী দলের দোষ খুঁজে বেড়ায়।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলাম শুধু জামায়াতে ইসলামীর নয়, ইসলাম শুধু ছাত্রশিবিরেরও নয়। আজ পর্দার বিরুদ্ধে কথা বলে সারা বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। পর্দার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া বিএনপি একদিন জনগণের কাছে অবাঞ্ছিত ঘোষিত হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ

দেশের চলমান ব্যাংক সংকট ও গ্রাহকদের বিক্ষোভের মুখে তুমুল আলোচনায় থাকা ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৪ জুন) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

আরও জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে (সাবেক ডেপুটি গভর্নর) এস আলম গ্রুপের সহযোগী আখ্যা দিয়ে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ও সাধারণ গ্রাহকরা বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ ও সাত দফা দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এছাড়া ব্যাংকের পর্ষদ নিয়ে অস্থিরতা ও আস্থার সংকটের কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা মাত্র ৫ দিনেই প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলে নেন।

২০১৭ সালে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়, যার বড় অংশই ওই গ্রুপটি নিয়েছিল।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হলেও সম্প্রতি নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর থেকে আবার বিতর্ক শুরু হয়। যা সম্প্রতি আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ইসলামী ব্যাংকে সম্পর্কে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি ব্যাংকটির পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যে জামায়াতের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যে জামায়াতের উদ্বেগ

ঢাকাস্থ ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যকে বাংলাদেশের অখণ্ডতা বিরোধী বক্তব্য উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (১৪ জুন) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে এ দেশের জনগণ অতীতের ন্যায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা কূটনৈতিক শিষ্টাচার, আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি এবং রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মানবোধের পরিপন্থি।

বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণকে একীভূত জনসংখ্যার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং এমন কিছু মন্তব্য করা, যা বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রসত্তা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণার জন্ম দিতে পারে- তা কোনো দায়িত্বশীল কূটনীতিকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। তার এ মন্তব্যে সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে দেশের জনগণ মনে করে।

তিনি বলেন, দীনেশ ত্রিবেদী ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন- আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেওয়া। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। আমাদের সরকারের কাছে বিষয়টির মর্যাদাপূর্ণ সুরাহা চাই।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। কোনো পক্ষের আধিপত্যবাদী বা কর্তৃত্ববাদী মনোভাব এ সম্পর্কের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।

ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ করছি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি