খুঁজুন
                               
, ,
           

আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি। বাজেটের প্রতিটি বিষয়ই মূলত একেকটি প্রত্যক্ষ নীতির প্রতিফলন।

আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, বিভিন্ন নীতির মাধ্যমে দেশের সব নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলন’ তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের একটি প্লেনারি সেশনে অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, করনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নীতিনির্ধারকদের করব্যবস্থাকে একটি কার্যকর প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করা। এজন্য এমন একটি দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ দল প্রয়োজন, যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করনীতি পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, আমরা একটি নতুন পথ তৈরি করেছি। যে সংস্থা নীতি ও করব্যবস্থা চূড়ান্ত করবে, তাদের সিদ্ধান্তে অবশ্যই জনগণের মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে। নীতির মূল অর্থই হলো—এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথমত একটি নীতিনির্ধারণী সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে। সেখানে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বিভাজন থাকবে। আপনি যদি সঠিকভাবে নীতি প্রণয়ন করতে পারেন, তাহলে বাস্তবায়নের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, আমরা বাজেটকে যতটা সম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি। দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রয়োজন ও স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়েই নীতিগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এর চেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, আমার এক বন্ধু মজা করে আমাকে কিছুটা বামপন্থী-ঘেঁষা নীতির অনুসারী বলেছিলেন, কারণ আমরা ব্যাপক কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যারা দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে বা অবহেলিত ছিলেন, তাদের মূলধারায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি কীভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। এখানেই সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিককে অর্থনীতির মূল স্রোতে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের গ্রামীণ কারিগর, নাট্যশিল্পী, গায়ক, ডিজাইনার ও চিত্রশিল্পীদের মতো সৃজনশীল পেশাজীবীরা এতদিন অর্থনীতির মূলধারার বাইরে ছিলেন। তাদের পণ্য ও সৃজনশীল কাজের যথাযথ আর্থিক মূল্যায়নের সুযোগও ছিল না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই একজন গ্রামীণ কারিগর, যিনি মাটির পাত্র তৈরি করেন, কাপড় বোনেন কিংবা অন্য কোনো পণ্য উৎপাদন করেন, তিনি যেন সহজ শর্তে ঋণ পান, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পান এবং পণ্যের নকশা ও ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা পান। পাশাপাশি আমরা এমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছি, যা অ্যামাজন বা ইবের মতো বৈশ্বিক বাজারে তাদের পণ্য পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটেই সৃজনশীল অর্থনীতির বিষয়টি কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা ছোট পরিসরে শুরু করেছি, তবে ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল সম্পদও এর আওতায় আসবে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য যারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন, তারাও এই উদ্যোগের অংশ হবেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন একটি ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে চাই, যা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, আমাদের নীতিতে একটি ‘লাইফ সাইকেল অ্যাপ্রোচ’ থাকবে। একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা এমন একটি জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যা দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ সৃজনশীল অর্থনীতি থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে। উদাহরণ হিসেবে থাইল্যান্ডকে উল্লেখ করা যায়। আশির দশকে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুব শক্তিশালী ছিল না, কিন্তু সৃজনশীল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ছাড়াও বিডার কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পরিবেশ বাঁচিয়ে পোকা দমনে নতুন ভরসা পার্চিং

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
পরিবেশ বাঁচিয়ে পোকা দমনে নতুন ভরসা পার্চিং

রংপুরের কাউনিয়ায় আমন ধানক্ষেতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পার্চিং পদ্ধতি। জমিতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি কিংবা ধইঞ্চা গাছ স্থাপন করে পোকাখেকো পাখিদের বসার ব্যবস্থা করছেন কৃষকেরা। এসব পাখি ধানের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। এতে কীটনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব কমছে।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাউনিয়ায় পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কীটনাশক বা বালাইনাশক কেনার খরচ প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ফলে কম খরচে ধান চাষের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কাউনিয়ার কৃষকেরা মূলত দুই ধরনের পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন—ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং। ডেড পার্চিং পদ্ধতিতে ধানক্ষেতের আইল বা জমির বিভিন্ন স্থানে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি কিংবা খুঁটি পুঁতে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, লাইভ পার্চিংয়ে ধইঞ্চা বা অন্য কোনো জীবিত গাছ লাগিয়ে পাখিদের বসার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়।

এসব ডাল ও গাছের ওপর বসে ফিঙে, শালিক, বুলবুলি ও দোয়েলসহ বিভিন্ন পোকাখেকো পাখি ধানক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খায়। এতে জমিতে রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের সবুজ মাঠের মধ্যে কোথাও ধানের শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে। দিগন্তজোড়া ধানক্ষেতের মাঝে চোখে পড়ে ধইঞ্চা গাছ, গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চি। সেগুলোর ওপর বসে পাখিদের পোকামাকড় ধরতে দেখা যায়। কৃষকেরা জানান, পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে একদিকে যেমন কীটনাশক কেনার খরচ কমছে, অন্যদিকে পরিবেশও তুলনামূলকভাবে দূষণমুক্ত থাকছে। পাখির বিষ্ঠা জমিতে প্রাকৃতিক জৈব উপাদান হিসেবে যোগ হয়ে মাটির উর্বরতা বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে।

নিজপাড়া গ্রামের কৃষক নাছির উদ্দিন বলেন, পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এটি পরিবেশবান্ধব এবং খরচও অনেক কম। এ কারণে তারা কীটনাশকের পরিবর্তে এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। গদাই গ্রামের ধানচাষি শাহজাহান মণ্ডল বলেন, এবার তাদের জমির ধান বেশ সবুজ ও সতেজ হয়েছে। পুরো ক্ষেতেই পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তিনি। আর কিছুদিন পর সোনালি ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমন ধানের ক্ষতিকর পোকামাকড়ের মধ্যে রয়েছে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা ও লেদা পোকার মথ। পার্চিংয়ের ওপর বসা পাখিরা এসব পোকার বিভিন্ন পর্যায়ের কীট ও কীড়া ধরে খায়। ফলে পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তাদের বংশবিস্তার কমাতে এ পদ্ধতি সহায়তা করতে পারে।

কৃষি বিভাগের মতে, পার্চিং পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো—এতে বাড়তি রাসায়নিক উপকরণ কেনার প্রয়োজন হয় না। সহজলভ্য গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি দিয়েই পাখির বসার ব্যবস্থা করা যায়। ফলে বিশেষ করে সীমিত পুঁজির কৃষকেরা কম খরচে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমন মৌসুমের শুরুতেই কৃষকেরা এ প্রাকৃতিক পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন। ধানের চারা রোপণের ২০ দিনের মধ্যে জমিতে পার্চিং স্থাপন করা প্রয়োজন। পোকার আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই এটি স্থাপন করলে পোকা দমনে উপকার পাওয়া যায়। তিনি জানান, প্রতি বিঘা বা ৩৩ শতক আমন জমিতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গাছের ডাল কিংবা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেওয়া উচিত। এগুলোর উচ্চতা ধানগাছের সর্বোচ্চ উচ্চতার চেয়ে কমপক্ষে এক ফুট বেশি হওয়া দরকার। এতে পাখিরা সহজে বসতে পারে এবং ধানক্ষেতের ওপর নজর রাখতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সালাহউদ্দিন জানান, চলতি আমন মৌসুমে কাউনিয়ায় ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৫৫ টন। তিনি বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের মাঠের অবস্থা বেশ ভালো। এতে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষক এবার পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকদের এ পদ্ধতির উপকারিতা সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে আগের তুলনায় বেশি জমিতে পার্চিং ব্যবহার করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, কম খরচে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকা দমন, কীটনাশকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতির ব্যবহার আরও বাড়ানো গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। সহজলভ্য উপকরণ ও পাখির প্রাকৃতিক ভূমিকা কাজে লাগিয়ে কাউনিয়ার কৃষকেরা আমন ধান চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা নবাবগঞ্জের খামারিরা

দিনাজপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা নবাবগঞ্জের খামারিরা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় গোখাদ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন গরু পালনকারী কৃষক ও খামারিরা। খড়, ভুসি ও সবুজ ঘাস কিনতে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে তাদের। এতে বেড়ে গেছে গরু পালনের ব্যয়, কমে আসছে লাভের পরিমাণ। বিশেষ করে অল্প পুঁজি নিয়ে গরু পালন করা প্রান্তিক খামারিরা পড়েছেন বেশি চাপে। খামারিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নতুন ধানের প্রতিটি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। ভুসির বস্তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, নেপিয়ার ঘাসের প্রতিটি চারা কিনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। বাড়তি দামে এসব খাদ্য কিনে দুধ উৎপাদন ও গরু মোটাতাজাকরণে লাভের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন বহু পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসার চালান, আবার কেউ গরু মোটাতাজা করে বিক্রির মাধ্যমে বাড়তি আয় করেন। কিন্তু গোখাদ্যের দাম বাড়তে থাকায় এসব খামারের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পশুখাদ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, সে অনুপাতে দুধের বিক্রিমূল্য কিংবা গরুর বাজারদর বাড়ছে না। ফলে খামারিদের লাভ কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনেকেই গরু পালনে আগ্রহ হারাতে পারেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নবাবগঞ্জে ৯৫টি দুগ্ধ খামার, ৮৫টি ছাগলের খামার ও ৩৮টি ভেড়ার খামার রয়েছে। এসব খামারের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত।

উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুন্দন গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি সাহেব আলী বলেন, গরুর খাবারের ব্যবস্থা করতেই এখন তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের খাবার কেনা যেত, এখন সেই টাকায় অনেক কম খাবার পাওয়া যায়। গরুকে না খাইয়ে রাখার সুযোগ নেই। ফলে সংসারের অন্যান্য খরচের পাশাপাশি পশুখাদ্যের টাকা জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাহেব আলী জানান, বর্তমানে নতুন ধানের প্রতিটি আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে গরু পালনের দৈনন্দিন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। দুধ উৎপাদনকারী খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল বলেন, গরুর খাবারের খরচ বেড়ে গেলে দুধ বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। নিয়মিত খাবার দিতে না পারলে দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে বেশি দাম দিয়েই খাবার কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগে ভুসির বস্তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। বর্তমানে তা প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি নেপিয়ার ঘাসের প্রতিটি চারার দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

গরুর খাবারের ব্যয় শুধু খড় ও ভুসি কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে খৈল, সবুজ ঘাস, শ্রমিকের মজুরি, চিকিৎসা ও পরিচর্যার খরচও যুক্ত রয়েছে। বাড়তি ব্যয় সামলাতে গিয়ে কোনো খামারি খাবারের পরিমাণ বা মান কমিয়ে দিলে গবাদিপশুর পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে গরুর ওজন বৃদ্ধি, দুধ উৎপাদন ও প্রজননক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকেও দুর্বল করতে পারে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মানিক রহমান বলেন, খাদ্যের ঘাটতি হলে গরুর ওজন, দুধ উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই খামারিদের সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নিয়মিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। খাদ্যের দাম কিংবা সরবরাহ নিয়ে সমস্যা হলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, গবাদিপশুর জন্য শুধু খড় দিলেই হবে না। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস, পরিষ্কার পানি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম দানাদার খাবার দিতে হবে। খামারিরা বাড়ির আশপাশে নেপিয়ারসহ উপযোগী ঘাস চাষ করতে পারেন। পাশাপাশি মৌসুমে খড় সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করলে সংকটের সময় পশুখাদ্যের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, গোখাদ্যের বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি খামারিদের ঘাস চাষে প্রশিক্ষণ, উন্নত পদ্ধতিতে খড় সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী পশুখাদ্য উৎপাদনে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন কৃষকের সম্পদ, পরিবারের বাড়তি আয়ের উৎস এবং অনেকের জীবিকার অবলম্বন। তাই গোখাদ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়তে পারে দুধ উৎপাদন ও স্থানীয় খামার ব্যবস্থায়। খামারিদের প্রত্যাশা, সাশ্রয়ী দামে পশুখাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

রাজধানীতে ৪৩ মামলা, গ্রেপ্তার ৬৬২ জন

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ৪৩ মামলা, গ্রেপ্তার ৬৬২ জন

রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও আমদানিনিষিদ্ধ নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪০ জন রয়েছেন। এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৯৩ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৯২ জন, মতিঝিল বিভাগে ৮২ জন, লালবাগ বিভাগে ৭৮ জন, গুলশান বিভাগে ৭৮ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৭ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে ছয়জনকে।

অভিযানকালে পুলিশ একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাকু, ৪ হাজার ৬২১ পিস ইয়াবা, ৭১২ গ্রাম গাঁজা এবং ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ৩০০ বোতল আমদানিনিষিদ্ধ অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্য ইস্কাফ, একটি মোটরসাইকেল, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৩ হাজার ৮২০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ডিএমপি জানায়, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি