খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা বাজেটকে যথাসম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি। বাজেটের প্রতিটি বিষয়ই মূলত একেকটি প্রত্যক্ষ নীতির প্রতিফলন।

আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, বিভিন্ন নীতির মাধ্যমে দেশের সব নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলন’ তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের একটি প্লেনারি সেশনে অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, করনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নীতিনির্ধারকদের করব্যবস্থাকে একটি কার্যকর প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করা। এজন্য এমন একটি দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ দল প্রয়োজন, যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করনীতি পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, আমরা একটি নতুন পথ তৈরি করেছি। যে সংস্থা নীতি ও করব্যবস্থা চূড়ান্ত করবে, তাদের সিদ্ধান্তে অবশ্যই জনগণের মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে। নীতির মূল অর্থই হলো—এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথমত একটি নীতিনির্ধারণী সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে। সেখানে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বিভাজন থাকবে। আপনি যদি সঠিকভাবে নীতি প্রণয়ন করতে পারেন, তাহলে বাস্তবায়নের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, আমরা বাজেটকে যতটা সম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি। দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রয়োজন ও স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়েই নীতিগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এর চেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, আমার এক বন্ধু মজা করে আমাকে কিছুটা বামপন্থী-ঘেঁষা নীতির অনুসারী বলেছিলেন, কারণ আমরা ব্যাপক কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যারা দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে বা অবহেলিত ছিলেন, তাদের মূলধারায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি কীভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। এখানেই সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিককে অর্থনীতির মূল স্রোতে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের গ্রামীণ কারিগর, নাট্যশিল্পী, গায়ক, ডিজাইনার ও চিত্রশিল্পীদের মতো সৃজনশীল পেশাজীবীরা এতদিন অর্থনীতির মূলধারার বাইরে ছিলেন। তাদের পণ্য ও সৃজনশীল কাজের যথাযথ আর্থিক মূল্যায়নের সুযোগও ছিল না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই একজন গ্রামীণ কারিগর, যিনি মাটির পাত্র তৈরি করেন, কাপড় বোনেন কিংবা অন্য কোনো পণ্য উৎপাদন করেন, তিনি যেন সহজ শর্তে ঋণ পান, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পান এবং পণ্যের নকশা ও ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা পান। পাশাপাশি আমরা এমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছি, যা অ্যামাজন বা ইবের মতো বৈশ্বিক বাজারে তাদের পণ্য পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটেই সৃজনশীল অর্থনীতির বিষয়টি কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা ছোট পরিসরে শুরু করেছি, তবে ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল সম্পদও এর আওতায় আসবে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য যারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন, তারাও এই উদ্যোগের অংশ হবেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন একটি ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে চাই, যা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, আমাদের নীতিতে একটি ‘লাইফ সাইকেল অ্যাপ্রোচ’ থাকবে। একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা এমন একটি জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যা দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ সৃজনশীল অর্থনীতি থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে। উদাহরণ হিসেবে থাইল্যান্ডকে উল্লেখ করা যায়। আশির দশকে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুব শক্তিশালী ছিল না, কিন্তু সৃজনশীল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ছাড়াও বিডার কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সামাজিক মূল্যবোধ ও আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
সামাজিক মূল্যবোধ ও আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, মানুষের সামাজিক মূল্যবোধ ও আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি। তিনি বলেন, জনসচেতনতা সৃষ্টিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও চিত্র (রিলস) তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। নারীর প্রতি সম্মান, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়গুলো এই উদ্যোগে বিশেষ প্রাধান্য পাবে।

শনিবার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশন’ (আইসিএফ)-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেবল মানব আচরণই নয়, বরং পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধ জাগিয়ে তুলতেও তথ্য মন্ত্রণালয় কাজ করবে। এছাড়া সড়ক ব্যবহারের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাস্তাঘাট নোংরা না করার মতো মৌলিক নাগরিক দায়িত্বগুলো প্রাথমিক স্তর থেকেই মানুষকে শেখানোর দরকার। তিনি রাস্তায় যত্রতত্র থুথু না ফেলা এবং ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে আমাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যেকোনো বয়স্ক মানুষকে অপমান করাকে অনেকে ‘স্মার্টনেস’ মনে করে, যা সম্পূর্ণ ভুল এবং অন্যায়।

মানুষের আচরণগত ও অভ্যাসগত নেতিবাচক পরিবর্তনের কারণে সমাজে অল্প বয়সেই নানা জটিল রোগ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার নতুন স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিচর্যাকে বিশেষ ফোকাস দিচ্ছে। সুস্থ থাকার জন্য সবাইকে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করার আহ্বান জানান তিনি।

ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নওফেল জমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এবং জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

অনুষ্ঠানে নাগরিক আচরণ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর দুটি তথ্যবহুল ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

কালের আলো/এম/এএইচ

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Oplus_131072

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। টাকার কাছে কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নিজ তহবিল থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল সেবার নামে মানুষে হয়রানি করে আসছিল। তাদের এই অন্যায়ে সাপোর্ট করছে জামায়াতের নেতারা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার পাইলটিং স্কিমের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেওয়ার চিন্তা করছে। যেখানে প্রতিটা ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবার লোক যাবে। তারা গিয়ে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর যদি মনে করে হাসপাতালে নিতে হবে তবেই একজন রোগীকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। এভাবে দেশব্যাপী সবার চিকিৎসাব্যবস্থাকে সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার দুর্নীতি করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। আমরা একটি ব্যতিক্রমধর্মী সরকার চালাচ্ছি। দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের সেবা করতে চাই আমরা। চায়নার সহযোগিতায় আমরা ৩ হাজার বেডের দুইটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করতে যাচ্ছি। যেখানে শিশু ও নারীদের চিকিৎসা সেবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সজীব মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড আবদুল হান্নান প্রমুখ।

কালের আলো/এসএকে

ক্যাবল অপারেটরদের সিন্ডিকেট ভাঙলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী, বিটিভিতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
ক্যাবল অপারেটরদের সিন্ডিকেট ভাঙলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী, বিটিভিতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল

বিশ্বকাপ ফুটবলের রঙে রঙিন গোটা দুনিয়া। বিশ্বজয়ের দামামায় মর্যাদার মঞ্চে খেলছে ৪৮ দেশ। ইতিহাসের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও রোমাঞ্চকর ফুটবল উৎসবের খেলা বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) নামমাত্র খরচে সরাসরি সম্প্রচার করার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সম্প্রচারস্বত্বের জটিলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সিণ্ডিকেটের অভিযোগের অবসান ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু ক্যাবল অপারেটরদের চালবাজিতে অনেকেই বিটিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল না দেখতে পাওয়ার অভিযোগ তুলেন। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এ নিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ করিম নিজের ফেসবুক আইডিতে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।

সামাজিক মাধ্যমের সেই পোস্ট সরাসরি নজরে আসে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর। অভিযোগ আমলে নিয়ে সরাসরি অ্যাকশনে যান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বিটিভির ডিডিজিকে (উপ-মহাপরিচালক) ফোন করে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগীর সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন বিটিভির কর্মকর্তারাও। তাঁরা একই সঙ্গে অপারেটর ও ফিড অপারেটরদের কাছে গিয়ে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং করা হয় পুরো বিষয়টি। সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এভাবেই তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ভেঙে যায় ক্যাবল অপারেটরদের সিণ্ডিকেট। এখন দর্শকরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিটিভিতে উপভোগ করছেন আনন্দের ফুটবল মহারণ। স্বভাবতই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তড়িৎ গতিতে সমস্যার সমাধান করায় তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সেই সাংবাদিকও।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিকাব) সাবেক সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ করিম গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন-‘শান্তিবাগে বিটিভি অফ করে দিয়েছে ক্যাবল অপারেটর। বিশ্বকাপ দেখতে পারছি না। ক্যাবল অপারেটররা সিন্ডিকেট করেছে।’ এই পোস্টটি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর দৃষ্টিতে আসার পর তিনি ক্যাবল অপারেটরদের স্বেচ্ছাচারিতা ও সিণ্ডিকেট ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় আদাজল খেয়ে মাঠে নামেন বিটিভির কর্মকর্তারা।

এর পরের গল্পও শুক্রবার (১২ জুন) আরেকটি ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরেন সাংবাদিক মাসুদ করিম। সেখানে তিনি বলেন, ‘কাল বিশ্বকাপ চলাকালে শান্তিবাগে আমার টিভি সেটে বিটিভি দেখা যাচ্ছিল না। আমি বিষয়টি আমার ক্যাবলের ফিড অপারেটরকে জানাই। তিনি আমাকে টি স্পোর্টসে খেলা দেখার অনুরোধ করেন। আমি তখন তাকে আমার বাসায় আসতে বলি। তিনি এলে আমি তাকে বলি যে, আপনি অন্য চ্যানেল দেখতে বলছেন কেন। তিনি তখন কিছুক্ষণ রিমুট টিপে বলেন যে, বিটিভি আসছে না। এটা পাওয়া যাবে না। আমি বিষয়টি বিটিভিতে আমার বন্ধু মোস্তাফিজ ও অনুজ পন্নিকে জানানোর পর জানতে পারলাম ক্যাবল অপারেটররা সিন্ডিকেট করেছে। তারা অনেক জায়গাতেই টি স্পোর্টসে খেলা দেখতে বলছে। পন্নির নিজের টিভিতেও একই সমস্যা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পন্নি আমাকে বলল, আপনাকে বিটিভি থেকে একজন ফোন করবে।

বিটিভির লাইসেন্স শাখার একজন ফোন করে জানতে চাইলেন, বিটিভি দেখা যাচ্ছে কিনা। আমি দেখলাম, দেখা যাচ্ছে। আমি লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা ও পন্নিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিটিভিতে খেলা দেখতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি, একই সমস্যা। বিটিভি দেখা যাচ্ছে না। অগত্যা আমি বিরক্ত হয়ে ফেসবুকে অপারেটরদের বিটিভি দেখাতে গড়িমসি জানিয়ে একটি পোষ্ট দিলাম।’ জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক আরও লিখেছেন-‘আমাকে বিটিভি থেকে জানাল মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিটিভির ডিডিজিকে ফোন করেছেন বিষয়টি তদন্ত করার জন্য। বিটিভির কর্মকর্তারা আমাকে একের পর এক ফোন দিচ্ছেন। আমি তাদের বলেছি, বিটিভি দেখা যাচ্ছে। তবুও তারা অপারেটর ও ফিড অপারেটরদের কাছে যাচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপে অভিভূত সাংবাদিক, প্রশংসা নেটিজেনদের
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ নাগরিকের সমস্যাকে যেভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমলে নেয়া হয়েছে, তাতে অভিভূত হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তার ফেসবুক পোস্টের শেষে আরও লিখেছেন-‘মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার পরিচয় নাই। তবুও তিনি যে সমস্যাটাকে আমলে নিয়েছেন তা দেখে আমি অভিভূত। সকল মন্ত্রী এভাবে কাজ করলে আমাদের নাগরিকদের অনেক সমস্যাই দূর করা সম্ভব। ধন্যবাদ, মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী!’

এই পোস্টটি রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। সেখানে নেটিজেনরা বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করছেন। আফরাইম রহমান প্রান্ত নামের একজন লিখেছেন- ‘বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে পরলাম, খুব ভালো লাগলো বিষয়টি। ধন্যবাদ মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে।’ এমডি রনি লিখেছেন-‘একজন নাগরিকের সামান্য অভিযোগ যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেয়, তবে সেটিই জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের ইতিবাচক উদাহরণ। গণমাধ্যমের অবাধ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সেবাদাতাদেরও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা জরুরি। ঘটনাটি প্রমাণ করে, সদিচ্ছা ও তৎপরতা থাকলে নাগরিক ভোগান্তি নিরসন অসম্ভব নয়।’ এখানে মন্তব্য করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মহিউদ্দিন আহমেদও। তিনি লিখেছেন-‘দেশের কারো যেন বিটিভিতে খেলা দেখতে সমস্যা না হয় সেজন্য গতকাল রাতে আমি নিজে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নির্দেশক্রমে কোয়াবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেছি এবং অনুরোধ করা হয়েছে এমনটি যেন আর কোথাও না ঘটে।’ জামিল রহমান নামে আরেকজনের মন্তব্য-‘সব সেক্টরের সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে আপনার মতো মানুষদের প্রতিবাদ গ্রহণযোগ্য হবে। ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্য। আমরাই পারবো সিন্ডিকেটদের বয়কট করতে।’

কালের আলো/এমএএএমকে