খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্যাবল অপারেটরদের সিন্ডিকেট ভাঙলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী, বিটিভিতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
ক্যাবল অপারেটরদের সিন্ডিকেট ভাঙলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী, বিটিভিতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল

বিশ্বকাপ ফুটবলের রঙে রঙিন গোটা দুনিয়া। বিশ্বজয়ের দামামায় মর্যাদার মঞ্চে খেলছে ৪৮ দেশ। ইতিহাসের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও রোমাঞ্চকর ফুটবল উৎসবের খেলা বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) নামমাত্র খরচে সরাসরি সম্প্রচার করার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সম্প্রচারস্বত্বের জটিলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সিণ্ডিকেটের অভিযোগের অবসান ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু ক্যাবল অপারেটরদের চালবাজিতে অনেকেই বিটিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল না দেখতে পাওয়ার অভিযোগ তুলেন। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এ নিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ করিম নিজের ফেসবুক আইডিতে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।

সামাজিক মাধ্যমের সেই পোস্ট সরাসরি নজরে আসে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর। অভিযোগ আমলে নিয়ে সরাসরি অ্যাকশনে যান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বিটিভির ডিডিজিকে (উপ-মহাপরিচালক) ফোন করে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগীর সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন বিটিভির কর্মকর্তারাও। তাঁরা একই সঙ্গে অপারেটর ও ফিড অপারেটরদের কাছে গিয়ে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং করা হয় পুরো বিষয়টি। সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এভাবেই তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ভেঙে যায় ক্যাবল অপারেটরদের সিণ্ডিকেট। এখন দর্শকরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিটিভিতে উপভোগ করছেন আনন্দের ফুটবল মহারণ। স্বভাবতই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তড়িৎ গতিতে সমস্যার সমাধান করায় তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সেই সাংবাদিকও।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিকাব) সাবেক সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ করিম গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন-‘শান্তিবাগে বিটিভি অফ করে দিয়েছে ক্যাবল অপারেটর। বিশ্বকাপ দেখতে পারছি না। ক্যাবল অপারেটররা সিন্ডিকেট করেছে।’ এই পোস্টটি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর দৃষ্টিতে আসার পর তিনি ক্যাবল অপারেটরদের স্বেচ্ছাচারিতা ও সিণ্ডিকেট ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় আদাজল খেয়ে মাঠে নামেন বিটিভির কর্মকর্তারা।

এর পরের গল্পও শুক্রবার (১২ জুন) আরেকটি ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরেন সাংবাদিক মাসুদ করিম। সেখানে তিনি বলেন, ‘কাল বিশ্বকাপ চলাকালে শান্তিবাগে আমার টিভি সেটে বিটিভি দেখা যাচ্ছিল না। আমি বিষয়টি আমার ক্যাবলের ফিড অপারেটরকে জানাই। তিনি আমাকে টি স্পোর্টসে খেলা দেখার অনুরোধ করেন। আমি তখন তাকে আমার বাসায় আসতে বলি। তিনি এলে আমি তাকে বলি যে, আপনি অন্য চ্যানেল দেখতে বলছেন কেন। তিনি তখন কিছুক্ষণ রিমুট টিপে বলেন যে, বিটিভি আসছে না। এটা পাওয়া যাবে না। আমি বিষয়টি বিটিভিতে আমার বন্ধু মোস্তাফিজ ও অনুজ পন্নিকে জানানোর পর জানতে পারলাম ক্যাবল অপারেটররা সিন্ডিকেট করেছে। তারা অনেক জায়গাতেই টি স্পোর্টসে খেলা দেখতে বলছে। পন্নির নিজের টিভিতেও একই সমস্যা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পন্নি আমাকে বলল, আপনাকে বিটিভি থেকে একজন ফোন করবে।

বিটিভির লাইসেন্স শাখার একজন ফোন করে জানতে চাইলেন, বিটিভি দেখা যাচ্ছে কিনা। আমি দেখলাম, দেখা যাচ্ছে। আমি লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা ও পন্নিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিটিভিতে খেলা দেখতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি, একই সমস্যা। বিটিভি দেখা যাচ্ছে না। অগত্যা আমি বিরক্ত হয়ে ফেসবুকে অপারেটরদের বিটিভি দেখাতে গড়িমসি জানিয়ে একটি পোষ্ট দিলাম।’ জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক আরও লিখেছেন-‘আমাকে বিটিভি থেকে জানাল মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিটিভির ডিডিজিকে ফোন করেছেন বিষয়টি তদন্ত করার জন্য। বিটিভির কর্মকর্তারা আমাকে একের পর এক ফোন দিচ্ছেন। আমি তাদের বলেছি, বিটিভি দেখা যাচ্ছে। তবুও তারা অপারেটর ও ফিড অপারেটরদের কাছে যাচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপে অভিভূত সাংবাদিক, প্রশংসা নেটিজেনদের
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ নাগরিকের সমস্যাকে যেভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমলে নেয়া হয়েছে, তাতে অভিভূত হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তার ফেসবুক পোস্টের শেষে আরও লিখেছেন-‘মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার পরিচয় নাই। তবুও তিনি যে সমস্যাটাকে আমলে নিয়েছেন তা দেখে আমি অভিভূত। সকল মন্ত্রী এভাবে কাজ করলে আমাদের নাগরিকদের অনেক সমস্যাই দূর করা সম্ভব। ধন্যবাদ, মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী!’

এই পোস্টটি রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। সেখানে নেটিজেনরা বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করছেন। আফরাইম রহমান প্রান্ত নামের একজন লিখেছেন- ‘বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে পরলাম, খুব ভালো লাগলো বিষয়টি। ধন্যবাদ মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে।’ এমডি রনি লিখেছেন-‘একজন নাগরিকের সামান্য অভিযোগ যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেয়, তবে সেটিই জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের ইতিবাচক উদাহরণ। গণমাধ্যমের অবাধ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সেবাদাতাদেরও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা জরুরি। ঘটনাটি প্রমাণ করে, সদিচ্ছা ও তৎপরতা থাকলে নাগরিক ভোগান্তি নিরসন অসম্ভব নয়।’ এখানে মন্তব্য করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মহিউদ্দিন আহমেদও। তিনি লিখেছেন-‘দেশের কারো যেন বিটিভিতে খেলা দেখতে সমস্যা না হয় সেজন্য গতকাল রাতে আমি নিজে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নির্দেশক্রমে কোয়াবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেছি এবং অনুরোধ করা হয়েছে এমনটি যেন আর কোথাও না ঘটে।’ জামিল রহমান নামে আরেকজনের মন্তব্য-‘সব সেক্টরের সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে আপনার মতো মানুষদের প্রতিবাদ গ্রহণযোগ্য হবে। ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্য। আমরাই পারবো সিন্ডিকেটদের বয়কট করতে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে তারা।

ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। তারপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।

৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে,  মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা মিলেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিতে ৫৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলটি করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তবে ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। তার পর ৯০+২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে স্কোর ২-১ করেছে আর্জেন্টিনা।

দলীয় আক্রমণের মাধ্যমে যার সূচনা করেন হ্যারি কেইন। মাঝমাঠে নেমে মরগান রজার্সকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ক্লিয়ারেন্সে তা প্রতিহত করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে বিপদ কাটাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফিরতি বল কুড়িয়ে নিয়ে ডেকলান রাইস সেটি বাড়ান রজার্সের কাছে। ইংলিশ উইঙ্গারের নিখুঁত ক্রসে বক্সে দারুণভাবে জায়গা করে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর এক ছোঁয়ায় এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে দেন জালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল করেছে ইংল্যান্ডই।

প্রথমার্ধ গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪৭ মিনিটে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের লম্বা ক্লিয়ারেন্স থেকে দুর্দান্তভাবে বল নামিয়ে দেন জুলিয়ানো সিমিওনে। সেখান থেকে বল পেয়ে ডিজেড স্পেন্সকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন হুলিয়ান আলভারেজ।

তার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে বিপদ তখনও কাটেনি। ফিরতি বল আবারও পেয়ে যান আলভারেজ। কিন্তু তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ইংল্যান্ডের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় থ্রি লায়ন্স।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্রেফ মারামারির একটি খেলা প্রত্যক্ষ করছে ফুটবল সমর্থকরা। যে ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনো গোল হলো না। তবে দ্বিতীয়ার্দের ১০ মিনিট যেতে না যেতেই আর্জেন্টিনার জালে বল প্রবশে করালো ইংল্যান্ড। ডানপ্রান্ত থেকে মরগ্যান রজার্সের দারুণ একটি ক্রস বাম কোন দিয়ে আলতো টোকায় আর্জেন্টিনার জালে জড়ান অ্যান্থোনি গর্ডন।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রত্যাশিতভাবেই জমে উঠেছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার মহারণ। তবে গোলের দেখা মেলেনি প্রথম ৪৫ মিনিটে। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গোলশূন্য প্রথমার্ধে দুই দলই একে অপরকে চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ভাঙতে পারেনি কেউ।

বরং প্রথমার্ধজুড়ে আলোচনায় ছিল একের পর এক শক্ত ট্যাকল, উত্তেজনা, হলুদ কার্ড এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে ইংল্যান্ডের কড়া মার্কিং।

খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দল শারীরিক লড়াইয়ে নেমে পড়ে। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই জুদ বেলিংহ্যামকে ট্যাকল করে ফাউল করেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। এরপর মেসি, বেলিংহ্যাম, অ্যান্ডারসন ও এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে মাঝমাঠে কয়েকবার উত্তেজনা তৈরি হয়।

 

প্রথম ১০ মিনিটেই আর্জেন্টিনা চারটি ফাউল করে, যা চলতি বিশ্বকাপে কোনো দলের প্রথম ১০ মিনিটে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাউলের রেকর্ড।

প্রথমার্ধের বড় একটি সময় দুই দলই একে অপরকে আটকে রাখে মাঝমাঠে। ২০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও কোনো দলই উল্লেখযোগ্য শট নিতে পারেনি।

 

ইংল্যান্ড কিছুটা বেশি সংগঠিত ফুটবল খেললেও হ্যারি কেইন কার্যত ম্যাচের বাইরে ছিলেন। প্রথম ২৮ মিনিটে ইংলিশ অধিনায়কের বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি, যা মাঠের সব খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে কম।

ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন পুরো প্রথমার্ধে মেসিকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেন। কয়েকবার বল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি শক্ত ট্যাকলও করেন তিনি।

৩৭ মিনিটে মেসি ড্রিবল করে কয়েকজনকে কাটিয়ে এগোতেই অ্যান্ডারসনের করা ট্যাকলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে ধরেন। কিছুক্ষণ উত্তেজনা চললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি ইসমাইল এলফাথ। এই ফাউলের জন্য ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন অ্যান্ডারসন।

৩২ মিনিটে জুদ বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে ইংল্যান্ড প্রায় এগিয়েই গিয়েছিল। ডেকলান রাইসের দারুণ ভাসানো বলে জন স্টোনস লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে হেড করেন। তবে বল জালের পাশ ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে ৩৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার সেরা সুযোগ আসে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে। ছোট পাসে খেলা শুরু করে পারেদেসের কাছ থেকে বল ফেরত পান মেসি। তার শট হ্যারি কেইনের গায়ে লেগে ফিরে আসে এনজো ফার্নান্দেজের কাছে। দূরপাল্লার জোরালো শটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি, কিন্তু বল অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৪২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকা মর্গান রজার্সকে টেনে থামিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এতে ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হলুদ কার্ড দেখেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার।

প্রথমার্ধে গোল না হলেও উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। দুই দলই রক্ষণে ছিল দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ, তবে আক্রমণে শেষ মুহূর্তের ধারালো স্পর্শের অভাব ছিল স্পষ্ট। রেফারি তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করলেও সেই সময়েও গোলের দেখা মেলেনি। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই বিশ্বশক্তি।

এখন দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য, আর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারে যে কোনো দল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি