খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

দুর্নীতি কমাতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
দুর্নীতি কমাতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন: অর্থমন্ত্রী

দুর্নীতি কমাতে নতুন পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়নে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অভাবে থাকলে মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়। বেতন বাড়ালে সরকারি চাকরিজীবীদের চাহিদা পূরণ হবে। এতে দুর্নীতি কমে আসবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতিসহ দীর্ঘ ১১ বছর তাদের কোনো ইনক্রিমেন্ট (পে-স্কেল) হয় না। এদিকে সবকিছু দাম বেড়েছে। এটার তো সমন্বয় করতে হয়। সরকারি কর্মচারী বলে তাদের কষ্ট পেতে হবে, এটা হয় না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি, তাদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দুর্নীতি কমে আসবে। তাদের আয় বাড়বে এবং জীবনযাত্রা উন্নত হবে। এতে এমনিতেই দুর্নীতি কমে আসবে।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ কাল, প্রস্তুত লালদিঘীর ময়দান

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ কাল, প্রস্তুত লালদিঘীর ময়দান

আগামীকাল ১৩ জুন শনিবার চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা ও মাইকিং চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

তিনি বলেন, ‘সমাবেশকে ঘিরে ১১ দলীয় ঐক্যের অনেক শীর্ষ নেতা এখন চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মহানগরী সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগরী আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন।’

জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মহানগরী সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, এলডিপির মহানগরী সভাপতি সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহানগরী সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, খেলাফত মজলিসের মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা রিদোয়ানুল হক ও জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা মুবিনুল হক, লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মো. আফসার উদ্দিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনৈতিক কোনো সংস্কার হবে না।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতা বিবর্জিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না। বরং এটি সরকারের উচ্চাভিলাষী বাজেট।’

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।’

সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করছি। তারই অংশ হিসেবে লালদিঘীর ময়দানে এই সমাবেশ।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সেই প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।’

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও জবাবদিহিতার সংকট জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’

তিনি আরও বলেন, বাজেট-পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ থেকে ১১ জুন বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন শেষে যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে সম্মেলনটি সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ সম্মেলন বিদ্যমান সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

আলোচনায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম ও মানব পাচার প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় প্রাণহানি, অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, আস্থা-নির্মাণমূলক পদক্ষেপ এবং সীমান্তজুড়ে উদ্ভূত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা সমন্বিত টহল আরও জোরদার করা, সতর্কতা বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত-সংক্রান্ত আইন ও বিধি সম্পর্কে সীমান্তবাসীকে সচেতন করা এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিদ্রোহী কার্যকলাপ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পক্ষদ্বয় সম্মেলনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত নিশ্চিত করতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং পেশাগত সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

১১ জুন যৌথ আলোচনাপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্মেলনটি ইতিবাচক পরিবেশে সমাপ্ত হয়। উভয় প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে, গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতাগুলো দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়াবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন ২০২৬ সালের নভেম্বরে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

সংকটের অর্থনীতিতে এই বাজেট স্বস্তির বার্তা: বিকেএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
সংকটের অর্থনীতিতে এই বাজেট স্বস্তির বার্তা: বিকেএমইএ

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে শিল্প ও বিনিয়োগকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। তবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ ঋণসুদ এবং কিছু করনীতির বিষয়ে উদ্বেগও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এসব বলেন। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পের দুটি প্রধান প্রত্যাশা ছিল করব্যবস্থার সংস্কার এবং চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আমদানি সহজীকরণ। এ দুটি ক্ষেত্রেই সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সন্তোষজনক হয়েছে।

বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর সুবিধা সম্প্রসারণ এবং মধ্যমেয়াদি নীতিকাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার উদ্যোগ শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, মাউন্টিং স্ট্রাকচার ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর কর সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

মোহাম্মদ হাতেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পখাতের দাবি ছিল উৎসে কর্তিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয়, বহন বা ফেরতের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা। বাজেটে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। কারণ সময়মতো এআইটি সমন্বয় বা ফেরত না হলে ব্যবসার কার্যকর মূলধন আটকে যায়, তারল্য সংকট তৈরি হয় এবং ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়।

রপ্তানিমুখী নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবকেও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখা এবং বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

তবে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কর আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির মতে, বর্তমানে দেশে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান এ পণ্য উৎপাদন করে, যার উৎপাদন মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা যেন রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগী সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

বাজেটে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগের পথে জ্বালানি সংকট এখনও অন্যতম বড় বাধা। সৌরবিদ্যুৎ আংশিক সমাধান দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

উচ্চ ঋণসুদকেও শিল্প বিনিয়োগের বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব নয়। ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানান মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো শিল্পভূমি, মূলধন সহায়তা, শ্রমিক মজুরি সহায়তা এবং রপ্তানি প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে। ফলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশকেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাজেটে কিছু আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে সংকটে থাকা ও বন্ধ কারখানাগুলোর জন্য সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সামগ্রিকভাবে বাজেটের নীতিগত দিককে ইতিবাচক উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সহজ ও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে এসব উদ্যোগ বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্প পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন