খুঁজুন
                               
, ,
           

বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর: সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের সাফল্য এর আকার বা উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার ওপর নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংস্থাটি বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বাজেট নতুন সরকারের জন্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মতামত তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অনুষ্ঠানে সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, এটি নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এবং এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে, যখন দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ আশানুরূপ নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতও নানা দুর্বলতায় আক্রান্ত।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও জ্বালানি সংকট এখনো অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এই বাস্তবতায় বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিপিডির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের মূল দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি মনে করে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহ, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি সতর্ক করে বলেছে, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই সফলতা আসে না। বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকলে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না। তাই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাজেটের লক্ষ্য পূরণে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলো দক্ষতার সঙ্গে প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বাজেট নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় সুযোগ। সরকার যদি বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে নিট বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত হচ্ছে রূপপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত হচ্ছে রূপপুর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রথম ইউনিটের বিভিন্ন পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট শুরু হওয়ায় প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলোর অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে হলে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ধাপগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুটি ইউনিটের কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রকল্পটির সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি ইউনিট চালুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, রূপপুর তৃতীয় প্রজন্মের আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেও প্রকল্পটি সঠিক পথে রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সম্ভাব্য সময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুবিধা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলে জানানো হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিউক্লিয়ার মেডিসিনভিত্তিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা বাড়াতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান অর্জন, নতুন ধারণা তৈরি এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে দেশীয় উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও পণ্যকে বাজারজাত করা এবং সেগুলোর রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ এবং মো. আব্দুল গফুর অংশ নেন।

এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে সভাপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচিতি পর্ব এবং পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বিমানবন্দর-উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
বিমানবন্দর-উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর বিমানবন্দর ও উত্তরার জসীমউদ্‌দীন এলাকায় চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালেও বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান বেতন দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যসহ জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিমানবন্দর-উত্তরায় যান চলাচলে বিঘ্ন

বৃহস্পতিবার উত্তরার একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁদের অবস্থান ও বিক্ষোভের কারণে বিমানবন্দর ও জসীমউদ্‌দীন এলাকার সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ এবং দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা অনন্যা পরিবহনের যাত্রী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, যানজট এড়াতে তিনি ভোরেই রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দর এলাকায় এসে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে আছেন। কখন সড়ক ছাড়বে এবং কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা বুঝতে পারছেন না।

রাইদা পরিবহনের যাত্রী শেহজাদ আহমেদ বলেন, বাড্ডায় অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে রওনা হয়েছেন। কত দূর যেতে পারবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী আবারও আন্দোলন

এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে বিমানবন্দর ও জসীমউদ্‌দীন এলাকার বিভিন্ন স্থানে কয়েক শ পোশাকশ্রমিক জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বুধবারের কর্মসূচি সম্পর্কে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সকাল থেকে বিমানবন্দর থেকে জসীমউদ্‌দীন পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কয়েক শ পোশাকশ্রমিক অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালানোর ঘোষণা

বুধবার আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছিলেন, সেদিনের কর্মসূচি শেষ হলেও বৃহস্পতিবার আবারও তাঁরা সড়কে নামবেন। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছিলেন তাঁরা।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবারও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের মূল দাবি, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। শ্রমিকদের ভাষ্য, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা বাড়ানো প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থা ভালো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থা ভালো

মালয়েশিয়ায় প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে স্ত্রী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো বলে জানিয়েছেন ব্যক্তিগত সহকারী সচিব মিজানুর রহমান সোহেল।

তিনি বলেন, “স্যার চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। এখন অনেকটাই সুস্থ।”

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফলোআপ চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া যান মির্জা আব্বাস। সেখানে তিনি প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছিলেন তিনি।

গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে মির্জা আব্বাসকে রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরে দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নেন তিনি। সর্বশেষ ফলোআপ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি