খুঁজুন
                               
, ,
           

বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর: সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের সাফল্য এর আকার বা উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার ওপর নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংস্থাটি বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বাজেট নতুন সরকারের জন্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মতামত তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অনুষ্ঠানে সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, এটি নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এবং এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে, যখন দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ আশানুরূপ নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতও নানা দুর্বলতায় আক্রান্ত।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও জ্বালানি সংকট এখনো অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এই বাস্তবতায় বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিপিডির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের মূল দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি মনে করে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহ, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি সতর্ক করে বলেছে, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই সফলতা আসে না। বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকলে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না। তাই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাজেটের লক্ষ্য পূরণে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলো দক্ষতার সঙ্গে প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বাজেট নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় সুযোগ। সরকার যদি বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে নিট বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

তিন সন্তান হত্যার মামলায় লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
তিন সন্তান হত্যার মামলায় লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে তিন সন্তান হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে চলা বিচার বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। জুরি বোর্ড কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিচারক উইলিয়াম সুলিভান মিসট্রায়াল ঘোষণা করেন।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ১২ সদস্যের জুরি আলোচনা করেও ক্ল্যান্সিকে তিন সন্তান হত্যার জন্য ফৌজদারি দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

মার্কিন আইনে গুরুতর ফৌজদারি মামলায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করতে জুরিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। প্রসিকিউশনকেও আসামির অপরাধ ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ প্রমাণ করতে হয়।

জুরি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তাকে ‘হাং জুরি’ বলা হয়। এর অর্থ, জুরি আসামিকে দোষী বা নির্দোষ—কোনোটিই ঘোষণা করতে পারেনি। ফলে মামলার অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো রায়ও হয়নি।

মিসট্রায়াল ঘোষণার পর ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ বহাল রয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রসিকিউশন নতুন করে বিচার চাইবে কি না, নাকি অন্য কোনো পদক্ষেপ নেবে, তা জানানো হতে পারে।

প্লাইমাউথ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টিমোথি ক্রুজ জানিয়েছেন, মামলাটি পুনরায় বিচার করা হবে কি না, সে বিষয়ে তারা আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

অন্যদিকে ক্ল্যান্সির আইনজীবী কেভিন রেডিংটন মিসট্রায়াল ঠেকাতে এবং জুরিদের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেন। তিনি একজন জুরিকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদনও করেছিলেন। আগের দিন জুরিরা জানিয়েছিলেন, ওই সদস্য ‘যুক্তিসংগত সন্দেহ’ সম্পর্কিত আদালতের নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ করছেন না।

তবে বিচারক সেই আবেদন নাকচ করে জুরিদের আবার আলোচনায় পাঠান। প্রায় এক ঘণ্টা পর জুরিরা আদালতে ফিরে জানান, তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। এরপর বিচারক মিসট্রায়াল ঘোষণা করেন।

রেডিংটন পরে সিদ্ধান্তটি স্থগিত রেখে জরুরি আপিলের সুযোগ চাইলেও ম্যাসাচুসেটসের সর্বোচ্চ আদালত তার আবেদন নাকচ করে দেন।

২০২৩ সালে ম্যাসাচুসেটসের নিজ বাড়িতে ক্ল্যান্সির তিন সন্তান—৫ বছর বয়সী কোরা, ৩ বছর বয়সী ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালান—মারা যায়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ক্ল্যান্সি শিশুদের গলায় ব্যায়ামের ব্যান্ড পেঁচিয়ে হত্যা করেন।

সন্তানদের মৃত্যুর পর ক্ল্যান্সি নিজেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দেওয়ার ঘটনায় তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন।

ক্ল্যান্সি সন্তানদের হত্যার ঘটনা অস্বীকার করেননি। তবে তিনটি ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবীদের যুক্তি, সন্তানদের হত্যার সময় তিনি গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে হত্যার জন্য তাকে ফৌজদারি দায়ে দায়ী করা উচিত নয়।

প্রসিকিউশন অবশ্য দাবি করেছে, ক্ল্যান্সিই তার তিন সন্তানকে হত্যা করেছেন এবং হত্যার সময় নিজের কর্মকাণ্ডের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ছিল।

মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রসবোত্তর সাইকোসিস ও সন্তান জন্মের পর নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিচার চলাকালে ক্ল্যান্সির সমর্থকেরা নিয়মিত আদালতের বাইরে জড়ো হন। তাদের অনেকেই গোলাপি পোশাক পরে উপস্থিত হন এবং নিজেদের প্রসবোত্তর অভিজ্ঞতা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান।

মামলাটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। শুক্রবার তিনি ঘটনাটিকে “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে আবারও বিচার হতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তি হবে, সে সিদ্ধান্ত আদালতের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা বিচার শেষে জুরিরা সাত দিনে ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় আলোচনা করেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

মিসট্রায়ালের পর এখন মূল প্রশ্ন—প্রসিকিউশন কি লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে নতুন করে বিচার চাইবে, নাকি মামলাটি অন্য কোনোভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবে।

সূত্র:বিবিসি

কালের আলো/এসএ

সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনী প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনী প্রধান

সরকারি সফরে সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সফরকালে নৌবাহিনী প্রধান সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ, রয়েল সৌদি নেভাল ফোর্সের প্রধান এবং মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স কোয়ালিশন কমান্ডারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করবেন তারা।

সৌদি আরব অবস্থানকালে নৌবাহিনী প্রধান বিভিন্ন সামরিক ও নৌ স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। একই সঙ্গে দুই দেশের নৌবাহিনীর পেশাগত সম্পর্ক, প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করবেন।

আইএসপিআর আশা করছে, নৌবাহিনী প্রধানের এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ফেসওয়াশ-ক্রিমের বাইরে পুরুষের ত্বকের যত্নে জরুরি যে বিষয়গুলো

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
ফেসওয়াশ-ক্রিমের বাইরে পুরুষের ত্বকের যত্নে জরুরি যে বিষয়গুলো

পুরুষের ত্বকের যত্ন বলতে অনেকেরই প্রথমে মনে আসে ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার কিংবা শেভিংয়ের পর ব্যবহারের ক্রিম। তবে শুধু বাইরে থেকে প্রসাধনী ব্যবহার করলেই ত্বক সুস্থ রাখা সম্ভব নয়। ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শরীরের ভেতর থেকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি।

পুরুষের ত্বক সাধারণত নারীদের তুলনায় কিছুটা পুরু ও বেশি তৈলাক্ত হয়ে থাকে। রোমকূপও তুলনামূলক বড় হতে পারে। পাশাপাশি টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাব ও নিয়মিত শেভ করার কারণে অতিরিক্ত তেল, ব্রণ কিংবা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা মোকাবিলায় ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে শুধু ত্বকের জন্য নিজের ইচ্ছায় বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

ত্বকের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে কোলাজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন তৈরির পরিমাণ কমে যায়। কিছু গবেষণায় কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট ত্বকের আর্দ্রতা ও টানটান ভাব ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সবার জন্য এটি প্রয়োজনীয় নয়।

ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি-ও গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। আমলকি, পেয়ারা, কমলালেবু, লেবু ও ক্যাপসিকামের মতো খাবারে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

ত্বকে প্রদাহের প্রবণতা থাকলে খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস রাখা যেতে পারে। এটি শরীরে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ত্বকের গঠন ও ক্ষত সারানোর প্রক্রিয়ায় জিঙ্ক প্রয়োজনীয় একটি খনিজ। তবে ব্রণ বা ত্বকের কোনো সমস্যা দেখা দিলেই নিজের ইচ্ছায় জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া বাদাম ও বীজসহ বিভিন্ন খাবারে থাকা ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। বায়োটিনের ঘাটতি থাকলেও ত্বক শুষ্ক, খসখসে বা লালচে হয়ে যেতে পারে।

ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও ভিটামিন ডি প্রয়োজন। এর ঘাটতি থাকলে ত্বকে প্রদাহ বাড়তে পারে এবং ক্ষত সারতে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে ঘাটতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণা চলছে। তাই খাদ্যতালিকায় প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে।

শেভ করার পর ত্বকে শুষ্কতা বা টানটান ভাব দেখা দিলে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

তবে ত্বকের সুস্থতার জন্য কোনো একটি উপাদান বা সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রসাধনী ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো ভিটামিন বা মিনারেলের ঘাটতি নিশ্চিত না করে একাধিক সাপ্লিমেন্ট নিজে থেকে শুরু করা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।

অর্থাৎ, পুরুষের ত্বকের যত্ন শুধু ফেসওয়াশ বা ক্রিম ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নয়। বাইরে থেকে যত্নের পাশাপাশি শরীরের ভেতর থেকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারলেই ত্বক সতেজ ও সুস্থ রাখা সম্ভব।

কালের আলো/এমএসআইপি