খুঁজুন
                               
, ,
           

চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ঝাড়খন্ড ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। তাই দেশের চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম সম্প্রতি নগর ভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা ওই এলাকার মধ্যেই চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় গিয়ে যাতে যানজট সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দিন ও সড়কভিত্তিক চলাচলের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

তিনি বলেন, রিকশার সমস্যাটা কোত্থেকে আসলো, কীভাবে আসলো- সেটা বের করে সমাধান করতে হবে। এই সমস্যাটাও আমাদেরই, আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকেই সমাধান করতে হবে।

আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের রাস্তায় বর্তমানে এদিক-সেদিক, উল্টো দিকসহ বিভিন্নভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশা চালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন ও চলাচলের শৃঙ্খলা মানছে না। ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অযাচিত যানজট আরও বাড়ছে।

রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসে ফুটপাত ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান নিচ্ছে।

কেউ রিকশা চালাচ্ছে, আবার কেউ ভ্যান নিয়ে সবজি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছে। এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের ঢাকামুখী প্রবেশ নগরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষকে কি আমরা ঢাকা শহরে জায়গা দিতে পারব? এটাও তো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ কারণে রিকশা ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন আব্দুস সালাম।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এসব রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। এজন্য ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ডেমরার একটা রিকশা কোনোভাবেই নিউ মার্কেটে যেতে পারবে না। অঞ্চলভিত্তিক আমরা ভাগ করে দেব। ভাগ করে দিয়ে তাদেরকে হয়তো দিনও ভাগ করে দেব। কিছু কিছু রাস্তা ভাগ করে দেব, কিছু কিছু রাস্তায় যাতে তারা একেবারেই চলাচল করতে না পারে-সেই জায়গাটা ঠিক করে দেব।

তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে রিকশা চালাতে পারবে না। কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে চলাচল করা কিংবা ডেমরা থেকে নদী পার হয়ে রিকশা নিয়ে অন্য এলাকায় চলে আসার কোন সুযোগ থাকবে না। একইভাবে উত্তর সিটির রিকশাও নির্বিচারে এই এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।

আব্দুস সালাম বলেন, আমরা অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে দেব। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আমরা এই বিষয়টিকে একটি পদ্ধতির মধ্যে আনতে চাই। সেটার জন্য তো কিছুটা সময় লাগবে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা চাই।

তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আইন প্রণয়ন করে সিটি কর্পোরেশনের কাছে পাঠানোর পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।

রিকশার পাশাপাশি বাস চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ঈদের আগে যত্রতত্র বাস থামানো এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যত্রতত্র যাতে বাস থামাতে না পারে, যত্রতত্র যেখান সেখান থেকে যাতে যাত্রী উঠাতে না পারে-এটাও একটা সিস্টেমে আনতে হবে।

আব্দুস সালাম বলেন, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কিছু সময় দেওয়া হয়েছে এবং এখন পরিবহন ব্যবস্থাকেও একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কাজ চলছে। আশা করি, কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা পদ্ধতির মধ্যে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ।

নগরীর যানজট ও অব্যবস্থাপনার জন্য শুধু প্রশাসন বা সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী না করে নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হওয়ারও আহ্বান জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য, সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, এ নীতিমালা সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচলে শৃঙ্খলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন কার্যক্রমের ফলে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হবে।

তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালা সময়োপযোগী করে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রচলিত বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসএকে

AI কি এবার মানুষের অনুমতির জায়গা নিচ্ছে? কীভাবে কাজ করবে? নিরাপত্তা কতটা?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
AI কি এবার মানুষের অনুমতির জায়গা নিচ্ছে? কীভাবে কাজ করবে? নিরাপত্তা কতটা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এখন শুধু মানুষের নির্দেশ পালনকারী সফটওয়্যার নয়; ধীরে ধীরে নিজেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করছে। এরই নতুন উদাহরণ দেখা গেল Anthropic-এর AI কোডিং টুল Claude Code-এ। আজ ১৪ আগস্ট থেকে Pro, Max ও Team প্ল্যানে নতুন সেশনের জন্য Claude Code-এর Auto Mode ডিফল্ট হিসেবে চালু হচ্ছে। ফলে কোডিংয়ের সময় AI-এর প্রতিটি কাজের জন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে আলাদা অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

মানুষের অনুমতির পদ্ধতিটিকে একটি স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা দিয়ে প্রতিস্থাপন করছে Claude Code। আগে AI কোনো কমান্ড চালাতে চাইলে ব্যবহারকারীর কাছে অনুমতি চাইত। Auto Mode-এ সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অনেকটাই একটি বিশেষ নিরাপত্তা classifier-এর হাতে যাচ্ছে।

এই ব্যবস্থা সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে AI-কে এগিয়ে যেতে দেবে। কিন্তু কোনো কমান্ডকে যদি অপরিবর্তনীয়, ধ্বংসাত্মক বা ব্যবহারকারীর নির্ধারিত পরিবেশের বাইরে যাওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়, তখন সেটি আটকে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

অর্থাৎ মানুষের ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না; বরং প্রতিটি কমান্ডে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার বদলে মানুষকে আগে থেকেই AI-এর কাজের সীমা নির্ধারণ করতে হবে।

Anthropic-এর যুক্তি, মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক অনুমতির অনুরোধ পেলে সতর্কতা হারিয়ে ফেলতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির এক নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় ১ হাজার ৫৩ জন অর্থপ্রদানকারী পেশাদার ব্যবহারকারীকে নিয়ে দেখা যায়, মানুষের ম্যানুয়াল পর্যালোচনায় বিপজ্জনক কমান্ড শনাক্ত হয়েছিল মাত্র ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে। বিপরীতে Auto Mode-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শনাক্ত করতে পেরেছে ৮৯ শতাংশ।

Anthropic আরও জানিয়েছে, Claude Code-এর ব্যবহারকারীরা বাস্তব ব্যবহারে প্রায় ৯৭ শতাংশ অনুমতির অনুরোধ অনুমোদন করে থাকেন। ফলে প্রতিটি কমান্ডে মানুষের অনুমতি নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও সেটি সবসময় কার্যকর নিরাপত্তা তৈরি করছে না।

নতুন ব্যবস্থায় Claude Code কোনো কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট কমান্ড ও পরিস্থিতি একটি স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করবে। ঝুঁকি কম মনে হলে কাজটি চালিয়ে যাবে। বিপজ্জনক বা নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সেটি আটকে দেবে।

এর ফলে একটি বড় কোডিং প্রকল্পে AI দীর্ঘ সময় ধরে নিজে কাজ করতে পারবে। বারবার ব্যবহারকারীর অনুমতির অপেক্ষায় কাজ থেমে থাকবে না। Anthropic-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে AI-ভিত্তিক কোডিং আরও দীর্ঘ সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানো সম্ভব হবে।

Auto Mode মানুষের তুলনায় পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও এটিকে শতভাগ নিরাপদ বলা যাচ্ছে না। AI যে প্রতিটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বরং AI-কে বেশি স্বাধীনতা দেওয়ার সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে prompt injection, ভুল নির্দেশনা, অনিচ্ছাকৃত কমান্ড বা ভুল পরিবেশে কোনো কাজ চালিয়ে দেওয়ার মতো সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। Anthropic-এর সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নগুলোতেও AI মডেলের সক্ষমতার পাশাপাশি বিভিন্ন ঝুঁকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলাদা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

তাই Auto Mode মানুষের তদারকি পুরোপুরি বাতিল করছে না। বরং মানুষের নজরদারির ধরন বদলে দিচ্ছে—প্রতিটি ছোট কাজ অনুমোদনের পরিবর্তে সীমা নির্ধারণ, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল পর্যালোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রযুক্তিবিশ্বে এই পরিবর্তনকে AI agent-এর দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন AI মূলত মানুষের নির্দেশে কোড লিখত। এখন সে কোড লেখা, পরীক্ষা চালানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার মতো ধারাবাহিক কাজও করতে পারছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে। বরং AI যত বেশি স্বায়ত্তশাসিত হচ্ছে, মানুষের দায়িত্ব তত বেশি চলে যাচ্ছে পরিকল্পনা, যাচাই, নিরাপত্তা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত এখানেই—ভবিষ্যতে মানুষ হয়তো AI-কে প্রতিটি কাজের অনুমতি দেবে না; বরং বলে দেবে, “এই সীমার মধ্যে তুমি নিজেই সিদ্ধান্ত নাও।”

Claude Code-এর Auto Mode সেই ভবিষ্যতেরই একটি বাস্তব উদাহরণ।

কালের আলো/এসএ

স্বস্তি নেই বাজারে, চড়ামূল্যে কাটছে ভোক্তার পকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
স্বস্তি নেই বাজারে, চড়ামূল্যে কাটছে ভোক্তার পকেট

বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিত্যপণ্যের বাজারে চলমান অস্বস্তি এখনও কাটেনি। বেশিরভাগ সবজির দামই ৮০ টাকার ওপরে। দুই সপ্তাহ আগেও এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে সব সবজির দাম ৮০ টাকার আশেপাশে রয়েছে। প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, প্রতি কেজি শসা ৬০ টাকায়, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, প্রতি কেজি ধন্দুল ৭০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া, প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, গাজর প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকায়, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকায়,  টমেটো প্রতি কেজি ১২০ টাকা, কঁচু প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা এবং কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা মিশু সরদার বলেন, কাঁচামরিচের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তাই গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কমেছে। তবে অন্যান্য সবজির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।

বাজার করতে এসেছেন সরকারি চাকরিজীবী সিয়াম মল্লা বলেন, সবজির যে পরিমাণের দাম উঠেছে। এতে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে, মসলার বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, আলু ৩০, রসুন ১৫০ ও আদা ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মুরগির বাজারে কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৯০, সোনালি ৩২০-৩৩০, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩৪০ টাকায়। মুরগি বিক্রেতা আরিফ বলেন, বাজারে সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। তাই মুরগির দামও গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, পণ্যের দাম বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বন্যায় দেশের অনেক খামারি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

গরুর মাংস ৮৫০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকায়।

ডিমের বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ টাকা কমেছে দাম। বর্তমানে সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা এবং লাল ডিম ১৪০ টাকা ডজন। ডিম বিক্রেতা বলেন, সরবরাহ বাড়ায় ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। সামনে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে।

চালের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা, বিআর-২৮ ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা ও কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে