খুঁজুন
                               
, ,
           

ফেসবুক ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
ফেসবুক ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশ্বের লাখ লাখ ব্যবহারকারী। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা থেকে এ সমস্যা শুরু হয়।

ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, কম্পিউটার (ওয়েব ভার্সন) কিংবা মোবাইল অ্যাপ–কোনো সংস্করণ দিয়েই ফেসবুকে লগইন করা যাচ্ছে না। অনেকের সেশন হঠাৎ করেই ‘লগআউট’ হয়ে যাচ্ছে। শুধু ফেসবুকই নয়, মেটার মালিকানাধীন অন্য প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারেও কোথাও কোথাও সমস্যা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ওয়েবসাইটের ত্রুটি ও বিভ্রাট নজরদারি করার ওয়েবসাইট ‘ডাউনডিটেক্টর’-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারীরা। ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, ফেসবুকে প্রবেশের চেষ্টা করলেই স্ক্রিনে ‘অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ’ (অ্যাকাউন্ট অস্থায়ীভাবে ব্যবহারযোগ্য নয়) বার্তা দেখানো হচ্ছে।

আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়াসহ বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই এই সমস্যা ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইতিমধ্যে #FacebookDown হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ডিংয়ে পরিণত হয়েছে।

তবে চলতি এই বিভ্রাট নিয়ে মেটা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যার নতুন ভবন চালু হচ্ছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় ভবনটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অধিকাংশ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ভবন চালু হলে হাসপাতালটির মোট শয্যা সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজারে। এতে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে হাসপাতালটির সক্ষমতা আরও বাড়বে।

১৫ তলা ভবনটির নিচের তিনটি তলা বেজমেন্ট হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখানে পার্কিং ও সার্ভিস সেকশনের ব্যবস্থা রয়েছে। ওপরের ১২ তলায় থাকছে ওয়ার্ড, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও রোগ নির্ণয়কেন্দ্র। ভবনটিতে রয়েছে ৪০টি আইসিইউ শয্যা, ২৪টি অস্ত্রোপচার-পরবর্তী শয্যা এবং ১১২টি কেবিন।

নতুন ভবনে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিটও থাকছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের সুবিধা দেওয়া হবে। চারটি অস্ত্রোপচার কক্ষের মধ্যে দুটি মডুলার ওটি। এ ছাড়া রয়েছে ২০ শয্যার এইচডিইউ এবং ৬২টি ভেন্টিলেটর।

চিকিৎসা সুবিধা আরও বাড়াতে ভবনটিতে একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরআই ও দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার জন্য আধুনিক অটোক্লেভ, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সলিড ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেম এবং পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভবনটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রোগী স্থানান্তরের সুবিধায় এক থেকে তিনতলা পর্যন্ত চলন্ত সিঁড়ির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, এখানে সবচেয়ে বেশি স্ট্রোকের রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগী, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া, জিবিএস, মৃগী ও হাইড্রোকেফালাসসহ বিভিন্ন স্নায়ুরোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার নতুন ভবনটির উদ্বোধন করবেন। ভবনটি চালু হলে হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে ফিরিয়ে দিতে হয়। নতুন ভবন চালু হলে আরও বেশি রোগীকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্থাপন করেছিলেন বলেও জানান পরিচালক। তাঁর ভাষ্য, খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তাঁর ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

‘লায়ন’ সিনেমায় আর অভিনয় করছেন না জিৎ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
‘লায়ন’ সিনেমায় আর অভিনয় করছেন না জিৎ

রায়হান রাফীর বহুল আলোচিত সিনেমা ‘লায়ন’ নিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন টালিউড অভিনেতা জিৎ। দুই বছর আগে সিনেমাটির ঘোষণা এলেও এখনো শুটিং শুরু হয়নি। এবার জিৎ জানিয়ে দিলেন, এই সিনেমা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালে জিতের জন্মদিন উপলক্ষে ‘লায়ন’ সিনেমার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরে ভারতীয় প্রযোজক শ্যামসুন্দর দে সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বড় বাজেট ও বৃহৎ পরিসরে নির্মাণের পরিকল্পনার কারণে শুটিং শুরুতে দেরি হচ্ছে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন নির্মাতা রায়হান রাফী।

তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সিনেমাটির কাজ আর এগোয়নি। এর মধ্যেই সিনেমাটি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন জিৎ।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পাওয়া তাঁর নতুন সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর প্রচারণার সময় এক সাক্ষাৎকারে ‘লায়ন’ প্রসঙ্গে কথা বলেন অভিনেতা।

জিৎ জানান, সিনেমাটি আপাতত হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির যে প্রযোজক পরিকল্পনা করছিলেন, তিনি বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতিও প্রকল্পটি আটকে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জিৎ আরও জানান, সিনেমাটির কাজ আবার শুরু করতে আগ্রহী ছিলেন নির্মাতা রায়হান রাফী। তবে সেই প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি। নিজের সিদ্ধান্তের কথা রাফীকেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন বলে জানান অভিনেতা।

রায়হান রাফীর ‘লায়ন’ সিনেমায় জিতের পাশাপাশি অভিনয় করার কথা ছিল বাংলাদেশের অভিনেতা শরিফুল রাজের। সিনেমাটি ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও এতে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।

তবে জিৎ সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেও এ বিষয়ে এখনো নির্মাতা রায়হান রাফীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘লায়ন’ শুটিং ফ্লোরে না গড়ালেও একাধিক প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন রায়হান রাফী। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর পরিচালিত সিনেমা ‘আন্ধার’। এতে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, নাজিফা তুষি, চঞ্চল চৌধুরী, আফসানা মিমি, গাজী রাকায়েত, মোস্তফা মনওয়ার ও তানজিকা আমিনসহ অনেকে।

এ ছাড়া আগামী অক্টোবরে ‘সুড়ঙ্গ ২’ সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আফরান নিশো অভিনীত সিনেমাটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে মুক্তির পরিকল্পনা করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট।

সব মিলিয়ে দুই বছর আগে আলোচনার জন্ম দেওয়া ‘লায়ন’ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আর জিতের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

কালের আলো/এসএ

কেন তরুণরা আবার সাহিত্য উৎসবমুখী?

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
কেন তরুণরা আবার সাহিত্য উৎসবমুখী?

মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের দাপটে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে—এমন আলোচনা বহুদিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু আয়োজন যেন সেই ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলছে। তরুণদের অংশগ্রহণে সাহিত্য উৎসব, লেখালেখির কর্মশালা, বই পড়ার কর্মসূচি ও ক্যাম্পাসভিত্তিক সাহিত্য আয়োজন বাড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ডিজিটাল যুগে তরুণরা কি আবার সাহিত্য ও বইয়ের কাছে ফিরছে?

গত ৮ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-এর প্রথম বার্ষিক সাহিত্য উৎসব। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, পাঠাভ্যাস, সৃজনশীলতা এবং নবীন লেখক তৈরির লক্ষ্যেই আয়োজনটি করা হয়।

শুধু এই একটি আয়োজন নয়, চলতি বছর তরুণদের কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বই পড়া ও সাহিত্যচর্চার নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। জুনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বছরব্যাপী বই পড়া কার্যক্রম শেষে ১৪৫ জন পাঠক-শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ছিলেন।

তরুণদের কাছে সাহিত্য উৎসব এখন কেবল বই কেনাবেচা বা কবিতা শোনার জায়গা নয়। লেখকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, কবিতা পাঠ, গল্প লেখা, আলোচনা, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে একটি সামাজিক অভিজ্ঞতা।

এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহিত্যচর্চার সুযোগ থাকলেও সেখানে পাঠকের সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক অনেক সময় ভার্চুয়াল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে। সাহিত্য উৎসব সেই সম্পর্ককে নিয়ে আসে সামনাসামনি পরিসরে।

তরুণদের জন্য তাই একটি সাহিত্য উৎসব একই সঙ্গে বই, বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতা ও নিজের ভাবনা প্রকাশের জায়গা হয়ে উঠছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অনেক সময় বই পড়ার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবতা কিছুটা ভিন্নও হতে পারে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বইয়ের আলোচনা, লেখকের সাক্ষাৎকার, কবিতা পাঠ কিংবা বইয়ের রিভিউ তরুণদের নতুন বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

অর্থাৎ যে তরুণের হাতে সারাক্ষণ স্মার্টফোন, তিনিই আবার সেই ফোনের মাধ্যমে কোনো লেখক বা বই সম্পর্কে জানতে পেরে বই কিনতে পারেন, সাহিত্য অনুষ্ঠানে যেতে পারেন কিংবা নিজেই লিখতে শুরু করতে পারেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বই পড়ার মাধ্যমে কিশোর-তরুণদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের সাহিত্য উৎসবমুখী হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করতে পারে।

প্রথমত, নিজের কথা বলার জায়গার প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাই কথা বললেও গভীরভাবে নিজের চিন্তা প্রকাশের সুযোগ সীমিত। সাহিত্য সেই জায়গাটি তৈরি করে।

দ্বিতীয়ত, মানসিক বিরতি।

সারাক্ষণ নোটিফিকেশন, ভিডিও ও দ্রুত বদলে যাওয়া কনটেন্টের মধ্যে বই পড়া অনেকের কাছে মনোযোগ ধরে রাখার আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

তৃতীয়ত, কমিউনিটি।

একই ধরনের বই পড়েন বা লেখালেখি করেন—এমন মানুষের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ তরুণদের সাহিত্য আয়োজনের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।

চতুর্থত, নতুন লেখক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

এখন প্রকাশের সুযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেখা প্রকাশের পাশাপাশি সাহিত্য উৎসব ও লেখালেখির কর্মশালা তরুণদের নিজেদের লেখাকে আরও পরিণত করার সুযোগ দিচ্ছে।

এর উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্ক্রিপ্টোরিয়া ন্যাশনাল লিটারারি ফেস্ট’-এর কথাও বলা যায়। সেখানে প্রবন্ধ, গল্প ও গবেষণা প্রস্তাবনা নিয়ে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কর্মশালা, প্যানেল আলোচনা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছিল।

এখানেই কিছুটা সতর্ক হওয়া দরকার। কয়েকটি সাহিত্য উৎসবে তরুণদের বড় উপস্থিতি দেখেই সার্বিকভাবে বলা যায় না যে দেশের তরুণদের বই পড়ার অভ্যাস ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

বরং বলা যায়, সাহিত্যকে তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ধরন বদলাচ্ছে। বইয়ের পাশাপাশি আলোচনা, উৎসব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, লেখকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সৃজনশীল কর্মশালা—সব মিলিয়ে সাহিত্যচর্চার নতুন পরিসর তৈরি হচ্ছে।

জুলাইয়ে শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত ‘বই পড়া উৎসব’-এর লক্ষ্যও ছিল মোবাইল ফোননির্ভর প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা।

সম্ভবত পুরো বিষয়টিকে এভাবেই দেখা যায়। আগে সাহিত্যচর্চাকে অনেক তরুণের কাছে একাকী বা একাডেমিক বিষয় মনে হতে পারে। এখন সেটিই উৎসব, আড্ডা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

ফলে বই শুধু তাকের ওপর রাখা একটি বস্তু নয়; সেটিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে কমিউনিটি ও অভিজ্ঞতা।

ডিজিটাল বিনোদনের এই সময়ে তরুণরা হয়তো প্রযুক্তি থেকে দূরে সরে সাহিত্যে ফিরছে না। বরং প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়েই সাহিত্যের কাছে নতুনভাবে ফিরছে।

আর সেই কারণেই সাহিত্য উৎসবের ভিড়কে শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের দর্শকসংখ্যা হিসেবে না দেখে, তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, পরিচয় ও সৃজনশীলতার পরিবর্তিত অভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

কালের আলো/এসএ