খুঁজুন
                               
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

ময়মনসিংহে হাসপাতালে সাদিয়া আফরিন সামি (২৫) নামে এক গৃহবধুর মরদেহ রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। ঘটনার পর থেকে স্বামী মেহেদী হাসান ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে এই ঘটনা ঘটে। সাদিয়া আফরিন সামি সদর উপজেলার বোরর চর ইউনিয়নের বাড়তিপাড়া এলাকার মেহেদী হাসানের স্ত্রী।

মাদিয়া আফরিন সামির দুলাভাই সাগর বলেন, গতকাল রাত ৯টার দিকে মেহেদী হাসানের ভাই আমাকে ফোন করে জানায়, আপনার শ্যালিকা স্ট্রোক করছে। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ কথা বলেই সে ফোন কেটে দেয়। পরে আমরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে সাদিয়া আফরিন সামির মরদেহ দেখতে পারি।

তবে, তার স্বামী মেহেদী হাসান ও তার পরিবারের লোকজন কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা সাদিয়া আফরিন সামির মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানালে মরদেহ মর্গে পাঠায়। পরে দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পুলিশ মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।

তিনি আরও বলেন, আনুমামিক ৬ বছর আগে মেহেদীর সাথে পারিবারিকভাবে সাদিয়া আফরিন সামির বিয়ে হয়। তাদের ঘরে আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মেহেদী প্রায় আমার শ্যালিকাকে বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলতেন। এসব নিয়ে তাদের পরিবারে কলহ লেগেই থাকত। টাকার জন্য আমার শ্যালিকাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, ওই নারী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। শরীরে কোন আঘাতের চিন্ত নেই। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদে হিজাব নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে রাবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ২:৫০ পূর্বাহ্ণ
সংসদে হিজাব নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে রাবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় এমপি মনিরুল হক কর্তৃক হিজাব নিয়ে কটাক্ষের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবির।

রবিবার (১৪ জুন) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে উক্ত বিক্ষোভ মিছিল আয়োজিত হয়।

এসময় তারা ‘পর্দা মায়ের অধিকার, কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কার’, ‘হিজাব নিকাব বিদ্বেষ, রুখে দাও বাংলাদেশ’, ‘ইসলামের শত্রুরা হুঁশিয়ার সাবধান’—এমন স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভে হিজাব নিয়ে এমন মন্তব্যকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে মন্তব্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। মুখে ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা বলে তারা হিজাবের বেলায় তা অস্বীকার করে। এমন ইসলামবিদ্বেষীদের কাছ থেকে আমাদের ইসলাম শিখতে হবে না বলে মন্তব্য করেন নেতাকর্মীরা।

শাখা ছাত্রশিবিরের দাওয়াহ সম্পাদক ও মতিহার হল সংসদের ভিপি তাজুল ইসলাম বলেন, “যে বিএনপি আগে মজলুম ছিল, সেই বিএনপি আজ ক্ষমতা পেয়ে ইসলামবিদ্বেষী রূপে আবির্ভূত হয়েছে। বিএনপি আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী, হিজাববিদ্বেষী রূপ ধারণ করেছে। আপনারা আজকে সংসদে দেখেছেন মনিরুল হক কীভাবে কটূক্তি করেছেন। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এই কটূক্তির তীব্র নিন্দা জানাই।”

শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, “মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বোরকা ও হিজাব নিয়ে কটূক্তি করেছেন।

ইসলামী ছাত্রশিবির এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। নির্বাচনের আগে আপনারা বলেছিলেন, মদিনার সনদের আদলে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। মাথায় টুপি পরে দেশের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু আজ আমরা দেখছি, জাতীয় সংসদে গিয়ে আপনারাই ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনারাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছেন। মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে আমরা ধরে নেব, এটি শুধু তার ব্যক্তিগত বক্তব্য নয়, বরং বিএনপির অবস্থানেরই প্রতিফলন।”

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “আজ সংসদে পর্দা সম্পর্কে যে কটূক্তি করা হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে বিএনপি শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, দলীয়ভাবেও ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে।

বিএনপি নিজেদের, জনগণের এবং দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান না করে সারাক্ষণ সংসদে বিরোধী দলের দোষ খুঁজে বেড়ায়।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলাম শুধু জামায়াতে ইসলামীর নয়, ইসলাম শুধু ছাত্রশিবিরেরও নয়। আজ পর্দার বিরুদ্ধে কথা বলে সারা বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। পর্দার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া বিএনপি একদিন জনগণের কাছে অবাঞ্ছিত ঘোষিত হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ

দেশের চলমান ব্যাংক সংকট ও গ্রাহকদের বিক্ষোভের মুখে তুমুল আলোচনায় থাকা ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৪ জুন) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

আরও জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে (সাবেক ডেপুটি গভর্নর) এস আলম গ্রুপের সহযোগী আখ্যা দিয়ে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ও সাধারণ গ্রাহকরা বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ ও সাত দফা দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এছাড়া ব্যাংকের পর্ষদ নিয়ে অস্থিরতা ও আস্থার সংকটের কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা মাত্র ৫ দিনেই প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলে নেন।

২০১৭ সালে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়, যার বড় অংশই ওই গ্রুপটি নিয়েছিল।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হলেও সম্প্রতি নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর থেকে আবার বিতর্ক শুরু হয়। যা সম্প্রতি আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ইসলামী ব্যাংকে সম্পর্কে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি ব্যাংকটির পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যে জামায়াতের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যে জামায়াতের উদ্বেগ

ঢাকাস্থ ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যকে বাংলাদেশের অখণ্ডতা বিরোধী বক্তব্য উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (১৪ জুন) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে এ দেশের জনগণ অতীতের ন্যায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা কূটনৈতিক শিষ্টাচার, আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি এবং রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মানবোধের পরিপন্থি।

বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণকে একীভূত জনসংখ্যার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং এমন কিছু মন্তব্য করা, যা বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রসত্তা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণার জন্ম দিতে পারে- তা কোনো দায়িত্বশীল কূটনীতিকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। তার এ মন্তব্যে সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে দেশের জনগণ মনে করে।

তিনি বলেন, দীনেশ ত্রিবেদী ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন- আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেওয়া। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। আমাদের সরকারের কাছে বিষয়টির মর্যাদাপূর্ণ সুরাহা চাই।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। কোনো পক্ষের আধিপত্যবাদী বা কর্তৃত্ববাদী মনোভাব এ সম্পর্কের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।

ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ করছি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি