খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর গড়তে চান মউক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর গড়তে চান মউক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন

নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের গণপূর্ত ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী কার্যালয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। এ সময় গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

দায়িত্ব গ্রহণের পর মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় ময়মনসিংহকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করবেন। পাশাপাশি বিভাগীয় শহর হিসেবে ময়মনসিংহের সমন্বিত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতেও তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের আগে গণপূর্ত ভবন প্রাঙ্গণে এক দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন, গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ কালাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোতাহার হোসেন তালুকদারকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মসম্পর্ক ত্যাগের শর্তে তাঁকে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য গ্রেড-২ মর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে। নতুন এই কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ময়মনসিংহ মহানগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিকল্পিত নগরায়ণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাত, কেন্দুয়ায় দুইজনের করুণ মৃত্যু

হুমায়ুন কবির রিটন (কেন্দুয়া) নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাত, কেন্দুয়ায় দুইজনের করুণ মৃত্যু

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ও মাসকা ইউনিয়নে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে বজ্রপাত হয়। নিহতরা হলেন সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকি গ্রামে বসবাসরত আশরাফুল (৩৫) এবং মাসকা ইউনিয়নের দিগলী (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী শামসুল হুদা (৫৫)। আশরাফুলের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বাউচাপুর গ্রামে। তিনি ইনচান মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল দীর্ঘদিন ধরে কেন্দুয়া উপজেলার ডাউকি গ্রামে তার মামার বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং মাছ ধরতে পছন্দ করতেন। বুধবার রাতেও মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বড়শি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। বৃহস্পতিবার সকালে ডাউকি গ্রামের পেছনের মরাপুড়ি ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে দিগলী (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হুদা বাড়ির পাশের মুরাইল বিলের দেওয়াল খালে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। এ সময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে স্থানীয়দের ধারণা। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন।

সান্দিকোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাশেম মিয়া ও আশরাফুলের মামা মো. ইদ্দু মিয়া জানান, আশরাফুল মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং প্রায়ই মাছ ধরতে বিভিন্ন স্থানে যেতেন। বুধবার রাতেও তিনি বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে বের হয়েছিলেন।

কেন্দুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুইজনই বজ্রপাতে মারা গেছেন। আশরাফুলের মরদেহের পাশ থেকে মাছ ধরার বড়শি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শামসুল হুদার শরীরেও বজ্রপাতে মৃত্যুর চিহ্ন পাওয়া গেছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী মাসুদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহদাত হোসেন স্বাধীন এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে উল্লেখ করে স্বাধীন। তিনি বলেন, বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেছেন।

বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি আমার প্রথম অধিবেশনের বক্তব্যে এখানে অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্য তাদের কত কত ঋণখেলাপি রয়েছে, সে সংখ্যাও উল্লেখ করেছি। তাদের সম্মানের নাম প্রকাশ করিনি।

এখন যেই দল ঋণ খেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে তাদেরকে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তো তাদের দায়িত্ব, তাদের উপরে দায় চাপায়, এখন যদি সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকে, তাহলে এই সংসদকে তো ঋণ খেলাফীদের সংসদ বলবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারদলীয় লোকেরা যারা মেজরিটি টু থার্ড মেজরিটি করেছে,  তারা ঋণ খেলাফীদের সংসদ নিয়ে এসেছে, এটা সাধারণ মানুষ এটা স্বাভাবিকভাবেই বলবে। আর আমরা সংসদকে সার্বভৌম বলতেছি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণ খেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারি, এই সংসদে তাহলে স্পিকার আমরা আর কোথায় বলব?

তার আগে গাজীপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য  ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সবাই বলছেন যে এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে, একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমরা সম্মানিত হয়েছি, দেশবাসীও সম্মানিত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উচ্চে বলে আমরা মনে করি।’

নিজের ভাবমূর্তি নিজেরা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বক্তব্য রাখার সময় হয়তো খেয়াল করি না, কিন্তু অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, মর্যাদাকে খাট করে। আজকের বক্তব্য চলাকালীন বলা হয়েছে– ‘ঋণ খেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’।

এর প্রেক্ষিতে ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘কথাটি যেই বলুক, বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে— ‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টিকানো যায় না’। এই সংসদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মর্যাদা নিজেরা হানি করার জন্য যদি আত্মঘাতী কথা বলি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

একজন ঋণখেলাপি কখনোই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে এটিকে ‘ঋণ খেলাপিদের সংসদ’ কী করে বলা হয়?’

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি