খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

৩২ হাজার টাকা আয় করলে কি মধ্যবিত্ত বলা যায়, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
৩২ হাজার টাকা আয় করলে কি মধ্যবিত্ত বলা যায়, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে মাসে ৩২ হাজার টাকা আয়কারী একজন মানুষকে মধ্যবিত্ত বলা যায় কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেরর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাস্তবে এই সীমা এখনও অনেক সাধারণ আয়ের মানুষকে করের আওতায় নিয়ে আসছে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এই প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, সরকার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করেছে। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তা যথেষ্ট নয়।

রমিন বলেন, ‘যার মাসিক আয় ৩২ হাজার টাকা, তার বার্ষিক আয় দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ তিনিও করযোগ্য আয়ের আওতায় চলে আসেন। প্রশ্ন হলো, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে ৩২ হাজার টাকা মাসিক আয়কারী একজন মানুষকে কি মধ্যবিত্তও বলা যায়?’

রুমিন ফারহানা বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আয় বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন বলেন, দেশের মোট সম্পদের ৫৮ শতাংশ রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের হাতে। অন্যদিকে শীর্ষ ১ শতাংশ মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মোট সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

কর ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকর নিয়ে রুমিন ফারাহানা বলেন, কর ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে সেইসব মানুষের ওপর, যাদের আয় সহজে শনাক্ত করা যায় এবং যারা নিয়মিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্যে থাকে। কিন্তু যাদের প্রকৃত আয় অনেক বেশি, তাদের একটি বড় অংশ এখনও কার্যকরভাবে করের আওতায় আসছে না। তিনি বলেন, আয়করের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে সেইসব মানুষের ওপর, যাদের আয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু যাদের প্রকৃত আয় কর ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়, তাদের বড় অংশ এখনও কার্যত করের আওতার বাইরে।

কর কাঠামোর সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রত্যক্ষ করের তুলনায় পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভরতা বজায় রাখা হয়েছে। বাজেটে প্রত্যক্ষ করের অংশ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হলেও পরোক্ষ করের অংশ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

তার মতে, পরোক্ষ কর ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর সমান প্রভাব ফেলে, যা কর ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো সাধারণত প্রত্যক্ষ করের ভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করে।

বাজেট আলোচনায় রুমিন সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং কমে আসা প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সূচক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে না।

তবে বক্তব্যের শুরুতে রুমিন কৃষিপণ্যের উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তার মতে, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে এই উদ্যোগ কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

করমুক্ত আয়সীমা ও কর কাঠামো নিয়ে বক্তব্যের মাধ্যমে রুমিন ফারহানা মূলত মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর করের প্রভাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাত, কেন্দুয়ায় দুইজনের করুণ মৃত্যু

হুমায়ুন কবির রিটন (কেন্দুয়া) নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাত, কেন্দুয়ায় দুইজনের করুণ মৃত্যু

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ও মাসকা ইউনিয়নে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে বজ্রপাত হয়। নিহতরা হলেন সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকি গ্রামে বসবাসরত আশরাফুল (৩৫) এবং মাসকা ইউনিয়নের দিগলী (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী শামসুল হুদা (৫৫)। আশরাফুলের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বাউচাপুর গ্রামে। তিনি ইনচান মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল দীর্ঘদিন ধরে কেন্দুয়া উপজেলার ডাউকি গ্রামে তার মামার বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং মাছ ধরতে পছন্দ করতেন। বুধবার রাতেও মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বড়শি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। বৃহস্পতিবার সকালে ডাউকি গ্রামের পেছনের মরাপুড়ি ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে দিগলী (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হুদা বাড়ির পাশের মুরাইল বিলের দেওয়াল খালে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। এ সময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে স্থানীয়দের ধারণা। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন।

সান্দিকোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাশেম মিয়া ও আশরাফুলের মামা মো. ইদ্দু মিয়া জানান, আশরাফুল মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং প্রায়ই মাছ ধরতে বিভিন্ন স্থানে যেতেন। বুধবার রাতেও তিনি বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে বের হয়েছিলেন।

কেন্দুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুইজনই বজ্রপাতে মারা গেছেন। আশরাফুলের মরদেহের পাশ থেকে মাছ ধরার বড়শি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শামসুল হুদার শরীরেও বজ্রপাতে মৃত্যুর চিহ্ন পাওয়া গেছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী মাসুদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহদাত হোসেন স্বাধীন এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে উল্লেখ করে স্বাধীন। তিনি বলেন, বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেছেন।

বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি আমার প্রথম অধিবেশনের বক্তব্যে এখানে অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্য তাদের কত কত ঋণখেলাপি রয়েছে, সে সংখ্যাও উল্লেখ করেছি। তাদের সম্মানের নাম প্রকাশ করিনি।

এখন যেই দল ঋণ খেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে তাদেরকে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তো তাদের দায়িত্ব, তাদের উপরে দায় চাপায়, এখন যদি সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকে, তাহলে এই সংসদকে তো ঋণ খেলাফীদের সংসদ বলবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারদলীয় লোকেরা যারা মেজরিটি টু থার্ড মেজরিটি করেছে,  তারা ঋণ খেলাফীদের সংসদ নিয়ে এসেছে, এটা সাধারণ মানুষ এটা স্বাভাবিকভাবেই বলবে। আর আমরা সংসদকে সার্বভৌম বলতেছি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণ খেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারি, এই সংসদে তাহলে স্পিকার আমরা আর কোথায় বলব?

তার আগে গাজীপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য  ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সবাই বলছেন যে এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে, একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমরা সম্মানিত হয়েছি, দেশবাসীও সম্মানিত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উচ্চে বলে আমরা মনে করি।’

নিজের ভাবমূর্তি নিজেরা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বক্তব্য রাখার সময় হয়তো খেয়াল করি না, কিন্তু অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, মর্যাদাকে খাট করে। আজকের বক্তব্য চলাকালীন বলা হয়েছে– ‘ঋণ খেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’।

এর প্রেক্ষিতে ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘কথাটি যেই বলুক, বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে— ‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টিকানো যায় না’। এই সংসদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মর্যাদা নিজেরা হানি করার জন্য যদি আত্মঘাতী কথা বলি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

একজন ঋণখেলাপি কখনোই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে এটিকে ‘ঋণ খেলাপিদের সংসদ’ কী করে বলা হয়?’

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি