খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১৫ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী

সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আমরা পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে কাজ শুরু করেছি।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমি আমানতকারীদের আশ্বস্ত করতে চাই – সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একীভূত ৫ ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার সময় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যানসারসহ জটিল ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত আমানতকারী এবং হজ্ব সঞ্চয়কারীদের জন্য বিশেষ মানবিক ছাড় রাখা হয়েছে। ডিপিএস হিসাবের ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক উত্তোলনযোগ্য থাকবে এবং বাকি অংশ নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট- যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। একটি শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা। এজন্য, দেশে একটি গভীর ও কার্যকর পুঁজিবাজার থাকা প্রয়োজন। সে কারণেই আমরা পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে কাজ শুরু করেছি। সরকারের নীতির আওতায় এরইমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে পুনর্গঠন করা হয়েছে। আইনি কাঠামো পর্যালোচনাপূর্বক সংষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আপনি নির্বাচিত নন, ভোটিংয়ে অংশ নেবেন না: সংসদে আমিনুল হককে স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
আপনি নির্বাচিত নন, ভোটিংয়ে অংশ নেবেন না: সংসদে আমিনুল হককে স্পিকার

জাতীয় সংসদে একটি সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির সময় আমিনুল হককে ভোটদানে বিরত থাকতে বলেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন কার্যাবলির শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থবিল, ২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব তোলেন। অর্থ বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাব ভোটে দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আমিনুল হক, ইউ ক্যান নট ভোট ফর দিস। আইদার ইয়েস অর নো। কারণ আপনি দুঃখজনকভাবে নির্বাচিত নন। আপনি সংসদে থাকলে আমরা আরও খুশি হতাম। তবে এসব ভোটিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন না।’

স্পিকারের এ বক্তব্যের পর আমিনুল হক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

কালের আলো/এসএকে

বদলে গেলো ৪ কলেজের নাম, দুটির নামকরণে শহীদ জিয়াউর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বদলে গেলো ৪ কলেজের নাম, দুটির নামকরণে শহীদ জিয়াউর রহমান

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে দেশের দুটি বেসরকারি কলেজ নামকরণের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরও দুটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামও পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখা থেকে এ–সংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার নাজিরপুর কলেজের নতুন নাম হবে শহীদ জিয়া কলেজ, নাজিরপুর, পিরোজপুর। একইসঙ্গে ভোলার চরফ্যাশনের জনতা বাজার কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে জনতা বাজার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ, চরফ্যাশন, ভোলা।

আরেকটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মৌলানা আছাদ আলী ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তন করে সৈয়দ সঈদউদ্দীন ডিগ্রি কলেজ, মাধবপুর, হবিগঞ্জ রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে জারি করা আরও একটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আয়েশা ছিদ্দিক মহিলা কলেজের নাম পরিবর্তন করে আয়েশা ছিদ্দিক মডেল কলেজ রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি কলেজগুলোর নাম পরিবর্তনের অনুমতি নির্দেশক্রমে প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম।

কালের আলো/এসএকে

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বড় এক পরিবর্তনের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বড় এক পরিবর্তনের ঘোষণা

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বড় এক পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ঘোষণা অনুযায়ী, বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিল করা হবে আইনটি থেকে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এসময় একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের পথনকশাও তুলে ধরেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬–এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

গত ১০ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করে বিএনপি সরকার। আইনটি সংসদে পাসের আগে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।

এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা এর শেয়ার ধারক ছিলেন, তারা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে নতুন ধারাটি যুক্ত করার পরই শুরু হয় বিতর্ক। সংসদে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতেই এই ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে। ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী, হজ সঞ্চয়কারী এবং ডিপিএস গ্রাহকদের জন্য বিশেষ মানবিক সুবিধাও রাখা হয়েছে।

এছাড়া, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থ বিলে একগুচ্ছ সংশোধনী আনার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত করা, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করছাড়, ব্যাংকিং চ্যানেলে সব লেনদেন সম্পন্ন করা কোম্পানিকে অতিরিক্ত করসুবিধা এবং লভ্যাংশের ওপর করহার কমানোর প্রস্তাব। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ডে কর রেয়াতের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বড় ঋণগ্রহীতা ছয়টি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ছয় হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৬০টি পণ্যের উৎসে কর কমানো, ব্যবসা সহজ করতে ডিরেগুলেশন, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে সরকার শুধু অর্থনৈতিক কর্মসূচি নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে।

এছাড়া, বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি বাজেটের সাফল্য তার ঘোষণায় নয়, বরং বাস্তবায়নে নিহিত। তাই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহি ও বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়ানোর ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে।

কালের আলো/এসএকে