খুঁজুন
                               
, ,
           

‘মুসাফির ক্যাফে’ প্রেম নাকি প্রতারণা?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
‘মুসাফির ক্যাফে’ প্রেম নাকি প্রতারণা?

নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’। মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিরিজটি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, বিশ্লেষণ, প্রশংসা ও সমালোচনা। প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্বকে ঘিরে নির্মিত এই সিরিজটি দর্শকদের দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে।

কারও কাছে এটি অসমাপ্ত ভালোবাসার এক আবেগঘন গল্প, আবার কারও মতে এটি নতুন সম্পর্কে থেকেও অতীতের প্রেমকে আঁকড়ে ধরে রাখার এক নির্মম বাস্তবতা, যা মানসিক প্রতারণার শামিল। ফলে সিরিজটি নিয়ে ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক।

‘মুসাফির ক্যাফে’র গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি চরিত্র—চন্দর, সুধা এবং প্রীতি।

ক্যারিয়ার ও নিজের স্বপ্নকে অগ্রাধিকার দিয়ে চন্দরকে ছেড়ে চলে যায় সুধা। সময়ের সঙ্গে জীবন এগিয়ে যায়, আর চন্দরের জীবনে আসে প্রীতি। নতুন সম্পর্ক শুরু হলেও অতীতের ভালোবাসার স্মৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারে না চন্দর। বর্তমান ও অতীতের এই মানসিক দ্বন্দ্বই সিরিজটির মূল চালিকাশক্তি।

এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে দর্শকদের মধ্যে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের দর্শকের দাবি, অতীতকে ভুলতে না পেরে নতুন সম্পর্কে জড়ানো প্রীতির প্রতি অন্যায়। তাঁদের মতে, একজন মানুষ যদি মানসিকভাবে এখনো আগের সম্পর্কে আটকে থাকেন, তাহলে নতুন সম্পর্কে জড়ানো উচিত নয়।

অনেকেই চন্দরের আচরণকে ‘ইমোশনাল চিটিং’ বা মানসিক প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, ভালোবাসা শুধু সম্পর্কের নাম নয়; এটি একজন মানুষের প্রতি পূর্ণ মানসিক দায়বদ্ধতারও বিষয়।

অন্যদিকে আরেকটি বড় অংশের দর্শকের মতে, প্রথম ভালোবাসা সব সময় সহজে ভোলা যায় না। বাস্তব জীবনেও অনেক মানুষ নতুন সম্পর্কে জড়িয়েও অতীতের স্মৃতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেন না। তাই চন্দরের চরিত্র তাঁদের কাছে বাস্তবসম্মত এবং মানবিক।

শুধু চন্দর নয়, বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সুধা চরিত্রটিও।

একদল দর্শকের মতে, নিজের সিদ্ধান্তে সম্পর্ক ছেড়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে এসে পুরোনো সম্পর্কের সমাপ্তি টানতে চাওয়া কিংবা নতুন করে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা অন্যদের জীবনে অযথা জটিলতা তৈরি করে।

তবে অন্যদের যুক্তি ভিন্ন। তাঁদের মতে, একজন নারীর নিজের স্বপ্ন, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। জীবনের একটি পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে বদলাতেই পারে, আর সেটিই বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।

সিরিজটির একটি বিশেষ দৃশ্য ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই দৃশ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অনেক দর্শক জুতা হাতে ছবি পোস্ট করেছেন। আবার অনেকে একই দৃশ্যকে ভালোবাসার গভীর আবেগ এবং বাস্তব জীবনের জটিল অনুভূতির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

ফলে একই দৃশ্য একজনের কাছে বিরক্তিকর মনে হলেও অন্য একজনের কাছে সেটিই গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির ভিত্তিতেই কোনো গল্প বা চরিত্রকে মূল্যায়ন করেন। ফলে একই গল্প ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন অর্থ বহন করাটা খুবই স্বাভাবিক।

‘মুসাফির ক্যাফে’ ঠিক সেই জায়গাতেই দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করেছে। কে ঠিক, কে ভুল—তার নির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে সিরিজটি সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাকে দর্শকের বিচারেই ছেড়ে দিয়েছে।

বিক্রান্ত ম্যাসি, বেদিকা পিন্টো এবং মাহিমা মাকওয়ানার অভিনয়ে নির্মিত সিরিজটির প্রথম মৌসুম শেষ হলেও গল্পের সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

চন্দর শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে? সে কি অতীতের ভালোবাসার কাছে ফিরে যাবে, নাকি বর্তমানকে গ্রহণ করবে? নাকি কোনো সম্পর্কেই নিজেকে খুঁজে পাবে না? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন দ্বিতীয় মৌসুমের অপেক্ষায় দর্শকরা।

প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং মানুষের আবেগের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘মুসাফির ক্যাফে’ কেবল একটি ওয়েব সিরিজ নয়; এটি এমন একটি গল্প, যা দর্শকদের নিজেদের সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত এবং অনুভূতি নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আর সেই কারণেই মুক্তির পর থেকেই এটি হয়ে উঠেছে বছরের অন্যতম আলোচিত ওয়েব সিরিজ।

কালের আলো/এসএ

হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি: প্রধানমন্ত্রী

দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের দিনটিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়ে হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আগামীকাল বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দের দিন, বিজয়ের দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। রাহুমুক্ত হয় বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং দেশে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার তথা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়ন সইতে হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আপসহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জালিমের কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পলাতক স্বৈরাচারের নির্দেশে দেশে গড়ে তোলা হয়েছিল শত শত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’। ‘আয়নাঘরের’ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অগণিত মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। অনেককে চিরতরে গুম করে ফেলা হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ এমন অনেক নেতা–কর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি।

তারেক রহমান বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ দেশের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। সংবিধান উপেক্ষা করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল; নির্বাচনকে পরিণত করা হয়েছিল প্রহসনে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারকেই স্বাভাবিক কাণ্ডে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্যক্তিতন্ত্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাকশ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাঁকর্মী, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গৃহবধূ, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণ-অভ্যুত্থান দমনে মরিয়া ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের বুকে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। এমনকি জনগণের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। স্বৈরাচারের বেপরোয়া গুলি থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের বন্দুকের সামনে রংপুরের সাহসী প্রাণ শহীদ আবু সাঈদের চিতানো বুক, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম কিংবা ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ আমাদের অসংখ্য সাহসী সন্তান হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের সাহসী প্রেরণা। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেই হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। শত শত মানুষ হাত-পা ও শরীরের অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; অনেকেই আজীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে। জাতীয় সংসদ ছেড়ে কথিত সংসদ সদস্যরা পালিয়েছে। আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি পালিয়েছে। বায়তুল মোকাররম ছেড়ে প্রধান খতিব পালিয়েছে। মন্ত্রিসভা ছেড়ে মন্ত্রীরা পালিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা আত্মগোপনে চলে গেছে। ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন ঘটনা।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষা, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সব শহীদকে স্মরণ করছি। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ঋণী করে গেছেন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। এখন শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের পালা।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কায়েম হবে না, কখনোই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না। এই সব মৌলিক প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য অটুট আছে এবং থাকবে। ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ কখনো ভোলেনি, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না।

কালের আলো/এসএকে

হঠাৎ কেন বাড়ছে ডলারের দাম

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
হঠাৎ কেন বাড়ছে ডলারের দাম

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে ডলারের দাম। আন্তর্জাতিক ও দেশীয়—উভয় কারণেই ডলারের বাজারে এমন চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব আমদানি বিল পরিশোধে সরকার ও বেসরকারি খাতের অতিরিক্ত ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমে আসা এবং রপ্তানি আয় প্রত্যাশামতো না বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহও সীমিত রয়েছে। এই দুই চাপ মিলেই আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ডলারের বাজার। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি অব্যাহত থাকা এবং বাজারে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা যায়, গত মে মাস থেকে শুরু করে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ব্যাংক, স্পট মার্কেট ও খোলা বাজারে ডলারের দর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যাংকগুলোর সরবরাহকৃত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে ব্যাংকগুলো যে ডলার ১২২ টাকা ৪৫ পয়সায় কেনাবেচা করতো।  জুন মাসের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩ টাকায়। এর পরবর্তী ১২ থেকে ২০ দিনের মধ্যে দর আরও বেড়ে ১২৩ টাকা ৪০ থেকে ৫০ পয়সায় পৌঁছায়। বর্তমানে সংকট আরও ঘনীভূত হয়ে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংককে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৯০ থেকে ৯৫ পয়সা দরে কিনতে হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যাংকিং খাতেই দুই মাসের ব্যবধানে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সা।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সাম্প্রতিক ধীরগতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ডলারের বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে রপ্তানি আয় প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আমদানি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আমদানি দায় মেটাতে ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

ডলারের জোগানে আরেকটি বড় উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা ধীর হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠালেও, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার পর রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। টানা ছয় মাস মাসিক ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর জুনে তা কমে ২৮২ কোটি ডলার এবং জুলাইয়ে ২৮৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে বাজারে ডলারের সরবরাহও কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।

ডলারের বাজারে অস্থিরতা ও অতিরিক্ত মুনাফা করার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২ সালের আগস্টে ৬টি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানদের অপসারণের পর ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডিদের শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল। এরপর থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে চান না ট্রেজারি প্রধানরা।

প্রসঙ্গত, ডলারের দর নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা ও দর বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব চ্যানেলে আন্তব্যাংক লেনদেন, রেমিট্যান্স সংগ্রহসহ প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা দরে কেনার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএই

জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, আসুন, মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।

বাণীতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং প্রবল গণরোষে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ আত্মোৎসর্গকারী হাজারো বীর শহিদকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিও গভীর সম্মান ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, তাঁদের বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গত দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।

বাণীতে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ সময়ের রাষ্ট্রীয় অনিয়ম, নিপীড়ন, দুর্নীতির ফলে জনমনে সঞ্চিত ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সর্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষক, তরুণ-যুবসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, ভ্রাতা-ভগ্নি, কন্যা-জায়া, জননীসহ সর্বস্তরের মানুষ অসীম সাহস ও ত্যাগের প্রতিজ্ঞা নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন এবং তাঁরা সবাই জুলাই যোদ্ধা।

তিনি বলেন, জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না। একই সঙ্গে বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের অবসান, ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান, তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

বাণীর শেষে তিনি বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন। সূত্র: বাসস।

কালের আলো/এসএকে