খুঁজুন
                               
, ,
           

‘মুসাফির ক্যাফে’ প্রেম নাকি প্রতারণা?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
‘মুসাফির ক্যাফে’ প্রেম নাকি প্রতারণা?

নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’। মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিরিজটি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, বিশ্লেষণ, প্রশংসা ও সমালোচনা। প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্বকে ঘিরে নির্মিত এই সিরিজটি দর্শকদের দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে।

কারও কাছে এটি অসমাপ্ত ভালোবাসার এক আবেগঘন গল্প, আবার কারও মতে এটি নতুন সম্পর্কে থেকেও অতীতের প্রেমকে আঁকড়ে ধরে রাখার এক নির্মম বাস্তবতা, যা মানসিক প্রতারণার শামিল। ফলে সিরিজটি নিয়ে ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক।

‘মুসাফির ক্যাফে’র গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি চরিত্র—চন্দর, সুধা এবং প্রীতি।

ক্যারিয়ার ও নিজের স্বপ্নকে অগ্রাধিকার দিয়ে চন্দরকে ছেড়ে চলে যায় সুধা। সময়ের সঙ্গে জীবন এগিয়ে যায়, আর চন্দরের জীবনে আসে প্রীতি। নতুন সম্পর্ক শুরু হলেও অতীতের ভালোবাসার স্মৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারে না চন্দর। বর্তমান ও অতীতের এই মানসিক দ্বন্দ্বই সিরিজটির মূল চালিকাশক্তি।

এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে দর্শকদের মধ্যে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের দর্শকের দাবি, অতীতকে ভুলতে না পেরে নতুন সম্পর্কে জড়ানো প্রীতির প্রতি অন্যায়। তাঁদের মতে, একজন মানুষ যদি মানসিকভাবে এখনো আগের সম্পর্কে আটকে থাকেন, তাহলে নতুন সম্পর্কে জড়ানো উচিত নয়।

অনেকেই চন্দরের আচরণকে ‘ইমোশনাল চিটিং’ বা মানসিক প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, ভালোবাসা শুধু সম্পর্কের নাম নয়; এটি একজন মানুষের প্রতি পূর্ণ মানসিক দায়বদ্ধতারও বিষয়।

অন্যদিকে আরেকটি বড় অংশের দর্শকের মতে, প্রথম ভালোবাসা সব সময় সহজে ভোলা যায় না। বাস্তব জীবনেও অনেক মানুষ নতুন সম্পর্কে জড়িয়েও অতীতের স্মৃতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেন না। তাই চন্দরের চরিত্র তাঁদের কাছে বাস্তবসম্মত এবং মানবিক।

শুধু চন্দর নয়, বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সুধা চরিত্রটিও।

একদল দর্শকের মতে, নিজের সিদ্ধান্তে সম্পর্ক ছেড়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে এসে পুরোনো সম্পর্কের সমাপ্তি টানতে চাওয়া কিংবা নতুন করে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা অন্যদের জীবনে অযথা জটিলতা তৈরি করে।

তবে অন্যদের যুক্তি ভিন্ন। তাঁদের মতে, একজন নারীর নিজের স্বপ্ন, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। জীবনের একটি পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে বদলাতেই পারে, আর সেটিই বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।

সিরিজটির একটি বিশেষ দৃশ্য ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই দৃশ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অনেক দর্শক জুতা হাতে ছবি পোস্ট করেছেন। আবার অনেকে একই দৃশ্যকে ভালোবাসার গভীর আবেগ এবং বাস্তব জীবনের জটিল অনুভূতির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

ফলে একই দৃশ্য একজনের কাছে বিরক্তিকর মনে হলেও অন্য একজনের কাছে সেটিই গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির ভিত্তিতেই কোনো গল্প বা চরিত্রকে মূল্যায়ন করেন। ফলে একই গল্প ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন অর্থ বহন করাটা খুবই স্বাভাবিক।

‘মুসাফির ক্যাফে’ ঠিক সেই জায়গাতেই দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করেছে। কে ঠিক, কে ভুল—তার নির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে সিরিজটি সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাকে দর্শকের বিচারেই ছেড়ে দিয়েছে।

বিক্রান্ত ম্যাসি, বেদিকা পিন্টো এবং মাহিমা মাকওয়ানার অভিনয়ে নির্মিত সিরিজটির প্রথম মৌসুম শেষ হলেও গল্পের সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

চন্দর শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে? সে কি অতীতের ভালোবাসার কাছে ফিরে যাবে, নাকি বর্তমানকে গ্রহণ করবে? নাকি কোনো সম্পর্কেই নিজেকে খুঁজে পাবে না? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন দ্বিতীয় মৌসুমের অপেক্ষায় দর্শকরা।

প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং মানুষের আবেগের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘মুসাফির ক্যাফে’ কেবল একটি ওয়েব সিরিজ নয়; এটি এমন একটি গল্প, যা দর্শকদের নিজেদের সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত এবং অনুভূতি নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আর সেই কারণেই মুক্তির পর থেকেই এটি হয়ে উঠেছে বছরের অন্যতম আলোচিত ওয়েব সিরিজ।

কালের আলো/এসএ

হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে নতুন ফি আরোপের পথে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৭ পূর্বাহ্ণ
হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে নতুন ফি আরোপের পথে ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ফি নেওয়ার বিধান রেখে খসড়া আইনের একটি ধারা অনুমোদন করেছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিশন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত খসড়া আইনের তৃতীয় ধারায় হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক, পরিবেশগত, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বিমা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবার জন্য ফি আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।

কমিশনের মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানান, প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাওয়া দেশগুলোর জাহাজ থেকে এসব ফি নেওয়া হবে। ইরানি মুদ্রা রিয়াল অথবা তেহরান নির্ধারিত অন্য কোনো মুদ্রায় এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির নিজস্ব নিয়ম ও পরিস্থিতি রয়েছে। খসড়া আইন তৈরির সময় প্রণালির তীরবর্তী দেশগুলোর অধিকারও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, খুব শিগগিরই ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ‘নতুন পর্যায়’ শুরু হতে পারে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনসন দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সফল হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি

জুলাই-জুন নয়, এপ্রিল-মার্চ হবে নতুন অর্থবছর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
জুলাই-জুন নয়, এপ্রিল-মার্চ হবে নতুন অর্থবছর

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় রূপরেখা ও কর্মপন্থা নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

রোববার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের জন্য সংবিধান ও ‘জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭’-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনী পর্যালোচনা করবে কমিটি। পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিবর্তন এবং বাস্তবায়ন কর্মপন্থাও নির্ধারণ করা হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে ধরা হয়। তবে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর হবে এপ্রিল থেকে মার্চ। অর্থাৎ ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে গণনা করা হবে।

কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সভা আয়োজন করবে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন

হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত বিষয়গুলোতে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি জানানো হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, এ দায়িত্ব বণ্টনে প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদন রয়েছে।

দায়িত্ব অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়াবলি, অনিবাসী বাংলাদেশি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়ে কাজ করবেন।

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, আইসিটি, সমুদ্র আইন ও সমুদ্রসম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতির দায়িত্ব পালন করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে দুই প্রতিমন্ত্রীর কাজের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হলো।

কালের আলো/এমএসআইপি