খুঁজুন
                               
, ,
           

শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছেন শিক্ষকরা: অধ্যক্ষ ড. জাবের হোসাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছেন শিক্ষকরা: অধ্যক্ষ ড. জাবের হোসাইন

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. জাবের হোসাইন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটাতে শিক্ষকরা বিশেষভাবে কাজ করেছেন। প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়েও তাদের সহযোগিতা করেছেন শিক্ষকরা।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ডিআরএমসিতে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চলতি বছরের ফলাফল ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. জাবের হোসাইন বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের ফলাফল ধরে রাখতে পেরেছি। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। এখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষা উপকরণ রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের ভালো ফল নিশ্চিত করতে শিক্ষকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের পেছনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা রয়েছে। আমরা শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি।’

চলতি বছরের ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এবার ৬৫১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। শুধু একাডেমিক ফল নয়, আমরা শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের দিকেও গুরুত্ব দিই।’

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের কথা তুলে ধরে ডিআরএমসি অধ্যক্ষ বলেন, ‘সম্প্রতি হাঙ্গেরিতে ৩৭টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত গ্র্যান্ডমাস্টার দাবা প্রতিযোগিতায় আমাদের একজন শিক্ষার্থী চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সে এবার এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে আমরা গর্বিত।’

ভালো ফলের পেছনে নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. জাবের হোসাইন বলেন, ‘পরীক্ষার অন্তত ছয় মাস আগে থেকেই আমরা গ্রুপ টিচার গঠন করে দিয়েছিলাম। প্রতি ছয় থেকে সাতজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অনেকটা অভিভাবকের মতো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘গুগল মিট ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়েছে। কোন শিক্ষার্থী কোথায় দুর্বল, কার পড়াশোনায় কী সমস্যা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দুর্বলতা কাটানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে দুর্বল বা যার ক্লাসের পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে না, তাকে অতিরিক্ত ক্লাস দেওয়া হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সঙ্গে তাকে যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আমাদের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে পর্যন্ত সহযোগিতা করেছেন।’

প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতির বিষয়ে ডিআরএমসি অধ্যক্ষ বলেন, ‘গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিয়মিত এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা হয়েছে। পুরো বই অন্তত দুই থেকে তিনবার এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে পুনরাবৃত্তি করানো হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি আরও ভালো হয়েছে।’

এবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ভিত্তি তৈরিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও জানান তিনি। করোনাকালীন শিক্ষা ও নতুন শিক্ষাক্রমের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. জাবের হোসাইন বলেন, ‘এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা করোনাকাল ও নতুন শিক্ষাক্রমের মধ্য দিয়ে এসেছে। ফলে তাদের পড়াশোনার ভিত্তি কিছুটা দুর্বল ছিল। অনেকের হাতের লেখা দেখেও আমরা হতাশ হয়েছিলাম। পরে একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে হাতের লেখা ও মৌলিক বিষয়গুলো শক্ত করার জন্য অতিরিক্ত কাজ করেছি।’

সার্বিক ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দু-জনের শিক্ষার্থীর ফলাফল কিছুটা প্রত্যাশার বাইরে গেছে। তাদের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে সাত বছরের মধ্যে পাসের হার সর্বনিম্ন

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে সাত বছরের মধ্যে পাসের হার সর্বনিম্ন

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এ বছর রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত সাত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন। অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৯০৮ জন।

উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত সাত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৯০ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। সে হিসাবে এ বছরই সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার। ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এ বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে। এ বছর রাজশাহী বোর্ডে মোট ১৬ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী ৮ হাজার ৯৯১ জন এবং ছাত্র ৭ হাজার ১২২ জন।

বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মাত্র ৩৫টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৯৯টি। এর আগে ২০২৪ সালে ২৮৯টি, ২০২৩ সালে ১৭৮টি, ২০২২ সালে ১৪৭টি, ২০২১ সালে ৩৬৮টি এবং ২০২০ সালে ৩০৮টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।

এবিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইফফাত জেরিন বলেন, বর্তমান সরকার পরিমাণের চেয়ে শিক্ষার মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এ কারণে শুরুতে কিছুটা ধাক্কা খেতে হবে। সামনে বোর্ডের ফলাফল আরও ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক উৎপাদনকারীকে জরিমানা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক উৎপাদনকারীকে জরিমানা

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে অদ্য সোমবার দুপুর ১২.৩০ ঘটিকায় রাজশাহী মহানগরীতে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এতে বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ ছাড়াই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং নন-ফুডগ্রেড উপাদান ব্যবহার করে ‘ডেকোরেটেড কেক (জন্মদিনের কেক)’ উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করায় বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অবস্থিত রোজা বেকারী প্রতিষ্ঠানটিকে ১০,০০০/- (দশ হাজার টাকা মাত্র) জরিমানা করা হয়।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসা: ফারহানা হোসেন এর নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইং কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ।

এসময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে বিএসটিআই, রাজশাহীর এধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ প্রকল্প হিসেবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ উদ্বোধন করেন তিনি।

গ্রামগুলো হচ্ছে—রাঙামাটি কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনা দাকোপ উপজেলার পানখালী ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর। বর্তমান সরকার দেশের টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে।

এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের আলোকে গ্রামে দারিদ্র্য হ্রাস, জলাবদ্ধতা নিরসন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা থাকছে এই প্রকল্পে। এমন সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাঙামাটির মিতিঙ্গাছড়ির গ্রামবাসী।

কালের আলো/এসএকে