খুঁজুন
                               
, ,
           

‘হাসিনা-হাদীর আসামিদের ফেরত দিয়ে বন্ধুত্বের কথা বলুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
‘হাসিনা-হাদীর আসামিদের ফেরত দিয়ে বন্ধুত্বের কথা বলুন’

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ভারত সরকার অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভারতের এমন অবস্থান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘ছায়াযুদ্ধ ঘোষণা করার মতো’।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া ওই আয়োজন সম্ভব ছিল না। তাঁর ভাষ্য, কোনো মামলায় আদালতের রায় হওয়ার পর সেই মামলার আসামিকে ভারতের মাটিতে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বন্ধুত্বের কথা বলার আগে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফেরত পাঠানো, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের মীমাংসার বিষয় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে সমাধান না করে শুধু বন্ধুত্বের কথা বলা অর্থবহ হবে না।

এদিকে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের নতুন অনুরোধ ভারত প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি, বসুন্ধরা থেকে ৫৩ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি, বসুন্ধরা থেকে ৫৩ জন গ্রেফতার

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১৫ আগস্ট শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা চলাকালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ২৮ নম্বর সড়কের এম ব্লকের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ভাটারা থানা পুলিশের বরাত দিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানান, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই ফ্ল্যাটে সমবেত হয়েছিলেন।

পুলিশের দাবি, এ সময় তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। পরে ভাটারা থানা পুলিশের অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে মোট ৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এডিসি নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রাজশাহী থেকে চুরি হওয়া বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহী থেকে চুরি হওয়া বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্ধার

রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানা এলাকা থেকে চুরি হওয়া ইউনিক রোড রয়েলসের (এনকে ট্রাভেলস) একটি যাত্রীবাহী বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) শাহমখদুম থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা সোয়া ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানাধীন আমনুরা রেলজংশনের প্রায় আধা কিলোমিটার উত্তরে ঝিলিম বাজার এলাকা থেকে বাসটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-০০৮৭। বাসটির মালিক নরেন সরকার (৫২)। তিনি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়া এলাকার শ্রীপদ সরকারের ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে বাসটি শাহমখদুম থানাধীন নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিকেল ৫টার দিকে বাসটি নওগাঁ থেকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে ফিরে আসে।

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাসটি পরিষ্কার করে খানকার মোড় এলাকায় নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে ভদ্রাগামী সড়কের পাশে মালিকের নিজস্ব গ্যারেজের সামনে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

পরদিন ১১ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে বাসটির বদলি সুপারভাইজার মো. জালাল উদ্দিন গ্যারেজের সামনে গিয়ে বাসটি দেখতে না পেয়ে মালিককে জানান। পরে মালিক ও গ্যারেজের কর্মচারীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও বাসটির সন্ধান পাননি।

ধারণা করা হচ্ছে, ১০ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১১ আগস্ট সকাল ৭টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা বাসটি চুরি করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বাসের মালিক নরেন সরকার শাহমখদুম থানায় এজাহার দায়ের করেন। পরে ১২ আগস্ট শাহমখদুম থানায় মামলা নম্বর-০৯ এবং দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলা করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে চুরি হওয়া বাসটির অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে বৃহস্পতিবার ঝিলিম বাজার এলাকা থেকে বাসটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা বাসটি শাহমখদুম থানা হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। বাসটি কীভাবে চুরি করা হয়েছিল এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গ্যাস সংকট কাঠামোগত, টেকসই নীতির তাগিদ সিপিডির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
গ্যাস সংকট কাঠামোগত, টেকসই নীতির তাগিদ সিপিডির

দেশের জ্বালানি খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ অনেকটাই সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বাংলাদেশকে বারবার জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: জরুরি অগ্রাধিকারসমূহ এবং একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুদ দ্রুত কমে আসছে। পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে জ্বালানি খাতে দেশের আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে।

সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর মূল প্রবন্ধে জানান, গত ১১ আগস্টের হিসাবে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৫৭ শতাংশ ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ২৯ শতাংশ।

এ ছাড়া জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানাগুলোতে চাহিদার মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

সিপিডি বলছে, গ্যাস সংকটের কারণে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাস এবং পরিবহন খাতে গ্যাসের সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

সংকট মোকাবিলায় অফিস ও ব্যাংকিং সময় কমানো, আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে স্থানান্তর এবং স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ও জ্বালানি আমদানির মতো সরকারের তাৎক্ষণিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সিপিডি।

তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এলএনজি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, এলএনজি টার্মিনাল ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

একই সঙ্গে জাতীয় জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি